ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা দেয়ার জন্য গ্রাহককে ব্যাংকের পক্ষ থেকে ছাপানো যে রসিদ সরবরাহ করা হয় তাকে জমা রসিদ বলে।
একজন চাকরিজীবীর জন্য সঞ্চয়ী হিসাব উপযুক্ত।
সঞ্চয়ের পাশাপাশি ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেনের উদ্দেশ্য নিয়ে গ্রাহক এই ধরনের হিসাব খোলেন। একজন চাকরিজীবী মাস শেষে নির্দিষ্ট বেতন পেয়ে তা ব্যাংকে জমা রাখতে পারেন। আবার প্রয়োজনে কিছু অর্থ উত্তোলন করতে পারেন। এ হিসাবে জমাকৃত অর্থের ওপর গ্রাহক সুদ পান। এর মাধ্যমে গ্রাহক চেকের অর্থ সংগ্রহ, স্থানান্তরসহ বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবা পান।
উদ্দীপকে উল্লিখিত মি. তালুকদারের পূর্বে খোলা হিসাবটি ছিল চলতি হিসাব।
যে হিসাবের মাধ্যমে ব্যাংক তার গ্রাহককে চাহিবামাত্র আমানত অর্থ উত্তোলনের সুযোগ প্রদান করে তাকে চলতি হিসাব বলে। এ হিসাবে দিনে যতবার ইচ্ছা টাকা জমা ও উত্তোলন করা যায়।
মি. তালুকদার ব্যবসায়ী হিসেবে তার হিসাব থেকে যেকোনো সময় অর্থ উত্তোলন ও জমা দেয়ার প্রয়োজন হতে পারে। তাই তিনি ব্যাংকে চলতি হিসাবই খুলেছিলেন। এ হিসাবে লেনদেনের পরিমাণের ওপর কোনো বাধ্যবাধকতা মি. তালুকদারের জন্য নেই। চলতি হিসাব খোলায় মি. তালুকদার প্রয়োজনে তার হিসাবে জমাকৃত অর্থের অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। মি. তালুকদার তার খোলা চলতি হিসাবের বিপরীতে কোনো সুদ পান না। অর্থ স্থানান্তর, চেকের অর্থসংগ্রহ, বিল পরিশোধ প্রভৃতির সাধারণ ব্যবসায়ের জন্য চলতি হিসাব সবচেয়ে উপযুক্ত। তাই, উদ্দীপকের আলোকে বলা যায়, মি. তালুকদারের পূর্বে খোলা হিসাবটি একটি চলতি হিসাব।
উদ্দীপকে মি. তালুকদারের প্রয়োজন অনুযায়ী খোলা নতুন স্থায়ী হিসাবটি মানানসই হয়েছে- আমি এ বক্তব্যটির সঙ্গে একমত।
নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যে হিসাব খোলা হয় তাই স্থায়ী হিসাব। যাদের হাতে প্রচুর অলস অর্থ রয়েছে সাধারণত তারাই স্থায়ী হিসাব খুলে থাকে। মি: তালুকদারের হাতে অধিক পরিমাণে অলস অর্থ থাকায় এ হিসাবের দ্বারা নির্দিষ্ট সময় পর পর আয় করতে পারবেন। তার বন্ধু মি. চৌধুরী তাকে বিনিয়োগ করতে বলেন। কিন্তু মি. তালুকদার বিনিয়োগ করতে চান ভেবেচিন্তে। এজন্য তিনি টাকাটা আপাতত ব্যাংক হিসাব খুলে রাখতে চাইলেন। এ হিসাবে নির্দিষ্ট মেয়াদ রয়েছে বলে মি. তালুকদার উক্ত মেয়াদ শেষে লাভসহ সম্পূর্ণ অর্থ উত্তোলন করে পরবর্তীতে লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করতে পারবেন।
স্থায়ী হিসাবের অর্থ দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করতে পারে বলে ব্যাংক গ্রাহককে উচ্চহারে সুদ প্রদান করে। আর উদ্দীপকে মি. তালুকদার যেহেতু বিনিয়োগ খাতে লাভজনকতা বিচারে আরো কিছু সময় নেবেন এবং এ মধ্যবর্তী সময়ে তিনি যেহেতু কিছু আয়ও চান তাই তার জন্য স্থায়ী হিসাবই উপযোগী। এসব আলোচনা সাপেক্ষে বলা যায়, মি. তালুকদারের প্রয়োজন উক্ত হিসাবের মাধ্যমে পূরণ হবে। ফলে হিসাবটি তার জন্য মানানসই হয়েছে।
Related Question
View Allঋণ দেওয়ার সময় ব্যাংক ঋণগ্রহীতার নামে যে হিসাব খুলে মঞ্জুরকৃত ঋণের অর্থ প্রদান করে তাকে ঋণ আমানতী হিসাব বলে।
নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যাংক হিসাবে গোপনীয়তা রক্ষা করার প্রয়োজন হয়।
ব্যাংকে হিসাব খোলার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বা গোপনীয়তার বিষয়টি প্রত্যেক গ্রাহকই বিবেচনা করে থাকেন। কারণ, প্রত্যেক আমানতকারীই চান তার হিসাবের গোপনীয়তা বজায় থাকুক। আমানতকারী ব্যাংককে গোপনীয়তা রক্ষার উৎস হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন। এজন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষও গ্রাহকের হিসাব সংক্রান্ত' যাবতীয় তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়। তাই ব্যাংক হিসাবে গোপনীয়তা রক্ষা করা প্রয়োজন।
উদ্দীপকে সুমনের জন্য সঞ্চয়ী হিসাব খোলা উপযোগী।
ব্যাংকিং লেনদেনের পাশাপাশি সঞ্চয়ের উদ্দেশ্যে এ হিসাব খোলা হয়। এ হিসাবে যতবার খুশি অর্থ জমা দেওয়া যায়। তবে সপ্তাহে দু'বার বা নিয়ম মেনে অর্থ উত্তোলন করতে হয়। সাধারণত ছাত্র বা নির্দিষ্ট আয়ের লোকদের জন্য এ হিসাব উপযোগী।
উদ্দীপকে সুমন অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। সে ঢাকার হোস্টেলে থেকে পড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য সে বাবার সাথে ব্যাংক যায়। 'এখানে সুমন ছাত্র হিসেবে পরিবার থেকে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পাবে। যা থেকে তাকে নিয়মিত কিছু খরচ সম্পাদন করতে হবে। এক্ষেত্রে সে ব্যাংকের এটিএম বা অন্যান্য অনলাইন সেবা গ্রহণ করতে পারবে। অব্যবহৃত অর্থ ব্যাংকে জমা রেখে সঞ্চয় সৃষ্টি করতে পারবে। আর এ সকল সুবিধা কেবলই সঞ্চয়ী হিসাবে বিদ্যমান। তাই জনাব সুমনের জন্য সঞ্চয়ী হিসাব খোলা উপযোগী।
উদ্দীপকে উল্লিখিত সুমনকে প্রদত্ত ফর্মটি হলো KYC ফর্ম।
এ ফর্মের মাধ্যমে ব্যাংক গ্রাহক সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে। জালিয়াতি ও অবৈধ লেনদেন রোধে ব্যাংক বাধ্যতামূলকভাবে গ্রাহকের কাছ থেকে এ ফর্ম পূরণ করিয়ে নেয়। এ ফর্মে মূলত গ্রাহকের নাম, পেশা, ঠিকানা, কাজের ধরন, লেনদেনের ধরন ও অন্যান্য তথ্য থাকে। উদ্দীপকে সুমন ঢাকার হোস্টেলে থেকে পড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য সে বাবার সাথে ব্যাংকে যায়। ব্যাংক ম্যানেজার তাকে হিসাব খোলার মূল আবেদন ফর্ম সরবরাহ করেন। তবে সাথে একটি কার্ড ও অপর একটি ফর্ম পূরণ করতে বলেন যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে গুরুত্বপূর্ণ ফর্মটি, হলো KYC ফর্ম।
উদ্দীপকে KYC ফর্মের মাধ্যমে ব্যাংক সুমনের মতো গ্রাহকদের সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে পারে। ব্যাংক সহজেই গ্রাহকের পরিচয় শনাক্ত ও বিশ্লেষণ করতে পারে। ব্যাংকের পরিচিত অন্য গ্রাহকের মাধ্যমে উক্ত গ্রাহকের পরিচয়ের সত্যতা প্রমাণ করা যায়। গ্রাহক মুদ্রা পাচার বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কাজের সাথে যুক্ত আছে কিনা তা জানতে পারে। সর্বোপরি সকল প্রকার ভূয়া গ্রাহক চিহ্নিতকরণ ও অবৈধ লেনদেন বন্ধ করতে পারবে। তাই বলা যায়, উল্লিখিত কারণেই সুমনকে প্রদত্ত KYC ফর্মটি গুরুত্বপূর্ণ।
যে ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বিশেষায়িত ব্যাংকের কাজসমূহ একত্রে পালন করে তাকে মিশ্র ব্যাংকিং বলে।
যে হিসাবের মাধ্যমে আমানতকারী সঞ্চয়ী হিসাবের ও বিমার সুবিধা ভোগ করে তাকে বিমা সঞ্চয়ী হিসাব বলে।
এ হিসাবের বিপরীতে সঞ্চয়ী হিসাবের সব সুবিধা পাওয়া যায়। এ হিসাবের বিপরীতে ব্যাংক চুক্তির শর্ত অনুযায়ী আমানতকারীকে বিমার সুবিধাও প্রদান করে। তবে হিসাবগ্রহীতাকে সবসময় নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ তার হিসাবে জমা রাখতে হয়। বিমা সুবিধা প্রদান করা ব্যাংকের 'আয়ের অন্যতম উৎস।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!