সমাজের প্রাচীনতম ও মৌলিক প্রতিষ্ঠান হলো পরিবার।
পরিবার একটি চিরস্থায়ী সামাজিক সংগঠন। পরিবারের প্রত্যেক সদস্যেরই সমাজের কাছে কিছু দায়িত্ব থাকে। সেজন্য পরিবারের প্রতিটি লোকের কাজকর্ম, চিন্তাভাবনা, আচার- আচরণ এমন হওয়া উচিত যা পরিবার তথা সমাজের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে। এসব কাজের জন্য প্রত্যেক সদস্যের সহযোগিতামূলক মনোভাব থাকতে হবে।
উদ্দীপকে শিক্ষক যে সংগঠন সৃষ্টির কথা বলেছেন তা হলো সমাজ। সমাজের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ ঘটেছে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে। যখন কোনো পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে বসবাস করতে গিয়ে মানুষ সংগঠনের আচরণবিধি মেনে চলে বা মেনে চলবে বলে একমত পোষণ করে তখনই সমাজের সৃষ্টি হয়।
সমাজবিজ্ঞানী R.M. Maciver-এর মতে, 'যেসব সামাজিক সম্পর্কের মধ্যে আমরা জীবনযাপন করি, তার সংঘটিত রূপই সমাজ।' Edward Westmark-এর মতে, 'সমাজ হচ্ছে একদল ব্যক্তির সমষ্টি যারা পারস্পরিক সহযোগিতায় জীবনযাপন করে।' সুতরাং বলা যায়, সমাজ একটি স্থায়ী সংগঠন যেখানে মানবগোষ্ঠী একই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সাধনের জন্য সংঘবদ্ধ হয়।
সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিবার সমাজ দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাবিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়।
সামাজিক আচার-ব্যবহার, আইন-কানুন, বিধিনিষেধ, সামাজিক প্রথা, মূল্যবোধ, ধর্মীয় অনুশাসন প্রভৃতি সমাজের পরিবার কাঠামোকে প্রভাবিত করে।
মিলি যদি বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থা বিবেচনা করে তাহলে যে ধরনের পরিবার কাঠামো দেখতে পায় তা হলো-
i. শহরের পরিবারগুলো মূলত অণু পরিবার আর গ্রামে যৌথ পরিবার। দেখা যায়।
ii. পরিবারগুলো এক বিবাহভিত্তিক। তবে কিছু কিছু মুসলিম পরিবারে একাধিক স্ত্রী লক্ষ করা যায়।
iii. পরিবারগুলো পিতৃবাস নীতি অনুসরণ করে। বর্তমানে নয়াবাসের প্রচলনও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
iv. পরিবারগুলো দ্বিসূত্রীয় নীতি অনুসরণ করে অর্থাৎ পিতামাতা উভয়দিকের আত্মীয়দের সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়।
v. ঐতিহ্যগতভাবে পরিবার কাঠামো অনেক মজবুত। পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনের মধ্যে আবেগ, ভালোবাসা, বন্ধন অত্যন্ত দৃঢ়।
বাংলাদেশের পরিবার কাঠামো বিবেচনা করে মিলি বুঝতে পারে যে একটি পরিবার সামাজিক রীতি দ্বারা প্রভাবিত হয়।
Related Question
View Allপরিবারের সুখ সমৃদ্ধির কথা চিন্তা করে পরিকল্পিত উপায়ে পরিবার গঠন করাকে পরিকল্পিত পরিবার বলে।
বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী যে নতুন সংসার শুরু করে তাকে নয়াবাস পরিবার বলে।
পাশ্চাত্য সমাজে এই ধরনের পরিবারের সংখ্যা অধিক। আমাদের দেশে বর্তমানে পেশাগত কারণে এ ধরনের পরিবারের সংখ্যা শহরাঞ্চলে বৃদ্ধি পাচ্ছে
যৌথ পরিবারে বেড়ে ওঠা সজল যখন রাঙামাটিতে গারো সমাজের একটি বিয়েতে অংশগ্রহণ করে তখন সে কৌতূহলী হয়ে যায়।
নতুন পরিবেশ, নতুন পদ্ধতিতে সংঘটিত বিবাহ উৎসব সজলকে অবাক করে দেয়। কারণ সে যে বিয়েতে অংশগ্রহণ করেছিল সেখানে স্বামীরা বিয়ের পর মেয়ের বাড়িতে অবস্থান করে। অর্থাৎ এটি একটি মাতৃপ্রধান পরিবার।
মাতৃপ্রধান পরিবারের ক্ষমতা ও নেতৃত্ব একজন মহিলার ওপর ন্যস্ত থাকে। এখানে স্ত্রী লোকের অধিকার পুরুষের চেয়ে বেশি এবং স্ত্রীলোকের মাধ্যমে বংশ পরিচয় নির্ধারিত হয়। পরিবারের ক্ষমতাভিত্তিক হিসেব করলে এটি মাতৃপ্রধান পরিবার হিসেবে পরিচিত। পরিবারের সকল দায়দায়িত্ব এখানে মাতা বা প্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীলোকই নেতৃত্ব দেয়। সজল বিয়েতে এ সকল বিষয়গুলো দেখেই কৌতূহলী হয়েছিল। আমাদের সমাজে আমরা পিতৃতান্ত্রিক পরিবারে বসবাস করি। যেখানে বিয়ের পর স্ত্রী পুরুষের অধিকারী হয়ে থাকে। কিন্তু গারো সমাজের এই পরিবারের নতুন পরিবেশ, নতুন বিবাহ পদ্ধতি সজলকে কৌতূহলী করে তোলে।
সজল যে পরিবারে বসবাস করে সেটি পরিবারের কাঠামো বা আকারানুযায়ী যৌথ পরিবারের অন্তর্গত।
যৌথ পরিবারে পিতা-মাতা, ভাই-বোন, স্ত্রী, সন্তান-সন্ততিসহ একত্রে বসবাস করে। এ ধরনের পরিবারে চাচা-চাচি ও তাদের সন্তান-সন্ততি বসবাস করতে পারে।
সজল এরূপই একটি যৌথ পরিবারে বসবাস করে, যেখানে তাদের সাথে চাচা-চাচি ও তাদের সন্তানাদিও রয়েছে। কৃষিভিত্তিক সমাজে যৌথ পরিবারে বয়ষ্ক ব্যক্তি পরিবারের প্রধান। তার হাতে সম্পত্তির অধিকার থাকে এবং তিনি পরিবারের অর্থনৈতিক বিষয় দেখাশুনা করেন।
যৌথ পরিবারে শিশুদের লালনপালনে সমস্যা হয় না। ছোটরা বড়দের সম্মান ও বড়রা ছোটদের সাথে স্নেহের সম্পর্ক তৈরি করতে পারে। যৌথ পরিবারের ছেলেমেয়েরা সহনশীল হয়। ছেলেমেয়েদের সমস্যা সমাধানে বাবা-মা ভূমিকা রাখে। সকলে মিলেমিশে যৌথ পরিবারে ভাগ করে থাকে। ছেলেমেয়েদের মানসিক বিকাশ সঠিকভাবে গড়ে তুলতে যৌথ পরিবারের ভূমিকা অপরিসীম। সজলের পরিবারটিও যৌথ পরিবার। এধরনের পরিবারে সকলে মিলেমিশে বিভিন্ন আনন্দ উৎসবে অংশগ্রহণ করে।
সামাজিক পরিবর্তন হচ্ছে সমাজের রূপান্তর।
পারস্পরিক নির্ভরশীলতা বলতে বোঝায় পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন কাজে একে অপরের প্রতি নির্ভর করা।
পারস্পরিক বিশ্বাস ও নির্ভরশীলতা পরিবারের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য। পারস্পরিক বিশ্বাস যত মজবুত হয় পরিবারের মধ্যে সহযোগিতা ও সমঝোতা তত বেশি বৃদ্ধি পায়। এছাড়া সুখে দুঃখে একে অপরের অংশীদার হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!