পারিবারিক লক্ষ্যসমূহ অর্জনের জন্য মানবীয় ও বস্তুবাচক সম্পদসমূহের ব্যবহারে পরিকল্পনা, সংগঠন, নিয়ন্ত্রণ ও মূল্যায়ন করাই হচ্ছে গৃহ ব্যবস্থাপনা।
মানবপ্রকৃতি সম্পর্কে জ্ঞান থাকলে পরিবারে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব।
মানব চরিত্র সম্পর্কে জানার ক্ষমতা গৃহ ব্যবস্থাপকের একটি বিশেষ গুণ। পরিবারের সদস্যদের স্বভাব, আচরণ, পছন্দ-অপছন্দ, মেজাজ ইত্যাদি এক রকম হয় না। পরিবারের সদস্যদের আচরণগত বৈশিষ্ট্য জানা প্রয়োজন। গৃহ ব্যবস্থাপক পর্যবেক্ষণ ও অনুশীলনের দ্বারা মানবপ্রকৃতি সম্পর্কে অবগত হতে পারেন। ফলে তিনি সদস্যদের দ্বারা উদ্ভূত যেকোনো সমস্যা সহজেই মোকাবিলা করতে পারেন। এতে পরিবারে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হয়।
মিরার সংসার জীবনে অভিযোজ্যতা গুণের অভাব ছিল।
পরিবর্তনশীল পরিবেশে বাস করার কারণে প্রায়ই আমাদের নানা রকম পরিবর্তনের মুখোমুখি হতে হয়। যেকোনো পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নিজেকে খাপ খাওয়ানোকে অভিযোজ্যতা বলে।
বাড়িতে মেহমান আসলে মিরা তাদের যত্ন নিতে এবং দেখাশোনা করতে বিরক্তবোধ করেন। অর্থাৎ তার অভিযোজ্যতা গুণের অভাব রয়েছে। এই গুণটি প্রত্যেক গৃহ ব্যবস্থাপকের থাকা প্রয়োজন। বাড়িতে কেউ আসলে তাদের আপ্যায়ন ও দেখাশোনা করা প্রয়োজন। এছাড়া বাড়িতে কেউ অসুস্থ হলে তার সেবা-যত্ন করা উচিত। অনেক সময় অসুস্থ ব্যক্তিকে হাসপাতালেও পাঠাতে হয়। এ রকম পরিবর্তিত অবস্থার সাথে মানিয়ে নিয়ে গৃহ ব্যবস্থাপককের বাড়ির সব কাজ করতে হয়। গৃহ ব্যবস্থাপককে যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতা থাকতে হয়। কিন্তু মিরার মধ্যে এই গুণটি অনুপস্থিত।
গৃহ পরিচালনায় মিরার শাশুড়ির কার্যক্রম প্রশংসনীয়।
পরিবারে বিভিন্ন রকম কাজ থাকে। পরিবারের নির্ধারিত কাজগুলো কে করবে, কীভাবে, কখন এবং কেন করা হবে এসব বিষয়ের প্রতি সচেতন হয়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা গৃহ ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব ও কর্তব্য।
পারিবারিক কাজগুলো সদস্যদের মধ্যে বণ্টন করে দেয়া গৃহ ব্যবস্থাপকের অন্যতম দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। পরিবারের কিছু কিছু কাজ গৃহের মধ্যে সম্পাদিত হয়। যেমন- রান্না ও পরিবেশন করা, কাপড় ধোয়া, ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ায় সাহায্য করা ইত্যাদি। কিছু কিছু কাজ বাড়ির বাইরে করতে হয়। যেমন- বাজার করা, বাগান করা, আত্মীয়স্বজনের খোঁজ-খবর নেয়া ইত্যাদি। গৃহ ব্যবস্থাপক পরিবারের সদস্যদের শক্তি, সামর্থ্য, বয়স, কর্মস্পৃহা ইত্যাদির ভিত্তিতে কাজগুলোকে বণ্টন করবেন। কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাজগুলোর তদারকি করা ও সদস্যদের প্রতি সহযোগিতার মনোভাব পোষণ করাও গৃহ ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব।
মিরার শাশুড়ি সুদক্ষতার সাথে তার ৯ম শ্রেণিতে পড়ুয়া নাতনিকে ঘর গোছানোর এবং ৭ম শ্রেণিতে পড়ুয়া নাতিকে গাছ পরিচর্যার দায়িত্ব দেন। তিনি এক্ষেত্রে নাতি-নাতনির শক্তি, সামর্থ্য, বয়স, কর্মস্পৃহা বিবেচনা করেন। পরবর্তীতে মিরার শাশুড়ি তাদের কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন। অর্থাৎ, এখানেও তিনি একজন দক্ষ গৃহ ব্যবস্থাপকের মতো তাদের কাজের তদারকি করেন। পরিশেষে বলা যায়, গৃহ পরিচালনায় মিরার শাশুড়ির কার্যক্রম প্রশংসনীয়।
Related Question
View Allগৃহে যাবতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু গৃহ ব্যবস্থাপক।
গৃহের সকল কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য সুষ্ঠু কর্মব্যবস্থা সৃষ্টি করা প্রয়োজন।
পরিবারের সদস্যদের শক্তি, সামর্থ্য, বয়স, কর্মস্পৃহা ইত্যাদির ভিত্তিতে কাজগুলোকে তাদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার মাধ্যমেই সুষ্ঠু কর্মব্যবস্থা নিশ্চিত হয়।
সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যাপারে সানজিদা খাতুনের যে গুণটি প্রকাশ পেয়েছে তা হলো পরিবারের সদস্যদের জন্য কাজের উপযুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা।
পরিবারের সকল সদস্য যেন তাদের করণীয় কাজগুলো ভালোভাবে সম্পন্ন করতে পারে সেজন্য সানজিদা খাতুন কাজের উপযুক্ত, উন্নত ও আরামদায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করেন। ফলে সদস্যদের কাজ তুলনামূলক সহজ হয়ে যায় এবং তারা উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে সফলতার দিকে অগ্রসর হয়।
সানজিদা খাতুন তার সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য আলো-বাতাসপূর্ণ ও কোলাহলমুক্ত স্থান নির্বাচন করেছেন। এছাড়া তিনি তাদের শিক্ষার প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহ সঠিকভাবে নির্দিষ্ট স্থানে গুছিয়ে রাখেন। ফলে তার সন্তানেরা নির্বিঘ্নে আরামদায়ক পরিবেশে লেখাপড়া করতে পারে। পরিবারের সদস্যদের কাজের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা প্রত্যেক গৃহ ব্যবস্থাপকের কর্তব্য। সানজিদা খাতুনও তাই করেছেন।
সানজিদা খাতুন বাসায় মেহমান এলে তাদের যত্ন ও আপ্যায়ন করতে প্রায়শ বিরক্ত হন। তার এ আচরণটি দক্ষ গৃহ ব্যবস্থাপকের গুণাবলির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
মানুষ সামাজিক জীব। আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী নিয়েই আমাদের জীবন। তাই সকলের সাথে ভালো ব্যবহার ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাড়িতে মেহমান এলে আপ্যায়নের মাধ্যমে তাদের সাথে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু এ সময় যদি তাদের প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করা হয় তাহলে সম্পর্কের মধ্যে একটা দূরত্ব সৃষ্টি হয় যা সামাজিক জীবনযাপনের অন্তরায়।
সানজিদা খাতুনের মধ্যে গৃহ ব্যবস্থাপকের যে গুণটি নেই তা হলো অভিযোজ্যতা। যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাই হলো অভিযোজ্যতা। যিনি যত ভালোভাবে অভিযোজন করতে পারবেন, তিনি তত সহজেই যেকোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবেন। দক্ষ গৃহ ব্যবস্থাপককে পরিবর্তিত অবস্থার সাথে অভিযোজন করে সকল কাজ করতে হয়। তাই সানজিদা খাতুনের মধ্যে অভিযোজ্যতা গুণটি থাকা প্রয়োজন।
গৃহে যাবতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু গৃহ ব্যবস্থাপক।
গৃহের সকল কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য সুষ্ঠু কর্মব্যবস্থা সৃষ্টি করা প্রয়োজন।
পরিবারের সদস্যদের শক্তি, সামর্থ্য, বয়স, কর্মস্পৃহা ইত্যাদির ভিত্তিতে কাজগুলোকে তাদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার মাধ্যমেই সুষ্ঠু কর্মব্যবস্থা নিশ্চিত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!