যে স্থানে জাহাজগুলো নিরাপদে আশ্রয় নিতে পারে যে স্থানকে পোতাশ্রয় বলে।
বন্দরের মাধ্যমে যে অঞ্চলের পণ্যদ্রব্য রপ্তানি ও প্রয়োজনীয় পণ্যদ্রব্য আমদানি করা হয় তাকে ঐ বন্দরের পশ্চাদভূমি বলে।
পশ্চাদভূমি কোনো পণ্যের স্থানীয় চাহিদা মিটাতে সক্ষম হলে তাকে উদ্বৃত্ত অঞ্চল বলে। এতে করে রপ্তানি আর ঘাটতি অঞ্চল হলে আমদানি বাণিজ্য (যেমন, বাংলাদেশের খাদ্যশস্য) বৃদ্ধি পায়। স্বাভাবিকভাবেই পশ্চাদভূমি যদি অর্থনৈতিক দিক থেকে সমৃদ্ধ হয় তাহলে বন্দরের উন্নতি হয়। সুতরাং বন্দর গড়ে ওঠার ওঠার পিছনে পশ্চাদভূমির ভূমিকা অপরিসীম। যেমন- বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নতি মূলত পশ্চাদভূমির কারণেই হয়েছে। কারণ এসব বন্দরের সন্নিকটে বিশাল পশ্চাদভূমি রয়েছে।
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত মাধ্যমটি হলো জাহাজ যা সমুদ্রপথে চট্টগ্রাম বন্দরে মাল নিয়ে পৌছায়। বন্দর গড়ে ওঠার জন্য অনুকূল পরিবেশ লাগে। নিচে সমুদ্রবন্দর গড়ে ওঠার অনুকূল পরিবেশ আলোচনা করা হলো :
যে স্থানে জাহাজগুলো নিরাপদে আশ্রয় নিতে পারে সে স্থানকে পোতাশ্রয় বলে। পোতাশ্রয়ের অভ্যন্তরে সমুদ্রস্রোেত, সমুদ্র ঢেউ ঝড়ঝাপটা প্রভৃতির প্রভাব মুক্ত থাকে। এ কারণে সমুদ্র উপকূল ভগ্ন থাকলে সহজে প্রোতাশ্রয় গড়ে ওঠে। চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্রবন্দরে এরূপ পোতাশ্রয় বিদ্যমান। বন্দরের গঠন ও এর উন্নতি বহুলাংশে পশ্চাদভূমির ওপর নির্ভর করে। বন্দরের মাধ্যমে যে অঞ্চলের পণ্যদ্রব্য রপ্তানি ও প্রয়োজনীয় পণ্যদ্রব্য আমদানি করা হয় তাকে ঐ বন্দরের পশ্চাদভূমি বলে। কৃষি, শিল্প, জনবহুল ও সমৃদ্ধশালী পশ্চাদভূমি বন্দর গঠনে সহায়ক। ভগ্ন তটরেখা বন্দর গঠনের পক্ষে খুবই উপযুক্ত। কারণ, ভগ্ন তটে বহু গভীর ও প্রশস্ত খাঁড়ি দেখা যায়। এরূপ অবস্থায় অধিকসংখ্যক জাহাজ এক সাথে প্রোতাশ্রয়ে অবস্থান করতে পারে।
এছাড়াও শৈলমুক্ততা, উপকূলীয় গভীরতা, জলবায়ু, সুবিস্তৃত সমভূমি, উন্নত যাতায়াত ও পরিবহন ব্যবস্থা, পানীয় জল ও জ্বালানির ব্যবস্থা সমুদ্রবন্দর গড়ে ওঠার অনুকূল পরিবেশ।
উদ্দীপকে সমুদ্রপথের কথা বলা হয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সমুদ্রপথের গুরুত্ব অত্যধিক। নিচে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যোগাযোগ মাধ্যমের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো:
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের সমুদ্রপথের গুরুত্ব অত্যধিক। বাংলাদেশের প্রধান দুইট সমুদ্রবন্দর হলো চট্টগ্রাম এবং মংলা সমুদ্রবন্দর। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই দুই বন্দরের ভূমিকা অপরিসীম। এই দু'টি বন্দরের যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর নির্ভর করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ব্যবসা বাণিজ্য সহজ হয়েছে। শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি সমুদ্রপথে বন্দরের মাধ্যমে আমদানি ও রপ্তানি করা হয়। দেশের আমদানিরপ্তানি বাণিজ্যের শতকরা ৯৭ ভাগ এ বন্দরের মাধ্যমে সমুদ্রপথে সম্পাদিত হয়। এ বন্দরের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজে বহুলোক নিয়োজিত থেকে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। এই সমুদ্রপথের বন্দরকে কেন্দ্র করে বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড় উঠেছে। বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি করার সময় খুব অল্প খরচে সমুদ্রপথের মাধ্যমে পণ্য আমদানি করা হয়। আবার বিদেশে পণ্য রপ্তানি করার সময় খুব স্বল্প খরচে এই সমুদ্রপথে বিদেশে পণ্য রপ্তানি করা হয়। দেশের প্রয়োজনে প্রায় সব ধরনের পণ্যদ্রব্য এই সমুদ্রপথে আমদানি-রপ্তানি করা হয়। এছাড়াও পৃথিবীর বড় বড় বন্দরের সাথে সমুদ্রপথে সহজেই যোগাযোগ হচ্ছে।
অতএব, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যোগাযোগ মাধ্যম সমুদ্রপথের ভূমিকা অপরিসীম। এই সমুদ্রপথে বন্দর গড়ে ওঠার কারণে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পথ সুগম হয়েছে এবং আমদানি-রপ্তানিও সহজতর হয়েছে। ফলে দেশের অর্থনৈতিক ত্বরান্বিত হচ্ছে।
Related Question
View Allবাংলাদেশের একটি নদী বন্দরের নাম হলো গোয়ালন্দ নদী বন্দর।
ভগ্ন উপকূল বন্দর স্থাপনে সহায়ক।
ভগ্ন উপকূলে বহু গভীর প্রশস্ত খাঁড়ি দেখা যায়। এরূপ অবস্থায় অধিকসংখ্যক জাহাজ এক সাথে পোতাশ্রয়ে অবস্থান করতে পারে। এছাড়া প্রাকৃতিকভাবে ভগ্ন উপকূলীয় এলাকাগুলো সামুদ্রিক ঝড়, প্রবল স্রোত প্রভৃতি দুর্যোগমুক্ত থাকে। তাই বন্দর স্থাপনের জন্য ভগ্ন উপকূল গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
উদ্দীপকে 'ক', 'খ' হলো যথাক্রমে চট্টগ্রাম ও ঢাকা যেখানে ব্যবহৃত পরিবহন মাধ্যমটি হলো সড়কপথ। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সড়কপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বাংলাদেশের যাতায়াত ও পরিবহন ব্যবস্থার প্রধান মাধ্যম হলো সড়কপথ। কৃষিকাজের জন্য অতি প্রয়োজনীয় সার, কীটনাশক, বীজ এবং উৎপাদিত পচনশীল কৃষিপণ্য, শিল্পকারখানার কাঁচামাল প্রভৃতি জরুরি ভিত্তিতে একস্থান থেকে অন্যস্থানে পরিবহনের জন্য সড়কপথ অন্যতম মাধ্যম।
উদ্দীপকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাতায়াতের জন্য উত্তম মাধ্যম হলো সড়কপথ। ঢাকা হলো বাংলাদেশের রাজধানী। আর চট্টগ্রাম হলো বাণিজ্যিক নগর। তাই এ দুই অঞ্চলের মধ্যে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ স্থাপনে সড়কপথ মুখ্য ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি পণ্য ঢাকা-চট্টগ্রাম যাতায়াতে সড়কপথের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। অগণিত কৃষি ও শিল্প পণ্য ঢাকা-চট্টগ্রাম অথবা চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পৌছানোর জন্য সড়কপথই একমাত্র গুরুতত্বপূর্ণ পথ। এছাড়া প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী এ পথে যাতায়াত করে থাকে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চাকাকে সচল রাখতে এ পথ বিভিন্নভাবে ভূমিকা পালন করে। অর্থাৎ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকে 'ক' 'খ' হলো সড়কপথ এবং 'খ'-'গ' হলো বিমানপথ। নিচে সড়কপথ ও বিমানপথের ধরন বিশ্লেষণ করা হলো।" বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করার জন্য উন্নত রাস্তা/সড়ক অপরিহার্য। তবে সব অঞ্চলে যোগাযোগের জন্য ভালো সড়কপথ নেই। ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক কারণে এক একটি অঞ্চলে সড়ক ব্যবস্থার মধ্যে কিছুটা পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। গ্রাম, উন্নয়ন, পৌরসভা, শহর, নগর প্রভৃতির অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশে জাতীয় জনপথ, জেলা বোর্ড সড়কপথ, উপজেলা সড়কপথ, ইউনিয়ন পরিষদ সড়কপথ রয়েছে।
অন্যদিকে আধুনিক যুগে বিমানে যাতায়াতের গুরুত্ব অপরিসীম।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিমান সার্ভিসে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জেলার সঙ্গে সংযোগ রয়েছে। বিমানপথ বাংলাদেশের পরিবহনব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। অভ্যন্তরীণ সার্ভিস ব্যবস্থায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, সৈয়দপুর, রাজশাহী, যশোর, বরিশাল এবং চট্টগ্রাম থেকে যশোর, কক্সবাজার, সিলেট প্রভৃতি স্থানে যাওয়া যায়।
বর্তমানে বাংলাদেশে তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে। তন্মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর। এটি রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত। এর পরেই চট্টগ্রাম শাহ আমানত এবং সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানমন্দর রয়েছে
মংলা বন্দর পশুর নদীর তীরে অবস্থিত।
কোনো একটি বন্দরে যে অঞ্চলের বহির্দ্ধায়ের কাজ করে সেই অঞ্চলকে উক্ত বন্দরের পশ্চাদভূমি বলে।
অন্যভাবে বলা যায় যেসব স্থানের রপ্তানি দ্রব্যসমূহ কোনো বন্দরের মধ্যদিয়ে বিদেশে প্রেরণ করা হয় এবং ঐসব অঞ্চলের আমদানি দ্রব্যসমূহ ঐ বন্দরের মধ্য দিয়ে বিদেশ হতে আনয়ন করা হয়। সে অঞ্চলটি হলো উক্ত বন্দরের পশ্চাদভূমি। তাই বন্দরের উন্নতি বহুলাংশে এর পশ্চাদভূমির বিস্তার ও সমৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে। পশ্চাদভূমি যত বেশি বিস্তৃত, জনবহুল, শিল্পপ্রধান ও সম্পদশালী হবে বন্দর তত বেশি অগ্রগতি লাভ করবে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!