প্রত্যাশার সাথে যুক্ত হয় এমন কোনো প্রাপ্তিকেই বোনাস বলে।
কর্মীদেরকে কাজের প্রতি উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করে স্বেচ্ছাপ্রণোদিত করার কাজকে প্রেষণা বলে।
মানবমনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি ও কাঙ্ক্ষিত আচরণ লাভ কর্মক্ষেত্রে কোন বিশেষ মূহূর্তের প্রত্যাশা নয় বরং প্রতিষ্ঠান সবসময়ই তা প্রত্যাশা করে। আর উৎসাহ সৃষ্টির প্রয়াস বন্ধ হলে তা এক পর্যায়ে নিরুৎসাহের কারণ হয়। তাই ব্যবস্থাপনার পক্ষে এটি একটি সার্বক্ষণিক প্রক্রিয়া বা কর্মপ্রচেষ্টা হিসেবে গণ্য।
উদ্দীপকে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান কর্মীদের প্রেষণা দেওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক দিকটিকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছে।
মানুষের অধিকাংশ অভাব বা চাহিদা অর্থের সাথে সম্পর্কিত। আর কর্মীদের বস্তুগত বা অর্থসংক্রান্ত চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে প্রেষণার যে কৌশল ব্যবহার করা হয়, তাকে আর্থিক প্রেষণা বলে।
উদ্দীপকে মি. তারিক একটি পোল্ট্রি ফিড মিলের মালিক। অন্যান্য প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের ৩০% বেতন বৃদ্ধি করলেও মি. তারিক তার প্রতিষ্ঠানের বেতন বাড়ালেন ২০%। অর্থাৎ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান বেতন বৃদ্ধির মাধ্যমে শ্রমিকদের যে দিকটি বেশি প্রাধান্য দিয়েছে তা হলো আর্থিক প্রেষণা। এটি মূলত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অর্থের সাথেই সম্পৃক্ত। তাই কর্মীদেরকে তাদের পরিশ্রমের জন্য উপযুক্ত পারিশ্রমিক ও বেতন দিতে হবে। কারণ আর্থিক প্রেষণার ওপর কর্মীদের কাজের প্রতি উৎসাহ-উদ্দীপনা, আগ্রহ-অনাগ্রহ ইত্যাদি নির্ভর করে। তাই বলা যায়, অন্যান্য প্রতিষ্ঠান কর্মীদের আর্থিক প্রেষণার দিকটি বেশি প্রাধান্য দিয়েছে।
উদ্দীপকে অনুকূল পরিবেশ পেলে কর্মীরা যেকোনো আর্থিক সুবিধার চেয়েও বেশি উৎসাহিত হয় এর সাথে আমি একমত।
কাজের উপযোগী মনোরম, নিরিবিলি ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ কর্মীকে কাজের প্রতি অধিক আগ্রহী করে তোলে ও তার কর্মস্পৃহা আরও বৃদ্ধি করে।
উদ্দীপকে মি. তারিক মিলের কাজের পরিবেশকে অনেক পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর করলেন। তিনি শ্রমিকদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সুবিধা, যাতায়াত সুবিধা এবং চাকরির নিরাপত্তার বিষয়ে ঘোষণা করেন এবং ২০% বেতন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন অনার্থিক সুবিধা প্রদান করেন। অন্যদিকে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ৩০% বেতন বৃদ্ধি করে কিন্তু অন্য কোনো সুযোগ- সুবিধা প্রদান করে না। ফলে দেখা গেল অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের চেয়ে মি. তারিকের প্রতিষ্ঠানে বেশি উৎপাদন হয়। সুতরাং অন্যান্য সুবিধা প্রদানের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের কার্য পরিবেশ সর্বদা উন্নত করার চেষ্টা করতে হবে যাতে কর্মীরা নির্বিঘ্নে ও স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করে যেতে পারে। এতে শ্রমিক-কর্মীরা উৎসাহিত হবে।
পরিশেষে বলা যায়, কর্মক্ষেত্রে কর্মীদের প্রেষণা দানের বিভিন্ন আর্থিক- অনার্থিক কৌশল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে প্রেষণা দানের সর্বোত্তম কৌশল বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অবশ্যই সেটি কর্মীর প্রত্যাশার সাথে সম্পর্কিত হতে পারে।
Related Question
View Allন্যূনতম বাঁচার বা জীবনধারণের প্রয়োজনকে জৈবিক চাহিদা বলে।
প্রখ্যাত মার্কিন মনোবিজ্ঞানী ফ্রেডেরিক হার্জবার্গ প্রেষণার Y তত্ত্বের প্রবক্তা।
এরূপ তত্ত্বে কর্মীদের সম্পর্কে উচ্চ ধারণা পোষণা করা হয়। এক্ষেত্রে মনে করা হয় কর্মীরা কাজ করতে পছন্দ করে এবং তারা স্বউদ্যোগেই চলতে চায়। এ কারণে কর্মীদের ওপর অহেতুক চাপ সৃষ্টি না করে তাদের স্বেচ্ছায় কাজ করতে দেওয়া হয়। এ তত্ত্ব কর্মীদের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই Y তত্ত্বকে ইতিবাচক বলা হয়।
উদ্দীপকের কর্মপরিবেশ অনার্থিক ইতিবাচক প্রেষণা।
অর্থ বা আর্থিক সুযোগ-সুবিধার বাইরে প্রেষণাদানের যে সকল উপায় রয়েছে তার মাধ্যমে প্রেষণাদানকেই অনার্থিক প্রেষণা বলে। তেমনি একটি প্রেষণা হলো সুষ্ঠু কার্যপরিবেশ। কর্মী যে পারিপার্শ্বিকতায় কাজ করে তা কর্মবান্ধব হওয়াকেই সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ হিসেবে গণ্য করা হয়। পর্যাপ্ত জায়গা, আলো-বাতাসের ব্যবস্থা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, সাজানো- গুছানো পরিবেশ, উপযুক্ত নিয়ম-রীতি, উত্তম শ্রম-ব্যবস্থাপনা সম্পর্ক সবমিলিয়েই প্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ গড়ে ওঠে। কর্মী যেখানে কাজ করে সেই স্থানের পরিবেশ উন্নত হলে তা কর্মীদের মনোবল উন্নত করে। তখন কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করে।
উদ্দীপকে M & M কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ কর্মীদের কর্মপরিবেশ বহুলাংশে বৃদ্ধি করায় শ্রমিক-কর্মীরা স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করছে। এর ফলে কর্মীদের মনোবল উন্নত হয় এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করে। তখন প্রতিষ্ঠান তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য সহজেই অর্জন করতে পারে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানের জন্য সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ একটি অনার্থিক ইতিবাচক প্রেষণা।
অর্থ ও আর্থিক সুযোগ-সুবিধার সাথে সম্পৃক্ত প্রণোদনামূলক ব্যবস্থাকে আর্থিক প্রেষণা বলে। এ আর্থিক প্রেষণা কর্মীদের কাজের গতিকে বৃদ্ধি করে।
ব্যবস্থাপনার কাজ হলো অন্যের দ্বারা কাজ সম্পাদন করিয়ে নেওয়া। কিন্তু কাজের ব্যাপারটি বিশেষভাবে কর্মীদের কার্য সন্তুষ্টির সাথে সম্পর্কিত। আর উচ্চ কার্য সন্তুষ্টি সৃষ্টি করে প্রেষণা। তন্মধ্যে আর্থিক প্রেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতি এবং কাজের প্রতি কর্মীদের অধিক আন্তরিক করে তোলে। ন্যায্য বেতন, মুনাফার অংশ, বোনাস, আর্থিক নিরাপত্তা, অগ্রিম, বাসস্থান ভাতা, যাতায়াত ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, পদোন্নতি, আর্থিক পুরস্কার, রেশন সুবিধা, কেন্টিন সহযোগিতা ইত্যাদি নানা প্রকার আর্থিক সুবিধা কর্মীদের কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি করে। ফলে কাজের গতিশীলতা বৃদ্ধি পায়।
উদ্দীপকে M & M কোম্পানি বাংলা নববর্ষ উৎসব পালনের জন্য প্রত্যেককে বোনাস প্রদানের ঘোষণা দেয়। এর ফলে শ্রমিক-কর্মীরা বিপুল উদ্দীপনা নিয়ে দায়িত্ব পালন করছে সেই সাথে কর্মীদের কাজের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ মানুষের জীবনে যে সীমাহীন অভাব লক্ষণীয় তার মুখ্য অংশের পূরণ অর্থের সাথে সংশ্লিষ্ট। কর্মীরা যখন আর্থিক প্রেষণা পায় তখন তারা আর্থিক দুশ্চিন্তামুক্ত হয়ে তাদের উৎপাদন কার্য চালিয়ে যায়। এতে কর্মীরা কাজে উৎসাহিত হয় এবং গতি বৃদ্ধি পায়।
সুতরাং 'আর্থিক প্রেষণা কর্মীদের কাজের গতিকে বৃদ্ধি করে'- কথাটি যথার্থ।
সমাজের অন্যদের থেকে বা বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন ও সহকর্মীদের থেকে নিজেকে একটু উচ্চতায় এবং উপরে উঠার আগ্রহকে আত্মতৃপ্তির চাহিদা বলে।
কর্মীদেরকে কাজের প্রতি উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করে সেচ্ছাপ্রণোদিত করার কাজকে প্রেষণা বলে।
মনোবল মানসিক শক্তি সংশ্লিষ্ট। কর্মীদের মানসিক অবস্থা যদি প্রতিষ্ঠান ও কাজের প্রতি ইতিবাচক হয় তবে কর্মীর মনোবল উত্তম বিবেচিত হয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠান কর্মীদের জন্য উত্তম প্রেষণার ব্যবস্থা করলে কর্মীদের কার্যসন্তুষ্টি বাড়ে যা তাদের মনোবল বৃদ্ধি করে। তাই প্রেষণার সাথে কর্মী মনোবলের সরাসরি সম্পর্ক বিদ্যমান।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!