রাজতন্ত্র হচ্ছে সেই শাসনব্যবস্থা যেখানে রাজা বা রানির হাতে রাষ্ট্রের চরম ও সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব ন্যস্ত থাকে এবং রাজা বা রানি উত্তরাধিকারসূত্রে ক্ষমতা লাভ করেন।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনমত গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো গণভোট। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ের ওপর জনগণের সমর্থন আছে কি, নেই তা যাচাইয়ের জন্য যে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় তাকে গণভোট বলে। গণভোটে 'হ্যাঁ' অথবা 'না'-তে সিল দেওয়া হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' রাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান। এরূপ সরকারে রাষ্ট্রপতি নামে ও কাজে রাষ্ট্রপ্রধান বা প্রকৃত শাসক। তিনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় বিপুল ক্ষমতার অধিকারী হন। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থায় কতিপয় সুবিধা পরিলক্ষিত হয়। এ সরকারব্যবস্থায় সিদ্ধান্ত দ্রুত, কার্যকর ও জোরালো হয়। কেননা এ সরকারকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য আইনসভার মর্জির ওপর নির্ভর করতে হয় না। এ সরকার তুলনামূলকভাবে স্থায়ী। যখন তখন সরকার পরিবর্তনের মতো দুরবস্থার শিকারে পরিণত হতে হয় না। যেসব অনুন্নত দেশে সুষ্ঠু দ্বিদলীয় ব্যবস্থা এখনও গড়ে ওঠেনি সেসব দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার অপেক্ষাকৃত স্থায়ী ও কার্যকর শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে পারে। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের মন্ত্রীরা সংসদ সদস্যদের চাপমুক্ত থাকেন। এর ফলে তারা নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে সরকারের নিয়মনীতি প্রয়োগ করতে পারে। এছাড়াও রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে সুবিধাভুক্ত হলো ক্ষমতাস্বতন্ত্রীকরণের সুফল ভোগ, জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় উপযোগী, বহুদলীয় ব্যবস্থায় উপযোগী, দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের সমাবেশ ঘটে ও দলীয় মনোভাব প্রকাশিত হয় উপরিউক্ত সুবিধাসমূহ পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' রাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসতি সরকারব্যবস্থা এবং 'খ' রাষ্ট্রে সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার হলো ওই সরকারব্যবস্থা যেখানে রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত থাকে এবং রাষ্ট্রপতি তার কাজের জন্য আইন পরিষদের প্রভাবমুক্ত। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে রাষ্ট্রপতি একাধারে রাষ্ট্রের প্রধান এবং সরকার প্রধান। তাকে সাহায্য করার জন্য একটি মন্ত্রিসভা থাকে। রাষ্ট্রপতি ব্যক্তিগত খেয়ালখুশিমতো মন্ত্রী নিয়োগ ও বরখাস্ত করতে পারেন।
আমেরিকা, যুক্তরাষ্ট্র, ইন্দোনেশিয়া, ফ্রান্স, ব্রাজিল প্রভৃতি রাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার প্রচলিত রয়েছে। অপরদিকে যে শাসনব্যবস্থায় শাসন বিভাগ তাদের কাজের জন্য সংসদ বা আইনসভার নিকট দায়ী থাকে, তাকে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত বা সংসদীয় সরকার বলে। এ ধরনের সরকারব্যবস্থায় একজন নামে মাত্র রাষ্ট্রপ্রধান থাকেন। সরকার পরিচালনার প্রকৃত ক্ষমতা থাকে আইনসভার আস্থাভাজন মন্ত্রিসভার হাতে। প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন মন্ত্রিসভার নেতা, সংগঠক ও সরকারপ্রধান। মন্ত্রিসভা যতক্ষণ পর্যন্ত আইনসভার আস্থাভাজন থাকবে, ততক্ষণ শাসনক্ষমতা পরিচালনা করতে পারবে। আইনসভা অনাস্থা প্রকাশ করলে মন্ত্রিসভা পদত্যাগ করবে। আর মন্ত্রিসভার সদস্যগণ আইনসভার সদস্য। মন্ত্রীরা ব্যক্তিগত ও যৌথভাবে সংসদের নিকট জবাবদিহি করেন। শাসন বিভাগ বা মন্ত্রিসভা আইনসভার নিকট দায়ী থাকে বলে এ সরকারকে দায়িত্বশীল সরকারও বলে।
Related Question
View Allগণচীনে সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রচলিত।
বিচার বিভাগ জনগণের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করে। কিন্তু যদি এটি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে, তবে অনেক ক্ষেত্রেই নিরপেক্ষভাবে কাজ সম্পন্ন করতে পারে না। বিচার বিভাগকে অনেক সময় সরকারের বিরুদ্ধে রায় দিতে হয়। সরকারের অন্য কোনো বিভাগের অধীনে থেকে কাজ করলে সব সময় সরকারের বিরুদ্ধে যাওয়া সম্ভব হয় না। এজন্য ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিচার বিভাগকে স্বাধীন রাখতে হয়।
A চিহ্নিত সংস্থাটি আইন প্রণয়নকারী সংস্থা বা আইনসভা।
রাষ্ট্রের তিনটি মৌলিক অঙ্গের মধ্যে আইনসভা বা আইন বিভাগ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখা। সংসদীয় সরকারব্যবস্থাতে আইনবিভাগের গুরুত্ব ও ভূমিকা অনেক বেশি। আইন বিভাগের প্রধান কাজ হলো আইন প্রণয়ন করা। সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় আইনসভা শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট তাদের কাজের জন্য দায়ী থাকে। আইনসভা এখানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল অংশের কাজ করে। জনপ্রতিনিধিরা আইনসভায় জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন। আইন প্রণয়ন ছাড়াও সংবিধান প্রণয়ন, সংশোধন, আলোচনা, বিতর্ক, জনমত গঠন, আর্থিক বিবৃতি প্রণয়ন, তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, বিচারসংক্রান্ত কাজ, শাসনসংক্রান্ত কাজ, সমালোচনামূলক কাজ ইত্যাদি করে থাকে। সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় আইনসভা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
সরকারের তিনটি মৌলিক বিভাগের মধ্যে কাজ সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা আইন বিভাগের কাজ। আইন অনুসারে দেশ পরিচালনা করা শাসন বিভাগের কাজ এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা বিচার বিভাগের কাজ।
উদ্দীপকে চিহ্নিত A এবং B-তে যথাক্রমে আইন ও শাসন বিভাগের কথা বলা হয়েছে। একটি দেশ পরিচালনা তথা নিয়ন্ত্রণের মূল দায়িত্বে থাকে এই দুটি বিভাগ। একটি দেশের শাসন বিভাগ ব্যাপক অর্থে রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে গ্রামের চৌকিদার পর্যন্ত বিস্তৃত কর্মী বাহিনী নিয়ে গঠিত। শাসনকার্য পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, দেশরক্ষা, দেশের উন্নয়নমূলক কার্যাবলি পরিচালনা সবই শাসন বিভাগের হাতে ন্যস্ত। শাসন বিভাগ এসব কার্যাবলি সম্পন্ন করে আইন বিভাগ প্রণীত আইন অনুসারে।
শাসন বিভাগ তাদের কাজের জন্য আইন বিভাগের নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে। শাসন বিভাগের কার্যাবলিকে বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে আইন বিভাগ। অন্যদিকে বিচার বিভাগ ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার জন্য বিচার করে থাকে। কিন্তু বিচার বিভাগের রায়কে বাস্তবায়ন করার দায়িত্বও থাকে শাসন বিভাগের হাতে। আবার বিচার বিভাগের প্রদত্ত রায় বা শাস্তিকে মওকুফ বা মার্জনার ক্ষমতা শাসন বিভাগের হাতে আছে। এ দিক থেকে দেখা যায়, রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণে আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগ মূল নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় থাকে। শাসন বিভাগের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়লে একটি রাষ্ট্র বিপন্ন হতে বাধ্য। আবার আইন বিভাগের নিয়ন্ত্রণ না থাকলে শাসন বিভাগ বেপরোয়া হয়ে যেতে পারে।
এদিক থেকে শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগ পরস্পর পরস্পরের পরিপূরক, নিয়ন্ত্রক এবং সমন্বয় সাধনকারী। রাষ্ট্র পরিচালনায় এই দুটি বিভাগের ভূমিকাও অনেকটা তত্ত্বাবধায়কের ন্যায়। তাই আমি মনে করি, একটি রাষ্ট্র উদ্দীপকে চিহ্নিত A এবং B দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
ব্রিটেনের আইনসভার উচ্চকক্ষের নাম হাউস অব লর্ডস এবং নিম্নকক্ষের নাম হাউস অব কমন্স।
সরকারের যে বিভাগ আইনসভা প্রণীত আইন অনুসারে রাষ্ট্রীয় শাসনকার্য পরিচালনা করে, তাকে শাসন বিভাগ বলে। অর্থাৎ আইন বিভাগ প্রণীত আইন অনুসারে যে বিভাগ দেশ শাসন বা পরিচালনা করে থাকে, তাই শাসন বিভাগ। সংকীর্ণ অর্থে শাসন বিভাগ হলো প্রজাতন্ত্রের নীতি ও কার্যক্রম নির্ধারণের দায়িত্ব প্রাপ্ত অংশ যেমন- প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রীবর্গ, আমলারা। আর ব্যাপক অর্থে আইন ও বিচার বিভাগ ব্যতীত প্রজাতন্ত্রের সকল অংশীজন শাসন বিভাগের আওতাভুক্ত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!