মাহমুদা আক্তারের স্বামী এক বেসরকারি কোম্পানির মালিক। কোম্পানির বিভিন্ন কাজে মাহমুদা তার স্বামীর ওপর প্রভাব বিস্তার করে। তিনি তার দুই ভাইকে কোম্পানির উচ্চপদে বসান। এক পর্যায়ে মাহমুদার প্রভাবের কারণে তার স্বামী কোম্পানির নামমাত্র মালিকে পরিণত হন।

Updated: 10 months ago
উত্তরঃ

মুঘল সম্রাট শাহজাহান তাজমহল নির্মাণ করেন।

উত্তরঃ

ধর্মভীরুতার কারণে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবকে 'জিন্দাপির' বলা হয়। সম্রাট আওরঙ্গজেব একজন নিষ্ঠাবান সুন্নি মুসলিম শাসক ছিলেন। তিনি অত্যন্ত সাদামাটা জীবনযাপন করতেন। তিনি তৎকালীন সমাজের সকল অপরাধ থেকে মুক্ত ছিলেন। মদ সেবন থেকে দূরে থাকতেন। তিনি কুরআন শরীফ নকল করে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের নিকট বিক্রি করতেন। তিনি নামায আদায়ে যত্নবান ছিলেন। এমনকি যুদ্ধের ময়দানেও নামাজ আদায় করতেন। তার এ ধর্মভীরুতার জন্যই তাকে 'জিন্দাপীর' বলা হতো।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত মাহমুদা আক্তারের মাঝে সম্রাট জাহাঙ্গীরের ওপর তার স্ত্রী নূরজাহানের প্রভাব বিস্তারের দিকটি ফুটে উঠেছে।
সম্রাজ্ঞী নূরজাহানের প্রকৃত নাম মেহেরন নেসা। তার পিতা মির্জা গিয়াস বেগ ভাগ্যান্বেষণে পারস্য থেকে ভারতে এসে আকবরের দরবারে জায়গা করে নেন। মির্জা গিয়াস বেগ ভারতে আসার পথে কান্দাহারে এক কন্যা সন্তানের পিতা হন। এ কন্যা সন্তানই হলেন নূরজাহান। ১৭ বছর বয়সে পারসিক ভাগ্যান্বেষী যুবক আলী কুলী বেগ ইসতাজুলের সাথে নূরজাহানের বিয়ে হয়। ইসতাজুল রাজকীয় বাহিনীর হাতে নিহত হলে নূরজাহান মুঘল হেরেমে স্থান পান। এরপর ১৬১১ খ্রিস্টাব্দে জাহাঙ্গীরের সাথে নূরজাহানের বিয়ে হয়। সম্রাট জাহাঙ্গীর নূরজাহানের রূপ ও গুণে মুগ্ধ ছিলেন। আর সম্রাটের এ দুর্বলতার পূর্ণ সুযোগ গ্রহণ করেছিলেন নূরজাহান। তিনি সম্রাট জাহাঙ্গীরের ওপর প্রভাব বিস্তার করে রাজকার্যে হস্তক্ষেপ করতেন। সম্রাজ্ঞী নূরজাহান রাজদরবার চলাকালীন সময়ে জাহাঙ্গীরে পাশে বসতেন এবং জাহাঙ্গীরের সিদ্ধান্তের ওপর প্রভাব খাটাতেন। সম্রাট জাহাঙ্গীর মুদ্রার অপর পিঠে নূরজাহানের প্রতিকৃতি দিয়েছিলেন। এসময়ে রাজাজ্ঞায় নূরজাহানের স্বাক্ষর না থাকলে সেটিকে মূল্যহীন মনে করা হতো।
পরিশেষে বলা যায়, সম্রাজ্ঞী নূরজাহান ছিলেন দূরদর্শী, কূটকৌশলী ও উচ্চাভিলাষী। তিনি তার রূপ ও গুণ দিয়ে জাহাঙ্গীরের ওপর প্রভাব বিস্তার করতেন।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে আলোচিত মাহমুদা আক্তার এবং পাঠ্যবইয়ের নূরজাহানের প্রভাব বিস্তারের প্রেক্ষাপট ছিল সম্পূর্ণ আলাদা।
উদ্দীপকের মাহমুদা আক্তার তার স্বামীর বিভিন্ন কাজের ওপর প্রভাব বিস্তার করেন। এক্ষেত্রে তার গুণ ও কূটকৌশলই ছিল তার প্রভাব বিস্তারের প্রধান নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করত। কিন্তু নূরজাহানের ক্ষেত্রে তার গুণের চেয়ে রূপের শক্তি ছিল প্রবল। কেননা নূরজাহানের রূপ দেখেই সম্রাট জাহাঙ্গীর বেশি মুগ্ধ হতেন। সম্রাজ্ঞী নূরজাহানের রূপে মুগ্ধ হয়ে জাহাঙ্গীর তাকে 'নূরজাহান' বা 'জগতের আলো' উপাধি দিয়ে প্রধান মহীয়সীর মর্যাদা দেন। আর নূরজাহান এটি বুঝতে পেরেই সম্রাট জাহাঙ্গীরের ওপর প্রভাব বিস্তারের সুযোগ গ্রহণ করেন। নূরজাহান ভ্রাতা আসফ খানকে এবং পিতা মির্জা গিয়াস বেগকে উচ্চপদে আসীন করেছিলেন। নূরজাহান রূপে যেমন অপরূপ ছিলেন তেমনি গুণেও শ্রেষ্ঠ ছিলেন। তিনি ফারসি ভাষায় কবিতা লিখতেন। সম্রাটের সাথে ব্যাঘ্র শিকারে যেতেন।
তাই বলা যায়, সম্রাজ্ঞী নূরজাহান তার রূপ ও গুণ দিয়ে সম্রাট - জাহাঙ্গীরকে মুগ্ধ করতেন এবং তার ওপর প্রভাব বিস্তার করতেন।

92

Related Question

View All
উত্তরঃ

'মোজা' শব্দ থেকে মোঙ্গল এবং মোঙ্গল থেকে মুঘল নামের উৎপত্তি ঘটেছে। তারা আদি বাসভূমি মঙ্গোলিয়া ছেড়ে মধ্য এশিয়ার পশ্চিম অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে মুঘল নামে পরিচিতি লাভ করে। ১৫২৬ খ্রি. মুঘলরা ভারতের সুলতান ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করে ভারতবর্ষের শাসক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেন। মূলত এরপর থেকেই মুঘলরা একটি বৃহৎ জাতিগঠনে অবদান রাখতে শুরু করে।

364
উত্তরঃ

উদ্দীপকের সাথে ভারতবর্ষের মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
১৪৯৪ খ্রিষ্টাব্দে পিতার আকস্মিক মৃত্যুর পর মাত্র ১১ বছর বয়সে বাবর ফারগানার সিংহাসনে উপবিষ্ট হন। সিংহাসন লাভের পর পরই তার দুই পিতৃব্য ও আত্মীয়স্বজন এবং উজবেক নেতা সাইবানি খানের রিরোধিতার মুখে পড়েন। ১৪৯৭ খ্রিস্টাব্দে বাবর সমরখন্দ দখল করেন। কিন্তু ভাগ্যবিপর্যয়ে পতিত হয়ে তিনি সমরখন্দ হারান। ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দে ফারগানাও হস্তচ্যুত হয়। অর্থাৎ দাবার ছকের রাজার মতো বাবর স্থান থেকে স্থানান্তর ঘুরে বেড়াতে লাগলেন। কিন্তু ১৫০০ খ্রিস্টাব্দে তিনি ফারগানা পুনরুদ্ধার করেন।
১৫০২ খ্রিস্টাব্দে সমরখন্দ অধিকার করেন। পরবর্তীকালে ১৫০৩ খ্রিষ্টাব্দে আরচিয়ানের যুদ্ধে সাইবানি খানের কাছে পরাজিত হয়ে ফারগানা ও সমরখন্দ থেকে বিতাড়িত হন। এ সময় কাবুলের অভ্যন্তরীণ অরাজকতার সুযোগে ১৫০৪ খ্রিস্টাব্দে কাবুল অধিকার করে বাদশাহ উপাধি নিয়ে রাজত্ব করতে থাকেন। ১৫১১ খ্রিস্টাব্দে পারস্যের শাহ ইসমাইল সাফাভীর সহযোগিতায় সমরখন্দ দখল করলেও ১৫১২ খ্রিস্টাব্দে তা আবারও হাতছাড়া হয়ে যায়। এরপর ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি কাবুলেই রাজত্ব করেন। কিন্তু অসাধারণ সাহসী বাবর এতেই সন্তুষ্ট থাকেননি। ১৫২৬ খ্রি. তিনি পানিপথের প্রথম যুদ্ধে সুলতান ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করে দিল্লির সুলতানি সাম্রাজ্যের ধ্বংসস্তূপের ওপর মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ভাগ্য বিড়ম্বিত যুবুক ইরফান ও ভারতবর্ষে মুঘল শাসনের প্রতিষ্ঠাতা বাবরই অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ।

658
উত্তরঃ

উদ্দীপকে সম্রাট বাবরের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
সম্রাট বাবর কেবল নির্ভীক সৈনিক, দক্ষ সেনাধ্যক্ষ, সুদক্ষ অস্ত্র পরিচালক, প্রশংসনীয় ঘোড়সওয়ারই ছিলেন না; বরং আলেকজান্ডারের মতো দেশ জয়ের নেশায় বিভোর থাকতেন। পানিপথের প্রথম যুদ্ধ, খানুয়ার যুদ্ধ এবং গোগরার যুদ্ধে তার সাফল্য তাকে ভারতীয় সমর ইতিহাসে উচ্চাসনে- অধিষ্ঠিত করেছে। বাবর মাত্র ১১ বছর বয়স থেকে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হন। বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে তিনি প্রথমে কাবুলে এবং পরে ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। শুধু প্রতিষ্ঠা করেই ক্ষান্ত হননি, তার ভিত্তি সুদৃঢ় করে একে একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্যে পরিণত করেন।
বাবরের চার বছরের শাসনামলে যুদ্ধবিগ্রহ কেটে যায়। এ অবস্থায় নবপ্রতিষ্ঠিত মুঘল সাম্রাজ্যের শাসনব্যবস্থায় কোনো প্রকার পরিবর্তন ও সংস্কার সাধন করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। তথাপি তিনি নিজেকে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা হ্রাস করেন। প্রাদেশিক শাসনকার্য পরিচালনার জন্য প্রত্যেক প্রদেশে একজন ওয়ালি (প্রাদেশিক কর্মকর্তা), একজন দিওয়ান (রাজস্ব কর্মকর্তা), শিকদার (সামরিক কর্মকর্তা) এবং কোতওয়াল (নগরকর্তা) ছিল। তিনি প্রশাসনিক কাজে তুর্কি, আফগান ও হিন্দুদের সমান সুযোগ দিতেন। সমগ্র সাম্রাজ্যে ১৫ মাইল অন্তর তিনি ডাক চৌকির ব্যবস্থা করেন। প্রজারঞ্জক বাবর দিল্লি ও আগ্রায় ২০টি উদ্যান, বহু পাকা নর্দমা, সেতু, অট্টালিকা নির্মাণ করেন।
পরিশেষে বলতে পারি, সম্রাট বাবর শুধুমাত্র একজন বিজেতা হিসেবেই প্রশংসার দাবিদার নন, বরং একজন দক্ষ প্রশাসক হিসেবেও তিনি কৃতিত্বের দাবিদার। তাই সার্বিকভাবে বাবরের শাসনকাল কৃতিত্বপূর্ণ একথা নিঃসন্দেহেই বলা যায়।

409
উত্তরঃ

ফিরোজশাহ তুঘলক দিওয়ান-ই-বন্দেগান গঠন করেন কারণ, তিনি ছিলেন ক্রীতদাসদের প্রতি অনুরক্ত। তাই তিনি সিংহাসনে আরোহনের পর একটি বিরাট ক্রীতদাস বিভাগ গড়ে তোলেন। তার আমলে ক্রীতদাসের সংখ্যা ছিল ১,৮০,০০০, যার মধ্যে ৪০,০০০ ক্রীতদাস সুলতানের প্রাসাদে অবস্থান করত। সুলতান তাদের বিভিন্ন সেবা ও সুযোগ-সুবিধার জন্যই 'দিওয়ান-ই-বন্দেগান' গঠন করেন।

861
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews