ইউরিয়ার সংকেত হলো (NH2)2C = O ।
CaO + H2O → Ca(OH)2 + তাপ
চুন
এই বিক্রিয়ায় উৎপাদ ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড-এর মধ্যে স্থিত রাসায়নিক শক্তি বিক্রিয়ক ক্যালসিয়াম অক্সাইড (চুন) ও পানির মধ্যে - মোট স্থিত রাসায়নিক শক্তির চেয়ে কম। সহজে বলা যায়, বিক্রিয়কের মধ্যস্থিত মোট রাসায়নিক শক্তি নতুন যৌগ গঠনে ব্যয় হওয়ার পর অতিরিক্ত অংশ তাপ হিসেবে নির্গত হয়। অর্থাৎ নির্গত তাপশক্তি = উৎপাদ যৌগসমূহের মোট শক্তি- বিক্রিয়ক যৌগসমূহের মোট শক্তি।
সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম লবণ (R - COONa) বা উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের পটাশিয়াম লবণ (R – COOK)। তেল বা চর্বির সাথে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড বিক্রিয়া করে সাবান তৈরি করা হয়। নিম্নে গৃহে সাবান প্রস্তুতির প্রক্রিয়া বর্ণনা করা হলো-
গৃহে সাবান তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সমূহ হলো নারকেল তেল, কস্টিক সোডা, NaCl এর সম্পৃক্ত দ্রবণ, বাজারের সাবান ও কেরোসিন তেল।
১. একটি বিকারে পানি পূর্ণ করে এর উপরে পোর্সেলিন বাটি বসিয়ে স্টিম বাথ প্রস্তুত করা হয়।
২. পোর্সেলিন বাটিতে 5 mL নারকেল তেল বা 5 গ্রাম চর্বি এবং 30 mL সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড দ্রবণ নেওয়া হয়।
৩. মিশ্রণকে স্টিম বাথে 30 মিনিট ধরে ফুটানো হয়। এসময় নাড়ানি কাঠি দিয়ে একটু পরপর নাড়তে থাকা হয় এবং পানি যোগ করে স্টিম বামের বাষ্পীভূত পানির ঘাটতি পূরণ করা হয়। এসময় তেল বা চর্বি সম্পূর্ণ দ্রবীভূত হয়ে এক ধরনের আঠালো পদার্থ সৃষ্টি করে।
৪. আঠালো পদার্থ সৃষ্টি হলে তাপ দেওয়া বন্ধ করা হয় এবং মিশ্রণটিকে ঠান্ডা হতে দেওয়া হয়।
৫. ঠান্ডা মিশ্রণে 50 mL. NaCl এর সম্পৃক্ত দ্রবণ যোগ করে সারারাত রেখে দেওয়া হয়।
৬. পরের দিন একটি ফিল্টার পেপারের সাহায্যে মিশ্রণটিকে ছেঁকে পরিস্রুতটুকু ফেলে দেওয়ার পর উৎপন্ন সাবানকে শুকোতে দেওয়া হয়।
এভাবেই সাধারণত গৃহে সাবান তৈরি করা হয়।
উদ্দীপক হতে আমরা দেখতে পাই মাহিন কেমিক্যাল কোম্পানী বাজার থেকে চর্বি সংগ্রহ করে সাবান তৈরি করে। অপরদিকে বিপ্লব কেমিক্যাল কোম্পানী চর্বির সংশ্লিষ্ট এসিড সংগ্রহ করে সাবান তৈরি করে। তাই আমরা বলতে পারি উদ্দীপকের উল্লেখিত কোম্পানিদ্বয়ের তৈরিকৃত সাবানের গুণগত মানের পার্থক্য অবশ্যই হবে। নিচে যুক্তি দেওয়া হলো-
যেহেতু উদ্দীপকের মাহিন কেমিক্যাল কোম্পানি উপযুক্ত এস্টার না পেয়ে এসিড আমদানি করেছে, তাই তাদের পক্ষে ক্ষারের উপস্থিতিতে পানি যোজন বিক্রিয়ায় সাবান উৎপন্ন করা সম্ভব হয়নি। আমদানিকৃত স্টিয়ারিক এসিড থেকে প্রশমন বিক্রিয়ার মাধ্যমে সাবান তৈরি করলে কিছু NaOH অতিরিক্ত থেকে যায়। কারণ ফ্যাটি এসিডসমূহ দুর্বল এসিড এবং NaOH তীব্র ক্ষার।
C17H35COOH + NaOH→ C17H35COONa + H2O
স্টিয়ারিক এসিড ------------ সাবান
ফলে মাহিন কেমিক্যাল কোম্পানির তৈরি সাবানে কিছু পরিমাণ NaOH বা ক্ষারের উপস্থিতি থাকবে। এ সাবান ত্বকের জন্য কিছুটা ক্ষতিকর। এ সাবান ব্যবহারের ফলে হাতের তালু ও চামড়া খসখসে হবে।
অপরদিকে যেহেতু বিপ্লব কেমিক্যাল কোম্পানি বাজার থেকে চর্বি সংগ্রহ করে সেহেতু বিপ্লব কেমিক্যাল কোম্পানি ক্ষারের উপস্থিতিতে পানি যোজন বিক্রিয়ার সাবান প্রস্তুত করে। বিপ্লব সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণ। সাবান তৈরির প্রধান কাঁচামাল হচ্ছে চর্বি ও ক্ষার। তেল ও চর্বিকে কস্টিক সোডাসহযোগে আর্দ্র বিশ্লেষণ করে সোডিয়াম সাবান তৈরি করা হয়।

বিক্রিয়ায় উৎপন্ন মিশ্রণে খাদ্য লবণ যোগ করলে সাবান উপরে ভেসে উঠে। উৎপন্ন সাবানে সামান্য পরিমাণ NaCl, NaOH, গ্লিসারিন ইত্যাদি অপদ্রব্য মিশ্রিত থাকে।
উল্লিখিত বিক্রিয়াদ্বয় থেকে দেখা যায় যে, মাহিন কেমিক্যাল কর্তৃক উৎপন্ন সাবানে কিছুটা ক্ষারের উপস্থিতি থাকে যা ব্যবহারে হাতের তালু ও চামড়া খসখসে হয়। অপরদিকে বিপ্লব কেমিক্যাল কর্তৃক উৎপন্ন সাবানে উপজাত হিসেবে গ্লিসারিন পাওয়া যায় যা ত্বককে মোলায়েম ও মসৃন করে। ফলে ত্বকের আর্দ্রতা রক্ষা পায়।
তাই আমরা বলতে পারি মাহিন কেমিক্যাল কোম্পানির সাবান অপেক্ষা বিপ্লব কেমিক্যাল কোম্পানির সাবানের গুণগত মান ভালো হবে। অর্থাৎ এদের মধ্যে গুণগত পার্থক্য বিদ্যমান।
Related Question
View Allউচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম বা পটাসিয়াম লবণকে সাবান বলে।
গ্লাস ক্লিনার হলো এক ধরনের তরল পরিষ্কারক যা দ্বারা কাচ জাতীয় বিভিন্ন মসৃণ সামগ্রী পরিষ্কার করা হয়। গ্লাস ক্লিনারের মূল উপাদান হিসেবে NH3 ব্যবহার করা হয়। কারণ NH3 পানির সাথে বিক্রিয়ায় NH4OH উৎপন্ন করে। উৎপন্ন NH4OH এর OH- আয়ন কাচের কোনোরূপ ক্ষতি করে না বরং ময়লা পরিষ্কার করতে সহায়তা করে। গ্লাসে ময়লা হিসাবে সাধারণত ধুলাবালির কণা এর পৃষ্ঠতলের উপর জমা হয়। আর ধুলাবালির এই কণাসমূহ বিভিন্ন ধাতুর অক্সাইড হিসাবে থাকে যা অ্যামোনিয়ার সাথে বিক্রিয়ায় গ্লাসের পৃষ্ঠতল থেকে অপসারিত হয়।
শাওন প্রথমে যে পদার্থ দিয়ে কাপড় পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছিল তা হলো সাবান। সাবানের ময়লা পরিষ্কার করার কৌশল হলো-
কাপড়ের সুতায় তৈল ও গ্রীজ দ্বারা ময়লা আটকে থাকে। তাই ময়লা দূর করতে হলে আটকে থাকা তৈল ও গ্রীজের পাতলা স্তরকে কাপড় থেকে আলাদা করতে হয়। সাবানের অণুতে পোলার ও অপোলার এ দুটি অংশ আছে। সাবানের এক প্রান্তের পোলার কার্বক্সিলেট আয়ন হলো হাইড্রোফিলিক (পানিতে দ্রবণীয়) ও লিপোফোবিক (তৈল ও চর্বিতে অদ্রবণীয়)। অপর অংশ হলো সমযোজী বন্ধনে আবদ্ধ দীর্ঘ হাইড্রোকার্বন শিকল, যা হলো হাইড্রোফোবিক (পানিতে অদ্রবণীয়) ও লিপোফিলিক (তৈল ও চবির্তে দ্রবণীয়)

যখন পানিতে সাবান গলে যায়, তখন সাবানের হাইড্রোফিলিক কার্বক্সিলেট আয়ন পানিতে দ্রবীভূত হয়; কিন্তু হাইড্রোফোবিক দীর্ঘ হাইড্রোকার্বন শিকল পানিতে অদ্রবীভূত থাকে। এর ফলে পানির উপরি তলে সাবানের এক অণু বিশিষ্ট একটি অতি সূক্ষ্ম স্তর সৃষ্টি করে। সাবানের জলীয় দ্রবণে ময়লা কাপড় যখন ডুবানো হয় তখন কাপড়ের ময়লাযুক্ত তৈলাক্ত স্তরে সাবানের দীর্ঘ হাইড্রোকার্বন শিকলটি দ্রবীভূত হয় এবং সাবানের পোলার কার্বক্সিলেট আয়ন পানিতে দ্রবীভূত হয়ে থাকে। সাবানের আয়নসমূহ তৈলের সূক্ষ্ম কণাকে ঘেরাও করে এবং তৈলের বলয়ের মধ্যে সাবানের লেজ ঢুকে পড়ে [চিত্র দ্রষ্টব্য)। কাপড়কে যখন আছড়ানো হয় বা পানিতে আলোড়িত করা হয়, কাপড়ের সূতা থেকে তৈলের সূক্ষ্ম কণাগুলো আলাদা হয়ে পানিতে ভেসে উঠে। ফলে কাপড় পরিষ্কার হয়।

প্রদত্ত উদ্দীপকে রিয়াদ কাপড় পরিষ্কার করার জন্য শাওনকে ডিটারজেন্ট ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছিল। এর যৌক্তিক করণ নিম্নোক্তভাবে আলোচনা করা যায়-
সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম বা পটাসিয়াম লবণ।
খর পানিতে ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়ামের কার্বনেট ও সালফেট বিদ্যমান থাকে। ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম আয়ন সাবানের সাথে বিক্রিয়ায় অদ্রবণীয় ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের কার্বোক্সিলেট লবণ উৎপন্ন করে যা পানির উপর পাতলা সরের মতো ভাসতে থাকে। ফলে সাবান ময়লা পরিষ্কার করতে পারে না, এভাবে সাবানের অপচয় ঘটে।

অপরদিকে ডিটারজেন্ট হলো সোডিয়াম লরাইল সালফোনেট যা পানিতে দ্রবণীয়। ফলে ডিটারজেন্ট দিয়ে খর পানিতে কাপড় কাঁচতে কোন সমস্যা হয় না।
CH3 (CH2)10-CH2OSO3Na + Ca2+ (CH3- (CH3) CH2OSO3), Ca + Na+
পানিতে দ্রবণীয়
উপরোক্ত আলোচনা হতে বলা যায়, শাওন কাপড় পরিষ্কার কার্যে খর পানি ব্যবহার করেছিল। সাবান খর পানিতে ভালো কাজ করে না। কাজেই এ ক্ষেত্রে রিয়াদের পরামর্শ মতে ডিটারজেন্টের ব্যবহার যৌক্তিযুক্ত।
মাস ক্লিনারের মূল উপাদান হলো অ্যামোনিয়া (NH3)।
আমরা জানি, বাতাসে পাঁচ ভাগের চারভাগই নাইট্রোজেন (N2)। তাই বাতাসকে শীতল করে তরলে পরিণত করার পর আংশিক পাতন প্রণালীর মাধ্যমে তরল N2 কে পৃথক করা হয়।
এভাবে প্রাপ্ত N2 কে H2 এর সহিত 1 : 3 অনুপাতে মিশ্রিত করে মিশ্রণকে 200-250atm চাপে ও 450-550°C তাপমাত্রায় আয়রন (Fe) প্রভাবকের উপর দিয়ে চালনা করলে অ্যামোনিয়া (NH3) গ্যাস উৎপন্ন হয়, যা হেবার বস প্রণালী নামে পরিচিত।
বিক্রিয়াটি হলো : N2 + 3H2 2NH3
বাতাসে পাঁচ ভাগের চার ভাগ N2 রয়েছে, যা ব্যবহার করে NH3 উৎপাদন করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!