কবিরাজরা নিমগাছের প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
অনাদর ও অবহেলা থেকে মুক্তি পেতে কবির মতো একজন সৌন্দর্যপিয়াসী লোকের প্রশংসায় মুগ্ধ হয়ে নিমগাছটির তা সঙ্গে চলে যেতে চাইল।
'নিমগাছ' গল্পে সাধারণ অর্থে নিমগাছ ভেষজ গুণসম্পন্ন একটি গাছ। এর ছাল, পাতা, ডাল নানাভাবে মানুষের রোগ উপশম করে। অথচ কেউ এই গাছের সামান্যতম যত্ন নেয় না। একজন কবি একদিন নিমগাছের রূপ ও গুণের প্রশংসা করেন। এই সৌন্দর্যপিয়াসী কবির প্রশংসায় নিমগাছটি মুগ্ধ হয় এবং তার সঙ্গে চলে যেতে চায়। লোকটির সঙ্গে নিমগাছটির চলে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণের মধ্য দিয়ে লেখক গৃহকর্ম-নিপুণা একজন গৃহবধূর নিগৃহীত ও অবহেলিত জীবনের মুক্তির বাসনা প্রকাশ করেছেন।
উদ্দীপকের ফুফুর পরিবারের লোকজন 'নিমগাছ' গল্পের গৃহকর্ম-নিপুণা গৃহবধূর পরিবারের লোকজনের প্রতিনিধি।
সাম্যের দৃষ্টিতে পৃথিবীতে সব মানুষ সমান। নারী-পুরুষ বলে পার্থক্য করা উচিত নয়। অথচ পুরুষশাসিত সমাজে নারীরা নানাভাবে অবহেলা ও মানসিক যন্ত্রণার শিকার। পুরুষরা নারীদের সেবাদাসী করে রাখতে চায়। শ্বশুরবাড়িতে গৃহবধূরা নানাভাবে অবহেলা ও নির্যাতনের শিকার হয়।
উদ্দীপকে ফুফুর পরিবারে আশ্রয় নেওয়া পিতৃ-মাতৃহীন মিতুর জীবন-যন্ত্রণা তুলে ধরা হয়েছে। মিতু কথা বলতে না পারলেও ফুফুর পরিবারের যাবতীয় কাজকর্ম করে এবং সবার খেয়াল রাখে। অফিসে যাওয়ার সময় ফুফার খাবার দেওয়া, ফুফাতো ভাই-বোনদের স্কুলে যাওয়ার সময় নানা কিছু করে দেওয়া, অসুস্থ ফুফুকে ওষুধ খাওয়ানো ইত্যাদি কাজ করে সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তার বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে ইচ্ছে করে। কিন্তু ফুফুর মায়ায় সে যেতে পারে না। কারণ সে বাড়ির সবার খেয়াল রাখলেও কেউ তার খেয়াল রাখে না। একইভাবে 'নিমগাছ' গল্পের নিমগাছের মতো উপকারী বউটি সংসারে সবার খেয়াল রাখে। সবার সব কাজে তাকে প্রয়োজন হয়। অথচ বাড়ির কেউ তার প্রতিও খেয়াল রাখে না। এভাবে অবহেলা করার দিক থেকে উদ্দীপকের ফুফুর পরিবারের লোকজন 'নিমগাছ' গল্পের গৃহলক্ষ্মী বউটির পরিবারের লোকজনের প্রতিনিধিত্ব করে।
"উদ্দীপকের মিতুই 'নিমগাছ' গল্পের মূল প্রতিপাদ্য"- মন্তব্যটি যথার্থ।
সংসারের বেড়াজালে একবার আটকে গেলে একজন নারীর পক্ষে সেই জাল ছিন্ন করে বের হয়ে আসা কঠিন হয়ে পড়ে। সংসারে নানা দায়দায়িত্ব পালন করে ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত হলেও কেউ তার খেয়াল রাখে না। বরং সে নানাভাবে অবহেলা ও নির্যাতনের শিকার হয়।
'নিমগাছ' গল্পে নিমগাছের প্রতীকে লেখক গৃহকর্ম-নিপুণা এক লক্ষ্মীবউয়ের জীবন-যন্ত্রণাকে নির্দেশ করেছেন। সেই বউ শ্বশুরবাড়িতে সবার জন্য নিবেদিতপ্রাণ, অথচ তার প্রতি কেউ সদয় নয়। মুক্তি চাইলেও সে নিমগাছের মতো সংসারের জালরূপ শিকড় ছিন্ন করে আসতে পারে না। উদ্দীপকেও এই বিষয়টির প্রতিফলন ঘটেছে। এখানে মিতু তার ফুফুর পরিবারে সবার যত্ন নিলেও সেই পরিবারে সে অবহেলার শিকার। সেই পরিবার ছেড়ে তার চলে যেতে ইচ্ছে করলেও বৃদ্ধ ফুফুর মায়ায় যেতে পারে না। গল্পের গৃহবধূ ও উদ্দীপকের মিতু উভয়েই সংসারের মায়া জালে আটকা পড়ে মুক্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত।
'নিমগাছ' গল্পে লেখক নিমগাছের সঙ্গে লক্ষ্মীবউটির তুলনা করে সমাজে নারীর অবস্থান তুলে ধরেছেন। উদ্দীপকেও সংসারে নারী যে অবহেলার শিকার সেই দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। কথা বলতে না পারলেও মিতু সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করে। সে ক্লান্ত হয়ে পড়লেও কেউ তার প্রতি সহানুভূতি দেখায় না। 'নিমগাছ' গল্পের গৃহলক্ষ্মী বউটিও অনুরূপ অবহেলার শিকার। লক্ষ্মীবউটি সবার খেয়াল রাখলেও কেউ তার খেয়াল রাখে না। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allনিমগাছের প্রশংসায় পঞ্চমুখ কবিরাজরা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!