নিয়ন্ত্রণের প্রথম পদক্ষেপ হলো আদর্শ মান নির্ধারণ।
যে বিন্দুতে প্রতিষ্ঠানের মোট ব্যয় ও মোট আয়ের পরিমাণ সমান হয় সে বিন্দুকে ব্রেক ইভেন পয়েন্ট বলে।
প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয় নিয়ন্ত্রণের জন্য এটি একটি অধিক কার্যকরী কৌশল। এর মাধ্যমে কী পরিমাণ উৎপাদন ও বিক্রয় করলে প্রতিষ্ঠান মুনাফা অর্জন করতে পারবে ব্যবস্থাপনা তা জানতে পারে। এ ব্যবস্থা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় ও মুনাফার মধ্যে সম্পর্ক নির্দেশ করে এবং এর মাধ্যমে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণে বিশেষভাবে সাহায্য করে। ব্রেক ইভেন পয়েন্ট বিশ্লেষণ করে প্রতিষ্ঠানের মোট বিক্রয়, ব্যয় ও মুনাফার মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয় করা হয়।
উদ্দীফকে মি. রবিনের কলম কারখানায় সময়ের ভিত্তিতে অর্থাৎ প্রতি ঘণ্টায় প্রতিটি মেশিনের উৎপাদনের আদর্শমান ৪২৮.৫৭টি বা ৪২৯টি কলম উৎপাদন করা।
আদর্শমান বলতে একটি কাজ কতটুকু গুণ, মান, পরিমাণ, ব্যয়, আয় বা সময়সাপেক্ষ হলে সঠিকভাবে সম্পাদিত হয়েছে বলা হবে, তা নির্ণয়কে বোঝায়।
মি. রবিন তার কলম তৈরির কারখানায় কলম প্রস্তুতের ৩টি মেশিন আছে যাদের সাপ্তাহিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১৮,০০০ একক। অর্থাৎ প্রত্যেকটি মেশিনের সাপ্তাহিক লক্ষ্যমাত্রা (১৮,০০০/৩) = ৬,০০০ একক। প্রতিটি মেশিনের মাসিক উৎপাদন সময় ৬০ ঘণ্টা। তাহলে একদিনের উৎপাদনের সময় (৬,০০০ / ৩) ২ ঘণ্টা। এক সপ্তাহে অর্থাৎ ৭ দিনের উৎপাদনের সময় (৭ × ২) = ১৪ ঘণ্টা। তাহলে প্রতিটি মেশিনের উৎপাদন ক্ষমতা (৬,০০০/১৪) = ৪২৮.৫৭টি বা ৪২৯টি।
মি. রবিনের কলম কারখানায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নিয়ন্ত্রণের গৃহীত কৌশল হিসেবে ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহারের যৌক্তিকতা রয়েছে।
নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃক অধস্তনদের কাজ, কাজের প্রতিবেদন বা হিসাবপত্রাদি দেখাকে ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ বলে। নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এরূপ পর্যবেক্ষণ প্রাচীনকাল হতে বর্তমানকাল অবধি নিয়ন্ত্রণের অন্যতম কৌশল। প্রতিষ্ঠানের নিয়োজিত নির্বাহীরা ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণের দ্বারা অধস্তনদের কাজের ত্রুটি নির্ধারণ, পরামর্শ ও নির্দেশনা প্রদানের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরোপ করেন।
উদ্দীপকে মি. রবিনের কারখানায় একসপ্তাহে ১৮,০০০টি কলম তৈরির গৃহীত উৎপাদন পরিকল্পনা সময়মত বাস্তবায়নে মি. রবিন দৈনিক দু'বার উৎপাদন কার্যক্রম দেখেন ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। মি. রবিন কর্তৃক দৈনিক দু'বার উৎপাদন কার্যক্রম দেখা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া মূলত নিয়ন্ত্রণের ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি হিসেবে গণ্য হয় অর্থাৎ মি. রবিন কলম কারখানায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নিয়ন্ত্রণের ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি বা কৌশল গ্রহণ করেছেন। আর এই পদ্ধতি প্রয়োগের ফলে কখনও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রতিবন্ধকতা দেখার সাথে সাথে কারণ নির্ণয়পূর্বক প্রয়োজনীয় নির্দেশনাদান সম্ভব। ফলে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাঙ্খিত সময়ের মধ্যে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।
সুতরাং বলা যায়, মি. রবিনের কলম কারখানায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নিয়ন্ত্রণের গৃহীত কৌশল হিসেবে ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহারের যৌক্তিকতা রয়েছে।
Related Question
View Allপ্রতিষ্ঠানে বাস্তবায়িত কাজের সাথে বিভিন্ন কাজের সম্পর্ক এবং কাজ শুরু ও শেষ হওয়ার মোট সময় তালিকার মাধ্যমে যা প্রদর্শন করা হয় তাকে পার্ট বলে।
যে বিন্দুতে প্রতিষ্ঠানের মোট আয় ও মোট ব্যয় সমান হয় তাকে Break Even Point বা BEP বলে।
BEP-এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়ের পরিমাণ কোন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারলে লোকসান হবে না, তা জানা যায়। এর বাইরেও প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় কী হলে মুনাফার পরিমাণ কী হবে, সে সম্পর্কে আগাম ধারণা লাভ করা যায়। ফলে উপযুক্ত আদর্শমান নির্ধারণ সহজ এবং প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর হয়। তাই BEP বিশ্লেষণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্দীপকের লক্ষ্যমাত্রা মেয়াদভিত্তিক স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা।
সাধারণত এক বছর বা তার কম সময়ের জন্য গৃহীত পরিকল্পনাকে স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা বলে। স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা প্রতিষ্ঠানের বিভাগীয় ও উপবিভাগীয় পর্যায়ে গৃহীত হয়। বার্ষিক পরিকল্পনার আওতায় ত্রৈমাসিক, মাসিক বা সাপ্তাহিক পরিকল্পনার সবগুলোকেই এ ধরনের পরিকল্পনা গণ্য করা যায়।
উদ্দীপকে ফাইজা গার্মেন্টস এক লাখ একক পোশাক তিন মাসের মধ্যে সরবরাহের অর্ডার পায়। প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী মি. ইলিয়াস উক্ত অর্ডার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত কারখানার কাজ তদারকি করতে লাগলেন। উদ্দীপকে পোশাক উৎপাদনের জন্য সময় পেয়েছেন তিন মাস। সুতরাং উদ্দীপকের লক্ষ্যমাত্রা মেয়াদভিত্তিক স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা।
নিয়ন্ত্রণ হলো পূর্বনির্ধারিত আদর্শ মানের সাথে প্রকৃত কার্যফল তুলনা করে নির্ণীত বিচ্যুতি সংশোধনের কার্য ব্যবস্থাবিশেষ। উদ্দীপকে যথাযথ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ফাইজা গার্মেন্টসের লক্ষ্যার্জন সম্ভব হয়েছে।
ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব অপরিসীম। সুষ্ঠু নিয়ন্ত্রণ ছাড়া ব্যবস্থাপনার সামগ্রিক কার্যাবলি যথাযথভাবে সম্পাদন সম্ভব নয়। নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবস্থাপনা কার্য অর্থহীন ও বিশৃঙ্খল হতে বাধ্য। যথাযথ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বিধান, বিচ্যুতি নির্ণয়ে সহযোগিতা করা, পরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়ন, পূর্ববর্তী পরিকল্পনার মানোন্নয়ন এবং দ্রুত সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। এজন্য প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ একটি আবশ্যকীয় প্রক্রিয়া।
উদ্দীপকে ফাইজা গার্মেন্টস এক লাখ একক পোশাক তিন মাসের মধ্যে সরবরাহের অর্ডার পায়। প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী মি. ইলিয়াস উক্ত অর্ডার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত কারখানার কাজ তদারকি করতে লাগলেন। তিনি কর্মীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে থাকলেন। পরিকল্পনার সাথে বাস্তব, কাজের বিচ্যুতি থাকলে সংশোধনের ব্যবস্থা নেন। অর্থাৎ মি. ইলিয়াস ফাইজা গার্মেন্টস-এ যথাযথ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। ফলে নির্ধারিত সময়েই লক্ষ্যার্জন হয়।
সুতরাং উদ্দীপকে যথাযথ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ফাইজা গার্মেন্টসের লক্ষ্যার্জন সম্ভব হয়েছে।
PERT-এর পূর্ণরূপ হলো Program Evaluation & Review Technique.
কোনো নির্দিষ্ট সময় পরে যে কাজ করা হয় তাকে কালান্তিক কাজ বলে।
পরিকল্পনার ন্যায় নিয়ন্ত্রণও একটি অবিরাম প্রক্রিয়া। যতদিন পরিকল্পনা থাকে ততদিন নিয়ন্ত্রণও অব্যাহত থাকে। নিয়ন্ত্রণ কালান্তিক কাজ; কোনো প্রাত্যহিক কাজ নয়। এ কাজ অবশ্য একদিন, সপ্তাহ, মাস বা বছর হতে পারে।'অর্থাৎ, সময় শেষেই কার্যফল পরিমাপ, পূর্বনির্ধারিত মানের সাথে তা তুলনা ও বিচ্যুতি নিরূপণ শেষে সংশোধনমূলক কার্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে। তাই নিয়ন্ত্রণকে কালান্তিক কাজ বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!