সরকারের অনুমতি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইস্যু করা কাগজি মুদ্রা বা নোটকে ব্যাংক নোট বলে।
সরকার কর্তৃক বিহিত মুদ্রা হিসেবে ইস্যুকৃত হয় বলে সরকারি নোট রূপান্তরযোগ্য নয়।
সরকারি নোট হলো বিহিত মুদ্রা। এর মালিকানা স্বত্ব একমাত্র বাংলাদেশ সরকারের। সরকারি নোটের ক্ষেত্রে "চাহিবামাত্র এর গ্রাহককে ফেরত দিতে বাধ্য থাকিবে"- এমন প্রতিশ্রুতির দরকার হয় না। তাই সরকারি নোট কোন চিহ্নিত মুদ্রায় রূপান্তর করা যায় না।
উদ্দীপকে উল্লিখিত মি রায়হান সুরমা লি. থেকে ব্যাংক ড্রাফট সংগ্রহ করেছেন।
চাওয়ামাত্র গ্রাহককে অর্থ পরিশোধের জন্য ব্যাংকের এক শাখা কর্তৃক অন্য শাখা বা প্রতিনিধি ব্যাংককে যে লিখিত নির্দেশ দেওয়া হয় তাই ব্যাংক ড্রাফট। এটি একটি হস্তান্তরযোগ্য দলিল। দূরবর্তী স্থানে অর্থ পাঠাতে এরূপ দলিল ব্যবহার করা হয়।
উদ্দীপকে মি. রায়হান সুরমা লি. থেকে তার পাওনা বাবদ একটি আর্থিক দলিল সংগ্রহ করেছেন। উক্ত দলিলে দেশ ব্যাংকের মতিঝিল শাখা বংশাল শাখাকে টাকা পরিশোধের আদেশ দিয়েছে। মূলত, ব্যাংক ড্রাফটের ক্ষেত্রে ব্যাংকের এক শাখা অন্য শাখা বা প্রতিনিধি ব্যাংককে অর্থ প্রেরণের নির্দেশ দেয়। সুতরাং, মি. রায়হানের আর্থিক দলিলটি ব্যাংক ড্রাফটের বৈশিষ্ট্যের সাথে সম্পূর্ণ মিলে গেছে। তাই, মি. রায়হানের দলিলকে ব্যাংক ড্রাফট বলা যায়।
মি. আনসারি কর্তৃক প্রস্তুতকৃত বিনিময় বিলে মি. আইয়ুবের স্বাক্ষর খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।
পাওনাদার কর্তৃক দেনাদারের ওপর প্রস্তুতকৃত অর্থ পরিশোধের শর্তহীন আদেশকে বিনিময় বিল বলা হয়। এতে সাধারণত ৪টি পক্ষ থাকে-আদেষ্টা, আদিষ্ট, প্রাপক ও স্বীকৃতিকারী। আদিষ্ট কর্তৃক স্বাক্ষরিত হলেই এটি আইনসম্মত দলিলে পরিণত হয়।
উদ্দীপকে মি: আনসারি মি. আইয়ুবের কাছে ১০ লক্ষ টাকার পণ্য বিক্রি করেছেন। এর বিনিময়ে তিনি মি. আইয়ুবের কাছে একটি স্ট্যাম্পযুক্ত সাদা কাগজ স্বীকৃতিসূচক স্বাক্ষরের জন্য পাঠান। মি. আইয়ুব উক্ত দলিলে স্বাক্ষর করা নিয়ে দ্বিধায় ভুগছেন। আদিষ্ট কর্তৃক স্বীকৃত হওয়া বিনিময় বিলের' অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। পাওনাদার কর্তৃক প্রস্তুতকৃত বিনিময় বিলে স্বাক্ষর দিয়ে দেনাদার এতে স্বীকৃতি দেয়। নতুবা এই দলিলের কোনো আইনগত বৈধতা থাকেনা।
উদ্দীপকে মি. আনসারি পণ্য বিক্রির অর্থ বাবাদ একটি বিনিময় বিল প্রস্তুত করেছেন। উক্ত বিলে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য জনাব আইয়ুবের স্বাক্ষর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই বলা যায়, বিনিময় রিলের আইনগত মূল্য নিশ্চিত করার জন্য আদিষ্ট অর্থাৎ, মি. আইয়ুবের স্বাক্ষর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
Related Question
View Allভ্রমণকালে বিদেশে অর্থ সংগ্রহের জন্য ব্যাংক ভ্রমণকারীদের যে বিশেষ ধরনের চেক ইস্যু করে তাকে ভ্রমণকারীর চেক বলে।
চেকের অনুমোদন দ্বারা চেকের মালিকানা পরিবর্তন নিশ্চিত হওয়ায় চেক হস্তান্তরে চেকের অনুমোদন গুরুত্বপূর্ণ। বাহক চেক শুধু প্রদানের মাধ্যমে অনুমোদন হলেও হুকুম চেকের উল্টো পিঠে অবশ্যই বৈধ অধিকারী দ্বারা অনুমোদিত হতে হয়। চেকের অনুমোদন অবশ্যই সম্পূর্ণ চেকের জন্য হয়।
উদ্দীপকে জনাব মাসুদ রাসেলকে প্রথমে দাগকাটা চেক প্রদান করেন।
বাহক বা হুকুম চেকের ওপরে বাম কোণে দুটি দাগ টেনে দিলে তাকে দাগকাটা চেক বলা হয়। এ চেকের অর্থ গ্রাহকের হিসাবে জমা দিয়ে উত্তোলন করতে হয়। এ চেক লেনদেনের জন্য সবচেয়ে বেশি নিরাপদ। উদ্দীপকে জনাব মাসুদ তার পাওনাদার জনাব রাসেলকে একটি চেক প্রদান করেন। চেকটি লেনদেনের ক্ষেত্রে নিরাপদ বলে বিবেচতি হয়। দূর্ভাগ্যবশত জনাব রাসেল চেকটি হারিয়ে ফেলেন এবং মাসুদ সাহেবকে অবহিত করেন। জনাব মাসুদ রাসেলকে বিচলিত না হতে বলেন। সাধারণত, দাগকাটা চেক লেনদেনের ক্ষেত্রে সর্বাপেক্ষা নিরাপদ। এ চেক হারিয়ে গেলেও অন্য কেউ ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করতে পারে না। যার কারণে জনাব মাসুদ রাসেলকে বিচলিত না হওয়ার কথা বলে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের জনাব মাসুদ রাসেলকে প্রথমে দাগকাটা চেক প্রদান করেন।
উদ্দীপকের জনাব মাসুদ কর্তৃক প্রদত্ত প্রথম চেক হলো দাগকাটা চেক এবং দ্বিতীয় চেক হলো হুকুম চেক।
হুকুম চেকে প্রাপকের নামের পরে 'অথবা আদেশানুসারে' কথাটি লেখা থাকে। এ চেকে অবশ্যই প্রাপকের নামের উল্লেখ থাকে। ব্যাংক চেকের প্রাপককে সত্যতা যাচাই করে অর্থ পরিশোধ করে। অন্যদিকে, বাহক বা হুকুম চেকের বাম কোণে দুটি রেখা অঙ্কন করলে তাকে দাগকাটা চেক বলে।
উদ্দীপকে জনাব মাসুদ একজন ঠিকাদার। তিনি পাওনাদার জনাব রাসেলকে এক লক্ষ টাকার একটি দাগকাটা চেক প্রদান করেন। জনাব রাসেল চেকটি দূর্ভাগ্যবশত হারিয়ে ফেলেন। বিষয়টি জনাব মাসুদকে জানালে তিনি বিচলিত না হওয়ার পরামর্শ দেন। জনাব মাসুদ পরবর্তীতে জনাব রাসেলের নামের শেষে 'আদেশ অনুসারে' কথাটি লিখে নতুন একটি চেক ইস্যু করেন। জনাব মাসুদ প্রথমে দাগকাটা চেক প্রদান করেন। এ চেকের অর্থ গ্রাহকের হিসাবে জমা দিয়ে শুধু উত্তোলন করা যায়। ফলে চেকটি হারিয়ে গেলে বা চুরি হলেও অন্য কেউ অর্থ উত্তোলন করতে পারবে না। অন্যদিকে, পরবর্তীতে প্রদত্ত চেকটি হলো হুকুম চেক। এ চেকের অর্থ প্রাপক নিজেই শুধু উত্তোলন করতে পারে। তবে প্রাপকের বৈধ অনুমতিক্রমে অন্য কেউও এ চেকের অর্থ উত্তোলন করতে পারে। তবে দাগকাটা চেকের চেয়ে হুকুম চেক অপেক্ষাকৃত কম নিরাপদ। এভাবেই উদ্দীপকের দাগকাটা চেক ও হুকুম চেক ভিন্ন প্রকৃতির বলে বিবেচিত।
আমানতকারি কর্তৃক ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলনের লিখিত শর্তহীন নির্দেশনামাকে চেক বলে।
বিনিময় বিল হচ্ছে এমন একটি হস্তান্তরযোগ্য ঋণের দলিল যাতে কোনো ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধের শর্তহীন নির্দেশ দেয়।
সাধারণত ধারে পণ্য কেনা-বেচার ক্ষেত্রে এ বিল ব্যবহার করা হয়। বিক্রেতা বিনিময় বিলের মাধ্যমে ক্রেতার কাছ থেকে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে অর্থ আদায় করে। মেয়াদের আগেই অর্থ সংগ্রহ করতে চাইলে বিলটি ব্যাংকে বাট্টায় ভাঙ্গানো যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!