শরীরই ধর্মকর্মের মূল আধার।
নিত্যকর্ম হলো পরম পবিত্র কর্ম। নিত্যকর্ম অনুশীলনে আমাদের মাঝে সুতাভ্যাস গড়ে ওঠে এবং আমাদের শরীর ও মনে এর প্রভাব পড়ে। শারীরিক ও মানসিক তৃপ্তি লাভের পাশাপাশি জাগতিক ও পারমার্থিক মঙ্গল সাধনে নিত্যকর্ম অনুশীলনকারী আত্মনিয়োগ করার প্রেরণা পায়। এতে চিত্তের প্রশান্তি বজায় থাকে। এজন্য নিত্যকর্ম অনুশীলনে শরীর সুস্থ থাকে।
উদ্দীপকের মিনতির যোগাসনটি হচ্ছে গোমুখাসন। মিনতি শারীরিক সমস্যার কারণে প্রতিদিন একটি যোগাসন অনুশীলন করে। এ আসনটি করার সময় তার পায়ের অবস্থান গরুর মুখের মতো হয়। এই আসন অনুশীলনের সময় দুই পা সামনের দিকে লম্বা করে ছড়িয়ে সোজা হয়ে বসতে হবে। উপর দিয়ে নিয়ে গিয়ে ডান পায়ের গোড়ালি বা নিতম্বে স্পর্শ করাতে হবে। বাঁ পা হাঁটুতে ভেঙে বাঁ পায়ের গোড়ালি ডান নিতম্বের পাশে স্পর্শ করাতে হবে। এবার ডান হাত মাথার উপর তুলে কনুইতে ভেঙে ডান হাতের পাতা ঘাড় বরাবর পিঠের উপর নামবে। বাঁ হাত কনুইতে ভেঙে পিছনে পিঠের দিকে নিতে হবে। দু হাতের আঙুলগুলো বড়শির মতো করে এক হাত অন্য এক হাতের সঙ্গে আটকে দিতে হবে। ঘাড় আর মেরুদন্ড সোজা থাকবে। দৃষ্টি থাকবে সামনের দিকে। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে এভাবে ৩০ সেকেন্ড থাকতে হবে। তারপর হাত দুটো ছেড়ে, পা দুটো আগের মতো লম্বা করে সামনের দিকে। ছড়িয়ে দিতে হবে। এরপর ডানের জায়গায় বাঁ আর বাঁয়ের জায়গায় ডান ধরে অর্থাৎ হাত-পা বদল করে আসনটা আবার করতে হবে। এরপর ৩০ সেকেন্ড শবাসনে বিশ্রাম নিতে হবে। এরকম চারবার করতে হবে। মনে রাখতে হবে, ডান হাঁটু যখন বাঁ হাঁটুর উপর থাকবে তখন ডান হাত উপরে উঠবে আর বাঁ হাঁটু যখন ডান হাঁটুর উপর থাকবে তখন বাঁ হাত উপরে উঠবে। পরিশেষে বলা যায় যে, মিনতি গোমুখাসনটি অনুশীলন করেছে।
উদ্দীপকে রূপার অনুশীলনকৃত আসনটি হচ্ছে ভুজঙ্গাসন।
রূপার আসনটি অনুশীলনের সময় সাপের ফণা তোলার মতো দেখায়। এই আসনটি করার ফলে বাঁকা মেরুদন্ড সোজা ও সরল হয়। রূপার অনুশীলনকৃত ভুজঙ্গাসনটির প্রভাব অপরিসীম। এই আসনটি অনুশীলনের ফলে মেরুদণ্ড নমনীয় হয়। এই আসন অনুশীলনের ফলে মেরুদণ্ডের বাত সারে। পিঠের ও কোমরের পেশি মজবুত হয়। কোমরে ব্যথা হতে পারে না। এই আসন অভ্যাসের ফলে স্নায়ুমণ্ডলী সতেজ হয়। শরীরের নিস্তেজ ভাব দূর হয় ও নতুন শক্তি জন্মায়। হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুস সবল হয়। এই আসন অভ্যাসের ফলে বুকের গঠন সুন্দর হয় এবং দেহের লাবণ্য বৃদ্ধি পায়। যকৃত ও প্লীহার কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং হজমশক্তি বাড়ে।
এই আসন অভ্যাসের ফলে যারা কোলকুঁজো তাদের বিশেষ উপকার হয়। উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায় যে, উদ্দীপকের রূপার অনুশীলনকৃত ভুজঙ্গাসনটির প্রভাব অপরিসীম।
Related Question
View Allগোমুখাসন অনুশীলনে অসমান কাঁধ সমান হয়।
বিনম্রতার প্রতীক হচ্ছে নমস্কার। প্রতিদিন গুরুজনকে নমস্কার করলে তাঁদের প্রতি কখনো খারাপ ব্যবহার, অসম্মান বা অমর্যাদা করার সাহস হয় না। যেখানে শ্রদ্ধাভক্তি ও সম্মানের ভাব থাকে সেখানেই বিনম্রতার সৃষ্টি হয়। সেজন্য পিতামাতা, বিদ্বান, বয়োবৃদ্ধ ও গুরুজনদেরকে নিত্য নমস্কার করতে হবে।
উদ্দীপকে প্রাপ্তী খাওয়ার পরে বজ্রাসন অনুশীলন করছে। কেননা এটিই একমাত্র আসন যা খাওয়ার পর অনুশীলন করা যায়। বজ্রাসন অনুশীলনে হাঁটু ভেঙে পা দুটো পিছন থেকে মুড়ে নিতম্বের নিচে এমনভাবে রাখতে হবে যেন গোড়ালি দুটো বাইরের দিকে বেরিয়ে থাকে এবং পায়ের পাতা নিতম্বের সঙ্গে লেগে থাকে। এ অবস্থায় দু-পায়ের বুড়ো আঙুল পরস্পরের সঙ্গে লেগে থাকবে এবং কোমর, গ্রীবা এবং মাথা সোজা হয়ে থাকবে। দুই হাঁটু পরস্পরের সঙ্গে লেগে থাকবে। হাতের কনুই না ভেঙে ডান হাত থাকবে ডান হাঁটুর উপর পাতা এবং বাঁ হাত থাকবে বাঁ হাঁটুর উপর পাতা। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে এভাবে ৩০ সেকেন্ড বসতে হবে। তারপর ৩০ সেকেন্ড শবাসনে বিশ্রাম নিতে হবে। এভাবে ৩/৪ বার আসনটি অভ্যাস করতে হবে। এভাবেই প্রাপ্তী তার আসনটি অনুশীলন করে থাকে।
স্বপ্নার অনুশীলনকৃত আসনটি হলো ভুজঙ্গাসন। নিচে এ আসনের প্রভাব তুলে ধরা হলো- ১. মেরুদণ্ড নমনীয় হয়; ২. বাঁকা মেরুদণ্ড সোজা ও সরল হয়; ৩. মেরুদণ্ডের বাত সারে; ৪. পিঠের ও কোমরের পেশি মজবুত হয়, কোমরে ব্যথা হতে পারে না; ৫. স্নায়ুমণ্ডলী সতেজ হয়; ৬. শরীরের নিস্তেজ ভাব দূর হয় ও নতুন শক্তি জন্মায়; ৭. হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুস সবল হয়। ৮. বুকের গঠন সুন্দর হয় এবং দেহের লাবণ্য বৃদ্ধি পায়; ৯. যকৃৎ ও প্লীহার কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, হজমশক্তি বাড়ে; ১০. অজীর্ণ, অম্বল, অক্ষুধা, গ্যাস্ট্রিক, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি রোগে সুফল পাওয়া যায়; ১১. যারা কোলকুঁজো তাদের বিশের উপকার হয়।
ভুজঙ্গাসন অনুসরণ ও অনুশীলনে স্বপ্নার কোলকুঁজো ভাব ও বাতের ব্যথা সেরে যাবে বলে আশা করা যায়। এর পাশাপাশি তার অশান্ত মন শান্ত হয় ও তার আত্মশক্তি বৃদ্ধি পায়।
যে আসন অনুশীলনকালে আসন অনুশীলনকারীকে ফণাতোলা ভুজঙ্গ বা সাপের মতো দেখায় তাকে ভুজঙ্গাসন বলে।
সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড়'- কথাটি দ্বারা বোঝায় সময়ের কাজ সময়ে করার প্রয়োজনীয়তাকে। নিত্যকর্ম অনুশীলন করার মাধ্যমে মানুষের মাঝে সুঅভ্যাস গড়ে ওঠে। যারা নিত্যকর্ম যথাসময়ে সম্পাদন করতে পারেন তারা কোনো সমস্যার সম্মুখীন হন না সময়মতো কোনো কাজ না করে অসময়ে করতে গেলে নানা ঝামেলার সম্মুখীন হতে হয়। এ বিষয়টি বুঝাতেই প্রশ্নের কথাটি বলা হয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!