আমাদের চারপাশের জড় ও জীবকে নিয়ে তৈরি হওয়া পরিবেশই প্রাকৃতিক পরিবেশ।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের কলকারখানা ও যানবাহনে কয়লা, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস জ্বালানি হিসেবে পোড়ানো হচ্ছে। ফলে পরিবেশের কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। একই সাথে বন উজাড়ের ফলে গাছ দ্বারা কার্বন ডাইঅক্সাইডের শোষণের হার হ্রাস পাচ্ছে। ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে।
মিনহাজের দেখা ঘটনাগুলো বায়ু দূষণের বড় কয়েকটি কারণ। যেমন- কীটনাশকের ব্যবহার, ইটের ভাটা, কলকারখানা, যানবাহনের কালো ধোঁয়া, গাছ কেটে ফেলা ইত্যাদি কারণে বায়ু দূষণ তরান্বিত হচ্ছে। এর ফলে মানবদেহে যেসব ক্ষতিকর প্রভাব দেখা দিতে পারে তা নিচে বর্ণনা করা হলো:
১. কলকারখানা ও অটোমোবাইল কারখানা হতে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড রক্তের হিমোগ্লোবিনের সাথে মিশে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমিয়ে ফেলে এবং স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায়।
২. কলকারখানা হতে নির্গত নাইট্রোজেনের অক্সাইড চোখ ও নাকের প্রদাহ সৃষ্টি করে। এছাড়া শ্বাস-প্রশ্বাসের কষ্টসহ ফুসফুসের ক্যান্সার ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগ সৃষ্টি করে।
৩. ধুলাবালি বাতাসে মিশে মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত করে। এতে শ্বাসকষ্ট, সর্দি এবং নানা ধরনের এলার্জি দেখা দেয়।
৪. গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়ায় ওজোন স্তরের ক্ষয় হয়ে অতিবেগুনি রশ্মি ভূপৃষ্ঠে পতিত হলে চামড়ার ক্যান্সার এবং মারাত্মক রোগ সৃষ্টি
হবে
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনাগুলোতে বায়ু দূষণের নানাবিধ কারণ উপস্থাপন করা হয়েছে। উল্লিখিত কারণগুলোর ক্ষতিকর প্রভাব হ্রাসে 'আমার মতামত নিচে উপস্থাপন করা হলো-
১. বৃক্ষ নিধন বন্ধ এবং বেশি করে গাছ লাগিয়ে বনায়ন সৃষ্টি করা।
২. যানবাহনে CNG ব্যবহার করা।
৩. ইটের ভাটা ও কলকারখানার চিমনি অনেক উঁচু করে স্থাপন করা।
৪. ফসলের খেতে কীটনাশক, ছত্রাকনাশক, রাসায়নিক সার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে জৈবিক নিয়ন্ত্রণ ও জৈব সার ব্যবহার করা।
৫. কলকারখানা থেকে নির্গত বর্জ্য ও ক্ষতিকর গ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা।
৬. বায়ু থেকে ধুলা ও ধোঁয়া অপসারণের ব্যবস্থা করা।
Related Question
View Allনাইট্রোজেন ও সালফারের অক্সাইডসহ বিভিন্ন অক্সাইড বৃষ্টির পানির সাথে মিশে পানিকে এসিডযুক্ত করে। এ এসিডযুক্ত পানি ভূপৃষ্ঠে বৃষ্টিরূপে পতিত হলে তাকে অম্ল বা এসিড বৃষ্টি বলে।
প্লাস্টিক দীর্ঘদিন যাবৎ মাটিতে পড়ে থাকলে তা পচে নাবা মাটিতে মিশে না। এতে মাটির উর্বরতা শক্তি কমে যায়। এছাড়া মাটির পানি ধারণ ক্ষমতাও কমে যায়। ফলে উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। এসব কারণেই প্লাস্টিক মাটির জন্য ক্ষতিকর।
উদ্দীপকের চিত্রে দেখা যাচ্ছে, নদীর তীরবর্তী কলকারখানার বর্জ্য নদীতে ফেলা হচ্ছে। আবার নৌযান থেকে নদীতে তেল নির্গত হচ্ছে। এ দুটি ঘটনাই নদীর পানিকে দূষিত করছে। এ দূষণের ফলে নদীর পানি বিষাক্ত হয়ে যাচ্ছে এবং পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এ দূষিত পানিতে জলজ প্রাণীগুলো বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারছে না। একই সাথে জলজ প্রাণীগুলো বেঁচে থাকার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ হারাচ্ছে। পানি দূষিত হয়ে বসবাসের অযোগ্য হওয়ায় পানিতে মাছ ও অন্যান্য জলজ পতঙ্গ মারা যায়।
উদ্দীপকের নদীটিতে কলকারখানার বর্জ্য এবং যানবাহন থেকে নির্গত তেল নদীর পানির সাথে মিশে নদীর পানিকে দূষিত করছে। এতে নদীর পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। নদীর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে হবে-
১. আবর্জনা ও নর্দমার জঞ্জালসমূহ নদীতে গড়িয়ে পড়ার আগে শোধন করতে হবে।
২. জীবজন্তুর মৃতদেহ পানিতে পচে পানি যাতে দূষিত হতে না পারে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।
৩. শিল্প ও কল-কারখানার বর্জ্য পদার্থ পানিতে পড়ার আগেই তা দূষণমুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৪. তেলবাহী জাহাজ ও ট্যাংকার হতে তেল যাতে না পড়ে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।
৫. প্লাস্টিক, পলিথিন ও রাবার নদীতে ফেলা যাবে না।
৬.কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
৭. নদীতে ফেলা ও জমা হওয়া আবর্জনা সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করতে হবে।
৮. নদীতে যেকোনো আবর্জনা ফেলা রোধ করতে কঠোর আইন প্রণয়ন করে তার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
৯. জনগণকে দূষণের ক্ষতিকারক দিক ও পরিবেশ সংরক্ষণের উপায় সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।
পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানের, যেসব পরিবর্তন মানুষ ও উদ্ভিদসহ অন্যান্য প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর তাই দূষণ।
পানির সর্বোৎকৃষ্ট ব্যবহার হচ্ছে পানি আমরা পান করি। কিন্তু দূষিত পানি পান করলে আমাশয়, ডায়রিয়া, কলেরা, জন্ডিস, টাইফয়েড ইত্যাদি রোগ হয়। পানি দূষিত হলে সে পানিতে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীও বাঁচতে পারে না। ফলে পানির পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এজন্য পানি দূষণ ক্ষতিকর।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!