মিনহাজ সাহেব তার জমিতে যথাযথভাবে চাষাবাদ করার পরও ভালো ফসল পাচ্ছিলেন না। একদিন পানি সেচ দেওয়ার পর জমিতে গিয়ে দেখেন যে জমি প্রায় শুকনো কিন্তু অস্বাভাবিক কোনো কিছু তিনি খুঁজে পেলেন না। পরবর্তী চাষের পূর্বে তিনি অভিজ্ঞ একজন কৃষকের পরামর্শে জমিতে পর্যাপ্ত গোবর প্রয়োগ করলেন।

Updated: 1 year ago
উত্তরঃ

জোড় কলম হলো অঙ্গজ প্রজনন পদ্ধতি যেখানে রুট (স্টক অনুন্নত গাছের অংশ) ও সায়ন (উন্নত জাতের গাছের অঙ্গ) জোড়া লাগিয়ে চারা উৎপাদন করা হয়।

উত্তরঃ

ফসল জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। ফসলের জমি থেকে অতিরিক্ত পানি অপসারণ করাকে পানি নিকাশ বলে। পানি নিকাশের ফলে মাটিতে বায়ু চলাচল বাড়ে। ফলে গাছের মূল কার্যকরী হয়, উপকারী অণুজীবের কার্যাবলী বৃদ্ধি পায় এবং মাটির তাপমাত্রা সহনশীল মাত্রায় আসে। তাই পানি নিকাশ করা হয়।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে মিনহাজ সাহেবের জমির সমস্যাটি হলো সেচের পানির অপচয় হয়ে যাওয়া।

এ ধরনের সমস্যার সম্ভাব্য কারণ বিভিন্ন। সূর্যের তাপে মিনহাজ সাহেবের জমির সেচের পানি বাষ্পীভূত হয়ে যেতে পারে। জমিতে শক্ত স্তর না থাকায় সেচের পানি মাটির স্তর ভেদ করে সোজাসুজি নিচের দিকে চলে যেতে পারে। তার জমির সেচের পানির অপচয়ের আরও একটি কারণ হতে পারে আইলে ইঁদুর এপাশ-ওপাশ গর্ত করেছিল এবং পানি চুইয়ে অন্য ক্ষেতে চলে গিয়েছিল।
অর্থাৎ, উপরিউক্ত সম্ভাব্য কারণে মিনহাজ সাহেবের জমির পানি শুকিয়ে গিয়েছিল।

উত্তরঃ

মিনহাজ সাহেব জমিতে পানির ঘাটতি পূরণের জন্য অভিজ্ঞ কৃষকের পরামর্শমত্যে পর্যাপ্ত গোবর প্রয়োগ করেন।

মাটির ভৌত এবং রাসায়নিক গুণাগুণ বাড়ানোর জন্য পচা গোবর খুব গুরুত্বপূর্ণ। গোবর সার প্রয়োগের ফলে জমির জৈবিক গুণাগুণ উন্নত হয় এবং জৈব পদার্থের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। মাটির পানিধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। কারণ এটি মাটিতে শক্ত স্তর সৃষ্টি করে যার ফলে পানি অনুস্রবণ প্রক্রিয়ায় নিচে চলে যায় না। পচা গোবর মাটির বুনট ও সংযুক্তির উন্নয়ন ঘটায় এবং মাটিস্থ অণুজীবের কার্যাবলি বৃদ্ধি করে। মাটি থেকে পুষ্টি উপাদানের অপচয় কমায় এবং মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে। মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান সহজলভ্য হয় এবং উদ্ভিদের পানির চাহিদা পূরণ সহজ হয়। উপরিউক্ত সুফলের কথা বিবেচনা করে বলা যায়, মিনহাজ সাহেবের জমির সমস্যা সমাধানে পচা গোবর প্রয়োগ করা যুক্তিযুক্ত ছিল।

136

আমরা প্রযুক্তির যুগে বাস করছি। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছি। কৃষিকাজ একটি বৈজ্ঞানিক কাজ। এই কাজকে সহজ করার জন্য অনেক প্রযুক্তির উদ্ভাবন হয়েছে। কৃষকেরা এখন এই প্রযুক্তিগুলো ফসলের মাঠে যেমন ব্যবহার করছেন তেমনি উদ্ভিদ ও প্রাণীর বংশবৃদ্ধিতেও ব্যবহার করছেন। আবার গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি পালনে প্রযুক্তি যেমন ব্যবহার করছেন, তেমনি মাছ চাষেও ব্যবহার করছেন। বিজ্ঞানের গবেষণা যত এগুচ্ছে প্রযুক্তির উদ্ভাবনও ততই বাড়ছে।

এ অধ্যায় শেষে আমরা -

  • কৃষিতে ব্যবহৃত মাঠ প্রযুক্তিগুলো ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • উদ্ভিদ ও প্রাণীর বংশবৃদ্ধিতে প্রযুক্তির ব্যবহার বিশ্লেষণ করতে পারব।

Related Question

View All
উত্তরঃ

বীজ ছাড়া উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গ (যেমন- মূল, পাতা, কান্ড ইত্যাদি) দিয়ে চারা উৎপাদনকে উদ্ভিদের অঙ্গজ বংশবিস্তার বলে।

548
উত্তরঃ

অঙ্গজ বংশবিস্তারের একটি সুবিধা হলো তাড়াতাড়ি ফল পাওয়া যায়। বীজ রোপণ করে চারা উৎপন্ন করলে ফল পেতে অনেক সময় লাগে, যা অঙ্গজ প্রজননের ক্ষেত্রে লাগে না। এতে দ্রুত অর্থ আয় হয় ও খাদ্যের চাহিদা পূরণ করা যায়।

290
উত্তরঃ

গোলাপের বংশবিস্তারের ক্ষেত্রে 'ক' চিত্রের পদ্ধতিটি হলো দাবা কলম এবং 'খ' পদ্ধতিটি হলো কর্তন বা ছেদ কলম।

দাবা কলম পদ্ধতিতে মাতৃগাছের মাটির নিকটে অবস্থিত শাখা নিচে নামিয়ে দুই গিটের মাঝখানের বাকল কেটে নিতে হয়। বাকলের নিচের সবুজ অংশ ছুরির ভোতা 'পাশ দিয়ে চেছে ফেলতে হয়। এরপর কাটা অংশ মাটিতে চাপা দিতে হয়। কিছুদিন পর কাটা অংশ থেকে শিকড় ও নতুন চারা গজায়। গজানো অংশ কেটে ২-৩ সপ্তাহ পর সাবধানে মাটিসহ অন্যত্র রোপণ করতে হয়। অপরদিকে কর্তন, বা ছেদ কলম পদ্ধতিতে শাখা, মূল, পাতা ইত্যাদি মাতৃগাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ছায়াযুক্ত স্থানে টবে বা নার্সারি বেডে রোপণ করতে হয়। ১৫ দিনের মধ্যে তা থেকে নতুন চারা উৎপন্ন হয়। অতঃপর চারাটি অন্যত্র মূল জমিতে রোপণ করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় খুব সহজে ও কম সময়ে গোলাপের বংশবিস্তার করা যায়। তাছাড়া কাণ্ড বাঁকানোর ফলে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না।
অর্থাৎ, কর্তন বা ছেদ কলম পদ্ধতি গোলাপের বংশবিস্তারের ক্ষেত্রে অমিত কার্যকরী।

217
উত্তরঃ

চিত্রের পদ্ধতিগুলো হলো দাবা কলম ও কর্তন বা ছেদ কলম যা কৃত্রিম অঙ্গজ বংশবিস্তারের প্রকারভেদ।

অঙ্গজ পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন করলে নতুন বৃক্ষ তার মাতৃবৃক্ষের সকল গুণাগুণ বিশুদ্ধভাবে বহন করে। অর্থাৎ, যদি কোনো গাছের আম খুব বড় এবং মিষ্টি হয় তবে তার অঙ্গ দিয়ে উৎপাদিত গাছের আমের স্বাদ ও - আকার হুবহু এক হবে। আবার কোনো গাছের যদি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো থাকে, তবে সে গাছ থেকে উৎপাদিত চারা গাছও একই গুণ পাবে। এ পদ্ধতি ব্যবহার করে উদ্ভিদে বিভিন্ন গুণগত পরিবর্তন আনা যায়। মাতৃগাছের গুণাগুণের সুবিধা ছাড়াও অঙ্গজ প্রজননের মাধ্যমে চারা থেকে খুব তাড়াতাড়ি ফল পাওয়া যায়। ফলে ফসল উৎপাদন যেমন দ্রুত হয়, তেমনি দ্রুত আয় এবং খাদ্য ঘাটতিও হ্রাস করা যায়।
অতএব বলা যায়, উপরের চিত্রের পদ্ধতিগুলো কম সময়ে অধিক ফসল উৎপাদনে ভূমিকা রাখতে পারে।

186
উত্তরঃ

ফসলের পানির চাহিদা পূরণ ও ফলন বৃদ্ধির জন্য কৃত্রিমভাবে পানি সেচ দেওয়া হয়।

364
উত্তরঃ

সেচের পানির কার্যকারিতা বৃদ্ধির একটি প্রযুক্তি হচ্ছে উপযুক্ত পদ্ধতিতে সেচ প্রদান। যেমন- বৃত্তাকার সেচ পদ্ধতিতে বহুবর্ষজীরী ফলগাছের সমস্ত জমিতে সেচ না দিয়ে যে স্থানে গাছ রয়েছে শুধু সেখানেই পানি সরবরাহ করা হয়। এতে পানি নিয়ন্ত্রণ সহজ ও পানির অপচয় কম হয়।

301
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews