কৃষির আবিষ্কার হয় নব্যপ্রস্তর যুগে।
লৌহের ব্যবহারের মাধ্যমে আধুনিক সভ্যতা গড়ে ওঠার কারণে লৌহকে আধুনিক সভ্যতার ভিত্তি বলা হয়।
খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে মধ্যপ্রাচ্যে লৌহের ব্যবহার শুরু হয়। এশিয়া মাইনরে বসবাসকারী হিট্রাইটদের মধ্যে সর্বপ্রথম লৌহের ব্যবহার শুরু হয়। লৌহের ব্যবহার শুরু করা ছিল মানবসভ্যতার বিকাশে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। কৃষিকাজের উদ্ভব যেমন মানুষের জীবনধারাকে পাল্টে দিয়েছিল, তেমনি লৌহের ব্যবহার মানুষের জীবনধারায় বিরাট পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে লৌহ আবিষ্কারের ফলে উৎপাদন ব্যবস্থায় যন্ত্রচালিত শক্তির ব্যবহার সম্ভব এবং শিল্পবিপ্লব ত্বরান্বিত হয়েছে। এসব কারণেই লৌহকে আধুনিক সভ্যতার ভিত্তি বলা হয়।
উদ্দীপকের পানাম নগরের সাথে আমার পাঠ্যপুস্তকে পঠিত সিন্ধু সভ্যতার সাদৃশ্য রয়েছে। কেননা উদ্দীপকে বর্ণিত ভগ্নপ্রায় অট্টালিকা, সুপ্রশস্ত রাস্তা, সড়কবাতি, এসেম্বলি হল, স্নানাগার প্রভৃতি নিদর্শনসমূহ সিন্ধু সভ্যতায় প্রাপ্ত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
আমরা জানি, সিন্ধু নদের তীরে গড়ে উঠা সভ্যতা 'সিন্ধু সভ্যতা' নামে পরিচিত। সিন্ধু সভ্যতাকে 'মহেঞ্জোদারো' বা 'হরপ্পা' সভ্যতাও বলা হয়। বর্তমান পাকিস্তান রাষ্ট্রের অন্তর্গত সিন্ধু প্রদেশের লারকানা জেলায় 'মহেঞ্জোদারো' এবং পাঞ্জাবের মন্টগোমারি জেলায় 'হরপ্পা' সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার হয়। সিন্ধু সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ থেকে যেসব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে- বিভিন্ন আকৃতির অট্টালিকা, সুপ্রশস্ত রাস্তা, হলঘর, বৃহৎ আকৃতির স্নানাগার, রাস্তার পাশে সারিবদ্ধ ল্যাম্পপোস্ট, বড় আকারের প্রাসাদ ইত্যাদি। সিন্ধু সভ্যতার শাসকরা স্বাস্থ্যকর নাগরিক পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য পুরো নগর জুড়েই স্নানাগার, শস্যাগার, পরিকল্পিত পয়ঃপ্রণালি, উন্নত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি স্থাপন করেছিল।
উপরের তুলনামূলক আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকের পানাম নগরের সাথে সিন্ধু সভ্যতার সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত পানাম নগরের ছোট-বড় ভগ্নপ্রায় অট্টালিকা, সুপ্রশস্ত রাস্তা, সড়কবাতি, এসেম্বলি হল, স্নানাগার ও সুদৃশ্য প্রাসাদ প্রভৃতি দ্বারা সিন্ধু সভ্যতার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এসব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সমাজ-ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম।
সিন্ধু সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ থেকে আবিষ্কৃত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে বোঝা যায় যে, আর্য সভ্যতার আগেও উপমহাদেশে উন্নত, নগর সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিল। এ সভ্যতা কেবল মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, তা সিন্ধুর অন্যান্য অঞ্চল যেমন- হায়দ্রাবাদ থেকে জ্যাকিবাদ পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করেছিল। ফলে এসব অঞ্চলেও এ সভ্যতার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকে যেসব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের উল্লেখ রয়েছে সেগুলো পর্যবেক্ষণ করে বোঝা যায়, বর্তমানে আমরা যে আধুনিক নগর সভ্যতাকেন্দ্রিক জীবনযাপন করি তা অনেকাংশেই সিন্ধু সভ্যতার নগর পরিকল্পনা দ্বারা প্রভাবিত। এ সভ্যতার নগরগুলোর মতোই আধুনিক শহরগুলোতে অট্টালিকা, সুপ্রশস্ত রাস্তা, সড়কবাতি, এসেম্বলি হল প্রভৃতি দেখা যায়। বস্তুত সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসী বা দ্রাবিড়দের প্রথা, রীতিনীতি ও নির্মাণ কৌশল আর্যরা গ্রহণ করেছিল, যা বিবর্তিত হতে হতে বর্তমান ভারতীয় সমাজ গড়ে উঠেছে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহের সমাজ-ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম।
Related Question
View Allমহাস্থানগড় বৌদ্ধ ও হিন্দু সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ।
বাংলাদেশের নগরায়ণ বৃদ্ধির হার দ্রুতগতিতে বেড়ে চলায় সাংস্কৃতিক ব্যবধান দেখা দিচ্ছে। দেশে নগরায়ণ যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে নগর মানসিকতা সে তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছে। অর্থাৎ বস্তুজগতের উন্নতির সাথে তাল মিলিয়ে মনোজগতের উন্নতি সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সাংস্কৃতিক ব্যবধান দেখা দিচ্ছে।
উদ্দীপকের শিক্ষার্থীরা বগুড়ার মহাস্থানগড় নামক প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে শিক্ষা সফরে গিয়েছে।
মহাস্থানগড় প্রাচীন বাংলার সভ্যতার অন্যতম নিদর্শন ও পুরাকীর্তির স্থান। বগুড়া শহর থেকে তেরো কিলোমিটার উত্তরে বর্তমান শিবগঞ্জ উপজেলার করতোয়া নদীর তীরে এটি অবস্থিত। এর প্রাচীন নাম পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ডনগর। এক সময় এটি ছিল প্রাচীন বাংলার রাজধানী। মহাস্থানগড়ের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ এগুলোর ওপর ভিত্তি করে বাংলার সামাজিক ইতিহাস রচনা করা সম্ভব হয়েছে। মহাস্থানগড়ে আবিষ্কৃত প্রধান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো হলো- বৈরাগীর ভিটা, গোবিন্দ ভিটা, পরশুরামের প্রসাদ, গোকুল মেধ, শীলাদেবীর ঘাট, মুনীর ঘোন ইত্যাদি। এছাড়াও মহাস্থানগড়ে আবিষ্কৃত অন্যান্য নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে পোড়ামাটির ফলক, খেলনা, থালা-বাসন, জলপাত্র, রন্ধনপাত্র, সীলমোহর, ব্রোঞ্জের গহনা ইত্যাদি।
উদ্দীপকের শিক্ষার্থীরা বগুড়ার একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে শিক্ষাসফরে গিয়ে পোড়ামাটির ফলক, তামা ব্রোঞ্জের গহনা, পাথরের মূর্তি, সীলমোহর ইত্যাদি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন দেখতে পায়। শিক্ষার্থীদের দেখা এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো বগুড়ার মহাস্থানগড়কে নির্দেশ করে, যা উপরের আলোচনায় সুস্পষ্ট। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শিক্ষার্থীরা বগুড়ার মহাস্থানগড়ে শিক্ষাসফরে গিয়েছে।
উদ্দীপকের আসহাব সাহেবের বক্তব্যে সমকালীন সামাজিক ইতিহাস রচনা করার ক্ষেত্রে সমাজবিজ্ঞান বিষয়টির গুরুত্ব ফুটে উঠেছে।
সমাজবিজ্ঞানকে বলা হয় সমাজকাঠামোর বিজ্ঞান। আর সমাজকাঠামো হলো সমাজের সামগ্রিক ব্যবস্থা। সমাজবিজ্ঞান যেহেতু সমাজকাঠামো তথা ব্যক্তি, গোষ্ঠী, বিভিন্ন অনুষ্ঠান- প্রতিষ্ঠান, মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ও কার্যাবলি, সমাজের অতীত ইতিহাস ইত্যাদি সম্পর্কে পঠন-পাঠন ও গবেষণা করে সেহেতু সমাজবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে সমাজ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ও গভীর জ্ঞান অর্জন করা যায়। উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো এই সমাজকাঠামোরই উপাদান। এ উপাদানগুলোই সমাজ ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে। বিশেষ করে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সামাজিক ইতিহাসের অংশ। আর সামাজিক ইতিহাস হলো একটি জাতি বা সম্প্রদায়ের অতীতের নির্দিষ্ট সময়ের সমাজব্যবস্থার পূর্ণ বিবরণ। আমরা জানি, ভবিষ্যৎ সমাজকে সুষ্ঠুভাবে গড়ে তুলতে হলে অতীতের মানব গোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা, আইন-কানুন, রীতি-নীতি জানা দরকার। এক্ষেত্রে সামাজিক ইতিহাসের জ্ঞান খুবই জরুরি। আর সামাজিক ইতিহাস জানতে হলে সমাজবিজ্ঞান পাঠের বিকল্প নেই। কারণ একমাত্র সমাজবিজ্ঞানই সামাজিক ইতিহাস নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা করে। তাই বলা যায়, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বিশ্লেষণ করে সামাজিক ইতিহাস রচনা করতে হলে সমাজবিজ্ঞান পাঠের বিকল্প নেই।
সাঁওতালরা রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, মৌলভীবাজার, বগুড়া, ময়মনসিংহ, সিলেট, নওগাঁ, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোরে বাস করে।
মানুষের জীবনাচরণের সব দিক সংস্কৃতির আওতাভুক্ত হওয়ায় ব্যাপক অর্থে সংস্কৃতি একটি জাতির পরিচয় বহন করে। সংস্কৃতি হলো সমাজস্থ মানুষের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ পরিচয়ের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহনকারী একটি উপাদান। প্রকৃত অর্থে সংস্কৃতি হচ্ছে মানুষের জীবনপ্রণালি। সংস্কৃতি একটি সমাজ বা জাতিকে পরিচালিত করে। সর্বোপরি বলা যায়, সংস্কৃতি একটি সমাজ বা জাতির পরিচয় বহন করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!