উৎপাদন মাত্রা বলতে একটা প্রতিষ্ঠান তার সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনায় কতটা পণ্য বা সেবা উৎপাদন করবে তার মাত্রাকে বোঝায়।
মালিকানার ভিত্তিতে একমালিকানা প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ দ্রুত করা সম্ভব।
যে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের মালিক মাত্র একজন এবং ব্যবসায়ের ঝুঁকি ও লাভ-লোকসান সবকিছু একাই বহন করে ডাকে একমালিকানা সংগঠন বলে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠান একজন ব্যাক্তি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। এ কারণে ব্যবসায়সংক্রান্ত সকল সিদ্ধান্ত একক ব্যাক্তি কর্তৃক গৃহীত হয় বলে একমালিকানা প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত দ্রুত গ্রহণ করা সম্ভব।
উল্লিখিত যীম ফেব্রিক্স মাঝারি প্রতিষ্ঠান।
উৎপাদনকারী শিল্পের বেলায় কোনো শিল্পের সম্পত্তির স্থায়ী মূল্য (ভূমি ও কারখানা দালান বাদে) ন্যূনপক্ষে ১০ কোটি থেকে ৩০ কোটি টাকা অথবা শ্রমিকের সংখ্যা ১০০ থেকে ২৫০ জন থাকলে তাকে মাঝারি প্রতিষ্ঠান বলে।
উদ্দীপকের মিসেস লোপা একজন নারী উদ্যোক্তা। তিনি ২০ কোটি
টাকা বিনিয়োগ করে মীম ফেব্রিজ নামের একটি পোশাক কারখানা স্থাপন করেন। তার প্রতিষ্ঠানে ১০০ জন শ্রমিক কর্মরত আছে। অর্থাৎ মীম ফেব্রিজ নামক প্রতিষ্ঠানটির মূলধনের পরিমাণ ১০ কোটি থেকে ৩০ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ আবার শ্রমিক সংখ্যাও ১০০ জন যা মাঝারি প্রতিষ্ঠানের বৈশিষ্ট্য বহন করে। সুতরাং উদ্দীপকে উল্লিখিত মীম ফেব্রিজ যাঝারি প্রতিষ্ঠান।
মাদ্রাজনিত ব্যয় সংকোচের মাধ্যমে মীম ফেব্রিক্স বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ করতে পারবে'- উক্তিটিতে আমি একমত।
যে উৎপাদন ধারণায় উৎপাদনের মাত্রা বৃদ্ধি করা হলে এককপ্রতি উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পেতে থাকে তাকে মাদ্রাজনিত ব্যয় সংকোচ বলে।
উৎপাদন মাত্রার সাথে ব্যয়ের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক বিদ্যমান। ব্যবসায়ের সাধারণ নিয়মই হচ্ছে উৎপাদনের পরিমাণ বাড়লে এককপ্রতি উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পায়। তবে উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে সকল সময় এককপ্রতি ব্যয় হ্রাস পায় না। একটি নির্দিষ্ট মাত্রা পর্যন্ত উৎপাদন বৃদ্ধি করলে এককপ্রতি উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পায়। এর চেয়ে বেশি উৎপাদন করলে তা আবার বৃদ্ধি পায়।
উদ্দীপকের মিসেস লোপা মীম ফেব্রিক্স নামের একটি পোশাক কারখানা স্থাপন করেন যা একটি মাঝারি প্রতিষ্ঠান। তার প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যয় এককপ্রতি ১০০ টাকা। সম্প্রতি জীম ফেব্রিক্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান বাজারে এসেছে যার পণ্যের উৎপাদন ব্যয় এককপ্রতি ৮০ টাকা। এ উৎপাদন ব্যয়ের ১৫টি মুনাফা ধরে অর্থাৎ (৮০ x ১৫%) = ১২ টাকা মুনাফা ধরে পণ্য (৮০+ ১২) = ১২ টাকায় বিক্রয় করছে যা মীম ফেব্রিক্স-এর এককপ্রতি উৎপাদন ব্যয় হতেও কম। এর ফলে মীম ফেব্রিক্স-এর তুলনার জীম ফেব্রিক্স এর বিক্রয়ের পরিমাণ বেড়েছে। বছর শেষে জীম ফেব্রিক্স-এর মুনাফা দাঁড়ায় ৬০ লক্ষ টাকা যেখানে মীম ফেব্রিক্স-এর মুনাফা দাঁড়ায় ২০ লক্ষ টাকা। আবার মীম ফেব্রিক্স-এর ১৫,০০০ একক পণ্য অবিক্রীত থেকে যায়। এ অবস্থায় মীম ফেব্রিক্স মাত্রাজনিত ব্যয় সংকোচ ধারণাটি অনুসরণ করতে পারে। মীম ফেব্রিক্স এ ধারণা অনুযায়ী উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে এমন একটি মাত্রায় রাখতে পারে যেন এককপ্রতি উৎপাদন ব্যয় জীম ফেব্রিক্স-এর তুলনায় কম হয়। তবেই জীম ফেব্রিক্স-এর তুলনায় কম মূল্যে পণ্য বিক্রয় করে মীম ফেব্রিক্স ক্রেতা ধরতে। পারবে। এতে মীম ফেব্রিক্স-এর বার্ষিক মুনাফাও বৃদ্ধি পাবে এবং কোনো পণ্য অবিক্রীত থাকার সম্ভাবনাও কমে যাবে।
সুতরাং বলা যায়, মীম ফেব্রিক্স মাত্রাজনিত ব্যয় সংকোচের মাধ্যমে বর্তমান প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ করতে পারবে বলে আমি মনে করি।
Related Question
View Allউৎপাদনের বিভিন্ন কলাকৌশল প্রয়োগ করে মোট যে পরিমাণ পণ্য উৎপাদন করা হয় তাকে উৎপাদনমাত্রা বলে।
কাম্যমাত্রায় উৎপাদন করা প্রতিষ্ঠানের জন্য লাভজনক।
কাম্য উৎপাদনমাত্রা হলো উৎপাদনের এমন একটি স্তর যেখানে সর্বনিম্ন ব্যয়ে সর্বোচ্চ পরিমাণ পণ্য উৎপাদিত হয়। এই উৎপাদনযাত্রায় শুধু উৎপাদন ব্যয়ই সর্বনিম্ন হয় না; বরং উৎপাদনের অন্যান্য উপকরণেরও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হয়। ফলে কাম্য উৎপাদনমাত্রায় প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি গড় উৎপাদন ব্যয় এককপ্রতি সর্বনিম্ন হয়, এতে প্রতিষ্ঠানের এককপ্রতি মুনাফা বেশি হয়ে সামগ্রিক মুনাফা বৃদ্ধি পায়। তাই বলা যায়, কাম্য উৎপাদনমাত্রা প্রতিষ্ঠানের জন্য লাভজনক।
উৎপাদনযাত্রার ধরণ অনুযায়ী 'বোমা ফেব্রিক্স বর্তমানে বৃহদায়তন শিল্প শিল্পনীতি ২০১০ অনুযায়ী।
উৎপাদন শিল্পের ক্ষেত্রে যে প্রতিষ্ঠানের জমি ও কারখানা ভবন ব্যাতীত স্বারী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৩০ কোটি টাকার অধিক এবং শ্রমিকের সংখ্যা ১৫০ জনের অধিক তাকে বৃহদায়তর শিল্প বলে। এ ধরনের শিল্পে পর্যান্ত মূলধন, ব্যাপক কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সামর্থ্য এবং প্রচুর জনবল বিদ্যমান থাকে।
উদ্দীপকে 'সোমা ফেব্রিক্স' একটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।
প্রতিষ্ঠানটিতে ২০১৬ সালে মোট স্বারী সম্পদের মূল্য ছিল ২৭ কোটি টাকা এবং শ্রমিকসংখ্যা ছিল ২১৫ জন। সম্প্রতি বাজাবে তাদের উৎপাদিত পোশাকের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংক থেকে ১০ কোটি টাকার ঋণ সংগ্রহ করে এবং আরও ৫৫ জন নতুন শ্রমিক নিয়োগ করে। এতে তাদের মোট সম্পদের মূল্য দাঁড়ায় ৩৭ কোটি টাকা এবং শ্রমিকসংখ্যার পরিমাণ ২৭০ জন। উপ্ত সম্পদ ও শ্রমিকসংখ্যার পরিমাণের সাথে বৃহদায়তন শিল্পের ফিল রয়েছে। তাই বলা যায়, উৎপাদনযাত্রার ধরন অনুযায়ী 'সোমা ফেব্রিক্স' বর্তমানে বৃহদায়তন
উদ্দীপকে সোমা ফেব্রিক্স হলো বৃহদায়তন শিল্প এবং রিতা ফেরিঙ্গ হলো ক্ষুদ্র শিল্প শিল্পনীতি ২০১০ অনুযায়ী। এ দুটি শিল্পের মধ্যে সোনা ফেব্রিক্স দেশের কর্মসংস্থানে বেশি অবদান রাখতে।
উৎপাদন শিল্পের ক্ষেত্রে যে প্রতিষ্ঠানের জনি ও কারখানা ভবন বারীত স্বায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৩০ কোটি টাকার অধিক এবং শ্রমিকের সংখ্যা ২৫০ জনের অধিক তাকে বৃহদায়তর শিল্প বলে। উৎপাদন শিল্পের ক্ষেত্রে যে প্রতিষ্ঠানের জমি ও কারখানা ভরণ ব্যতীত স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৫০ লক্ষ থেকে ১০ কোটি টাকা এবং শ্রমিকের সংখ্যা ২৫-৯৯ জনের মধ্যে থাকে তাঁকে স্কুল শিল্প বলে।
উদ্দীপকে 'সোমা ফেব্রিক্স' একটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমানে মোট সম্পদের মূল্য হলো ৩৭ কোটি টাকা এবং শ্রমিকসংখ্যার পরিমাণ ২৭০ জন। তাদের প্রতিষ্ঠানটির সাবে বৃহদায়তন শিল্পের মিল থাকায় তাদের প্রতিষ্ঠানটি একটি বৃষনায়তন
উৎপাদনের বিভিন্ন কলাকৌশল প্রয়োগ করে মোট যে পরিমাণ পণ্য উৎপাদন করা হয় তাকে উৎপাদনমাত্রা বলে।
উৎপাদন শিল্পের ক্ষেত্রে যে প্রতিষ্ঠানের জমি ও কারখানা ভবন ব্যতীত স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৫০ লক্ষ থেকে ১০ কোটি টাকা এবং শ্রমিকের সংখ্যা ২৫-৯৯ জনের মধ্যে থাকে তাকে ক্ষুদ্র শিল্প বলে (শিল্পনীতি ২০১০ অনুযায়ী)।
উদ্যোক্তা নিজেই সাধারণত এ ধরনের ব্যবসায় পরিচালনা করে। তাই যেকোনো পরিস্থিতিতে উদ্যোক্তা খুব সহজে ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। অন্য পক্ষের কাছে কোনো ধরনের জবাবদিহিতা না থাকায় উদ্যোক্তা নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এতে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারায় প্রতিষ্ঠানের সফলতা অর্জন করা সহজ হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!