মি. আনছারের ব্যবসায়ের কলেবর বৃদ্ধির পেছনে পণ্যের উন্নত মান ও শহরে অবস্থানের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা অর্জনই প্রধান কারণ বলে আমি মনে করি।
নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ ব্যয় করে বা কাজে লাগিয়ে যে পরিমাণ ফলাফল অর্জিত হয় তার অনুপাতকেই উৎপাদনশীলতা বলে। কোনো প্রতিষ্ঠানে মানসম্মত পণ্য উৎপাদিত হলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। এছাড়া ব্যবসায়ের জন্য সঠিক স্থান নির্ধারণেও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। আর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ব্যবসায়ের আয়তন সহজেই সম্প্রসারণ করা সম্ভব হয়।
উদ্দীপকের মি. আনছার রাজশাহীর সাহেব বাজারে একটি খাবার হোটেলের ব্যবসায় করেন। দোকানটিতে খাবার তৈরি ও পরিবেশনের জন্য ৮ জন কর্মচারী আছে। হোটেলের খাবারের মান ভালো এবং শহরের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত হওয়ায় গ্রাহকের সংখ্যা প্রতিদিন বেড়েই চলেছে। এক্ষেত্রে পর্যাপ্ত কর্মচারী থাকায় ও ভালো মানের খাবার সরবরাহ করায় তার হোটেলের উৎপাদনশীলতা বেশি। এছাড়া হোটেলটি শহরের কেন্দ্রে অবস্থান করায় প্রচুর গ্রাহকের সমাগম ঘটে। অর্থাৎ হোটেলটির আউটপুট ও ইনপুটের অনুপাত ঠিক রাখা হয় যা উৎপাদনশীলতাকেই নির্দেশ করে। একটি ব্যবসায় যখন সকল ক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা অর্জন করে তখন ব্যবস্থাপনার মান যেমনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় তেমনি মুনাফা বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবসায় আর্থিক সমৃদ্ধিও অর্জন করতে পারে। এর ফলে ব্যবসায়ের কলেবর বৃদ্ধি বা সম্প্রসারণ অনেক সহজ হয়।
।
সুতরাং বলা যায়, মি. আনছারের হোটেল ব্যবসায়ের কলেবর বৃদ্ধির পেছনে উৎপাদনশীলতাকেই অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
Related Question
View Allমানুষ তার শ্রম ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে প্রাকৃতিক সম্পদের যে বিনিময়যোগ্য বাড়তি উপযোগ সৃষ্টি করে তাকে উৎপাদন বলে।
উৎপাদনের উপকরণগুলোকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে চূড়ান্ত পণ্য তৈরি করাকে উৎপাদন বলে।
উৎপাদনের মাধ্যমে রূপগত, স্বত্বগত, স্থানগত, সময়গত, ঝুঁকিগত, অর্থগত ইত্যাদি উপাযোগ সৃষ্টি করা হয়। এসব উপযোগ সৃষ্টি করার মাধ্যমে উৎপাদক একদিকে যেমন তার নিজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে, অন্যদিকে বেকার জনগোষ্ঠীকে নিয়োগ দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। আবার পরোক্ষভাবে উৎপাদিত পণ্য বণ্টন, শিল্পোন্নয়ন ও সরকারের আয় বৃদ্ধিতে অবদান রাখার মাধ্যমেও উৎপাদন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'একতা কৃষক সমিতি' প্রথমে সমাগত উপযোগ সৃষ্টি করে।
কোনো দ্রব্য এক সময় হতে অন্য সময় পর্যন্ত সংরক্ষণের ফলে যে উপযোগ সৃষ্টি হয় তাকে সময়গত উপযোগ বলে। যেমন- উৎপাদিত
আলু, পিঁয়াজ, টমেটো ইত্যাদি পণ্যসামগ্রী হিমাগারে সংরক্ষণ করে সারা বছর ধরে বিক্রয় করা হয়।
উদ্দীপকে একতা কৃষক সমিতি উৎপাদন মৌসুমে পিঁয়াজের দাম কমলেও অনুৎপাদন মৌসুমে অস্বাভাবিকভাবে দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে এ বিষয়টি চিন্তা করে উৎপাদন মৌসুমে অধিক পরিমাণে পিঁয়াজ সংগ্রহ করে রাখে। অতঃপর তা আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে। এই সংরক্ষণের ব্যবস্থা সময়গত উপযোগের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত 'একতা কৃষক সমিতি' প্রথমে রূপগত উপযোগ সৃষ্টি করে।
সদস্যদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে একতা কৃষক সমিতির অবদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
কৃষকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং নিজেদের অর্থনৈতিক কল্যাণের জন্য যে সমিতি গঠন করা হয় তাকে কৃষক সমবায় সমিতি বলে। সমিতির ! মাধ্যমে কৃষকরা মধ্যস্থ ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য থেকে নিজেদেরকে। রক্ষা করতে পারবে।
| উদ্দীপকে একতা কৃষক সমবায় সমিতি উৎপাদন মৌসুমে পিঁয়াজ | সংগ্রহ কলে অনুৎপাদন মৌসুমে ন্যায্যমূল্যে ক্রেতাদের নিকট সরববাহ করে। সমিতির সদস্যরাই সমিতির যাবতীয় কার্য সম্পাদন করে। ফলে তাদের খরচ কম হওয়ায় তাদের লাভের পরিমাণও বেশি হয়। সমিতির সদস্যরাই লাভ-লোকসান সমান ভাগে ভাগ করে নেয়। এতে সমিতির সদস্যদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাদের জীবনযাত্রার মানেরও উন্নতি হচ্ছে।
উদ্দীপকের কৃষক সমিতির মাধ্যমে সমিতির সদস্যদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হচ্ছে। কারণ একটা সময় ছিল যখন পণ্য উৎপাদন থেকে শুরু বিক্রয় পর্যন্ত সমস্ত কাজে মধ্যস্থ ব্যবসায়ীদের হস্তক্ষেপ ছিল। এতে করে তাদের লাভের বড় অংশই মধ্যস্থ ব্যবসায়ীদের দিয়ে দিতে হতো। অথচ এখন সমিতির মাধ্যমেই পণ্য উৎপাদন ও বিক্রয় করছে। যা লাভ হচ্ছে তা তারা নিজেরাই ভাগ করে নিচ্ছে। এতে সমিতির সদস্যদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হচ্ছে। তাই বলা যায়, সদস্যদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে একতা কৃষক সমিতির অবদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
যে সকল বস্তুগত ও অবস্তুগত উপাদান মানুষের অভাব মেটানোর ক্ষমতা রাখে তাকে উপযোগ বলে।
উৎপাদনের উপকরণ ব্যবহার করে যে পরিমাণ দ্রব্য বা সেবা উৎপাদিত হয় তার অনুপাতকে উৎপাদনশীলতা বলে।
উৎপাদনশীলতার সাথে মুনাফার ধনাত্মক সম্পর্ক বিদ্যমান। কেননা প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পেলে প্রতিষ্ঠানের মুনাফার পরিমাণও বৃদ্ধি পায়। একটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সাধারণত শ্রমের উৎপাদনশীলতা, কাঁচামালের উৎপাদনশীলতা, যন্ত্রের উৎপাদনশীলতা ইত্যাদি নির্ণয় করে। এসকল উৎপাদনশীলতা দ্বারা স্ব-স্ব উপাদান ব্যয়ের অনুপাত নির্ণয় করা যায়। এক্ষেত্রে কোনো উপাদানের উৎপাদনশীলতা বেশি হলে তা এককপ্রতি ব্যয় হ্রাসকে নির্দেশ করে। ফলে এককপ্রতি ব্যয় হ্রাস পেলে এককপ্রতি মুনাফার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। তাই বলা যায়, উৎপাদনশীলতার ওপর প্রতিষ্ঠানের মুনাফা নির্ভরশীল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!