অগ্ন্যাশয় গ্রন্থি থেকে শর্করা বিপাককারী ইনসুলিন হরমোনের অভাবে ডায়াবেটিস হয়।
পথ্য পরিকল্পনার সময় পুষ্টিকর ও সহজ পাপ্য খাদ্য দিয়ে পথ্য পরিকল্পনা করতে হয়।
পথ্য পরিকল্পনার সময় রোগ অনুযায়ী পথ্যের পুষ্টি উপাদান কীরূপ হবে তা বিবেচনা করতে হবে। যেমন- ডায়াবেটিস রোগে স্বল্প শর্করা, উচ্চ রক্তচাপে লবণ নিয়ন্ত্রিত পথ্য, যকৃতের রোগে প্রোটিন নিয়ন্ত্রিত পথ্য, রক্তস্বল্পতায় লৌহ বহুল পথ্য দিতে হবে। তাই পথ্য পরিকল্পনায় পুষ্টি উপাদান বিবেচনার গুরুত্ব অপরিসীম।
অর্থি জন্ডিস রোগে আক্রান্ত হয়েছে। জন্ডিস রোগ হলে রোগীর জ্বর জ্বর ভাব থাকে, চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যায় এবং খাওয়ার রুচি কমে যায়।
মিসেস রোকেয়ার মেয়ের জন্ডিসের লক্ষণ দেখা গিয়েছে। এ রোগের কারণসমূহ হলো-
১. ভাইরাসজনিত বা কোনো বিষাক্ত পদার্থ দ্বারা যকৃত ক্ষতিগ্রস্ত হলে জন্ডিসের লক্ষণ প্রকাশ পায়।
২. রক্তের লোহিত কণিকাগুলো অধিক পরিমাণে ভাঙতে থাকলে বহুল পরিমাণ বিলিরুবিন উৎপন্ন হয় ও জন্ডিসের লক্ষণ প্রকাশ পায়।
৩. পিত্তনালীতে পাথর বা কোনো রকম অস্বাভাবিকতায় নালীর পথ বন্ধ হয়ে গেলে পিত্তের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। তখন জন্ডিসের লক্ষণ প্রকাশ পায়।
মিসেস রোকেয়ার মেয়ে অর্থি জন্ডিসে আক্রান্ত হয়েছে। ডাক্তার অর্থির খাদ্য সম্পর্কিত বিধিনিষেধ দিয়েছেন। তাই মিসেস রোকেয়ার উচিত ডাক্তারের পরামর্শমতো অর্থির জন্য খাদ্য পরিকল্পনা করা।
জন্ডিসের খাদ্য পরিকল্পনার প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে যকৃতের ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলোর পুনরুৎপাদন, যকৃতের উপর চাপ কমানো এবং যকৃতকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা। তাই রোকেয়া তার মেয়েকে উচ্চ জৈব মূল্যের প্রোটিন জাতীয় খাদ্য দিবেন। চর্বি ছাড়া মাছ, মাংস ইত্যাদি দিতে পারেন। সহজ পাচ্য, সরল শর্করা দ্বারা তার খাদ্য তালিকা করতে হবে। চর্বি জাতীয় খাদ্যদ্রব্য, অতিরিক্ত মসলা, গুরুপাক, ভাজা খাদ্য বাদ দিতে হবে।
প্রাথমিক অবস্থায় রোগ যখন তীব্র থাকে এবং রোগীর অরুচি থাকে তখন তরল ও নরম খাদ্য অল্প পরিমাণে বারে বারে দেয়া যেতে পারে। এছাড়া প্রচুর পানি বিশেষ করে ডাবের পানি খাওয়াতে হবে। চিনি, গুড় বা মধুর পরিবর্তে গ্লুকোজ দিতে পারেন। রোগীর রুচি ও হজমশক্তির উন্নতির সাথে সাথে বিভিন্ন ধরনের খাবার দেওয়া যায়। যেমন- সুজি, - ননীতোলা দুধ, নরম সিদ্ধ আটার রুটি, ভাত, আলু, গুড়, চিনি, মধু, পুডিং, পায়েস, ফলের রস, সব্জি, স্যুপ, মাছ, মুরগির ঝোল ইত্যাদি।
মিসেস রোকেয়া তার মেয়েকে ডাক্তারের পরামর্শ মতো খাদ্য পরিকল্পনা করে দিলে তার মেয়ে সুস্থ হয়ে উঠবে।
Related Question
View Allরক্ত প্রবাহের সময় রক্তবাহী নালির ওপর যে চাপ সৃষ্টি হয় তাকে রক্তচাপ বলে।
শাকসবজি ও তরল খাবার খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা সম্ভব হয়। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার জন্য প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি ও ফলমূল খেতে হবে। কারণ এগুলোর আঁশ কোষ্ঠ পরিষ্কারে সহায়তা করে। সুষম খাদ্যে যতটা শাকসবজি থাকা দরকার কোষ্ঠকাঠিন্য হলে তার দ্বিগুণ পরিমাণ শাকসবজি খেতে হবে। এ সময় চা-কফি বর্জন করা ভালো।
জামান সাহেবের শারীরিক লক্ষণসমূহ হৃদরোগকে নির্দেশ করছে। হৃদরোগে হৃৎপিণ্ডের ধমনীর গায়ে চর্বি ও অন্যান্য স্নেহপদার্থ জমে ধমনীর ভিতরের গাত্র সরু হয়ে হয়ে যায় এবং অবরোধের সৃষ্টি করে।
ফলে স্বাভাবিক রক্ত চলাচল, অক্সিজেন সরবরাহ প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ কার্যকলাপ বাধা প্রাপ্ত হয়, হৃৎপিণ্ড দুর্বল হয়ে পড়ে। হৃদপেশি নষ্ট হয় এমনকি রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।
জামান সাহেবের শরীরের ওজন বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রায়ই তার বুক ধড়ফড় এবং বুকে ব্যথা করে। এ লক্ষণগুলো হৃদরোগকেই নির্দেশ করে। হৃদরোগ নানা কারণে হয়ে থাকে। মধ্যবয়সী অথবা তার বেশি বয়সে হৃদরোগ হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। শরীরের ওজন বেশি হলে তাদের মধ্যে হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। যারা শারীরিক পরিশ্রম করে না তাদের হৃদরোগ হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। বর্তমান যুগের মানসিক চাপ হৃদরোগের আশঙ্কা অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়। বংশগত হৃদরোগ থাকলে এই রোগের আশঙ্কা বেড়ে যায়। যারা অধিক ধূমপান করেন তাদের মধ্যে হৃদরোগের আশঙ্কা বেশি থাকে। খাদ্যে অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় উপাদান থাকলে হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়ে।
'সচেতনতাই পারে জামান সাহেবকে সুস্থ জীবন ফিরিয়ে দিতে' উক্তিটির সাথে আমি একমত।. সঠিকভাবে নিয়মকানুন মেনে জীবনযাপন করলে হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এক্ষেত্রে সচেতনতাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হৃদরোগের অন্যতম কারণ হলো দেহের ওজন বেড়ে যাওয়া। শারীরিক পরিশ্রম না করলেও হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়ে। এছাড়া খাবারে চর্বি জাতীয় উপাদান হৃদরোগে আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়।
জামান সাহেব হাঁটাচলা কম করেন। শারীরিক পরিশ্রমও তেমন একটা করেন না। কিন্তু তিনি খেতে খুব ভালোবাসেন। এর ফলে তার শরীরের ওজনে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সকল কারণে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু তিনি যদি সচেতনভাবে জীবন যাপন করেন তাহলে তিনি সুস্থ জীবন ফিরে পেতে পারেন। তাই তাকে কতগুলো নিয়ম মেনে চলতে হবে।
জামান সাহেবকে ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ওজন কমানোর জন্য তাকে খাদ্যে ক্যালরির পরিমাণ কমাতে হবে। চিনি, মধু, মিষ্টি জাতীয় খাদ্য বর্জন অথবা পরিমিত পরিমাণ গ্রহণ করতে হবে। শাকসবজি, লেবু জাতীয় ফল, চর্বিহীন মাংস, মাছ, ডিমের সাদা অংশ, গোটা ডিম সপ্তাহে ১-২ বার গ্রহণ করতে হবে। চর্বিযুক্ত মাংস, মাখন, মগজ, চিংড়ি মাছ, দুধের সর, আইসক্রীম, দুধের ঘন পায়ে, লবণ, ভাজা খাদ্য, পনির ইত্যাদি বর্জন করতে হবে। উদ্ভিজ্জ তেল গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া তাকে খাদ্যে সোডিয়ামের পমিাণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ওজনে নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি জামান সাহেবকে শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। প্রতিদিন নিয়ম করে হাঁটতে হবে। কোনো রকম মানসিক চাপ নেয়া যাবে না। নিয়মতান্ত্রিকভাবে জীবন-যাপন করলে জামান সাহেব হৃদরোগ-নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন। কিন্তু তিনি যদি নিয়ম মেনে না চলেন তাহলে তার স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি এমনকি মৃত্যুর সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে। তাই সুস্থ জীবনের জন্য জামান সাহেবের উচিত হবে উপরিউক্ত নিয়মগুলো যথাযথভাবে মেনে চলা।
আঁশ জাতীয় খাদ্য কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।
খাবার গ্রহণের কতক্ষণ পর খাদ্যের অবশিষ্টাংশ মলরূপে দেহ থেকে নিষ্কাশন হবে তা নির্ভর করে খাদ্যের প্রকৃতির ওপর। শাকসবজি ও আঁশ জাতীয় খাদ্য মল দ্রুত নিষ্কাশনে সাহায্য করে। এছাড়া এ ধরনের খাদ্য মলের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। তাই আঁশ জাতীয় খাদ্য ও শাকসবজি বেশি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!