যে জৈবিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্যের জটিল ও বৃহৎ অণুগুলো ভেঙে সরল ও শোষণযোগ্য অণুতে পরিণত হয় তাকে পুষ্টি বলে।
খাদ্যের ছয়টি উপাদানের মধ্যে ভিটামিন একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা শরীরের সুস্থতা ও বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন।
ভিটামিনের উপাদান শরীরে খুব সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয়। কিন্তু এর অভাবে বিভিন্ন ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে, দেহের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ব্যাহত হয়। ভিটামিন খাদ্যের মাধ্যমে দেহে শোষিত হয়ে প্রাণিদেহের বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। তাই মানবদেহে ভিটামিনের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
মিনির শারীরিক সমস্যায় ভিটামিন জাতীয় খাদ্য উপাদানের প্রয়োজন।
ভিটামিনের প্রধান কাজ দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী এবং বয়স ও পরিশ্রমের ওপর ভিত্তি করে পর্যাপ্ত খাদ্য গ্রহণ করা আবশ্যক। দেহে ভিটামিনের অভাবে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়।
মিনি দুধ, মাংস দিয়ে ভাত এবং ফাস্টফুড খেলেও দুধ, ডিম শাকসবজি একেবারেই খেতে চায় না। ফলে অতিরিক্ত পরিশ্রমের ফলে তার মধ্যে শারীরিক দুর্বলতা, মাথা ঘোরা ও চোখে কম দেখার মতো সমস্যা দেখা দিয়েছে। এছাড়া তার মধ্যে লেখাপড়ায় মনোযোগের অভাবজনিত সমস্যাও দেখা যাচ্ছে। প্রোটিন জাতীয়, শক্তি উৎপাদনকারী খাদ্য উপাদান ও ফাস্টফুডের দিকে আগ্রহ বেশি। সে দুধ, শাকসবজি, ডিম খেতে চায় না। ফলে প্রয়োজনীয় কার্বোহাইড্রেটের অভাবে মস্তিষ্ক ও স্নায়বিক শক্তির জন্য যে পরিমাণ শর্করা প্রয়োজন তাতে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তাই লেখাপড়ায় মনোযোগী হতে পারছে না। এছাড়া ভিটামিনের অভাবে স্নায়ুর কার্যক্ষমতা ঠিক রাখা সম্ভব হচ্ছে না। শারীরিক দুর্বলতা ও মাথা ঘোরার সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। দেখতে সমস্যা হচ্ছে। তাই বলা যায়, মিনির শারীরিক সমস্যায় পর্যাপ্ত খাদ্য গ্রহণ ও কার্বোহাইড্রেট এবং ভিটামিন জাতীয় খাদ্য উপাদান গ্রহণ করা জরুরী।
মিনির শারীরিক সমস্যা ভিটামিন জাতীয় খাদ্য উপাদানের অভাবে হচ্ছে।
ভিটামিন প্রকৃতিজাত খাদ্যে পাওয়া যায় যা শরীরের সুস্থতা ও বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন। এর অভাবে নানান রোগব্যাধি শরীরে বাসা বাধে। খাদ্যে এদের ঘাটতি থাকলে এদের অভাবজনিত লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে থাকে।
উদ্দীপকের মিনি দুধ, ডিম খায় না, শাকসবজি তার পছন্দ না। ইদানিং সে মাথা ঘোরাসহ চোখে না দেখার সমস্যায় ভুগছে। লেখাপড়ায়ও মনোযোগ কমে যাচ্ছে। এ সমস্যা দেখে ডাক্তার জানান মিনি ভিটামিন 'এ'- এর অভাবে ভুগছে। মিনির খাদ্যে রঙিন শাকসবজি, ফলমূল, ছোট মাছ ইত্যাদি খাবারের অভাব রয়েছে যা তার মধ্যে ভিটামিন 'এ' এর অভাব তৈরি করেছে। রঙিন শাকসবজি, ছোটমাছ, ফলমূল হতে ভিটামিন 'এ' পেয়ে থাকি। যেহেতু মিনি এ জাতীয় খাবার গ্রহণ করে না তাই তার শরীরে এর অভাব দেখা দিয়েছে। এর ঘাটতি প্রতিকারে তাকে ভিটামিন 'এ' জাতীয় ক্যাপসুল নির্ধারিত হারে খাওয়াতে হবে, পর্যাপ্ত পরিমাণে রঙিন শাকসবজি, ছোট মাছ, ফলমূল খেতে দিতে হবে। এছাড়া কডলিভার ওয়েল, মাখন, ঘি ইত্যাদি খাদ্য প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে।
উপরিউক্তভাবেই মিনির শারীরিক সমস্যার প্রতিকার করা সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি।
Related Question
View Allশরীর গঠন, বর্ধন ও রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান প্রোটিন।
আমিষ দেহকোষের গঠন ও বৃদ্ধিসাধন করে। তাই দেহ গঠনের জন্য আমাদের আমিষ খেতে হয়। এছাড়া আমাদের কোষগুলো প্রতিনিয়তই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। এই ক্ষয়পূরণ করে নতুন কোষ গঠন করে আমিষ তাই দেহের ক্ষয়পূরণ করতে আমরা আমিষ জাতীয় খাদ্য খেয়ে থাকি।
মালিহার পছন্দকৃত খাদ্য কার্বোহাইড্রেট উপাদান সমৃদ্ধ। কার্বোহাইড্রেট প্রাণিদেহের মূল শক্তির উৎস। আমাদের খাদ্যের ৬০% - ৭০% তাপশক্তি এ জাতীয় খাদ্য থেকে পেয়ে থাকি। কার্বোহাইড্রেটের প্রধান উৎস চাল, গম, আলু, মিষ্টি আলু, সাগু, সুজি, বার্লি ইত্যাদি।
উদ্দীপকে মালিহার পছন্দের খাবার হচ্ছে সুজি, বার্লি, আলু। এ খাদ্যগুলো কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য। কার্বোহাইড্রেটের প্রথম ও প্রধান কাজ তাপ ও শক্তি উৎপাদন। প্রোটিন, ভিটামিন ও ধাতব লবণ প্রভৃতি খাদ্যদ্রব্য গ্রহণে সহায়তা করে কার্বোহাইড্রেট। স্নেহ পদার্থের দহনে সহায়তা করে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য। দেহে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট গ্লাইকোজেনরূপে যকৃতে জমা থাকে এবং প্রয়োজনবোধে দেহের কাজে ব্যবহৃত হয়। মস্তিষ্কের একমাত্র জ্বালানি হিসেবে কার্বোহাইড্রেটের ভূমিকা অপরিসীম। সেলুলোজ নামক কার্বোহাইড্রেট দেহের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
মিসেস তানিয়ার দুই মেয়েকে নিয়ে উদ্বিগ্নের কারণ হলো তাদের পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণে অনীহা।
দেহের সঠিক বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য সবধরনের খাদ্য উপাদান অপরিহার্য। কারণ খাদ্যের ছয়টি উপাদানের কার্যকারিতা ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই সবধরনের খাদ্য উপাদান গ্রহণ না করলে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
স্বাস্থ্যকে সুস্থ, সবল, সচল ও রোগমুক্ত রাখার জন্য আমাদের খাদ্যগ্রহণ করা প্রয়োজন। তবে এ খাদ্য সকল পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ হতে হবে। কারণ কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য দেহে শক্তি উৎপাদন করে। প্রোটিন দেহ গঠন, বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ করে। স্নেহজাতীয় খাদ্য তাপ ও শক্তি সরবরাহ করে, ভিটামিন জাতীয় খাদ্য দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। খনিজ উপাদানসমূহ প্রধানত দেহ গঠন, দেহের জৈবিক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের কাজে সহায়তা করে। খাদ্য উপাদানগুলো অর্থাৎ প্রতিটি খাদ্য উপাদান ভিন্ন ভিন্ন কাজ করে থাকে। তাই দেহে সঠিক পুষ্টি উপদান নিশ্চিত করতে প্রয়োজন সবধরনের খাদ্য গ্রহণ। তা না হলে পুষ্টি উপাদানের অভাবজনিত বিভিন্ন রোগ দেখা দিতে পারে। মিসেস তানিয়ার দুই মেয়ে সাবিহা ও মালিহা সব ধরনের খাবার খেতে চায় না। সাবিহা মাছ, মাংস ছাড়া অন্য কিছু খেতে চায় না। মাছ, মাংস থেকে সাবিহা শুধুমাত্র প্রোটিন লাভ করবে। কিন্তু অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থেকে সে বঞ্চিত হবে। এর ফলে সে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তার শারীরিক গঠন বাঁধাগ্রস্ত হবে। অন্যদিকে, মালিহা সুজি, বার্লি, আলু খেতে পছন্দ করে। এগুলো থেকে সে কার্বোহাইড্রেট পাবে। কিন্তু অন্যান্য উপাদানের জন্য তাকে সবধরনের খাবারই খেতে হবে। মিসেস তানিয়ার মেয়েরা খাদ্য থেকে সবধরনের পুষ্টি চাহিদা মিটাতে পারছে না। তাই তিনি তাদের নিয়ে উদ্বিগ্ন কারণ এভাবে চলতে থাকলে তারা বিভিন্ন রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে পড়বে।
পরিশেষে বলা যায়, শরীরকে সুস্থ সবল রাখার জন্য আমাদের সব ধরনের খাদ্যই গ্রহণ করতে হবে।
খাদ্যে অবস্থিত জৈব রাসায়নিক উপাদান যা ঐ খাদ্যের গুণাগুণের জন্য দায়ী সেই উপাদানগুলোকে পুষ্টি উপাদান বলে।
বয়স্ক ব্যক্তিদের ভিটামিন 'ডি' এর অভাব হলে যে রোগের সৃষ্টি হয় তাকে অস্টিওম্যালেসিয়া বলে।
অস্টিওম্যালেসিয়া রোগে অস্থির ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের সঞ্চয় সম্পূর্ণই নিঃশেষ হয়ে যায়। দেহের হাড় খুব নরম, ঝাঁঝরা ও ভঙ্গুর প্রকৃতির হয়। অল্পতেই ভেঙে যায়। হাত-পা, কোমর, মেরুদণ্ডের হাড়ের গঠনে এরকম ত্রুটি থাকলে ব্যথা হয়। শেষ অবস্থায় পায়ের হাড় ও মেরুদণ্ড বেঁকে যেতে পারে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!