ল্যাটিন শব্দ টেক্সো থেকে টেক্সটাইল শব্দের উৎপত্তি। যার অর্থ বুনন করা।
বিশোষণ ক্ষমতা হলো বয়ন তন্তুর একটি গৌণ বৈশিষ্ট্য। তন্তুর আর্দ্রতা শোষণ ক্ষমতা ভালো হলে তাতে সহজেই রং ও ফিনিশ প্রয়োগ করা যায়। এরূপ তন্তু সহজে ধোয়া যায় এবং পরিধানের জন্য সুবিধাজনক হয়। যেসব বস্ত্রের বিশোষণ ক্ষমতা কম, তাদের তাড়াতাড়ি ধুয়ে শুকিয়ে নেওয়া যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত তন্তুটি সুতি তন্তু। সুতি তন্তুর তৈরি বস্ত্র বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়। যেমন-
১. বিছানার চাদর, কুশন কভার, মশারি ইত্যাদিতে।।
২. শাড়ি তৈরি করা যায়, যা অনেক সমাদৃত।
৩. লুঙ্গি, গামছা, লেপ ও তৈরি করে ব্যবহার করা যায়।
৪. ন্যাপকিন তৈরি করা যায়।
৫. বাচ্চাদের যে কোনো পোশাকে সুতি তত্ত্বর ব্যবহার অনস্বীকার্য।
৬. বিভিন্ন ঘর সাজানোর সামগ্রীও সুতি তত্ত্বর তৈরি বস্ত্রের দ্বারা ব্যবহার করা হয়।
৭. পর্দা তৈরিতেও সুতি বস্তু ব্যবহৃত হয়।
মিসেস রহমানের মতো তত্ত্ব শনাক্তকরণের জন্য আরও অনেক পরীক্ষা রয়েছে। যেমন-
১. পাক খুলে পরীক্ষা: একটি সুতাকে ছিড়ে তার ছেঁড়া অংশ পরীক্ষা করেও তত্ত্বর উৎস শনাক্ত করা যায়। যেখানে তত্ত্বটি ছিঁড়ে যাবে তার সম্মুখভাগ যদি দেখতে সুচের মতো সরু হয় তবে তা ফ্ল্যাক্স তত্ত্ব বুঝতে হবে। অন্যদিকে, যদি সম্মুখভাগ দেখতে একটি তুলির সম্মুখভাগের মতো মোটা হয় তবে তা তুলা তত্ত্ব বলে জানতে হবে।
২. ভিজিয়ে পরীক্ষা: আঙুলের সাহায্যে এক ফোঁটা পানি কোনো কাপড়ের উপর রাখার সাথে সাথে যদি পানি কাপড়ে প্রবেশ করে এবং চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, তবে কাপড়টি ফ্ল্যাক্স তত্ত্ব। অন্যদিকে, শোষণ ক্ষমতা না থাকার কারণে নাইলন তত্ত্বর বস্ত্রে পানি প্রবেশ করবে না।
৩. গরম ইস্ত্রি দিয়ে পরীক্ষা: একটি ইস্ত্রি খুব গরম করে কাপড়ের উপর চেপে ধরলে যদি কাপড়টি এসিটেট, নাইলন, ডেক্লোন তন্তুর হয় তবে তা একেবারেই গলে যাবে। তুলা, ফ্ল্যাস্ক, রেশম, পশম বা রেয়নের হলে কাপড়ের লালচে পোড়া দাগ পড়বে।
৪. লেবেল দেখে পরীক্ষা: কাপড়ের গায়ে সংযুক্ত লেবেলে তত্ত্ব সম্পর্কিত নানা ধরনের তথ্য দেওয়া থাকে, যা দেখে একজন ক্রেতা কাপড়টি কোন ধরনের তত্ত্বর তৈরি সে সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারে।
৫. কাপড় পুড়িয়ে পরীক্ষা: এ পরীক্ষার জন্য কাপড়ের টানা সুতা থেকে দুই একটা সুতা নিয়ে পাক খুলে আগুনের শিখায় ধরে প্রজ্বলনের নমুনা ও ছাই পর্যবেক্ষন করতে হবে এবং তন্তু থেকে যে গন্ধ বের হয় তা লক্ষ করতে হবে। বুনন প্রক্রিয়ায় কাপড়টি তৈরি না হলে সুতার পরিবর্তে এক টুকরা কাপড় পোড়ানো পরীক্ষায় ব্যবহার করতে হবে।
Related Question
View Allবীজের চারপাশে যে আঁশগুলো অবস্থান করে তাই বীজ তন্তু। যেমন: তুলা, ক্যাপক।
বীজের চারপাশে যে আশগুলো অবস্থান করে তাই বীজ তন্তু।
সাংশ্লেষিক তন্তু এক ধরনের কৃত্রিম তন্তু।
প্রাকৃতিকভাবে সেলুলোজ ভিত্তিক নয় এমন পদার্থ যেমন- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ইত্যাদির সাথে রাসায়নিক পদার্থের বিক্রিয়া ঘটিয়ে যে পদার্থ সৃষ্টি করা হয় এবং যার মধ্যে তন্তুর গুণাবলি বিদ্যমান থাকে তাকে সাংশ্লেষিক তন্তু বলে। যেমন- নাইলন, পলিয়েস্টার, ভিনিয়ন, সরন ইত্যাদি তন্তু।
নাজমা বেগম রেয়ন তন্তুর কাপড় ব্যবহার করছেন।
রেয়ন তন্তুর অন্যতম গুণ হলো এর উজ্জ্বলতা। বিভিন্ন মাত্রায় এরূপ উজ্জ্বল তন্তু বাজারে পাওয়া যায়। এছাড়া বহুমুখী ব্যবহারের জন্য এই তন্তু বেশ জনপ্রিয়।
রেয়ন তত্ত্বর রং ধারণ ক্ষমতা ভালো এবং এটি বাজারে সস্তা বস্ত্রের মধ্যে অন্যতম। এ তত্ত্বর বস্ত্র মজবুত, উজ্জ্বল ও দীর্ঘস্থায়ী হয়। এগুলো সহজে ধোয়া ও যত্ন নেওয়া যায় বলে নাজমা বেগম এ তত্ত্বর কাপড় ব্যবহার করছেন। তবে এটি পরতে সুতি তত্ত্বর মতো আরামদায়ক নয়। গরমে এ কাপড় পরলে বেশ গরম অনুভূত হয়। সুতরাং, উদ্দীপকের নাজমা বেগম রেয়ন তন্তুর কাপড় ব্যবহার করছেন।
নাজমা বেগমের সহকর্মীরা তাঁকে আরামদায়ক কাপড় পরার পরামর্শ দিলেন। তাঁদের পরামর্শটি সঠিক।
প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততার জন্য আরামদায়ক পোশাক প্রয়োজন। রেয়ন তন্তুর পোশাক উজ্জ্বল, দীর্ঘস্থায়ী এবং মজবুত হলেও এটির ব্যবহার আরামদায়ক নয়।
নাজমা বেগম ইদানিং গরমে হাঁপিয়ে উঠছেন এবং তাঁর শ্বাসকষ্ট দেখা দিচ্ছে। এই অবস্থায় তাঁর সহকর্মীরা তাকে আরামদায়ক কাপড় পরার পরামর্শ দিলেন। এই পরামর্শটি যুক্তিযুক্ত বলে আমি মনে করি। নাজমা বেগম পরিপাটি থাকতে পছন্দ করেন বলে কৃত্রিম তন্তু হতে তৈরি রেয়নের কাপড় ব্যবহার করেন। এটি প্রাকৃতিক তন্তুর তৈরি কাপড়ের মতো আরামদায়ক নয়। এর ঘাম শোষণ করার ক্ষমতাও কম। ফলে এ কাপড় শরীরে তাপ পরিবহনে বাধা সৃষ্টি করে। তাই এ কাপড় ব্যবহারের ফলে তাঁর শ্বাসকষ্ট দেখা দিচ্ছে। যদি নাজমা বেগম আরামদায়ক ও তাপ সুপরিবাহী কাপড় ব্যবহার করতেন তবে তিনি অসুস্থ হতেন না।
তাই আমি মনে করি, তাঁর সহকর্মীদের দেওয়া পরামর্শটি যুক্তিযুক্ত।
বীজের চারপাশে যে আঁশগুলো অবস্থান করে তাই বীজ তন্তু। যেমন: তুলা, ক্যাপক।
সাংশ্লেষিক তন্তু এক ধরনের কৃত্রিম তন্তু।
প্রাকৃতিকভাবে সেলুলোজ ভিত্তিক নয় এমন পদার্থ যেমন- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ইত্যাদির সাথে রাসায়নিক পদার্থের বিক্রিয়া ঘটিয়ে যে পদার্থ সৃষ্টি করা হয় এবং যার মধ্যে তন্তুর গুণাবলি বিদ্যমান থাকে তাকে সাংশ্লেষিক তন্তু বলে। যেমন- নাইলন, পলিয়েস্টার, ভিনিয়ন, সরন ইত্যাদি তন্তু।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!