'১৯৭১' উপন্যাসে নীলগঞ্জ গ্রামে মিলিটারি প্রবেশ করা প্রসঙ্গে মতি মিয়া ইমাম সাহেবকে উদ্দেশ্য করে উক্তিটি করেছে। মতিগঞ্জ গ্রামের মসজিদের ইমাম সাহেব ভোরবেলায় ফজরের নামাজের পূর্বে মসজিদের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে সূরা ইয়াসিন পড়ার সময় মিলিটারির পদচারণা লক্ষ করেন। তিনি দেখেন মিলিটারি গ্রামের প্রাইমারি স্কুলের দিকে যাচ্ছে। ইমাম সাহেব গ্রামে মিলিটারি আসার বিষয়টি বিশ্বাস করতে পারেন না। নামাজ শেষে মতি মিয়াকে তিনি জিজ্ঞেস করেন স্কুলঘরে অবস্থান নেওয়া মিলিটারিদের সে দেখেছে কি না। কিন্তু মতি মিয়া কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে চায় না গ্রামে মিলিটারি আসার বিষয়টি, কারণ তার শালা নিজামের বড় ভাই তাকে নিশ্চিত করেছে যে নান্দাইল রোডেও এখনও মিলিটারি আসেনি। ইমাম সাহেবের চোখের দেখাকে সে অস্বীকার করতে চায়, কারণ তার মতে মিলিটারিরা সোজা জিনিস নয় এবং তারা এলে এতক্ষণে গুলি শুরু হয়ে যেত। প্রশ্নোক্ত কথাটির মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন মতি মিয়ার ধারণার প্রকাশ ঘটেছে অন্যদিকে আবার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নৃশংসতার প্রকাশও ঘটেছে।
Related Question
View All১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সর্বস্তরের বাঙালিদের উপর নির্মম আগ্রাসন শুরু করেছিল। দেশের বৃহৎ শহরগুলোর পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও শুরু করে নির্মম হত্যাযজ্ঞ। '১৯৭১' উপন্যাসে হুমায়ূন আহমেদ নীলগঞ্জ গ্রামের প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহকে সুবিন্যস্ত করেছেন। বাঙালিদের উপর আগ্রাসনের ক্ষেত্রে তারা ধর্মকেও পাত্তা দেয়নি। মসজিদ, মন্দির থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে হত্যা করা হয়েছে মানুষজনকে।
নীলু সেনের বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মেজর এজাজ কালীমন্দির দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বাঙালিদের পঁচাত্তর ভাগ হিন্দু এবং বাকি পঁচিশ ভাগ মুসলিম বলে মন্তব্য করেন। মেজর সাহেব দীর্ঘ সময় মূর্তি নিরীক্ষণ করে এর পিছনে কেউ লুকিয়ে আছে বললেন। যে ব্যক্তি মূর্তির পিছনে আশ্রয় নিয়েছে মেজরের মতে সে বিশ্বাস করে যে দেবী তাকে মিলিটারির হাড় থেকে রক্ষা করবে। পাকিস্তানি মেজর বাঙালি হিন্দুর এমন বিশ্বাসকে তির্যকভাবে ব্যঙ্গ করলে তার সহকারী রফিক প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছে। বাঙালিদের মাঝে একটা বদ্ধমূল ধারণা ছিল যে যারা সাচ্চা মুসলিম, নামাজ-কালাম পড়ে মিলিটারিরা তাদের কোনো ক্ষতি করে না। কিন্তু তাদের এই ধারণা ভেঙ্গে দিয়ে পাকিস্তানি সেনারা বাঙালি মুসলিমদের উপর নির্মম আগ্রাসন চালিয়েছে। তাই রফিকের মতে অনেক জায়গায় মসজিদ থেকে মুসল্লিদের টেনে বের করে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু আল্লাহ তাদের রক্ষা করতে পারেননি। পাকবাহিনী বাঙালিদের উপর যে গণহত্যা চালিয়েছে তাতে ধর্ম রক্ষাকবচ হয়ে উঠতে পারেনি। তাই বাঙালি হিন্দুদের মতো মুসলমানরাও পাকিস্তানিদের নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়েছে। অর্থাৎ ঔপন্যাসিক দেখাতে চেয়েছেন পাকিস্তানি বাহিনী বাঙালিদের উপর যে আগ্রাসন চালিয়েছে তা সর্বব্যাপী আগ্রাসন ছিল। সেখানে ধর্মের কোনো বেড়াজাল ছিল না। পাকিস্তানিরা হিন্দু বা মুসলিম বলে নয়, যে বাঙালি তার প্রতিই তাদের বিদ্বেষ। মূলত প্রশ্নোক্ত কথাটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে ধর্ম ছিল পাকিস্তানিদের মুখোশ মাত্র। ওদের মধ্যে ধর্মীয় অনুভূতি ছিল না। যা ছিল তা হলো বাঙালি বিদ্বেষ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!