যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা সামাজিক শিক্ষা আয়ত্ত করে সমাজের উপযুক্ত সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় তাই সামাজিকীকরণ।
ব্যক্তির সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য সুষ্ঠু সামাজিকীকরণ গুরুত্বপূর্ণ। সুষ্ঠু সামাজিকীকরণ ব্যক্তিকে আদর্শ সামাজিক মানুষে পরিণত করবে। ওর দ্বারা ব্যক্তি কাঙ্ক্ষিত আদর্শ, মূল্যবোধ, রীতিনীতি ইত্যাদি আয়ত্ত করবে। এতে করে ব্যক্তি যেমন আদর্শ মানুষে পরিণত হবে তেমনি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ বিনির্মাণেও তার ভূমিকা সহায়ক হবে।
মিলি সামাজিকীকরণের প্রতিবেশী দল মাধ্যমকে ফুটিয়ে তুলেছে। আমাদের বাড়ির আশপাশে যারা বাস করেন তারা হলেন আমাদের প্রতিবেশী। পাশাপাশি বাড়িগুলোর সমবয়সি শিশুদের নিয়ে একটি প্রতিবেশী দল গড়ে উঠতে পারে। যার মাধ্যমে আমরা পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা, সমতা, ঐক্য প্রভৃতি বিষয়ে শিক্ষার্জন করতে পারি। উদ্দীপকে দেখা যায়, মায়ের উদ্যোগে মিলি তার বন্ধুদের নিয়ে একটি ক্লাব গঠন করে। কেউ বিপদে পড়লে এ ক্লাবের সকলে মিলে সাহায্য করে। এখানে মিলির সামাজিকীকরণে খেলার সাথি ও প্রতিবেশী দলের মাধ্যমটির ভূমিকা রয়েছে।
অতএব, উদ্দীপকে আমরা মিলির সামাজিকীকরণে প্রতিবেশী দল মাধ্যমটির ভূমিকাই দেখতে পাই।
উদ্দীপকে মিলির ভাই ও তার বন্ধুরা সামাজিকীকরণের অন্যতম মাধ্যম গণমাধ্যম নিয়ে কর্মকান্ড করছে। আর গণমাধ্যম তাদের সামাজিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আমি মনে করি। জনগণের কাছে সংবাদ, মতামত, বিনোদন প্রভৃতি পরিবেশন করার মাধ্যমকে বলা হয় গণমাধ্যম। গণমাধ্যসমূহ যেমন- সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন, বেতার, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র সামাজিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সংবাদপত্র, ম্যাগাজিনে সমাজের মূল্যবোধ, প্রথা, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, শিক্ষা প্রভৃতি সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য থাকে, যা শিশুর সামাজকীকরণে ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকে মিলির ভাই ও তার বন্ধুরা মিলে একত্রিত হয়ে বিভিন্ন পত্রিকা, ম্যাগাজিন পড়ে। জীবনধর্মী বিভিন্ন ছবি ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান, বিতর্ক অনুষ্ঠান ইত্যাদি দেখে। এসবই সামাজিকীকরণের গণমাধ্যমের অন্তর্ভুক্ত। আর গণমাধ্যম শিশুর মনোভাব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উদ্দীপকে মিলির ভাই ও তার বন্ধুদের কর্মকান্ড তাদের সামাজিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
Related Question
View Allভালোভাবে জীবনযাপনের জন্য মা-বাবার বা পরিবারের সদস্যদের কোনো কাজে সহায়তা করা শিশুদের জন্য উপযোগী।
প্রতিবন্ধকতা শিশুর জন্য কাম্য নয়। কারণ প্রতিবন্ধকতা শিশুর জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
শিশুর প্রতি নির্দয় আচরণ শিশুর শারীরিক-মানসিক-নৈতিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। অনেক সময় মা-বাবার অত্যধিক প্রত্যাশাও শিশুর ওপর এক ধরনের মানসিক পীড়ন তৈরি করে যা শিশুমনে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। এতে করে শিশু ক্ষীণ স্বাস্থ্যের অধিকারী ও খিটখিটে মেজাজের হয়।
উদ্দীপকে মোহনের কাজ শিশুশ্রম ধারণাকে প্রতিফলিত করে।
সাধারণত দরিদ্রতা বা পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক সময় শিশুরা বিদ্যালয়ে না গিয়ে বাসাবাড়িসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। ১৮ বছর বয়সের কম বয়সি কোনো শিশু যদি উপার্জন করার জন্য কাজ করতে গিয়ে বিপদ, ঝুঁকি, শোষণ ও বঞ্চনার সম্মুখীন হলে সে কাজকে শিশুশ্রম বলা হয়। উদ্দীপকের মোহন তেরো বছর বয়সে জুতার কারখানায় কাজ করে। তার এ শ্রম স্পষ্টতই শিশুশ্রম। আমাদের দেশের শিশুরা বাসাবাড়ির বাইরে বিভিন্ন কলকারখানায় যেমন- চুড়ি, বিড়ি, ব্যাটারি ও জুতা তৈরির কারখানায় কাজ করছে। বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য তৈরির কারখানায়, লেদ ও ওয়েল্ডিং মেশিনেও কাজ করছে। গাড়ি বা টেম্পুর সাহায্যকারী হিসেবে কাজ করছে। উদ্দীপকে মোহন সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি জুতা তৈরির কারখানায় কাজ করে অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
অতএব মোহনের কাজ শিশুশ্রমের ধারণাকে প্রতিফলিঅন্তরে করে ।
উদ্দীপকে মলির কর্মক্ষেত্রে তার প্রতি যে আচরণ করা হয় তা শিশুশ্রমের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণের বহিঃপ্রকাশ।
শ্রমজীবী শিশুর প্রতি আমাদের সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে। তাদের প্রতি ভালো ব্যবহার করতে হবে। তাদের লেখাপড়ার সুযোগ করে দিতে হবে। ভালো খাবার, পোশাক ইত্যাদি দিতে হবে যাতে এসব শিশু ভালো পরিবেশে বেড়ে উঠে পরিবার ও সমাজের প্রতি তারা দায়িত্বশীল হয়ে উঠে।
উদ্দীপকে মলির কাজ শিশুশ্রমের পর্যায়ে পড়ে। সাধারণত শিশুরা যেখানে শ্রমিক হয়ে কাজ করে সেসব জায়গায় তারা নানারকম বঞ্চনা ও নির্যাতনের শিকার হয়। কিন্তু উদ্দীপকের মলি তার কর্মক্ষেত্রে ভালো খাবার খেতে পায়, বেড়াতে যেতে পারে, ঈদের সময় পছন্দের জামা পায়। এসব কর্মকাণ্ড একজন শিশু শ্রমিকের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণের বহিঃপ্রকাশ। এছাড়া মলি কাজের অবসরে লেখাপড়ারও সুযোগ পায়। এতে তার মানসিক বিকাশ ঘটে। মলির প্রতি ভালো আচরণের কারণে সে মানবিক গুণসম্পন্ন একজন নাগরিক হয়ে উঠবে। অতএব বলা যায়, কর্মক্ষেত্রে মলির প্রতি আচরণ প্রশংসনীয়। এরূপ আচরণ প্রতিটি কর্মজীবী শিশুর প্রতি কাম্য। এরূপ আচরণই শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়ক।
যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা সামাজিক শিক্ষা আয়ত্ত করে সমাজের উপযুক্ত সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় তাই সামাজিকীকরণ।
ব্যক্তির সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য সুষ্ঠু সামাজিকীকরণ গুরুত্বপূর্ণ। সুষ্ঠু সামাজিকীকরণ ব্যক্তিকে আদর্শ সামাজিক মানুষে পরিণত করবে। ওর দ্বারা ব্যক্তি কাঙ্ক্ষিত আদর্শ, মূল্যবোধ, রীতিনীতি ইত্যাদি আয়ত্ত করবে। এতে করে ব্যক্তি যেমন আদর্শ মানুষে পরিণত হবে তেমনি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ বিনির্মাণেও তার ভূমিকা সহায়ক হবে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
