সফল উদ্যোক্তার একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো পরিমিত পরিমাণ ঝুঁকি নেওয়া।
উদ্যোগ ও ব্যবসায় উদ্যোগের মধ্যে পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো:
উদ্যোগ | ব্যবসায় উদ্যোগ |
১. যেকোনো কাজের কর্ম প্রচেষ্টাকে উদ্যোগ বলে। | ১. মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে ঝুঁকি নিয়ে অর্থ ও শ্রম বিনিয়োগ করে ব্যবসায় স্থাপনকে ব্যবসায় উদ্যোগ বলে। |
২. উদ্যোগে মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্য থাকা বাধ্যতামূলক নয়। | ২. ব্যবসায় উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য হলো মুনাফা অর্জন। |
৩. উদাহরণ: স্কুলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের আয়োজন একটি উদ্যোগ। | ৩. উদাহরণ: মুদি দোকান স্থাপন করা একটি ব্যবসায় উদ্যোগ। |
মি. আসাদ সামাজিক দায়বদ্ধতা মেনে চলেননি।
ব্যবসায়ী মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি সমাজের জন্য কিছু কল্যাণমূলক কাজ করেন। সামাজিক দায়বদ্ধতা হিসেবে ব্যবসায়ীকে ক্রেতা ও ভোক্তাদের প্রতি বিশেষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হয়। কারণ ব্যবসায়ের সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করে ক্রেতা ও ভোক্তার আস্থার ওপর।
উদ্দীপকের মি. আসাদ তার এলাকায় একটি কসমেটিকস সামগ্রীর দোকান দিলেন। তিনি তার ব্যবসায়ের শুরুতেই নিম্নমানের পণ্য বেশি মূল্যে বিক্রির মাধ্যমে প্রচুর মুনাফা অর্জন করেছেন। কিন্তু ধীরে ধীরে তিনি ক্রেতাদের আস্থা হারাতে শুরু করেন। এক্ষেত্রে তিনি পণ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রে পণ্যের মান বজায় রাখেননি। এতে ক্রেতা ও ভোক্তাদের প্রতি তার দায়িত্ব পালন করা হয়নি। কিন্তু তারা সমাজেরই অংশ। তাই বলা যায়, মি. আসাদ ক্রেতা ও ভোক্তাদের কাছে নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ করে সামাজিক দায়বদ্ধতা মেনে চলেননি।
মি. আসাদ ব্যবসায় নৈতিকতা ও যথাযথ সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনের মাধ্যমেই একজন যথার্থ ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেন বলে আমি মনে করি।
নৈতিকতা একটি ব্যবসায় সফলভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে দিক-নির্দেশনা হিসেবে কাজ করে। আর সামাজিক বিভিন্ন দায়বদ্ধতা পালনের মাধ্যমেই একজন ব্যবসায়ী সফল হয়। আবার, এর অভাবেই ব্যবসায়ী লোকসানে পড়ে।
উদ্দীপকের মি. আসাদ শুরুতেই নিম্নমানের পণ্য বেশি মূল্যে বিক্রির মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করেছেন। এটি সম্পূর্ণভাবে ব্যবসায় নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার পরিপন্থি। এজন্য ক্রেতা-ভোক্তারা তার ব্যবসায় থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। এ সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য মি. আসাদকে প্রথমেই তার পণ্যের মান উন্নত করতে হবে। প্রতিযোগীদের সাথে পণ্যমূল্যের ভারসাম্য রেখে তাকে কসমেটিকস সামগ্রী বিক্রি করতে হবে। ভোক্তারা যেন সহজেই তার পণ্যটি পেতে পারে, তার জন্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও নিতে হবে।
জনহিতকর কাজে অংশগ্রহণ তাকে সমাজের মানুষদের কাছে তার পরিচয় বাড়াতে সহায়তা করবে। এজন্য দুর্যোগে জনগণের পাশে দাঁড়ানো, পরিবেশ দূষণ থেকে রক্ষার জন্য পদক্ষেপ, পণ্যের মজুতদারি না করা প্রভৃতি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। সুতরাং, এসব কাজের মাধ্যমে তিনি সফল ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেন।
Related Question
View Allইথস শব্দের অর্থ মানব আচরণের মানদণ্ড।
পণ্যের মজুতদারি না করা সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা।
ব্যবসায় একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায় জগতে ব্যবসায়ীকে মুনাফা বাড়ানোর জন্য অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। সমাজ থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়েই ব্যবসায়ের উন্নতি ও প্রবৃদ্ধি হয়। তাই মজুতদারি না করে সমাজে সঠিকভাবে পণ্য বণ্টন করা উচিত।
উদ্দীপকে ব্যবসায় নৈতিকতার কারণে সাহিদ মানসিক প্রশান্তিতে আছে। ব্যবসায় নৈতিকতা ব্যবসায় জগতে ব্যবসায়ীর আচরণকে সঠিকপথে পরিচালিত করে। একটি ব্যবসায়ের ধারণা চিহ্নিত করা থেকে শুরু করে এটি সফলভাবে পরিচালনার সাথে অনেক কাজ জড়িত থাকে। এসব কাজ সুন্দর, সুষ্ঠু ও সঠিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নৈতিকতা দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করে।
উদ্দীপকে সাহিদ ও নাদিম দুজনই ব্যবসায়ী। সাহিদ স্বচ্ছতার সাথে ব্যবসায় করে সীমিত মুনাফা অর্জন করেন। তিনি ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ করেন না। আর নাদিম চাকচিক্যের আড়ালে ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য বিক্রি করে প্রচুর মুনাফা অর্জন করেন। কম মুনাফা অর্জন করলেও সাহিদ জানে তার ব্যবসায়ের সুনামহানি হবে না। ভালো মানের পণ্য সরবরাহের কারণে সাহিদ মানসিকভাবে অনেক সুখী। আর সৎ ভাবে ব্যবসায় পরিচালনা করায় তার কাজে নৈতিকতারই প্রতিফলন হচ্ছে।
নাদিম বর্তমানে প্রচুর মুনাফা করলেও ভবিষ্যতে এ ব্যবসায়ে টিকে থাকতে পারবে না বলে আমি মনে করি।
নৈতিকতা ব্যবসায়ের অপরিহার্য উপাদান। যেকোনো ব্যবসায়ের সাফল্য লাভে নৈতিকতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নৈতিকতা মেনে না চললে ব্যবসায়ে টিকে থাকা যায় না।
উদ্দীপকে নাদিম বর্তমানে প্রচুর মুনাফা করলেও তার ব্যবসায়ের স্থায়িত্ব কম হবে। কারণ অনৈতিকভাবে ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য ক্রেতা বা ভোক্তারা বারবার কেনে না। ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্যের মাধ্যমে মানুষ কঠিন ও জটিল রোগে আক্রান্ত হলে ঐ পণ্য মানুষ আর কিনবে না।
তাছাড়া বাইরের চাকচিক্য বজায় রেখে ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য বিক্রি করলে ক্রেতা বা ভোক্তারা একসময় তা জানতে পারবে এবং ঐ প্রতিষ্ঠানের পণ্য প্রত্যাখ্যান করবে। তাই বলা যায়, নাদিম অনৈতিকতা ও ভেজাল মিশ্রণ করে ব্যবসায় পরিচালনা করার জন্য ভবিষ্যতে তার ব্যবসায় টিকে থাকার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
কল-কারখানা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া পরিবেশের বায়ু দূষণ করে।
ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে ভালো ব্যবস্থাকে নেওয়া ও মন্দটিকে এড়িয়ে চলা হলো ব্যবসায় নৈতিকতা।
ব্যবসায়ের নীতি বা আদর্শ মেনে (করণীয় ও বর্জনীয়) ব্যবসায় পরিচালনা করা অপরিহার্য। সঠিক মাপে পণ্য দেওয়া, ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করা, ক্রেতাদের সাথে উত্তম আচরণ করা প্রভৃতি ব্যবসায় নৈতিকতার আওতায় পড়ে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
