ভাতের প্রধান পুষ্টি উপাদান স্টার্চ।
পরিপাকতন্ত্রের মানবদেহের পরিপাক ক্রিয়া সম্পন্ন করে।
দেহের যে অংশের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের খাদ্যবস্তু গ্রহণ, খাদ্যবস্তুর পরিপাক ও শোষণ এবং অপাচ্য অংশের নিষ্কাশন ঘটে, তাকে পরিপাক তন্ত্র বলে। মানবদেহের পরিপাকতন্ত্র পৌষ্টিক নালি ও পৌষ্টিক গ্রন্থি নিয়ে গঠিত।
উদ্দীপকে শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাটের পরিপাক সম্পর্কে আলোচনা করলেন। নিম্নে সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো-
শক্তির প্রধান উৎস হলো কার্বোহাইড্রেট। কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য পরিপাকের মাধ্যমে সরল উপাদানে পরিণত হয়, পরে শক্তি উৎপন্ন করে। দেহে মনোস্যাকারাইডের কোনো পরিপাকের প্রয়োজন হয় না। এরা রক্তে সরাসরি বিশ্লেষিত হয়। ডাইস্যাকারাইড ভেঙ্গে দুটি মনোস্যাকারাইড ও পলিস্যাকারাইড ভেঙে প্রথমে ডাইস্যাকারাইড ও পরে মনোস্যাকারাইডে পরিণত হয়।
খাদ্য উপাদানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাপ ও শক্তি সরবরাহ করে ফ্যাট। এজন্য ফ্যাটকে ঘনীভূত শক্তির উৎস বলা হয়। ফ্যাট জাতীয় খাদ্য ভেঙে গ্লিসারল ও ফ্যাটি এসিডে পরিণত হয়। পাকস্থলিতে পিত্তলবর্ণের অভাব থাকায় এখানে ফ্যাট সম্পূর্ণ পরিপাক হয় না।
মায়ার বয়সী অর্থাৎ কিশোরী মেয়েদের পুষ্টি চাহিদা পূরণ না হলে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কিশোর বয়সে বর্ধনের গতি বৃদ্ধির কারণে শক্তির চাহিদা বাড়ে। এছাড়া প্রোটিন, ভিটামিন ও ধাতব লবণের চাহিদাও বাড়ে। পেশির গঠন, দাঁত, হাড়, রক্ত গঠন ইত্যাদির জন্য বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের চাহিদা কিশোর বয়সে বেশি হয়।
মায়া একজন কিশোরী। তার বয়সী মেয়েদের জন্য পর্যাপ্ত কিলোক্যালরি বা শক্তিসমৃদ্ধ ও প্রোটিন জাতীয় খাদ্য গুরুত্বপূর্ণ। এর অভাবে তার শারীরিক বর্ধন ব্যাহত হবে।
ভিটামিন ও ধাতবলবণ সমৃদ্ধ খাদ্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মায়ার বয়সী কিশোরীরা যদি ভিটামিন ও ধাতব লবণ পরিমাণমতো গ্রহণ না করে তাহলে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হবে না। কিশোরীরা যদি ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-ডি গ্রহণ না করে তাহলে তাদের দাঁত ও হাড়ের গঠন ব্যাহত হবে। কিশোরী মেয়েদের লৌহ ও ফলিক এসিড বেশি প্রয়োজন। কারণ, মেয়েদের মাসিকের জন্য প্রতিমাসে যে রক্তের অপচয় ঘটে তার পরিপূরণের জন্য অর্থাৎ রক্ত গঠনের জন্য ফলিক এসিড ও লৌহ প্রয়োজন। মায়ার বয়সী মেয়েরা যদি সঠিক পরিমাণে লৌহ ও ফলিক এসিড গ্রহণ না করে তাহলে তাদের দেহের রক্ত গঠন বিঘ্নিত হবে। এছাড়া মায়ার বয়সী মেয়েদের দেহ ত্বকের ও চোখের সুস্থতার জন্য ভিটামিন এ, বি ও সি সমৃদ্ধ খাদ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
Related Question
View Allবিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে কৈশোরকালের বয়সসীমা ১০-১৯ বছর।
খাদ্যকে শোষণ উপযোগী করে দেহের কাজে লাগাতে হলে পরিপাক প্রয়োজন।
আমরা যেসকল খাদ্য গ্রহণ করি তার অধিকাংশই বড় অণুবিশিষ্ট এবং এদের রাসায়নিক গঠন অত্যন্ত জটিল প্রকৃতির। এসব খাদ্যবস্তু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত হয়ে দেহের গ্রহণ উপযোগী সরল উপাদানে পরিণত হয়। আর খাদ্যবস্তুকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত করার কাজটি পরিপাক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়।
শম্পার খাদ্যতালিকায় প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস জাতীয় খাদ্যের পরিমাণ বাড়াতে হবে।
শম্পা বয়সের তুলনায় খাটো। তার দৈহিক বর্ধন ঠিকমতো হচ্ছে না। এরূপ অবস্থায় তার খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ বাড়াতে হবে। এছাড়া হাড়ের গঠন ঠিক রাখার জন্য ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস জাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে। এক্ষেত্রে তার খাবার যেমন হওয়া প্রয়োজন তা নিচে দেওয়া হলো -
i. প্রতি বেলার প্রধান খাবারে অর্থাৎ সকাল, দুপুর, ও রাতের বেলায় মৌলিক খাদ্যগোষ্ঠীর বিভিন্ন শ্রেণির খাদ্য থাকতে হবে।
ii. তার প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় কিলোক্যালরির চাহিদা যাতে পূরণ হয় সেই জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে শস্য ও শস্য জাতীয় খাদ্য প্রতিদিনের তালিকাতে থাকতে হবে।
iii. প্রতিদিন উদ্ভিজ্জ ও প্রাণিজ উভয় উৎস থেকেই প্রোটিন গ্রহণ করতে হবে। দিনে অন্তত একবার প্রাণিজ প্রোটিন গ্রহণ করতে হবে।
iv. শক্তির চাহিদা মেটানোর জন্য কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট জাতীয় খাদ্য দিতে হবে।
V. প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় বিভিন্ন ধরনের মৌসুমি, রঙিন শাকসবজি ও তাজা টক জাতীয় ফল অবশ্যই থাকতে হবে।
vi. সারাদিনে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি গ্রহণ করতে হবে। সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য দৈনিক ৬-৮ গ্লাস পানি পান করতে হবে।
উপরিউক্ত নিয়মে খাদ্য গ্রহণ করলে শম্পার স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার সমাধান সহজ হবে।
সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে খাদ্য গ্রহণের সুঅভ্যাস গঠন করা অত্যন্ত জরুরি।
লিটু প্রতিদিন স্কুল ছুটির পর বার্গার, স্যান্ডউইচ, ড্রিংকস ইত্যাদি খায়। ফাস্টফুড, সফট্ ড্রিংকস ইত্যাদি খাবারে বেশি ক্যালরি থাকে। যারা কম পরিশ্রমের কাজ করে তারা এগুলো প্রতিদিন গ্রহণ করলে সহজেই শরীরের ওজন বেড়ে যায় এবং নানা ধরনের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি দেখা দেয়। যেমন হৃদরোগ, ওজনাধিক্য, ডায়াবেটিস ইত্যাদি রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
লিট দৈনিক ফাস্টফুড জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করায় সে মোটা হয়ে যাচ্ছে। তাই তার মায়ের উচিত তাকে দৈনিক এগুলো খেতে না দিয়ে বাড়িতে তৈরি বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার, মৌসুমি ফল ও শাকসবজি খাওয়ানো। তার খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনে মায়ের ভূমিকাই সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মায়ের সাথেই সন্তানের সম্পর্ক সবচেয়ে নিবিড় থাকে।
তাই মায়ের উচিত লিটুকে বাইরের খাবারের কুফল বুঝিয়ে ভালো ও পুষ্টিকর খাবারে অভ্যস্ত করা।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে কৈশোরকালের বয়সসীমা ১০-১৯ বছর।
খাদ্যকে শোষণ উপযোগী করে দেহের কাজে লাগাতে হলে পরিপাক প্রয়োজন।
আমরা যেসকল খাদ্য গ্রহণ করি তার অধিকাংশই বড় অণুবিশিষ্ট এবং এদের রাসায়নিক গঠন অত্যন্ত জটিল প্রকৃতির। এসব খাদ্যবস্তু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত হয়ে দেহের গ্রহণ উপযোগী সরল উপাদানে পরিণত হয়। আর খাদ্যবস্তুকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত করার কাজটি পরিপাক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!