জাতীয় সংসদের সদস্য সংখ্যা ৩৫০।
বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার একটি বৈশিষ্ট্য হলো প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল।
বাংলাদেশের সংবিধানে ১১৭ নং অনুচ্ছেদে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা বলা হয়েছে। এটি একটি স্বতন্ত্র বিচার ব্যবস্থা, যা সুপ্রিম কোর্টের অধীনে নয়। প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা ও প্রকৃতি, ট্রাইব্যুনালের সদস্যসংখ্যা, সদস্যদের নিয়োগ পদ্ধতি ও কর্মের শর্তাবলি সংসদ আইন দ্বারা নির্ধারিত হয়।
মি. আমিন বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের সভাপতির পদে কর্মরত।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানটি দেশের প্রশাসন ব্যবস্থায় সুদক্ষ সরকারি কর্মকর্তা সংগ্রহ ও নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করে। উদ্দীপকে এ প্রতিষ্ঠানটিরই ইঙ্গিত লক্ষণীয়। মি. আমিন প্রজাতন্ত্রের বেসামরিক কর্মে যোগ্য নাগরিকদের নিয়োগের সার্বিক কাজ করে থাকেন। তার প্রতিষ্ঠানটি নিরপেক্ষভাবে সততার সাথে উপযুক্ত ও দক্ষ লোক নিয়োগ করে। আমরা জানি, বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনই এ কাজ করে থাকে। একজন সভাপতি এবং কয়েকজন সদস্য নিয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম-কমিশন গঠিত। রাষ্ট্রপতির ৫৭ নং অধ্যাদেশ বলে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের সদস্য সংখ্যা সভাপতিসহ অন্যূন ৬ জন এবং অনুর্ধ্ব ১৫ জন নির্ধারিত হয়। বর্তমানে কর্মকমিশনে একজন সভাপতি ও ১২ জন সদস্য রয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানটি স্বতন্ত্র ও স্বাধীনভাবে নিজস্ব কাজ করে। এর ওপর দেশের জনগণের আস্থা বিদ্যমান। কমিশনের সদস্যগণ চাকরি প্রার্থীর যোগ্যতা নিরপেক্ষভাবে বিচার করে সে অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করেন। এর সভাপতি ও সদস্যগণ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত। তারা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের সমান মর্যাদার অধিকারী। এ আলোচনার মাধ্যমে বোঝা যায় মি. আমিন বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের সভাপতি হিসেবে কর্মরত।
উদ্দীপক দ্বারা ইঙ্গিতকৃত প্রতিষ্ঠান তথা বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের সকল কার্যক্রম উদ্দীপকে বর্ণিত হয় নি।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন একটি বিশেষ মর্যাদা ও ক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানটি প্রজাতন্ত্রের বেসামরিক কর্মে যোগ্য নাগরিকদের নিয়োগের সার্বিক কাজ করে থাকে। এই কাজটির কথাই উদ্দীপকে বলা হয়েছে। অথচ এ কাজটি ছাড়াও বাংলাদেশ কর্মকমিশন বহুবিধ কাজ করে।
বিভন্ন প্রয়োজনীয় বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ প্রদান, আইনের দ্বারা নির্ধারিত বিভিন্ন দায়িত্বপালন, সরকারি কর্ম কমিশনের ওপর ন্যস্ত। এ কমিশন প্রতিবছর মার্চ মাসের প্রথম দিবসে বা তার পূর্ববর্তী ৩১-এ ডিসেম্বরে সমাপ্ত ১ বছরের স্বীয় কার্যাবলি সংশ্লিষ্ট একটি রিপোর্ট প্রস্তুত করে রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করে, রিপোর্টের সাথে কমিশন একটি স্মারকলিপি পেশ করে। কোনো ক্ষেত্রে কমিশনের কোনো পরামর্শ গৃহীত না হয়ে থাকলে সেক্ষেত্রে তার কারণ স্মারকলিপিতে লিপিবদ্ধ থাকে। কর্মকমিশন বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগকে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন সার্ভিস বা পদে নিয়োগের জন্য যোগ্যতা ও পদ্ধতি, পদোন্নতি এবং বদলি সংক্রান্ত বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়নের পরামর্শ প্রদান করে। ক্যাডার সার্ভিস বা কোনো পদে সরাসরি নিয়োগের জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোও কর্মকমিশন কর্তৃক পরিচালিত হয়। পরিশেষে বলা যায়, একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন প্রভূত ক্ষমতা ও মর্যাদার অধিকারী। এই ক্ষমতাবলে এ প্রতিষ্ঠানটি প্রজাতন্ত্রের সরকারি কর্মে নিয়োগসংক্রান্ত সকল কাজ করে থাকে।
Related Question
View Allনির্বাচন হলো ভোটদানের মাধ্যমে প্রতিনিধি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া।
সর্বজনীন ভোটাধিকার বলতে ধর্ম-বর্ণ, নারী-পুরুষ, ধনী-গরিব নির্বিশেষে প্রাপ্তবয়স্ক সকল নাগরিকের ভোটদানের অধিকারকে বোঝায়।
ভোটদানের অধিকার নাগরিকদের রাজনৈতিক অধিকার। রাষ্ট্রের সংবিধান এবং সরকারি বিধিবিধানের মাধ্যমে স্বীকৃত পন্থায় নাগরিকদের প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষমতাকে ভোটাধিকার বলা হয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ভোটদানের অধিকার সর্বত্র স্বীকৃত এবং সংরক্ষিত।
উদ্দীপকের উল্লিখিত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির সাথে আমার পঠিত বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের সাদৃশ্য আছে।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন একটি সাংবিধানিক সংস্থা। এ প্রতিষ্ঠানটি প্রজাতন্ত্রের বেসামরিক কাজের জন্য মেধাবী ও যোগ্য নাগরিকদের বাছাইয়ের কাজ করে। এজন্য সংস্থাটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করে। কর্মকমিশন বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগকে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন সার্ভিস বা পদে নিয়োগকৃতদের পদোন্নতি এবং বদলি সংক্রান্ত বিষয়েও নীতিমালা প্রণয়নের পরামর্শ প্রদান করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বিধান সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত আছেন। উক্ত প্রতিষ্ঠান প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগদানের জন্য যোগ্যতাসম্পন্ন, মেধাবী ও দক্ষ লোক বাছাইয়ের কাজ করে। বাংলাদেশে এরূপ কাজ করে এমন একটি প্রতিষ্ঠান হলো বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন।
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের ভূমিকার উপর রাষ্ট্রের উন্নয়ন অনেকাংশে নির্ভরশীল।
আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকার কাঠামোয় মেধাবী ও দক্ষ কর্মকতা-কর্মচারীর গুরুত্ব অপরিসীম। এজন্য বিশ্বের প্রায় সকল রাষ্ট্রে মেধার ভিত্তিতে কর্মকর্তা বাছাইয়ের প্রক্রিয়া লক্ষ করা যায়। মেধা যাচাইয়ের ভিত্তিতে যোগ্যতাসম্পন্ন লোক বাছাইয়ের জন্য একটি নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন রয়েছে। বাংলাদেশের এমন একটি প্রতিষ্ঠান হলো বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন।
বাংলাদেশ সংবিধানের ১৩৭ নং অনুচ্ছেদে সরকারি কর্মকমশিন গঠনের কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও সংবিধানে কর্মকমিশনের কার্যাবলি সম্পর্কে বিধানাবলি সন্নিবেশিত আছে। এ বিধানাবলি অনুসারে কমিশন প্রজাতন্ত্রের কাজে দক্ষ ও উপযুক্ত কর্মচারী নিয়োগের উদ্দেশ্যে প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষা, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা, ডাক্তারি পরীক্ষা, পুলিশি তদন্ত প্রভৃতি কার্যক্রম পরিচালনা করে। সততা ও নিরপেক্ষতার সাথে তারা প্রজাতন্ত্রের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বাছাই করে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেন। কর্মকমিশন যেহেতু নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেয়, তাই প্রকৃত মেধাবীরাই নিয়োগ পেয়ে থাকেন। আর সৎ, যোগ্য ও মেধাবীদের নিয়ে গড়ে ওঠা প্রশাসন সুষ্ঠু রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এর ফলে সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, সুষ্ঠুভাবে, রাষ্ট্র পরিচালনা এবং এর সার্বিক উন্নয়নে উদ্দীপকে বর্ণিত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের ভূমিকা অনেক।
বাংলাদেশের সংবিধানের অভিভাবক হলো- জাতীয় সংসদ।
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলতে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সংবিধান কর্তৃক সৃষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বোঝায়।
প্রত্যেকটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র তার কাজের গতিশীলতার জন্য কতগুলো প্রতিষ্ঠান তৈরি করে। যার ক্ষমতা ও কার্যাবলি সংবিধান অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট ও সুনিয়ন্ত্রিত। এগুলোই হলো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারে। বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন, নির্বাচন কমিশন, অ্যাটর্নি জেনারেল, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক ইত্যাদি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!