উৎপাদন মাত্রা বলতে একটা প্রতিষ্ঠান তার সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনায় কতটা পণ্য বা সেবা উৎপাদন করবে তার মাত্রাকে বোঝায়।
কাম্যমাত্রার উৎপাদন একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য লাভজনক।
কাম্যমাত্রার উৎপাদন হলো প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন অবস্থার এমন একটা পর্যায় যেখানে গড় ব্যয় সর্বনিম্ন হয়। এক্ষেত্রে উৎপাদনের গড় ব্যয় সর্বনিম্ন হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদনের অন্যান্য উপকরণের যথাযথ ব্যবহারও নিশ্চিত হয়। কাম্যমাত্রার উৎপাদনে এককপ্রতি ব্যয় কম হয়। ফলে এককপ্রতি মুনাফা বেশি হয় এবং সামগ্রিক মুনাফা বৃদ্ধি পায়। তাই বলা যায়, কাম্যমাত্রার উৎপাদনকার্য পরিচালনা প্রতিষ্ঠানের জন্য লাভজনক।
উদ্দীপকে মি. বিপ্লব প্রথমে যে ব্যবসায় গড়ে তোলেন সেটি ক্ষুদ্র এন্টারপ্রাইজের অন্তর্ভুক্ত (২০১০ সালের শিল্পনীতি অনুযায়ী)।
উৎপাদনকারী শিল্পের বেলায় কোনো শিল্পের ভূমি ও কারখানা দালান বাদে স্থায়ী সম্পত্তির মূল্য ন্যূনপক্ষে ৫০ লাখ থেকে ১০ কোটি টাকা অথবা শ্রমিকের সংখ্যা ২৫ থেকে ৯৯ জনের মধ্যে সীমিত হলে তাকে ক্ষুদ্র এন্টারপ্রাইজ বলে।
উদ্দীপকের মি. বিপ্লব ৬৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে ৫০ জন কর্মী নিয়ে নরসিংদীতে 'বুটিক হাউজ' নামে একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। এ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম মূলত উক্ত নির্দিষ্ট এলাকায় গণ্ডিভূত এবং এর কার্যক্রম সীমিত পরিসরের। সর্বোপরি প্রতিষ্ঠানটির মূলধনের পরিমাণ ৫০ লাখ থেকে ১০ কোটি টাকা এবং শ্রমিক সংখ্যা ২৫ থেকে ৯৯ জনের মধ্যেই রয়েছে; যেগুলো ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানের বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। সুতরাং মি. বিপ্লবের প্রথমে গড়ে তোলা উল্লিখিত ব্যবসায়টি ক্ষুদ্র এন্টারপ্রাইজের অন্তর্ভুক্ত।
আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠান হিসেবে 'স্পিনিং মিল' প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ সম্পূর্ণ বাস্তবসম্মত।
বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠান বলতে সেই সকল প্রতিষ্ঠানকে বোঝায় যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি ও কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপনের ব্যয়সহ ৩০ কোটি টাকার অধিক কিংবা যেসব প্রতিষ্ঠানে ২৫০ জনের অধিক শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠান জনআস্থাসম্পন্ন হওয়ায় জনগণের নিকট শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রয়ের মাধ্যমে অথবা ব্যাংক বা অন্য কোনো অর্থ লগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান হতে ঋণগ্রহণের মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করে থাকে।
উদ্দীপকের মি. বিপ্লব নরসিংদীতে 'বুটিক হাউজ' নামে একটি ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। শুরুর দিকে তেমন লাভজনক না হলেও অভিজ্ঞতা বাড়ার সাথে সাথে ব্যবসায়ের লাভও বাড়তে থাকে। ব্যবসায়ের সফলতা দেখে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় ৫৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে আরও ২৫০ জন শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে একটি 'স্পিনিং মিল' প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। স্পিনিং মিলটি এক্ষেত্রে বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠানের অন্তর্ভুক্ত হবে। বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠান গঠনে মূলধন অধিক প্রয়োজন হয় বলে নিজস্ব সন্তিত অর্থ নিয়ে সব মূলধন গঠন সম্ভব হয় না। এক্ষেত্রে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে মূলধনের পর্যাপ্ত সংস্থান করা হয়। বাই মি. বিপ্লবও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সহায়তা পেয়ে ক্ষুদ্র এন্টারপ্রাইজকে সন্ধারণ করে বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন।
সুতরাং বলা যায়, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় উদ্দীপকের 'স্পিনিং দিল' নামক বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠান গঠনের উদ্যোগ যথার্থ ও বাস্তবসম্মত।
Related Question
View Allউৎপাদনের বিভিন্ন কলাকৌশল প্রয়োগ করে মোট যে পরিমাণ পণ্য উৎপাদন করা হয় তাকে উৎপাদনমাত্রা বলে।
কাম্যমাত্রায় উৎপাদন করা প্রতিষ্ঠানের জন্য লাভজনক।
কাম্য উৎপাদনমাত্রা হলো উৎপাদনের এমন একটি স্তর যেখানে সর্বনিম্ন ব্যয়ে সর্বোচ্চ পরিমাণ পণ্য উৎপাদিত হয়। এই উৎপাদনযাত্রায় শুধু উৎপাদন ব্যয়ই সর্বনিম্ন হয় না; বরং উৎপাদনের অন্যান্য উপকরণেরও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হয়। ফলে কাম্য উৎপাদনমাত্রায় প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি গড় উৎপাদন ব্যয় এককপ্রতি সর্বনিম্ন হয়, এতে প্রতিষ্ঠানের এককপ্রতি মুনাফা বেশি হয়ে সামগ্রিক মুনাফা বৃদ্ধি পায়। তাই বলা যায়, কাম্য উৎপাদনমাত্রা প্রতিষ্ঠানের জন্য লাভজনক।
উৎপাদনযাত্রার ধরণ অনুযায়ী 'বোমা ফেব্রিক্স বর্তমানে বৃহদায়তন শিল্প শিল্পনীতি ২০১০ অনুযায়ী।
উৎপাদন শিল্পের ক্ষেত্রে যে প্রতিষ্ঠানের জমি ও কারখানা ভবন ব্যাতীত স্বারী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৩০ কোটি টাকার অধিক এবং শ্রমিকের সংখ্যা ১৫০ জনের অধিক তাকে বৃহদায়তর শিল্প বলে। এ ধরনের শিল্পে পর্যান্ত মূলধন, ব্যাপক কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সামর্থ্য এবং প্রচুর জনবল বিদ্যমান থাকে।
উদ্দীপকে 'সোমা ফেব্রিক্স' একটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।
প্রতিষ্ঠানটিতে ২০১৬ সালে মোট স্বারী সম্পদের মূল্য ছিল ২৭ কোটি টাকা এবং শ্রমিকসংখ্যা ছিল ২১৫ জন। সম্প্রতি বাজাবে তাদের উৎপাদিত পোশাকের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংক থেকে ১০ কোটি টাকার ঋণ সংগ্রহ করে এবং আরও ৫৫ জন নতুন শ্রমিক নিয়োগ করে। এতে তাদের মোট সম্পদের মূল্য দাঁড়ায় ৩৭ কোটি টাকা এবং শ্রমিকসংখ্যার পরিমাণ ২৭০ জন। উপ্ত সম্পদ ও শ্রমিকসংখ্যার পরিমাণের সাথে বৃহদায়তন শিল্পের ফিল রয়েছে। তাই বলা যায়, উৎপাদনযাত্রার ধরন অনুযায়ী 'সোমা ফেব্রিক্স' বর্তমানে বৃহদায়তন
উদ্দীপকে সোমা ফেব্রিক্স হলো বৃহদায়তন শিল্প এবং রিতা ফেরিঙ্গ হলো ক্ষুদ্র শিল্প শিল্পনীতি ২০১০ অনুযায়ী। এ দুটি শিল্পের মধ্যে সোনা ফেব্রিক্স দেশের কর্মসংস্থানে বেশি অবদান রাখতে।
উৎপাদন শিল্পের ক্ষেত্রে যে প্রতিষ্ঠানের জনি ও কারখানা ভবন বারীত স্বায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৩০ কোটি টাকার অধিক এবং শ্রমিকের সংখ্যা ২৫০ জনের অধিক তাকে বৃহদায়তর শিল্প বলে। উৎপাদন শিল্পের ক্ষেত্রে যে প্রতিষ্ঠানের জমি ও কারখানা ভরণ ব্যতীত স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৫০ লক্ষ থেকে ১০ কোটি টাকা এবং শ্রমিকের সংখ্যা ২৫-৯৯ জনের মধ্যে থাকে তাঁকে স্কুল শিল্প বলে।
উদ্দীপকে 'সোমা ফেব্রিক্স' একটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমানে মোট সম্পদের মূল্য হলো ৩৭ কোটি টাকা এবং শ্রমিকসংখ্যার পরিমাণ ২৭০ জন। তাদের প্রতিষ্ঠানটির সাবে বৃহদায়তন শিল্পের মিল থাকায় তাদের প্রতিষ্ঠানটি একটি বৃষনায়তন
উৎপাদনের বিভিন্ন কলাকৌশল প্রয়োগ করে মোট যে পরিমাণ পণ্য উৎপাদন করা হয় তাকে উৎপাদনমাত্রা বলে।
উৎপাদন শিল্পের ক্ষেত্রে যে প্রতিষ্ঠানের জমি ও কারখানা ভবন ব্যতীত স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৫০ লক্ষ থেকে ১০ কোটি টাকা এবং শ্রমিকের সংখ্যা ২৫-৯৯ জনের মধ্যে থাকে তাকে ক্ষুদ্র শিল্প বলে (শিল্পনীতি ২০১০ অনুযায়ী)।
উদ্যোক্তা নিজেই সাধারণত এ ধরনের ব্যবসায় পরিচালনা করে। তাই যেকোনো পরিস্থিতিতে উদ্যোক্তা খুব সহজে ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। অন্য পক্ষের কাছে কোনো ধরনের জবাবদিহিতা না থাকায় উদ্যোক্তা নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এতে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারায় প্রতিষ্ঠানের সফলতা অর্জন করা সহজ হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!