জন্মের পর প্রথম দুই সপ্তাহকে নবজাতক কাল বলা হয়।
একটি শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর তার সুস্থতা বজায় রাখার জন্য প্রথমেই ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর শিশুর নাভিরজ্জু কাটা উচিত। রোগ প্রতিরোধক টিকা হিসেবে শালদুধ দিতে হবে। শিশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে।
সর্বোপরি, শিশুর সার্বিক চেহারা, শ্বাস-প্রশ্বাস, কান্নাকাটি করা, হাত-পা ছোঁড়া ইত্যাদি লক্ষণ হতে শিশুর সুস্থতা যাচাই করতে হবে।
শিশুর জীবনের অন্যান্য সময়ের মতো নবজাতকালেরও যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে।
নবজাতক শিশুর প্রধান কাজ হচ্ছে নতুন পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানো। তাদের কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়।
মিতুর বাচ্চাটি নবজাতককালে অবস্থান করছে। এ সময়ে যেসকল স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা যায় তার মধ্যে বমি করা বা উগরানো একটি সাধারণ সমস্যা। খুব ছোট শিশুদের পাকস্থলি ও অস্ত্রের পেশি মজবুত না থাকাতে তরল খাদ্য অতি সহজেই মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে। বিশেষ করে খাওয়ানোর পর চিত করে শোয়ালে বা কোলে নিয়ে ঝাঁকাঝাঁকি করলে এরূপ উরানো বেশি দেখা যায়। তাই খাওয়ানোর পর শিশুকে কিছুক্ষণ কোলে বসিয়ে রাখলে এবং শিশুর পিঠ চাপড়িয়ে বাতাস বের করালে ভালো ফল পাওয়া যায়। মিতু বাচ্চাটিকে খাওয়ানোর পর এই পদ্ধতিটি অবলম্বন না করায় তার বাচ্চার এরূপ সমস্যা দেখা দিয়েছে। যা নবজাতক শিশুর একটি সাধারণ সমস্যা হিসেবে পরিচিত।
বুকের দুধ সবসময় নিয়ম করে খাওয়ানো ভালো। নিয়মমাফিক দুধ পান করালে হজম ক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে এবং মায়ের দুধও চাহিদা অনুযায়ী পরিমিত পরিমাণে নিঃসরিত হয়।
উদ্দীপকের মিতু তার বাচ্চাকে দুধ খাওয়ালে প্রায়ই সে বমি করে দেয়। সে ঠিকমতো দুধ হজম করতে পারছে না বলেই তা বমি হয়ে বের হয়ে আসছে। এটা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। শিশুকে মায়ের দুধ দেওয়ার আগে মাকে অবশ্যই মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে হবে। মিতু তার সমস্যাটি নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তার তাকে নিয়মমাফিক দুধ পান করানোর পরামর্শ দেন। কারণ এতে শিশুর হজম ক্রিয়া ঠিক থাকে। মায়ের শরীর থেকে সঠিক মাত্রায় দুধ নিঃসরণ হয়। মা আগে থেকে প্রস্তুত হয়ে যথাসময় ধরে ঠিকমতো বসে শিশুকে দুধ পান করাতে পারেন এবং এতে শিশুর চাহিদাও পরিমিত মাত্রায় মেটে। শিশুর পেট ঠিকমত ভরে। শিশু তৃপ্তি পায়। ফলে তার বমি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। তাছাড়া মা যদি ঠিকমত আসনে বসে দুধ দেন, তবে তা শিশু সহজভাবে পান করতে পারে।
এ সকল কারণেই নিয়ম মেনে দুধ পান করানো উচিত। মিতুও এসকল পরামর্শ ঠিকমতো মেনে চলে যা তার সন্তানের বমির সমস্যাটি কমিয়ে দেয়।
Related Question
View Allফিটাসের সুস্থতা, সংখ্যা, ওজন, বয়স, পজিশন এবং অ্যামনিউটিক ফ্লুইডের পরিমাণ পরীক্ষা করার পদ্ধতি হলো আলট্রাসনোগ্রাম।
২০ বছরের নিচে গর্ভধারণকারী মা-কে ঝুঁকিপূর্ণ মা বলার কারণ হলো এদের মা হওয়ার মতো মানসিক পরিপক্কতা ও শারীরিক পূর্ণতা থাকে না।
অপরিণত বয়সে যেসব মেয়ে মা হয়, তারা নানা রকম শারীরিক ও মানসিক জটিলতায় ভোগে। এছাড়াও এ বয়সে একটি মেয়ের সন্তান ধারণ করা, জন্ম দেওয়া ও পালন সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকে না। ফলে সে নিজে ও তার গর্ভের সন্তান ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
রহিমা ৩ মাসের গর্ভবর্তী। গর্ভবতীর ১ম তিন মাস হলো গর্ভসঞ্চারের পর থেকে ১২ সপ্তাহ।
গর্ভাবস্থায় ভূণের বৃদ্ধি-সামান্য হয় বলে পুষ্টির চাহিদা খুব একটা বৃদ্ধি পায় না। তাই রহিমার দেহকে সুস্থ রাখার জন্য, দেহের প্রয়োজনীয় গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সুষম খাদ্যের পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়গুলো প্রাধান্য দিতে হবে। এ সময় তার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় যে বিষয়গুলো জরুরি সেগুলো হলো-
১. মূত্র পরীক্ষা: গর্ভসঞ্চার নির্ধারণের জন্য করা হয়।
২. রক্তের নিয়মিত পরীক্ষা: রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা, হিমোগ্লোবিন, হেপাটাইটিস ভাইরাস, যৌনবাহিত রোগ সংক্রান্ত পরীক্ষা এবং ডায়াবেটিস পরীক্ষা।
৩. আলট্রাসনোগ্রাম: ফিটাসের সুস্থতা, সংখ্যা, ওজন ইত্যাদি নির্ণয় করা।
রহিমার মানসিক বিপর্যয় তার গর্ভের শিশুর উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
রহিমার আশেপাশের পরিবেশে ও তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কলহ ও অশান্তি লেগেই রয়েছে। ফলে সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।
রহিমা গর্ভবতী, এই অবস্থায় শারীরিক যত্নের সাথে সাথে মানসিক যত্ন নেওয়া আবশ্যক। কারণ শরীর ও মন পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। জন্মের পূর্বে মায়ের অনুভূতি, আবেগ, ক্রোধের সাথে ভ্রূণ শিশুর কোনো রকম যোগাযোগ থাকে না। তবুও মায়ের মনের তীব্র ক্ষোভ, উত্তেজনা, মায়ের দেহে রাসায়নিক পরিবর্তন সৃষ্টি করে, যার প্রভাবে ভ্রূণ শিশুর ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মায়ের হৃৎপিণ্ডের ক্রিয়াসহ দেহের বিপাকক্রিয়া বৃদ্ধি পায়। এতে ভ্রূণ শিশুর অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়। রহিমার পারিবারিক ক্লেশ, ক্লান্তি ও অতিরিক্ত উদ্বেগ ভূণের গঠনে অস্বাভাবিকতা আনতে পারে এবং গর্ভাবস্থার শেষের দিকে এ ধরনের মানসিক ক্লান্তি ও ক্লেশ শিশুর মধ্যে অস্থিরতা বৃদ্ধি করে। মায়ের মনের মানসিক অশান্তির কারণে সন্তানেরা পরিবেশের সাথে সহজে খাপ খাওয়াতে পারে না।
তাই রহিমার উচিত গর্ভাবস্থায় পরিবারের সকলের সাথে আন্তরিক সম্পর্ক রাখা। সবসময় ইতিবাচক পরিবেশে অবস্থান করা। রহিমা যাতে আনন্দ ও প্রফুল্লচিত্তে থাকেন, সেদিকে সকলের সচেষ্ট থাকা উচিত।
গর্ভবতী মায়ের দৈনিক ৮ ঘণ্টা ঘুমানো দরকার।
গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন রোগের সংক্রমণ দেখা যায়। গর্ভাবস্থায় রুবেলা (German measels), সিফিলিস, ম্যালেরিয়া এবং ধনুষ্টংকার প্রভৃতি রোগ হতে পারে। এ জাতীয় রোগ ভূণের ক্ষতিসাধন করে। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!