সম্পদের স্বল্পতার প্রেক্ষিতে অর্থনীতিতে নির্বাচন বলতে অনেক অভাবের মধ্য থেকে সর্বাধিক প্রয়োজনীয় অভাবগুলো বাছাই করার পন্থাকে বোঝায়।
উৎপাদন সম্ভাবনা রেখার উপরে অবস্থিত বিন্দুগুলো অধিক কাম্য বিন্দু। আর এ রেখার বাইরে বর্তমান প্রযুক্তিতে উৎপাদন করা সম্ভব নয় বলে উৎপাদন সম্ভাবনা রেখাকে সীমান্ত রেখা বলা হয়।
সীমিত সম্পদ এবং অসীম অভাবের কারণে সৃষ্টি হয় অভাবের নির্বাচনজনিত সমস্যা। অর্থনীতির এ সমস্যাটি উৎপাদন সম্ভাবনা রেখার সাহায্যে দেখানো হয়। এ রেখার ভেতরের বিন্দুতে সম্পদের অদক্ষ ব্যবহার নির্দেশ করে। অর্থাৎ ভেতরের বিন্দুতে সম্পদের পূর্ণ ব্যবহার হয় না। উৎপাদন সম্ভাবনা রেখার বাইরের বিন্দুতে অ-অর্জনযোগ্য অঞ্চল অবস্থিত। অন্যদিকে উৎপাদন সম্ভাবনা রেখার উপরের বিন্দুতে সম্পদের দক্ষ ব্যবহার নির্দেশ করে। উক্ত বিন্দুগুলোতে সম্পদের পূর্ণ ব্যবহার হয়। এ রেখার উপরের বিন্দুগুলোই অধিক কাম্য। সুতরাং উৎপাদন সম্ভাবনা রেখার বাইরে উৎপাদন করা সম্ভব নয় বলে এ রেখাকে সীমান্ত রেখা বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত মি. করিমের দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান।
যে র্থব্যবস্থায় সম্পদ ও উৎপাদনের সকল উপকরণ সরকার বা কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয় তাকে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। এ অর্থব্যবস্থায় ভোক্তার স্বাধীনতা, শ্রেণিবৈষম্য, ব্যক্তিগত মুনাফা অনুপস্থিত। তাছাড়া, সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় সকল সম্পদের মালিক রাষ্ট্র এবং কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার দ্বারা উৎপাদন পরিচালিত হয়। এজন্য এ ধরনের অর্থব্যবস্থায় অবাধ প্রতিযোগিতা লক্ষ করা যায় না।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, মি. করিম 'X' দেশের অধিবাসী। তার দেশের যাবতীয় সম্পদ ও উৎপাদনের উপকরণ রাষ্ট্র কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। ফলে ভোক্তাগণ দ্রব্য ভোগে অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে না। যা সমাজতান্ত্রিক অর্থ ব্যবস্থাকে নির্দেশ করে। পরিশেষে তাই বলা যায়, মি. করিমের দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়।ক্যাপ
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'X' ও 'Y' দেশের মধ্যে 'Y' দেশের অর্থব্যবস্থা বা মিশ্র অর্থব্যবস্থার সাথে বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থার মিল রয়েছে।
বাংলাদেশ একটি মিশ্র অর্থব্যবস্থার দেশ। এদেশে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগও লক্ষ করা যায়। এদেশের অর্থব্যবস্থায় অবাধ প্রতিযোগিতা বিদ্যমান থাকায় স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থা কার্যকর এবং ভোক্তাগণ তাদের পছন্দ অনুযায়ী দ্রব্য ভোগ করতে পারে।
বাংলাদেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান থাকায় অবাধ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় দাম ব্যবস্থায় পণ্যসামগ্রীর মূল্য নির্ধারিত হয়। এর ফলে এদেশে ব্যক্তি মুনাফা ও উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি পরিলক্ষিত হয়। তবে সরকার প্রয়োজনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এ দামব্যবস্থার ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, মি. করিম ও মি. হাফিজ যথাক্রমে 'X' ও 'Y' দেশের অধিবাসী। 'X' দেশে সম্পদের মালিক এককভাবে সরকার হলেও 'Y' দেশে সম্পদের সরকারি ও বেসরকারি উভয় মালিকানা বিদ্যমান। তবে, 'Y' দেশে প্রবৃদ্ধি বেশি হলেও মুদ্রাস্ফীতি, আয় ও সম্পদের অসম বন্টন, শ্রেণিবৈষম্য পরিলক্ষিত হয়।
তাই পরিশেষে বলা যায়, 'Y' দেশ তথা মি. হাফিজের দেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যগুলো বিদ্যমান থাকায় তা বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থার অনুরূপ।
Related Question
View Allমানুষের ক্রয়ক্ষমতার সাপেক্ষে বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজন মেটাতে পারে এমন ধরনের পণ্য ও সেবা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বা ইচ্ছাকে অভাব বলে।
বিদ্যমান প্রযুক্তি ও নির্দিষ্ট পরিমাণ উপকরণ দ্বারা উৎপাদিত দুটি দ্রব্যের সম্ভাব্য বিভিন্ন সংমিশ্রণ, যে রেখার বিভিন্ন বিন্দুতে নির্দেশ করা হয় তাকে উৎপাদন সম্ভাবনা রেখা (PPC) বলে।
মনে করি, একটি সমাজ তার সীমাবদ্ধ সম্পদের সাহায্যে ১ লক্ষ বই অথবা ১ কোটি কলম তৈরি করতে পারে। সমাজ ইচ্ছা করলে কলম উৎপাদন হ্রাস করে বই উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারে। আবার একই পরিমাণ সম্পদের সাহায্যে বই ও কলমের বিভিন্ন সংমিশ্রণ উৎপাদন করতে পারে। এভাবে সীমিত সম্পদের সাহায্যে দুটি দ্রব্যের বিভিন্ন সংমিশ্রণ উৎপাদন সম্ভাবনা রেখার (PPC) সাহায্যে দেখানো যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত তিনটি দেশ A, C ও B-তে যথাক্রমে ধনতান্ত্রিক, সমাজতান্ত্রিক ও মিশ্র অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে।
যে অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানসমূহ ব্যক্তিগত মালিকানায় পরিচালিত হয় তাকে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। অন্যদিকে, সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা হলো এমন এক ধরনের অর্থব্যবস্থা যেখানে সকল অর্থনৈতিক কার্যক্রম কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়। আর এই দুই অর্থব্যবস্থার সমন্বয়ে গড়ে ওঠে মিশ্র অর্থব্যবস্থা যেখানে ব্যক্তি মালিকানার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ সরকারি উদ্যোগে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, 'A' দেশে সবকিছু ব্যক্তি উদ্যোগে উৎপাদন ও বিক্রয় হয় ফলে দ্রব্যাদির দাম বেশি। অর্থাৎ সংজ্ঞানুসারে 'A' দেশে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। পক্ষান্তরে, 'C' দেশে সকল সম্পদের মালিক হলো 'কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ বা সরকার'। এখানে সরকারের অধীনে সকল পণ্যসামগ্রী উৎপাদিত হয়। তাই বলা যায়, 'C' দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। অন্যদিকে 'B' দেশে লক্ষ করা যায়, সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতেই দ্রব্যসামগ্রী উৎপাদিত হয়। প্রয়োজনীয় খাতে সরকারি হস্তক্ষেপ লক্ষণীয়। সুতরাং 'B' দেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান।
ধনতান্ত্রিক কিংবা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার তুলনায় জনগণের কল্যাণের জন্য মিশ্র অর্থব্যবস্থাই উত্তম। নিচে তা উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো-
ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় শুধু ব্যক্তি মালিকানা বিদ্যমান থাকায় উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও শ্রেণিবৈষম্য সৃষ্টি হয়। আর সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় শ্রেণিবৈষম্য না থাকলেও ভোক্তার স্বাধীনতা থাকে না এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার উদ্ভব হয়। অন্যদিকে, মিশ্র অর্থব্যবস্থায় উক্ত দুটি অর্থব্যবস্থার দোষগুলো পরিহার করে গুণগুলো গ্রহণ করা হয়। এজন্য মিশ্র অর্থব্যবস্থায় জনকল্যাণ সর্বাধিক গুরুত্ব পায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'A' দেশে সকল কিছু ব্যক্তি উদ্যোগে উৎপাদিত হওয়ায় ভোক্তাকে উচ্চ মূল্যে দ্রব্য বা সেবা ভোগ করতে হয়। অন্যদিকে উৎপাদনকারী অধিক মুনাফার উদ্দেশ্যে উৎপাদন পরিচালনা করে। এর ফলে জনকল্যাণ প্রাধান্য পায় না। এ অর্থব্যবস্থায় শ্রমিক শোষণ ও শ্রেণিবৈষম্য পরিলক্ষিত হয়। আবার, 'C' দেশে এর বিপরীত অবস্থা পরিলক্ষিত হলেও ব্যক্তি স্বাধীনতা থাকে না। অর্থাৎ, সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তি স্বার্থ বাদ দিয়ে সমাজের স্বার্থ বিবেচনা করা হয়। কিন্তু বাস্তবে তা আদৌ সম্ভব নয়। এজন্য বিশ্বে কোথাও বিশুদ্ধ সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা দেখা যায় না।
আর 'B' দেশে সম্পত্তিতে ব্যক্তিগত মালিকানার পাশাপাশি কিছু কিছু কারখানা সরকারি উদ্যোগে পরিচালিত হয়। এই অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তি উদ্যোগ স্বীকৃত বলে যেমন অবাধ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার হয়, তেমনি সরকার জনকল্যাণের জন্য প্রয়োজনবোধে দামব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এর ফলে জনকল্যাণ সর্বাধিক হয়। তাই একটি দেশের জনগণের কল্যাণের কথা বিবেচনা করে বলা যায়, 'A' ও 'C' দেশের অর্থব্যবস্থার তুলনায় 'B' দেশের অর্থব্যবস্থা তথা
উৎপাদন সম্ভাবনা রেখা হচ্ছে এমন একটি রেখা যার বিভিন্ন বিন্দুতে সীমিত সম্পদ ও চলতি প্রযুক্তি সাপেক্ষে দুটো উৎপাদিত দ্রব্যের সম্ভাবনাময় বিভিন্ন সংমিশ্রণ প্রকাশ পায়।
অভাবের তুলনায় সম্পদ সীমিত হওয়া অর্থনীতিতে সকল অভাব একসাথে পূরণ করা সম্ভব হয় না।
অসীম অভাব পূরণের জন্য মানুষের প্রয়োজনীয় সম্পদ সীমিত। সৃষ্টির আদিকাল থেকে আজ পর্যন্ত সমাজের প্রতিটি মানুষ অভাবের সাথে সংগ্রাম করে আসছে। একটি অভাব পূরণ হলে আর একটি অভাব নতুনরূপে দেখা দেয়। মানুষ এসব নতুন অভাব সম্পদের সাহায্যে পূরণ করে। কিন্তু অসীম অভাব পূরণের জন্য প্রাপ্ত সম্পদের পরিমাণ সীমিত। সীমিত এ সম্পদ দিয়ে মানুষ তার অসংখ্য অভাবের সামান্যই মেটাতে পারে। এজন্য মানুষের পক্ষে সব অভাব একসাথে পূরণ করা সম্ভবপর হয় না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!