বস্ত্র ধৌতকরণের পূর্বের জরুরি কাজ হলো দাগ অপসারণ করা।
পোশাকের দাগ বলতে পোশাক পরিচ্ছদে অবাঞ্ছিত চিহ্নকেই বোঝায়।
কখনও কখনও পোশাক পরিচ্ছদে এমন কিছু চিহ্ন বা রং দেখা যায় যেগুলো সাধারণভাবে ধৌত করলে পরিষ্কার হয় না। এ ধরনের চিহ্ন অপসারণ করতে বিশেষ পদ্ধতির প্রয়োজন হয়।
মিতুলের রেশমের জামায় ময়লার দাগ লাগায় জামাটি সে ধৌত করতে চায়।
রেশমি কাপড় ধৌতকরণে প্রাকৃতিক দ্রব্য ব্যবহার করা ভালো। এজন্য বস্ত্রগুলো ধোয়ার ক্ষেত্রে রিঠার পানি ব্যবহার করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে মিতুল রিঠাগুলো আগের দিন রাতে ভিজিয়ে রাখবে। এরপর সকালে রিঠার খোসা চটকালে ফেনাযুক্ত পানি পাবে। উক্ত পানি দিয়ে রেশম কাপড়ের ময়লা সুন্দরভাবে পরিষ্কার হয়। এতে কাপড়ের রং উঠে না এবং নকশা থাকলে তা নষ্ট হয় না। ভালোভাবে ময়লা দূর হলে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।
দ্বিতীয়বার ঠান্ডা পানিতে লবণ ও সিরকা গুলে তাতে বস্তুটি ধুতে হবে। এতে বস্ত্রটিতে রঙের চাকচিক্য ফিরে আসবে। রেশমি বস্ত্র ধোয়ার পর হাত দিয়ে যতদূর সম্ভব পানি বের করে দিতে হবে। এরপর ছায়ায় শুকাতে দিতে হবে। প্রাকৃতিক দ্রব্য দিয়ে মিতুল এভাবেই তার জামাটি পরিষ্কার করবে।
মিতুলের মা মিতুলকে কাপড় ধোয়ার কাজটি সুষ্ঠু ও দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করার জন্য তাকে ধোয়ার পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে কতগুলো ধাপ অনুসরণ করতে বললেন।
বস্ত্র ধৌতকরণের ক্ষেত্রে প্রথমে বস্ত্রের দাগ অপসারণ করে নিতে হবে। ধোয়ার সময় হালকা গরম পানি ও সবশেষে একবার ঠান্ডা পানি ব্যবহার করতে হবে। ক্ষার জাতীয় সাবান ব্যবহার করা যাবে না। ঘষে ঘষে ময়লা পরিষ্কার করা যাবে না, এতে তত্ত্ব ছিঁড়ে যেতে পারে। বস্ত্র ধোয়ার পানিতে সামান্য লবণ ও সিরকা মিশাতে হবে। ধোয়ার পর কাপড় মুচড়িয়ে পানি নিংড়ানো যাবে না। রেশমি পোশাকটি ছায়ায় শুকাতে হবে।
এসকল ধাপ অতিক্রম করে কীভাবে কাপড় ধৌত করবে তার পরিকল্পনা শেষ করে মিতুলের কাপড় ধোয়া শুরু করতে হবে।
Related Question
View Allরেশম তন্তুর তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে হালকা মাড় বেশি উপযোগী।
কাপড়ে কাঠিন্য ও চকচকে ভাব আনার জন্য এতে মাড় দেওয়া হয়। মাড় ব্যবহারের ফলে পোশাকের চাকচিক্য ও ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি পায়। পরিমাণমতো এবং সঠিক নিয়মে মাড় দিলে নরম পোশাকে কাঠিন্য ও নতুনত্ব ফিরে আসে। এছাড়া কাপড়ে মাড় থাকলে তা ময়লা লাগায় বাধার সৃষ্টি করে।
সায়মার জামার মেহেদীর দাগ অপসারণের জন্য হালকা গরম পানি ঐ দাগ বরাবর ধীরে ধীরে একটু উপর থেকে ঢালতে হবে। এরপর দাগের ওপর সাবান দিয়ে, সামান্য ঘষে নিতে হবে। দাগ হালকা না হওয়া-পর্যন্ত ঘষতে হবে। এক্ষেত্রে পুরানো টুথব্রাশ ব্যবহার করা যায়। এরপর গ্লিসারিন ও সাদা ভিনেগার দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে।
মেহেদীর দাগ তোলার ক্ষেত্রে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড কিংবা বোরাক্স পাউডারও ব্যবহার করা যায়। কৃত্রিম তন্তুর কাপড়ে মেহেদীর রং লাগলে তা উঠাতে ভিনেগার ভালো কাজ করে। এভাবে সায়মা তার পোশাকের মেহেদীর রং অপসারণ করবেন।
পোশাক পরিচ্ছদের পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় সায়মা যথেষ্ট জ্ঞান রাখেন না।
দাগ তোলার আগে কাপড়ের তন্তুর প্রকৃতি ও দাগের উৎস জানতে হবে। সায়মা মাথায় মেহেদী দেওয়ার আগে পরিধেয় পোশাকটি যাতে নষ্ট না হয় এজন্য আলাদা কোনো অ্যাপ্রোন বা ওড়না ব্যবহার করেন নি। এমনকি দাগ লেগে যাওয়া কাপড়টি আলাদা না রেখে তার সাথে একটি সাদা সুতি শাড়ি ও অধিক ময়লাযুক্ত বিছানার চাদরটিও ভিজিয়ে রাখেন। এতে করে জামা থেকে মেহেদীর রং সাদা সুতি কাপড়ে লেগে যায়। তাছাড়া কম ময়লাযুক্ত ও অধিক ময়লাযুক্ত কাপড়ও তিনি আলাদা করে ধুয়ে দেননি।
কাপড়ে রং লাগলে যে উপায় অবলম্বন করা হয় তিনি তা না করে সব কাপড়ের জন্য একই ডিটারজেন্ট পাউডার ব্যবহার করেছেন। সাদা সুতির শাড়িতে সহজেই অন্য কাপড় থেকে ময়লা লেগে দাগ স্থায়ী হতে পারে তাও তিনি জানেন না।
এ সকল দিক বিবেচনা করে বলা যায় যে, পোশাকের পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় সায়মা যথেষ্ট জ্ঞান রাখেন না।
বল পয়েন্ট কলমের দাগ তুলতে মেথিলেটেড স্পিরিট ব্যবহার করা হয়।
কাপড়ে যেকোনো ধরনের দাগ পড়লে তা দ্রুত অপসারণ করা না হলে স্থায়ী হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে। তাছাড়া ধোয়ার আগে কাপড়ের দাগ অপসারণ করে না নিলে তা অন্য বস্ত্রে লেগে যেতে পারে। তাই কাপড় ধোয়ার পূর্বে পোশাকের দাগ অপসারণ করতে হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!