যেসব মাধ্যমে জনগণের কাছে সংবাদ, মতামত ও বিনোদন পরিবেশন করা হয় তাই গণমাধ্যম।
ব্যক্তির সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে গণমাধ্যম এবং তথ্য ও যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সংবাদপত্র আপন সমাজ ও বিশ্ব সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা সৃষ্টির মাধ্যমে তা মানুষের মনের সংকীর্ণতা দূর করে। বেতার ও রেডিও-এর মাধ্যমে গণসচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং মানুষের মধ্যে সংস্কৃতিবোধ সৃষ্টি হয়। টেলিভিশন দেশপ্রেম জাগ্রত করে।
চলচ্চিত্র মূল্যবোধ, মানবিকতা ও সহমর্মিতা বোধ জাগিয়ে তোলে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ভাববিনিময় ও বন্ধন সুদৃঢ় করে।
রাসেল দাবায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করার ক্ষেত্রে সামাজিকীকরণের সমবয়সী বন্ধু বা সঙ্গী প্রতিষ্ঠানটির প্রভাব বিস্তার করেছে।
শিশুর সামাজিকীকরণের মাধ্যমগুলোর মধ্যে বাবা-মায়ের পরেই রয়েছে সামাজিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা। আর এ সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্যতম হলো সমবয়সী বন্ধু-বান্ধব ও খেলার সাথী। কারণ শৈশবে শিশুদের খেলার সাথীদের সাথে খেলাধুলার প্রচন্ড আকর্ষণ থাকে। তারা একে অন্যের 'সাথে মিশে বিভিন্ন গুণের অধিকারী হয়। উদ্দীপকেও এ বিষয়টি লক্ষ করা যায়। এখানে দেখা যায়, মিজান ও রাসেলের বন্ধু শিহাব ৮ম শ্রেণির ছাত্র। শিহাব আন্তঃহাউজ ইনডোর দাবা প্রতিযোগিতায় দাবায় পর পর দুইবার প্রথম হয়েছে। রাসেল শিহাবের অনুপ্রেরণায় দাবা শিখে এই বছর দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে।
আর এ বিষয়টি সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে সঙ্গী বা খেলার সাথিদেরকেই নির্দেশ করছে।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত রাসেলের দাবায় দ্বিতীয় স্থান অধিকারের পিছনে সমবয়সীদের ভূমিকা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
'উদ্দীপকে মিজানের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির অপব্যবহার লক্ষ করা যায়'-উক্তিটি যথার্থ।
তথ্যপ্রযুক্তির রিস্ময়কর আবিষ্কার হলো ইন্টারনেট। ইন্টারনেটের আবিষ্কারের ফলে ফেসবুক ও টুইটারের সাহায্যে খুব সহজে দেশে-বিদেশে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়। এমনকি বন্ধুত্ব সৃষ্টি এবং মতামত প্রদান-ও ছবি বিনিময় করা যায়। আধুনিক বিশ্বে এটি সামাজিক যোগাযোগের একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু-উদ্দীপকে উল্লিখিত মিজানের বেলায় সম্পূর্ণ ভিন্ন। কারণ বিজ্ঞানের প্রত্যেকটি আবিষ্কারের কিছু মন্দ বা নেতিবাচক দিক রয়েছে। তেমনি ইন্টারনেটে সেই দিক রয়েছে। মিজান রাত জেগে বন্ধুদের সাথে ইন্টারনেট ব্যবহার করে ফেসবুক ও টুইটারের মাধ্যমে আড্ডা দেয়। যা সম্পূর্ণ প্রযুক্তির অপব্যবহার। এটা তার স্বাস্থ্য, মেধা, ঘুম, সময় ইত্যাদির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। অথচ তার বন্ধুরা দাবা খেলে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জন করলেও তার ক্ষেত্রে স্থানীয় সমাজের বিভিন্ন উপাদানের ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে না।। অর্থাৎ প্রযুক্তি যে সফল তার সঠিক ব্যবহার আমরা মিজানের ক্ষেত্রে পাচ্ছি না। বরং অপব্যবহারে নেতিবাচক ফল পাচ্ছি।
তাই বলা যায়, মিজান প্রযুক্তির অপব্যবহার করছে।
Related Question
View Allসামাজিকীকরণ হলো একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে মানুষ সমাজের রীতিনীতি, নিয়মকানুন ও মূল্যবোধ শেখে। জন্মের পর থেকেই মানব শিশু পরিবার, প্রতিবেশী, সমবয়সী ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। এর ফলে সে সমাজের একজন উপযোগী সদস্য হিসেবে গড়ে ওঠে।
সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মূল বৈশিষ্ট্য হলো এটি মানুষের ব্যক্তিত্ব গঠনে সহায়তা করে। এটি পরিবার, প্রতিবেশী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যক্তির মূল্যবোধ, আচরণ ও চিন্তাধারা গঠনের প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া সমাজের সঙ্গে মানুষের সামঞ্জস্য সাধনে সাহায্য করে।
পরিবার সামাজিকীকরণের প্রথম ও প্রধান মাধ্যম। শিশুর আবেগ, আচরণ, খাদ্যাভ্যাস, ধর্মচর্চা এবং পোশাক-পরিচ্ছদের মতো বিষয়গুলো পারিবারিক পরিবেশে গড়ে ওঠে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে শিশুর ব্যক্তিত্ব গঠন হয়। এজন্য পরিবারকে সামাজিকীকরণের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম বলা হয়।
প্রতিবেশী শিশুর সামাজিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিশুর চারপাশের মানুষের আচরণ, রীতিনীতি ও মূল্যবোধ তার আচরণে প্রভাব ফেলে। প্রতিবেশীদের সঙ্গে মেলামেশা করে শিশু সমাজের নিয়ম ও রীতিনীতি সহজে আয়ত্ত করে। এটি তার সামাজিক দক্ষতা বাড়ায়।
স্থানীয় সমাজের সাহিত্য, সাংস্কৃতিক সংঘ, বিজ্ঞান ক্লাব এবং খেলাধুলার ক্লাব শিশুর চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে সাহায্য করে। এসব সংগঠনে অংশগ্রহণ করে শিশু সহনশীলতা, বুদ্ধিবৃত্তি ও সৌন্দর্যবোধের বিকাশ ঘটায়। এতে শিশু স্থানীয় সমাজের অংশ হয়ে ওঠে এবং সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হয়।
স্থানীয় সমাজের সাহিত্য, সংগঠন এবং ক্লাব শিশুর চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে ভূমিকা রাখে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিশু সহনশীলতা, সহযোগিতা ও সৃজনশীলতা শেখে। এটি তাকে সমাজের কার্যকর অংশীদার হতে সাহায্য করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!