শিল্পে উৎপাদিত সামগ্রী প্রকৃত ভোগকারীর নিকট বণ্টনসংশ্লিষ্ট কাজকেই বাণিজ্য বলে।
মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে গ্রাহকদের প্রয়োজন পূরণে সমর্থ কোনো কাজ, সুবিধা বা তৃপ্তি প্রদানকে প্রত্যক্ষ সেবা বলে।
অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে স্বাধীন পেশায় নিয়োজিত ডাক্তার, উকিল, প্রকৌশলী প্রভৃতি পেশাজীবিগণ প্রত্যক্ষভাবে সেবাকর্ম বিক্রয় করেন। এদের কাজকে সাধারণভাবে ব্যবসায়ের আওতাধীন মনে করা হলেও প্রকৃত অর্থে তা পেশা বা বৃত্তি হিসেবে গণ্য হয়। অর্থাৎ ব্যবসায় কার্যক্রমের মাধ্যমে সেবাদান করে এবং মুনাফা অর্জন করা হলো প্রত্যক্ষ সেবা।
মি. করিম চাল বস্তায় ভরার পূর্বে ব্যবসায়ের পর্যায়িতকরণ কার্য সম্পাদন করেন।
পূর্ব নির্ধারিত মান অনুযায়ী পণ্যকে বিভাজন করার কাজকে পর্যায়িতকরণ বলা হয়।
উদ্দীপকে মি. করিম গাজীপুরের একজন চাল ব্যবসায়ী। তিনি মায়ানমার থেকে চাল আমদানি করে বাছাই করেন এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে বস্তাবন্দী করেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে মি. করিম চাল বস্তায় ভরার পূর্বে ব্যবসায়ের পর্যায়িতকরণ কার্য সম্পাদন করেন।
মূল্য হ্রাসের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে চাল বাজারজাতকরণের মাধ্যমে পুনঃরপ্তানি বাণিজ্যের কাজটি সম্পাদন করেছেন।
বিদেশ থেকে পণ্যসামগ্রী আমদানি করে তা পুনরায় অন্যদেশে রপ্তানি করা হলে তাকে পুনঃরপ্তানি বলে।
মি. করিম মায়ানমার থেকে চাল আমদানি করে বস্তায় ভরে নিজস্ব গুদামে সংরক্ষণ করেন। কিন্তু বাজারে চালের দাম কমে যাওয়ায় তিনি গুদামের চাল প্যাকেটজাত করে মধ্যপ্রাচ্যে বাজারজাত করেন। অনেক সময় আমদানিকারক তার দেশের লেভেল লাগিয়ে আরেক দেশে পণ্য পুনঃরপ্তানি করে। উদ্দীপকে করিম গুদামের চালকে নিজ দেশের লেভেল সমৃদ্ধ প্যাকেটজাত করে মধ্যপ্রাচ্যে বাজারজাত করেন।
সুতরাং বলা যায়, মূল্যহ্রাসের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে চাল বাজারজাতকরণের মাধ্যমে মি. করিম পুনঃরপ্তানি বাণিজ্যের কাজটি সম্পাদন করেন।
Related Question
View Allমুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে পরিচালিত বিভিন্ন ধরনের উৎপাদন ও বন্টন সহ সকল, ঝুঁকিবহুল, ধারাবাহিক এবং বৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ব্যবসা বলে।
মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পেশাজীবী গ্রাহকদের প্রয়োজন পূরণের সামর্থ্য কোন কাজ বা সুবিধা প্রদানকে প্রত্যক্ষ সেবা বলে।
সামাজিক ব্যবসায় হল নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস প্রবর্তিত একশ্রেণীর অর্থনৈতিক প্রকল্প যার মূল লক্ষ্য মুনাফার পরিবর্তে মানবকল্যাণ। যে কোন সাধারণ ব্যাবসায় প্রতিষ্ঠানের মতোই এই সকল প্রকল্প পরিচালিত হয় ; কেবল লক্ষ্য থাকে মানুষের কল্যাণ—বিশেষ করে দারিদ্র ও আয়বৈষম্য দূর করা। মুহাম্মদ ইউনূস ১৯৭০ দশক থেকে শুরু করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যাংকিং, টেলিকম, সৌরশক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি, টেক্সটাইল, তাঁত, বিপণন প্রভৃতি খাতে অনেকগুলো কোম্পানী স্থাপন করেছেন যেগুলোর মৌলিক উদ্দেশ্য মুনাফা ম্যাক্সিমাইজ করা নয় ; অন্যদিকে এগুলোর কোনটিই ব্যক্তিগত মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত হয় নি। এই উদ্যোগগুলো কার্যত সামাজিক সমস্যা সমাধানের জন্য স্থাপিত ব্যবসায়িক প্রকল্প। এ ধরনের ব্যবসায়িক পুজিঁলগ্নির কথা ঐতিহ্যগত অর্থশাস্ত্রে নেই। এই পরিপ্রেক্ষিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দের শেষভাগে "সামাজিক ব্যবসায়" ধারনাটি প্রবর্তন করেন।সামাজিক ব্যবসায়ের সঙ্গে সনাতন ব্যবসায়ের পার্থক্য কেবল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের মধ্যে: সনাতন ব্যবসায় মুনাফামুখী এবং সামাজিক ব্যবসায় কোম্পানি মুনাফা করবে নিশ্চয়ই, কিন্তু মালিক মুনাফা নেবে না, মালিক কেবল মূলধন ফেরত নিতে পারবে।
যে ব্যবসায় গঠন করতে উদ্যোক্তা বা বিনিয়োগকারী মূলধন সরবরাহ করেন কিন্তু তার প্রধান উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন নয় বরং সমাজের কল্যাণ সাধন করা তাকে সামাজিক ব্যবসায় বলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!