যে ব্যক্তি ব্যবসায় বা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ গ্রহণ করেন তাকে উদ্যোক্তা বলে।
ব্যবসায় উদ্যোগ ব্যতীত কোনো দেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।
উদ্যোক্তার উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমেই দেশে শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়। শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠিত হলে দেশে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার সম্ভব হয়। ব্যবসায় উদ্যোগ দেশের জনশক্তিকে কর্মক্ষম করে তুলতে সাহায্য করে। যার ফলে একদিকে জনশক্তির যথোপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত হয় অপরদিকে দেশের শিল্পায়নের গতি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। সুতরাং বলা যায়, 'উদ্যোক্তাগণ দেশে প্রাপ্ত সম্পদ ও জনশক্তির যথোপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করে' উক্তিটি যথার্থ।
মি. রহমানের চানাচুর ফ্যাক্টরি স্থাপনের মধ্য দিয়ে ঝুঁকিসহ ব্যবসায় উদ্যোগের অধিকাংশ বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে।
সাধারণত উদ্যোগ বলতে যেকোন কাজের কর্ম প্রচেষ্টাকে বোঝায়। কিন্তু লাভের আশায় ঝুঁকি নিয়ে অর্থ ও শ্রম বিনিয়োগ করাই হলো ব্যবসায় উদ্যোগ।
উদ্দীপকে মি. রহমান এর চানাচুর ফ্যাক্টরি স্থাপনের মধ্য দিয়ে 'ব্যবসায় স্থাপনের কর্ম উদ্যোগ' বৈশিষ্ট্যটি ফুটে ওঠেছে যা ব্যবসায় উদ্যোগের বৈশিষ্ট্য হিসেবে পরিগণিত হয়। ব্যবসায় উদ্যোগের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো ঝুঁকি আছে জেনেও লাভের আশায় ব্যবসায় পরিচালনা যা উক্ত ফ্যাক্টরি স্থাপনের মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠেছে। কেননা মি. রহমান লোকসানের ঝুঁকি থাকাসত্ত্বেও চানাচুর ফ্যাক্টরির কার্যক্রম চালু করেন। তাছাড়া ব্যবসায় উদ্যোগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো একটি পণ্য যা উক্ত ফ্যাক্টরি স্থাপনের মধ্য দিয়ে 'চানাচুর' পণ্যটি দৃশ্যমান হয়েছে। তাছাড়াও নিজের জন্য ও অন্যদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাও ব্যবসায় উদ্যোগের বৈশিষ্ট্য হিসেবে পরিগণিত হয় খা চানাচুর ফ্যাক্টরি স্থাপনের মধ্য দিয়ে মি. রহমানের নিজের কর্মসংস্থানও আরো ২০ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তাই বলা যায়, মি. রহমানের চানাচুর ফ্যাক্টরি স্থাপনের মধ্য দিয়ে ব্যবসায় উদ্যোগের অধিকাংশ বৈশিষ্ট্যই ফুটে ওঠেছে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে রহমানের অবদান নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। স্বল্পায়তনের এ দেশটির জনসংখ্যা বিপুল। বিপুল এ জনসংখ্যার জন্য প্রয়োজনীয় কর্মক্ষেত্র এখানে অপ্রতুল। এজন্য প্রয়োজন যথেষ্টসংখ্যক দক্ষ ও সাহসী উদ্যোক্তা যারা কোনো ব্যবসায় বা শিল্প প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়ে নিজেদেরকে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে পারবে এবং দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে রাখতে পারবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
মি. রহমান একজন সফল উদ্যোক্তার নাম। যিনি চানাচুর ফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নিজের অর্থনৈতিক সংকটাপন্ন অবস্থা দূর করতে সক্ষম হয়েছেন, পাশাপাশি বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আর এভাবেই দেশের উদ্যোক্তাগণ তাদের নিজ নিজ অবস্থার উন্নতি করে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন সাধন করতে পারে।
সুতরাং বলা যায়, বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশে চানাচুর ফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠা করে দেশের বেকারত্ব হ্রাসের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নে মি. রহমানের অবদান অনস্বীকার্য।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!