গণতন্ত্র হলো প্রতিনিধিত্বমূলক ও পরোক্ষ গণতন্ত্র।
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বলতে এমন সংস্থা বা সংগঠনকে বোঝায়, যা কিছু সংখ্যক সাধারণ স্থান আবদ্ধ বেসরকারি লোকের সমন্বয়ে গঠিত, যারা রাজনৈতিক কার্যকলাপের মাধ্যমে আইনসভার বাইরে থেকে সরকারি নীতিমালা গ্রহণ করে ঐসব সাধারণ স্বার্থ ও লক্ষ্য অর্জনের জন্য তৎপরতা চালায়। চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা সমভাবাপন্ন এবং অভিন্ন স্বার্থের দ্বারা আবদ্ধ। বিশেষ স্বার্থযুক্ত এ গোষ্ঠীসমূহ প্রত্যক্ষ বা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকারের নীতি নির্ধারণের বিষয়টিকে প্রভাবিত করতে এবং নিজেদের অনুকূলে আনতে উদ্যোগী হয়।
উদ্দীপকের মি. 'ক' একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে আছেন।
রাজনৈতিক দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো রাষ্ট্রের নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো বাছাই করা এবং সাথে সাথে সেগুলো সমাধানের ব্যাপারে সুচিন্তিত নীতি ও কর্মপন্থার নির্দেশ দেওয়া। প্রতিটি দল নিজদলীয় মতাদর্শের ভিত্তিতে সমস্যা সমাধানের সম্ভাব্য পন্থা, পদ্ধতি ও উন্নয়নমূলক কার্য জনগণের কাছে উপস্থাপন করে। রাজনৈতিক প্রত্যেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল তার নীতি ও মতাদর্শ জনগণকে অবহিত করে দলের শক্তি বৃদ্ধিতে মনোযোগী হয় এবং জনপ্রিয়তা লাভের চেষ্টা করে। এছাড়া রাজনৈতিক দলের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো জনমত সংগঠন। জনমত গঠনে রাজনৈতিক দল প্রচারণার সকল মাধ্যমকে কাজে লাগায়। আবার নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য রাজনৈতিক দলগুলো নিজ নিজ দলের প্রার্থী মনোনয়ন করে এবং প্রার্থীর সপক্ষে ব্যাপক নির্বাচনি প্রচারকার্য চালায়। এক্ষেত্রে তারা দেশের সমস্যাসমূহ জনগণের সামনে তুলে ধরে এবং তাদের দল ক্ষমতায় গেলে কীভাবে সমাধান করবে সে বিষয়ে জনগণকে প্রতিশ্রুতি দেয়। এক্ষেত্রে জয়লাভ করে রাজনৈতিক দল সরকার গঠন করতে উদ্যোগী হয়। তাছাড়া জনগণ ও সরকারের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো সেতুবন্ধন সৃষ্টি করে। রাজনৈতিক দল জনগণের দাবি-দাওয়া ও প্রতিশ্রুতি দেওয়া সমস্যাবলির কথা সরকারকে অবহিত করে। রাজনৈতিক দলগুলো সমালোচনার দ্বারা সরকারের স্বৈরাচারিতা রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং গণতন্ত্রের স্বরূপ বজায় রাখে।
একটি সুষ্ঠু নেতৃত্বই পারে দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে”- উক্তিটি যথার্থ।
উদ্দীপকের মি. ক একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে আছেন। নেতৃত্বের মাধ্যমেই তিনি জনগণের সেবা করেন এবং জনগণও তার নেতৃত্বে সন্তুষ্ট। স্থানীয় পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত তিনি এক ধরনের নেতৃত্ব কাঠামো তৈরি করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি জনগণের সাথে সম্পৃক্ত সব ধরনের সেবা ও প্রয়োজনীয় কার্যাবলিতে অংশ নেন।
এরকম সুষ্ঠু নেতৃত্বই মূলত দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যায়।
যেকোনো দেশের জন্য সুষ্ঠু নেতৃত্বে সুফল বয়ে আনে। দেশের নেতৃত্ব যদি সুষ্ঠু অর্থাৎ গণতন্ত্রকামী ও জনকল্যাণমুখী হয় তবে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়। আর সুশাসনে দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত হয়। অপরপক্ষে, নেতৃত্ব সুষ্ঠু না হয়ে যদি জীবিকা অর্জনের মাধ্যম, রাজনৈতিক দুর্নীতির হাতিয়ার, অসৎ অযোগ্য, অদক্ষ চাটুকার অনুযায়ী গড়ে তোলার মাধ্যম এবং চাটুকারিতা, আত্মীয়তা, আঞ্চলিকতা, আনুগত্যতা প্রভৃতি যদি হয় নেতৃত্ব নির্বাচনের মাপকাঠি তবে যে রাষ্ট্রে কখনো উন্নয়ন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে না। অথচ সুষ্ঠু, দক্ষ এবং বৈধ নেতৃত্ব সহনশীলতা, সমঝোতা ও গণতান্ত্রিক পথ বেছে নেয়, ফলে রাষ্ট্র তার বিদ্যমান সমস্যাসমূহ সহজেই কাটিয়ে উঠতে পারে এবং রাষ্ট্র সুশাসনের দিকে ধাবিত হয়। এ ধরনের নেতৃত্ব দেশপ্রেমকে অগ্রাধিকার দেয় বলে নেতৃত্বের পরিবর্তন ঘটলেও রাষ্ট্রের উন্নতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। তথ্যের অবাধ প্রবাহ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, বিকেন্দ্রীকরণ, মানবাধিকার রক্ষা প্রভৃতি সুশাসন প্রতিষ্ঠার শর্তগুলো নেতৃত্বের সদিচ্ছার মাধ্যমেই পূরণ হতে পারে। আর সুশাসনের মাধ্যমেই দেশ উন্নতির শিখরে আরোহণ করতে পারে। অতএব উপরিউক্ত আলোচনার পর এটি স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, "একটি সুষ্ঠু নেতৃত্বই পারে দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে।"
Related Question
View AllLeadership' শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ নেতৃত্ব।
সাধারণ অর্থে নেতৃত্ব বলতে নেতার গুণাবলিকে বোঝায়। পৌরনীতিতে নেতৃত্ব বলতে বোঝানো হয় কোনো ব্যক্তি বা দলের নেতা কতখানি গুণের অধিকারী এবং তা অন্যকে কতটুকু প্রভাবিত করতে পারে তাকে। সমাজবিজ্ঞানী কিম্বল ইয়ং-এর মতে, “নেতৃত্ব হলো এক ধরনের আধিপত্য যাতে অনুসারীরা তাকে সানন্দে মেনে চলে।” অর্থাৎ এটি এমন এক কৌশল, যা তার অনুসারীদেরকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে তাদেরকে উদ্দীপ্ত করে।
উদ্দীপকে বর্ণিত সংগঠনটির সাথে রাজনৈতিক দলের ভূমিকার সাদৃশ্য রয়েছে।
গণতন্ত্র হলো প্রতিনিধিত্বমূলক ও পরোক্ষ ব্যবস্থা। বর্তমানকালের বিশাল জনসংখ্যা বিশিষ্ট জাতীয় রাষ্ট্রের নাগরিকদের পক্ষে প্রত্যক্ষভাবে শাসনকার্যে অংশ নেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এজন্য গড়ে উঠেছে প্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থা। এরূপ ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্রের পরোক্ষভাবে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে থাকে। এজন্য পরোক্ষ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারকে 'দলীয় সরকার' বলা হয়। রাজনৈতিক দলের মূলভিত্তিই হলো প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র। 'আর রাজনৈতিক দল বলতে এমন এক জনসমষ্টিকে বোঝায় যারা রাষ্ট্রীয় সমস্যা সমাধানের পন্থা জনসম্মুখে = প্রচারের মাধ্যমে জনসমর্থন লাভের চেষ্টা করে। জনসমর্থন পেলে - নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা দখল করে এবং সরকার গঠন করে = থাকে। এর বিশেষ দিক হলো-
১. জনগণকে সংঘবদ্ধ করবে একটি আদর্শের ভিত্তিতে
২. তাদের আদর্শ ও নীতি প্রচার করে সমর্থন আদায় করবে;
৩. বৈধ উপায়ে ক্ষমতা দখল করার চেষ্টা করে;
৪. সরকার গঠন করলে দলীয় নীতি ও আদর্শ বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবে;
৫. জনকল্যাণে কাজ করবে;
৬. সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে।
এখানে রাজনৈতিক দলের মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, ক্ষমতা লাভই এর মূল উদ্দেশ্য। রাজনৈতিক দলের অনেকগুলো উদ্দেশ্যের মধ্যে ক্ষমতা লাভ অন্যতম একটি উদ্দেশ্য।
প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলসমূহ তাদের আদর্শ ও নীতিমালা প্রচারের মাধ্যমে জনসমর্থন লাভের চেষ্টা করে থাকে। জনসমর্থন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো সরকার গঠন করে বা করার চেষ্টা করে। জোসেফ সুম্পিটার বলেন, "রাজনৈতিক দল হলো একটি গোষ্ঠী যার সদস্যরা রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের জন্য প্রতিযোগিতামূলক সংগ্রামে একযোগে কাজ করে যেতে সম্মত হয়।" আবার অধ্যাপক গ্যাটেল রলেন যে, "রাজনৈতিক দল কমবেশি সংগঠিত নাগরিকদের গোষ্ঠী, যারা রাজনৈতিক একক হিসেবে কাজ করে এবং যারা তাদের ভোটদান ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করতে এবং সাধারণ নীতিমালা কার্যকর করতে চেষ্টা করে।" অন্যদিকে, ম্যাকাইভার মনে করেন যে, রাজনৈতিক দল দলীয় আদর্শের ভিত্তিতে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকার গঠনের চেষ্টা করে থাকে।
অর্থাৎ আমরা দেখতে পাই যে, রাজনৈতিক দলের সকল কার্যক্রমের মূলভিত্তি হলো জনসমর্থন লাভের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়া।
নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা গ্রহণ করতে রাজনৈতিক দল সকল কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। আর সরকার গঠন করার মতো পর্যাপ্ত জনসমর্থন না পেলে বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় এবং সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করতে থাকে। ক্ষমতা লাভ করার জন্যই রাজনৈতিক দলের সকল কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
"রাজনৈতিক দল আদর্শের প্রচারক হিসেবে কাজ করবে” কথাটি বলেছেন অধ্যাপক ম্যাকাইভার।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা মূলত দলীয় শাসনব্যবস্থা। এরূপ ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলো জনসমর্থন আদায়ের মাধ্যমে সরকার গঠন করে। গণতন্ত্রে দলীয় সরকার দেশ পরিচালনা করে। দল ব্যবস্থা ছাড়া গণতন্ত্র অর্থহীন। এজন্য রাজনৈতিক দলকে গণতন্ত্রের প্রাণ বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!