জাতীয়তা হলো একটি মানসিক চেতনাবোধ। জাতীয়তা বলতে সেই জনসমষ্টিকে নির্দেশ করে যারা একই বংশ, ভৌগলিক অবস্থান, ভাষা, সাহিত্য, আদর্শ, ঐতিহ্য, আচার ও রীতিনীতি দ্বারা ঐক্যবদ্ধ ।
যেসব ঐক্যসূত্র একটি সমাজের মধ্যে একাত্মবোধের সৃষ্টি করে সেগুলোকেই সাধারণভাবে জাতীয়তার উপাদান বলা হয়। এ জাতীয়তার প্রথম ও প্রধান উপাদান হলো ভৌগলিক ঐক্য। জাতি গঠন করতে হলে একটি জনসমষ্টিকে কোনো নির্দিষ্ট ও সংলগ্ন ভূখণ্ডে বসবাস করতে হয়। জাতীয়তার অন্যান্য বৈশিষ্ট্য থাকলেও ভৌগলিক ঐক্য যদি না থাকে তাহলে ঐ জনসমষ্টি জাতি বলে পরিগণিত হবে না। তবে শুধু ভৌগলিক ঐক্য থাকলেও জাতি গঠিত হবে না। এক্ষেত্রে জাতীয়তার যাবতীয় উপাদান থাকতে হবে। তবে এ উপাদানগুলোর মধ্যে ভৌগলিক অবস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
মি. 'খ'-এর দেশের মানুষের অনুভূতি সৃষ্টিতে জাতীয়তার ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐক্য বিশেষভাবে কাজ করেছে। কেননা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে ভাবের আদান-প্রদান হয়। আর এ ভাবের আদান-প্রদানের মাধ্যমে একটি জাতির প্রত্যেকে প্রত্যেকের সম্পর্কে জানতে পারে এবং তাদের মধ্যে এক ধরনের জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা পায়। মানুষের ভাব প্রকাশের প্রধান বাহন হলো ভাষা। যখন কোনো জনসমাজের অন্তর্গত প্রায় সব লোক একই ভাষায় কথা বলে এবং একই সাহিত্য তাদেরকে সমভাবে আকৃষ্ট ও অনুপ্রাণিত করে তখন তাদের মধ্যে জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে। একই ইংরেজি ভাষায় কথা বলা সত্ত্বেও ইংরেজ, আমেরিকান, অস্ট্রেলিয়ান ও নিউজিল্যান্ডের জনগণ এক জাতিতে পরিণত হয়নি। সউদি আরব, সুদান, মরক্কো, মিসর, কুয়েত ও অন্যান্য আরব রাষ্ট্রের ভাষা আরবি হলেও তারা এক জাতিতে পরিণত হয়নি। ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবোধ আরবি ভাষাভাষি দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারেনি। তবে বিভিন্ন ভাষাভাষি জনগণের মধ্যে যে জাতীয়তাবোধ গড়ে ওঠে সে জাতীয়তাবোধ অপেক্ষা একই ভাষাভাষী জনগণের জাতীয়তাবোধ অনেক বেশি মজবুত ও ফলপ্রসূ। যার কারণে মি. 'খ' এর দেশের মানুষের অনুভূতি সৃষ্টিতে জাতীয়তা এদিকটি বিশেষভাবে কাজ করেছে
মি 'খ' মি. ক-এর ধারণাকে এ কারণে সঠিক হিসেবে মেনে নিয়েছেন যে, মি. 'ক'-এর বক্তব্য হলো ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান সৃষ্টি হয় কিন্তু পাকিস্তানের মধ্যে ছিল দুটি ভাষাভাষীর লোক এবং তাদের মধ্যে ভৌগোলিক দূরত্ব ছিল। এক্ষেত্রে মি 'ক'-এর বক্তব্য হলো ভাষা বিভক্তির পথ তৈরি করে। বাস্তবিক পক্ষে জাতীয়তার ক্ষেত্রে ভৌগোলিক ঐক্য এবং ভাষার ঐক্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু এক্ষেত্রে মি. 'খ' মি. 'ক'-এর বক্তব্যকে এ কারণে মেনে নেয় যে, 'খ'-এর অঞ্চলের অধিকাংশ জনগণের ভাষা এক ছিল বিধায় এ অঞ্চলের জনগণের মধ্যে মজবুত ভাবের আদান-প্রদান ঘটত এবং জাতীয় ঐক্য ছিল শক্তিশালী। এছাড়া খ এর অঞ্চলের নিজের ভাষার অস্তিত্বকে ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর থাকার কারণে তাদের মাঝে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে জাতীয়তাবোধ ব্যাপকভাবে জাগ্রত হয়, যা তাদেরকে অন্য ভাষায় শাসকদের হাত থেকে জয়লাভে সহায়তা করে এবং ভিন্ন জাতীয়তাবোধে বিশ্বাসীদেরকে পরাজিত করে। কিন্তু মি. 'ক'-এর দেশের জনগণের একই ভাষা হওয়ার কারণে তারা আজও বিভক্ত হয়নি। আর এ কারণেই মি. 'খ', মি. 'ক'-এর ধারণাকে সঠিক বলে মেনে নিলেন
Related Question
View AllNationality' শব্দের অর্থ জাতীয়তা।
জাতীয়তাবাদ একটি মহান আদর্শ, যা মূলত এক প্রকার মানসিক অনুভূতি। বিভিন্ন উপাদান থেকে এর উৎপত্তি। কিন্তু এ জাতীয়তাবাদ যদি এমন হয় যে, তা অন্য জাতিকে ঘৃণা করতে শেখায়, নিজেকে শ্রেষ্ঠ ভাবতে শেখায় এবং অন্যকে নিজের অধীন রাখার মতো হীনমানসিকতাকে জাগিয়ে তোলে, তবে তা হবে উগ্র জাতীয়তাবাদ। এটি একটি বিবৃত মানসিকতা যা ব্যক্তিকে অন্ধ দেশপ্রেমে প্রলুব্ধ করে। জার্মানির হিটলার, ইতালির মুসোলিনী এরূপ জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী ছিল, যার ফলাফল প্রলয়ঙ্করী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।
বাঙালি জাতীয়তাবাদ একটি ঐতিহাসিক বিষয়। এর বিকাশ ঘটেছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে ভিত্তি করে, যা প্রধান শিক্ষক উদ্দীপকে উল্লেখ করেছেন। বাঙালি জাতীয়তাবাদের উদ্ভব ও বিকাশের পর্যায়ে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এক মাইলফলক। বাঙালি দামাল ছেলেরা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে নিজেদের বুকের তাজা রক্ত দিয়ে এক ইতিহাস রচনা করে। এ ভিত্তিতেই রচিত হয় বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশ। ৫২'র ভাষা আন্দোলন ছিল স্বাধিকার আদায়ের প্রথম ধাপ। এ আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে ৫৪'র নির্বাচন, ৬২'র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬'র ছয় দফা, ৬৯'র গণঅভুত্থান, ৭০'র নির্বাচন এবং ৭১'র স্বাধীনতা অর্জিত হয়। এ দীর্ঘ পথপরিক্রমায় বাঙালির ভাষাভিত্তিক জাতীয়তার ভিত্তি সুদৃঢ় হয়েছে। বাঙালি জাতি এক ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত হয়। স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং বিজয় অর্জনে এটি আমাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
জাতীয়তা একটি বহুমাত্রিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন প্রত্যয়। এটি গড়ে ওঠার পেছনে অনেকগুলো factor কাজ করে থাকে। উদ্দীপকে প্রধান অতিথি যে কথাটি বলেছেন, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কেননা শুধু ভাষাগত মিল একটি জাতীয়তা নির্মাণের একমাত্র ভিত্তি হতে পারে না। যেমন- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা প্রভৃতি দেশের ভাষা ইংরেজি হলেও তারা প্রত্যেকে আলাদা আলাদা জাতি। বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের লোকজনের ভাষা এক হওয়া সত্ত্বেও এরা আলাদা দুটি জাতি। আবার ভারত বহু ভাষাভাষীর জনগোষ্ঠীর দেশ হলেও তাদের জাতীয়তা এক। এভাবে ভাষাগত সাদৃশ্য বা বৈসাদৃশ্য একরূপ জাতীয়তা সৃষ্টি বা আলাদা করতে ভূমিকা পালন নাও করতে পারে। জাতীয়তা নির্মাণের পথ অত্যন্ত জটিল ধারায় আবর্তিত হয়।
জাতীয়তা নির্ধারণের অন্যান্য যেসব উপাদান রয়েছে তার মধ্যে প্রধান হলো একই ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ধর্ম, সাহিত্য, ভৌগোলিক ঐক্য, মনস্তাত্ত্বিক ঐক্য, রাজনৈতিক ঐক্য, অর্থনৈতিক অভিন্ন উদ্দেশ্য ইত্যাদি। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে, বিভিন্ন ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতির লোক জড়ো হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন বসবাস করছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক ঐক্য তাদেরকে একই সূত্রের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে এবং শক্তিশালী জাতীয়তা নির্মাণে সহায়তা করেছে। তাদের সবার জাতীয়তা নির্ধারিত হয়েছে মার্কিনী। এরূপ কালের পরিক্রমায় দীর্ঘ পরিসরে মানুষের জীবনধারার প্রেক্ষিতে একটি জাতীয়তা গড়ে উঠেছে।
অনুরূপভাবে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বসবাসকারী মানুষের মধ্যেও ইতিহাসের বিবর্তন ধারায় গড়ে উঠেছে জাতীয় চেতনা। এ চেতনা থেকেই সৃষ্টি হয়েছে জাতীয়তাবোধ। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেই এরূপ লক্ষ করা যায়। Activate
১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা লাভ করে।
জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ জনসমষ্টির রাষ্ট্রগুলোকে জাতি-রাষ্ট্র বলা হয়। জাতীয়তার উপাদানগুলোর মাধ্যমে সংগঠিত ও স্বাধীন হয়ে এরূপ রাষ্ট্র গঠিত হয়। জাতিরাষ্ট্র ধারণার প্রবক্তা ম্যাকিয়েভেলি। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ইত্যাদি জাতি-রাষ্ট্র।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!