ফাইটোহরমোন হলো উদ্ভিদের সকল কাজ নিয়ন্ত্রণকারী বিশেষ ধরনের জৈব রাসায়নিক পদার্থ।
অভ্যন্তরীণ বা বহিঃ উদ্দীপকের উদ্দীপনায় উদ্ভিদে চলন ও বৃদ্ধি সংঘটিত হয়, যা ট্রফিক চলন নামে পরিচিত। আলো একটি বহিঃ উদ্দীপক, যা থেকে সৃষ্ট উদ্দীপনার কারণে উদ্ভিদের কান্ড এর উৎসের দিকে বেঁকে যায়।
মিনা কাঁথা সেলাই করার সময় হাতে সুচ ফুটায় সে 'উফ' শব্দ করল। তার শব্দ উৎপত্তির ঘটনাটি প্রতিবর্ত ক্রিয়া। নিচে প্রতিবর্ত ক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হলো-
মিনার হাতে সূচ ফোটামাত্র অনুভূতিবাহী স্নায়ুতন্ত্র সূচ ফোটার যন্ত্রণা অনুভব করে। এই যন্ত্রণাদায়ক তাড়না অনুভূতিবাহী স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে মেরুরজ্জুতে পৌছে। ঐ একই তাড়না অনুভূতিবাহী স্নায়ুকোষ থেকে আজ্ঞাবাহী স্নায়ুতে পৌছে। স্নায়ুতাড়না আজ্ঞাবাহী কোষে পৌছামাত্র তা জিহ্বাতে এবং পেশিতে প্রেরণ করে। এর ফলে মুখ দিয়ে সে শব্দ করে আর পেশি সংকুচিত হয় এবং যন্ত্রণার উৎস থেকে হাত সরিয়ে নেয়। এভাবে স্নায়ুতন্ত্রের তাৎক্ষণিক কার্যকারিতার ফলে মিনার হাতে সুচ ফোটায় সে শব্দ করে।
মিনার ভাইয়ের উক্তিটিতে মিনার জন্য সমবেদনা প্রকাশ পেয়েছে যা এক ধরনের উদ্দীপনা। অর্থাৎ মিনার ভাইয়ের উক্তিটি তথা উদ্দীপনা স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। মিনার ভাইয়ের উক্তিটি বা উদ্দীপনা যেভাবে সম্পন্ন হয় তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
স্নায়ুতন্ত্র দেহের বিভিন্ন অংশে উদ্দীপনা বহন, দেহের বিভিন্ন অঙ্গের কাজের সমন্বয় সাধন ও পরিবেশের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখতে সাহায্য করে। অর্থাৎ স্নায়ুতন্ত্র বিভিন্ন জৈবিক কার্যাবলির সমন্বয় সাধন করে এবং উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টি করে। আর স্নায়ুতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করে স্নায়ুকোষ বা নিউরন। নিউরনের সিন্যাপসের মাধ্যমে উদ্দীপনা বা স্নায়ুতাড়না এক স্নায়ুকোষ থেকে অন্য স্নায়ুকোষে পরিবাহিত হয়। এভাবেই নিউরন বিভিন্ন কাজের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে উদ্দীপনা বা স্নায়ুতাড়না মস্তিষ্কে প্রেরণ করে। ফলে মস্তিষ্কে উদ্দীপনা সম্পর্কে চিন্তা করে প্রয়োজনীয় বার্তা যথাযথ অঙ্গে পৌঁছায়। আর নির্দেশনা পাওয়ার পর অঙ্গটি তার কাজ করে। এভাবে স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে উদ্দীপনা পরিবহনের ফলেই মিনার ভাই তার প্রতি সববেদনা প্রকাশ করে অর্থাৎ উক্তিটি করে।
Related Question
View Allমস্তিষ্কের প্রধান অংশের নাম হলো গুরুমস্তিষ্ক বা সেরিব্রাম।
উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বিকাশ, বিভিন্ন অঙ্গ সৃষ্টি ইত্যাদি উদ্ভিদদেহে উৎপাদিত বিশেষ কোনো জৈব রাসায়নিক পদার্থের প্রভাবে হয়ে থাকে। উদ্ভিদের সকল কাজ নিয়ন্ত্রণকারী এ জৈব রাসায়নিক পদার্থটিকে ফাইটোহরমোন বা বৃদ্ধিকারক বস্তু হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। ফাইটোহরমোন কোষে উৎপন্ন হয় এবং উৎপত্তিস্থল হতে বাহিত হয়ে দূরবর্তী স্থানের কোষের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে।
উদ্দীপকে প্রদর্শিত চিত্রের A ও B চিহ্নিত অংশ দ্বারা যথাক্রমে ডেনড্রাইট ও অ্যাক্সনকে নির্দেশ করা হয়েছে। উল্লেখিত A ও B আমাদের দেহে উদ্দীপনা তৈরিতে যে ভূমিকা পালন করে তা নিচে বর্ণনা করা হলো-
চিত্রে প্রদর্শিত নিউরন বা স্নায়ু কোষ বিভিন্ন ধরনের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উদ্দীপনা বা স্নায়ু তাড়না গ্রহণ করতে পারে এবং দেহের অভ্যন্তরে তা পরিবহন করতে পারে। একটি নিউরনের প্রধানত তিনটি অংশ। যথা- দেহ কোষ, ডেনড্রাইট ও অ্যাক্সন নিয়ে গঠিত। এভাবে অসংখ্য নিউরনের সমন্বয়ে গঠিত স্নায়ুতন্ত্র। পরস্পর দুটি নিউরনের প্রথমটার অ্যাক্সন (B) এবং পরেরটার ডেনড্রাইট (A) এর মধ্যে একটি স্নায়ুসন্ধি গঠিত হয়। প্রথম নিউরনের অ্যাক্সন (B) গৃহীত উদ্দীপনা মূলত সিন্যাপসের মধ্যদিয়ে দ্বিতীয় নিউরনের ডেনড্রাইট (A) তে প্রেরণ করে। এভাবে সিন্যাপসের মধ্য দিয়ে এক নিউরন থেকে অন্য নিউরনে উদ্দীপনা প্রেরণ করা হয় যা ক্রমান্বয়ে কেন্দ্রীয় মায়ুতন্ত্রে পৌছে। ফলে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র উদ্দীপনা গ্রহণ করে উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টি করতে পারে। অর্থাৎ সিন্যাপসের মধ্য দিয়েই একটি নিউরন থেকে স্নায়ু উদ্দীপনা পরবর্তী নিউরনে প্রবাহিত হয়।
উপরোক্ত আলোচনা হতে বুঝা যায় যে, অ্যাক্সন ও ডেনড্রাইট আমাদের দেহে উদ্দীপনা তৈরিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকে প্রদর্শিত কোষটি হলো নিউরন বা স্নায়ুকোষ। একটি সাধারণ কোষ থেকে এ কোষটির গঠন ভিন্নতর। নিচে এর সপক্ষে যুক্তিগুলো তুলে ধরা হলো-
১. দেহকোষ সাধারণত গোলাকার, সর্পিলাকার, চ্যান্টা প্রভৃতি আকৃতির হতে পারে। কিন্তু স্নায়ুকোষ লম্বাটে অনেকটা সুতার মতো।
২. দেহকোষে সাধারণত সাইটোপ্লাজম প্লাজমামেমব্রেন দ্বারা আবৃত কিন্তু স্নায়ুকোষে সাইটোপ্লাজম দীর্ঘ তন্তু গঠন করে।
৩. দেহ কোষের সাইটোপ্লাজমে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলজি বডি বিভিন্ন ধরনের অঙ্গাণু থাকে। কিন্তু স্নায়ু কোষের সাইটোপ্লাজমে কোনো অঙ্গাণু থাকে না।
৪. দেহকোষ বিভাজিত হয় কিন্তু স্নায়ুকোষ বিভাজিত হয় না।
৫. স্নায়ুকোষ প্রধানত দুটি অংশে বিভক্ত। যথা- কোষদেহ ও প্রলম্বিত অংশ। কিন্তু সাধারণ কোষকে এ ধরনের কোনো অংশে ভাগ করা যায় না।
বিজ্ঞান
৬. সাধারণ কোষে কোনো ডেনড্রাইট উপস্থিত না থাকলেও স্নায়ুকোষে কোষদেহের বাইরে চারদিকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সূতার ন্যায় ডেনড্রাইট থাকে। উপরের বর্ণিত যুক্তিগুলোর আলোকে স্পষ্টভাবেই বলা যায় স্নায়ুকোষের গঠন প্রকৃতি সাধারণ কোষ থেকে ভিন্ন।
যে জৈব রাসায়নিক পদার্থ জীব কোষে উৎপন্ন হয় এবং উৎপত্তিস্থল থেকে বাহিত হয়ে দূরবর্তী স্থানের কোষের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে তাকে হরমোন বলে।
নাইট্রোজেনযুক্ত তরল পরিত্যাগকারী অঙ্গ হচ্ছে বৃদ্ধ। অর্থাৎ বৃক্কের মাধ্যমে দেহের নাইট্রোজেনযুক্ত তরল, দূষিত পদার্থ পরিত্যক্ত হয়। মূত্রের মাধ্যমেই দেহের শতকরা আশি ভাগ নাইট্রোজেনঘটিত, বর্জ্য পদার্থ পরিত্যক্ত হয়। তাই নাইট্রোজেনযুক্ত তরল পরিত্যাগকারী অল্প অর্থাৎ বৃদ্ধকে প্রধান রেচন অঙ্গ বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!