প্রতিষ্ঠানের মূলধন কাঠামোতে ঋণ মূলধন ব্যবহারের ফলে ঋণের সুদ এবং আসল পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনাকে আর্থিক ঝুঁকি বলে।
ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা একই অর্থ বহন করে না।
ভবিষ্যতে কোনো একটি ঘটনা ঘটা বা না ঘটার সম্ভাবনাকে গাণিতিকভাবে নির্ণয় করা না গেলে তাকে অনিশ্চয়তা বলে। আর অনিশ্চয়তার যে অংশটুকু পরিমাপ করা যায় তাই ঝুঁকি। বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তবে অনিশ্চয়তা পরিমাপ করা যায় না, বিধায় তা নিয়ন্ত্রণ অযোগ্য।
রাফা সিমেন্ট কোম্পানিটি তারল্য ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছে।
একজন বিনিয়োগকারী যদি তার প্রত্যাশিত মূল্যে বাজারে বিনিয়োগ বিক্রি করতে না পারে তখন এ ধরনের ঝুঁকির সৃষ্টি হয়। এ ধরনের ঝুঁকি আর্থিক বাজারের আকার ও কাঠামোর ওপর নির্ভর করে। উদ্দীপকে মি. রানা ও তার সাতজন বন্ধু মিলে রাফা সিমেন্ট ফ্যাক্টরি নামে একটি ব্যবসায় স্থাপন করেন। নিজস্ব পুঁজি, শেয়ার, বন্ড ও ডিবেঞ্চার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি মূলধন সংগ্রহ করে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন কোম্পানির বন্ড, ডিবেঞ্চার ও শেয়ারে বিনিয়োগ করে। তবে বিগত কয়েক বছর প্রতিষ্ঠানটির বিক্রি কমে গেছে। তাই রাজ্য সিমেন্ট ফ্যাক্টরি তাদের কেনা শেয়ারগুলো বিক্রি করে দেয়। তবে বিনিয়োগ করা বন্ড ও ডিবেঞ্চারগুলো সময়মতো বিক্রি করতে পারেনি। অর্থাৎ রাফা সিমেন্ট ফ্যাক্টরি বিনিয়োগকে তারল্যে রূপান্তর করতে সমস্যায় পড়েছে। সুতরাং বলা যায়, প্রতিষ্ঠানটি তারল্য ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছে
উদ্দীপকে মি. রানা ও তার বন্ধুদের আগের প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে নতুন প্রতিষ্ঠান চালু করা যুক্তিসঙ্গত হবে কি না তা নির্ধারণের জন্য রাফা সিমেন্ট ফ্যাক্টরির আদর্শ বিচ্যুতি নির্ণয় করতে হবে।
রাফা সিমেন্ট ফ্যাক্টরির আদর্শ বিচ্যুতি নির্ণয়:
বছর | আয় (%) | গড় থেকে ব্যবধান। (আয় পড়) | ব্যবধানের বর্গ (আয় গড়) |
১ | ১৫ | (১৫-৯)=৬ | ৩৬ |
২ | -৬ | (-৬-৯)=১৫ | ২২৫ |
৩ | ১৬ | (১৬ - ৯) = ৭ | ৪৯ |
৪ | ২০ | (২০-৯=১১) | ১২১ |
৫ | ০ | (০-৯)=৯ | ৮১ |
যোগফল | ৪০ | ব্যবধানের বর্গের যোগফল | ৫১২ |
গড় আয় | (৪৫৫)=৯ | ব্যবধানের বর্গের গড় | ৫১২ =১২৮ ৫-১ |
আদর্শ বিচ্যুতি ১২৮ = ১১.৩১%
রাফা সিমেন্ট ফ্যাক্টরির আদর্শ বিচ্যুতি ১১.৩১%। অন্যদিকে নতুন প্রতিষ্ঠানের আদর্শ বিচ্যুতি ৬.৫০%। অর্থাৎ নতুন প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকির পরিমাণ কম। কারণ গ্লাদর্শ বিচ্যুতির ছোট মান কম ঝুঁকি নির্দেশ করে।। সুতরাং, মি, রানা ও তার বন্ধুদের আগের প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে নতুন *প্রতিষ্ঠান চালু করা যুক্তিসজ্যত হবে।
Related Question
View Allঅতীতে অর্জিত আয়ের বিচ্যুতি থেকে ব্যবসায়ের ঝুঁকি পরিমাপ করা হয়।
ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার কারণে ব্যবসায় ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত ফলের চাইতে প্রকৃত ফল কম হয়।
ব্যবসায় সংশ্লিষ্ট ভবিষ্যতের প্রতিটি বিষয় অনিশ্চিত। এ কারণে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত ফলাফল প্রত্যাশিত ফলের চেয়ে কম-বেশি হয়। ব্যবসায়ে আশানুরূপ বিক্রি না হওয়া, বেশি মূল্যে কাঁচামাল ক্রয়, প্রতিটি ক্ষেত্রে ঝুঁকি বিদ্যমান থাকা, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত মুনাফা অর্জনে ব্যর্থতা, আয়ের উত্থান-পতন ইত্যাদি কারণে ব্যবসায়ে প্রত্যাশিত ফলের চেয়ে প্রকৃত ফল কম হয়।
উদ্দীপকে আধুনিক বাজারজাতকরণ সম্পর্কিত জ্ঞানের অভাবে রোমানার ব্যবসায়ে কম সাফল্য হয়।
পণ্যদ্রব্য উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তার কাছে বিক্রি করা পর্যন্ত সমুদয় কাজকে বাজারজাতকরণ বলে। একজন সফল ব্যবসায়ীর মধ্যে বাজারজাতকরণের জ্ঞান ও দক্ষতা থাকা জরুরি। কেননা পণ্যদ্রব্য শুধু উৎপাদন বা কিনলে বিক্রয় বৃদ্ধি বা মুনাফা অর্জন হয় না। উক্ত পণ্যটির বাজারজাতকরণ বা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পর্যাপ্ত কৌশল গ্রহণ করতে হয়। উদ্দীপকের রোমানা টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট থেকে পাশ করে মনিপুরী তাঁত বস্ত্রের বিভিন্ন পোশাক সামগ্রীর ব্যবসায় শুরু করেন। তিনি শুধু সিলেটের বিভিন্ন অঞ্চলকে নির্বাচন করে ব্যবসায় গড়ে তোলেন। এক্ষেত্রে একটি
স্থান নির্বাচন করায় তার পণ্যের বিক্রির পরিমাণ কম। সিলেট ছাড়াও যদি ঢাকা, কুমিল্লা বা অন্য শহরে তার ব্যবসায় স্থাপন করতেন তবে রায়না হকের মতো তিনিও সফল হতেন। এছাড়া তার তাঁত বস্ত্রের চাহিদা রয়েছে সিলেটের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে। তিনি যদি সামগ্রিক বাজার চাহিদা বিশ্লেষণ করে সুষ্ঠু ব্যবসায় পরিকল্পনা গ্রহণ করতেন তাহলে ব্যবসায়ে বিক্রি বাড়ানোর মাধ্যমে আয়ের স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে পারতেন। মূলত এসব কারণেই রোমানা তার ব্যবসায়ে কম সাফল্য অর্জন করেন।
উদ্দীপকে রায়না ও রোমানার ব্যবসায়িক চিত্রানুযায়ী রায়না হকের প্রতিষ্ঠানে মুনাফার হার বেশি এবং রোমানার প্রতিষ্ঠানে মুনাফার হার কম।
ব্যবসায় শুরু করার আগে প্রতিটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের বাজার চাহিদা বিচার-বিশ্লেষণ করে সেই অনুযায়ী কার্য বাস্তবায়ন করতে হয়। তাহলে ব্যবসায়ের কাঙ্ক্ষিত মুনাফার্জন সম্ভব হয়।
উদ্দীপকে রোমানা সিলেটের বিভিন্ন অঞ্চলে মনিপুরী তাঁত বস্ত্রের ব্যবসায় করে। এর চাহিদা ঐ অঞ্চলে তৈরি হয় না। কারণ তারা নিজেরাই তাদের পোশাক তৈরি করে। অন্যদিকে রায়না ঢাকা ও কুমিল্লায় চাহিদা অনুযায়ী তার ফ্যাশন হাউজ প্রতিষ্ঠা করে লাভবান হয়।
চিত্রে দেখা যায়, রায়না হকের মুনাফা প্রতিবছর ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
রোমানার মুনাফার হারে প্রতিবছর হ্রাস-বৃদ্ধি হয়েছে। শেষ বছরে রায়না রোমানার চেয়ে ৬ ধাপ বেশি মুনাফা অর্জন করে। আর রোমানার ব্যবসায়ে উত্থান-পতন বেশি বলে তার ব্যবসায়ের ভবিষ্যৎ ভালো নয়। তাই বলা যায়, চিত্রানুযায়ী রোমানার চেয়ে রায়নার ব্যবসায়ের অবস্থান
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
