لَا حَسَدَ إِلَّا فِي إِثْنَيْنِ অর্থ - দুটি বিষয় ছাড়া, কোনো বিষয়ে ঈর্ষা করা নাজায়েয।
সত্যবাদিতার অনুসরণ মানুষকে কল্যাণ ও জান্নাতের পথে পরিচালিত করে। সত্য মানুষকে শাশ্বত ন্যায়ের পথে পরিচালিত করে। সে মিথ্যা বলার অভিশাপ থেকে মুক্তি পায়। সত্যবাদিতা মানুষকে উন্নত নৈতিক চরিত্র গঠনে সাহায্য করে। পাপ ও অশালীন কাজ থেকে রক্ষা করে। সত্যবাদী ব্যক্তি কোনোরূপ অন্যায় ও অত্যাচার করতে পারে না। সর্বদা অন্যের কল্যাণ কামনা করে। এজন্য বলা হয়- সত্যবাদিতা মুক্তি দেয়; মিথ্যা ধ্বংস করে। সর্বোপরি সত্যবাদিতা ব্যক্তিকে পরম সাফল্য এনে দেয়। সত্যবাদী পৃথিবীতে মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা পায়। পরকালেও তার জান্নাত লাভ সুনিশ্চিত হয়।
প্রশ্নে উল্লেখিত পাঠ্যবইয়ের দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা সম্পর্কিত হাদিসটি অনুযায়ী মায়মুনা নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে। দায়িত্ব পালন বলতে নিজের করণীয় কাজ যথাযথভাবে পালন করাকে বোঝায়। সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হতে হয়। হাদিসে দায়িত্বশীলতা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। এখানে মায়মুনার দায়িত্ব পালনের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকের মায়মুনা সুখে-দুঃখে তার স্বামীর পাশে থাকে। পরিবার, সন্তান-সন্ততি দেখাশোনা এবং স্বামীর বাগানের রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা করে। মহানবি (স) বলেন, 'নারী দায়িত্বশীল তার স্বামীর সম্পদ, সন্তান এবং সংসারের। সে তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে (বুখারি ও মুসলিম)। মানুষ আল্লাহর খলিফা। সেজন্য তার জীবনযাপন লাগামহীন হতে পারে না। সে দায়িত্বহীন হতে পারে না। খলিফা থেকে ঘরের চাকর পর্যন্ত সবাই দায়িত্বশীল। হয়তোবা কারো দায়িত্ব বেশি, কারো কম। কিয়ামতের ময়দানে সব ব্যক্তিকেই তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বের বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে। আলোচনা থেকে বলা যায়, মায়মুনা নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবেই পালন করে।
ফল বাগানের ব্যাপারে মিনহাজকে সান্ত্বনা দিয়ে মায়মুনা যে বক্তব্য দিয়েছে তা আমি সমর্থন করি। আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষ ও ফসলের গুরুত্ব অপরিসীম। বৃক্ষ ও ফসলের মাধ্যমে মানুষের প্রতি আল্লাহর রহমত অফুরান ধারায় বর্ষিত হয়। বৃক্ষ ও ফসল মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের ব্যবস্থা করে। এছাড়া এগুলো পশু-পাখিরও আহার যোগায়। উদ্দীপকে মিনহাজের বাগান থেকেও পাখিদের ফল খাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ পায়।
উদ্দীপকের মিনহাজের ফলের বাগান থেকে পাখিরা ফল খায়। মিনহাজ বিষয়টিতে ক্ষুব্ধ হয়। তখন স্ত্রী তাকে মনোক্ষুণ্ণ না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলে, এর পুরস্কার আল্লাহ দেবেন। হাদিসে এসেছে, 'কারো বাগান থেকে যদি কোনো মানুষ কিংবা কোনো পশু বা পাখি আহার করে, তবে তা অবশ্যই সে ব্যক্তির জন্য সাদকা হবে' (বুখারি ও মুসলিম)। বৃক্ষরোপনের মাধ্যমে মানুষ পার্থিব লাভের পাশাপাশি পরকালীন কল্যাণও লাভ করতে পারে। কেননা মানুষ ছাড়াও পশু-পাখি বৃক্ষের ফল খেয়ে থাকে। এতে বৃক্ষরোপণকারী ও ফসল আবাদকারী সওয়াব লাভ করে। এ ফল- ফসল সাদকা করে দিলে যে সওয়াব হতো পশুপাখি বা মানুষের খাওয়ার ফলে আল্লাহ তায়ালা রোপনকারীর আমলনামায় সে পরিমাণ সওয়াব লিখে দেন।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, পাখি ফল খেয়ে ফেলার ফলে মিনহাজের যে মনোকষ্ট হয়েছিল তা দূর করার জন্য মায়মুনার উপদেশ প্রদান যথার্থ ছিল।
Related Question
View All'সিহাহ সিত্তাহ' হলো- বিশুদ্ধ ছয়টি হাদিস গ্রন্থ।
আলোচ্য হাদিসের অর্থ হলো- 'লজ্জাশীলতা ইমানের একটি বিশেষ অঙ্গ'। উল্লেখিত হাদিসটি সহিহ বুখারি ও মুসলিম শরিফে সংকলিত হয়েছে। এ হাদিসে রাসুল (স) লজ্জাশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। একজন মুমিন তার আচার-আচরণ, কথাবার্তা, কাজকর্মে অবশ্যই লজ্জাশীল হবেন। কারণ লজ্জাশীলতা ইমানের অপরিহার্য একটি দিক। তাই মান-সম্মান রক্ষা করার জন্য ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রত্যেক মুমিনের লজ্জাশীল হওয়া প্রয়োজন। আলোচ্য হাদিসে ইমানের সাথে লজ্জার সম্পর্কের দিকটিই ফুটে উঠেছে।
হাবিবের বক্তব্যে ওহিয়ে মাতলু তথা পবিত্র কুরআনের পরিচয় ফুটে উঠেছে। কুরআন মাজিদ আল্লাহর বাণী। এটি সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব যা সর্বশ্রেষ্ঠ নবি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল। উদ্দীপকের হাবিব ওহির বিভিন্ন প্রকার নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে প্রথমোক্ত ওহির মাধ্যমে পবিত্র কুরআনকে বুঝিয়েছে। উদ্দীপকের তিন বন্ধু ইসলামি শরিয়ার উৎস সম্বন্ধে আলোচনা করছিল। হাবিব এ সময় বলে, কিছু ওহির ভাব ও ভাষা সরাসরি আল্লাহর, যা পাঠ করা ইবাদত এবং নামাজেও এর তিলাওয়াত আবশ্যক। এর মাধ্যমে হাবিব পবিত্র কুরআনকে বুঝিয়েছে। ওহি দুই প্রকার। যথা- ওহিয়ে মাতলু ও ওহিয়ে গায়রে মাতলু। ওহিয়ে মাতলু বা পঠিত ওহি হলো কুরআন মাজিদ। এটি লাওহে মাহফুজ থেকে জিবরাইল (আ)-এর মাধ্যমে নবুওয়তের দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে মহানবি (স)-এর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে।
কুরআন সন্দেহাতীতভাবে অদ্যাবধি অবিকল ও অবিকৃত অবস্থায় সুরক্ষিত হয়ে আসছে। এর শব্দ, অর্থ, মর্ম উপস্থাপনা, বিন্যাস সবই আল্লাহ তায়ালার নিজস্ব। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ছাড়া নামাজ আদায় হয় না। নামাজে কুরআন থেকে তিলাওয়াত করা ফরজ। সুতরাং উদ্দীপকের হাবিব প্রথমোক্ত ওহির মাধ্যমে কুরআন মাজিদের দিকেই ইঙ্গিত করেছে।
হাসানের উল্লেখিত বিষয়টি ওহিয়ে গায়রে মাতলু তথা হাদিস; যার সাথে হাদিসে কুদসির কতিপয় সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য রয়েছে। ওহি দুই প্রকার- যার মধ্যে একটি 'ওহি গায়রে মাতলু' অর্থাৎ অপঠিত ওহি বা হাদিস। মহানবি (স)-এর কথা, কাজ এবং মৌন সম্মতি তথা রাসুল (স)-এর বাস্তব জীবনের প্রতিটি কাজ ও সমর্থনই হাদিস। হাসানের বক্তব্যে হাদিসের কথাই প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকের হাসান ইসলামি শরিয়ার দ্বিতীয় উৎস হাদিসের প্রসঙ্গে কথা বলছিল। সে বলে, হাদিস নামাজে তিলাওয়াত করতে হয় না এবং অপবিত্র অবস্থায়ও এটি স্পর্শ করা যায়। হাসানের উল্লেখিত ওহি গায়রে মাতলু বা হাদিসের বিভিন্ন প্রকারের মধ্যে হাদিসে কুদসি অন্যতম। হাদিসে কুদসি অন্যান্য হাদিসের মতই, তবে এ প্রকার হাদিসের ভাব স্বয়ং আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে এবং ভাষা রাসুল (স)-এর নিজের। অপরদিকে সাধারণ হাদিসের ভাব ও ভাষা উভয়টিই রাসুল (স)-এর নিজস্ব। তাছাড়া হাদিসে কুদসিও অপবিত্র অবস্থায় স্পর্শ করা যায়। 'রাসুল (স) বলেছেন', একথা অন্যান্য হাদিসের প্রারম্ভে থাকে। কিন্তু হাদিসে কুদসি শুরু হয় 'আল্লাহ বলেছেন' এ কথা দিয়ে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, হাসানের উল্লিখিত বিষয়টি হচ্ছে রাসুলের (স) বাণী বা কাজ তথা হাদিস। আর হাদিসে কুদসি এরই একটি ধরন।
সম্পূর্ণ কুরআন সর্বপ্রথম সংরক্ষিত হয় লাওহে মাহফুজে।
কুরআনকে বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করে কুরআন পাঠের অভিন্ন রীতি চালু করায় হযরত উসমান (রা) কে জামিউল কুরআন বলা হয়। হযরত উসমান (রা) এর সময় ভিন্ন ভিন্ন রীতিতে কুরআন পাঠের ফলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য কুরআনের প্রথম পাণ্ডুলিপিটি থেকে সাতটি কপি তৈরি করা হয়। এবং সেগুলো বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয় যাতে সবাই একই রীতিতে কুরআন তিলাওয়াত করতে পারে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!