মহাদেশসমূহের বাইরে সমুদ্রের উপকূল রেখা থেকে তলদেশের দিকে ক্রমনিম্ন নিমজ্জিত অংশই মহীসোপান।
সমুদ্রে জোয়ারভাটার পানি ওঠানামাকারী অঞ্চল হচ্ছে তটদেশীয় অঞ্চল।
জোয়ারের সময় সমুদ্রের পানি সমুদ্রতীরের যতদূর পর্যন্ত উপরে ওঠে সেখান থেকে ভাটার টানে তা যে স্থান পর্যন্ত নেমে যায় সে স্থান পর্যন্ত বিস্তৃত অংশকে তটদেশীয় অঞ্চল বলে। তটদেশীয় অঞ্চল স্থলভাগ থেকে সাগর পর্যন্ত প্রায় ৩ কি. মি পর্যন্ত বিস্তৃত। পৃথিবীতে এ অঞ্চলের মোট আয়তন প্রায় ১৫৫ হাজার বর্গকিলোমিটার।
উদ্দীপকে রেজাউল সাহেব যে মহাসাগরটি দেখালেন সেটি হলো প্রশান্ত মহাসাগর।
প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমে এশিয়া মহাদেশ এবং পূর্বে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা অবস্থিত। প্রশান্ত মহাসাগর হলো পৃথিবীর মধ্যে গভীরতম মহাসাগর। সমগ্র ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৩৫% জুড়ে এর বিস্তৃতি। মোট আয়তন ১৬ কোটি ৬০ লক্ষ বর্গ কি. মি.। যা ভূপৃষ্ঠের সমগ্র জলভাগের ৪৫% স্থান জুড়ে বিস্তৃত। এর সর্বোচ্চ গভীরতা ১০.৭৯ কি. মি. এবং গড় গভীরতা প্রায় ৪,২৭০ মিটার। আকৃতি অনেকটা ত্রিভুজের মতো। এই ত্রিভুজের শীর্ষ দেশ বেরিং প্রণালি থেকে ক্রমশ দক্ষিণ দিকে অধিক প্রশস্ত হয়ে গেছে।
নিরক্ষরেখার নিকট প্রশান্ত মহাসাগর সর্বাধিক প্রশস্ত। যেখানে পূর্ব-পশ্চিমের বিস্তৃতি প্রায় ১৬৫,৩০০ কি. মি. এবং উত্তর-দক্ষিণে বিস্তার ১৫,১৬০ কি. মি.। এ মহাসাগরের বিভিন্ন দিকে ছোট-বড় প্রায় বিশ হাজারের মতো দ্বীপ রয়েছে। এ মহাসাগরের পশ্চিম দিকে ওখস্টক সাগর, পীতসাগর, পূর্ব চীন সাগর এবং উত্তর দিকে বেরিং সাগর, প্রশান্ত মহাসাগরের মহীসোপান অন্তর্গত।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশের ভূপ্রকৃতির কথা বলা হয়েছে।
অন্যান্য মহাসাগরের তলদেশ অপেক্ষা প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশ খুবই বৈচিত্র্যপূর্ণ। এর তলদেশে অসংখ্য গিরিখাত, শৈলশিরা, দ্বীপ ও দ্বীপপুঞ্জ এবং বিপুল পরিমাণ গভীর সমুদ্রের সমভূমি রয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশের গভীরতা অন্যান্য মহাসাগরের চেয়ে অনেক বেশি। এ মহাসাগরের অধিকাংশই গভীর সমুদ্রের সমভূমি অঞ্চল দিয়ে গঠিত। এ মহাসাগরের মহীসোপানের বিস্তৃতি অন্যান্য মহাসাগরের তুলনায় কম। এখানকার মহীসোপান খুবই অপ্রশস্ত। তবে এখানকার মহীঢালের পরিমাণ অনেক বেশি। এ মহাসাগরের তলদেশে উচ্চভূমির মধ্যে কতিপয় মালভূমি ও শৈলশিরা এবং ছোট-বড় অসংখ্য দ্বীপ রয়েছে। এ মহাসাগরের বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় মিলে প্রায় বিশ হাজার দ্বীপ রয়েছে। গভীর খাতগুলো প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তন্মধ্যে এ মহাসাগরে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ গভীরতম খাত মারিয়ানা খাত অবস্থিত।
সুতরাং বলা যায় যে, পৃথিবীর স্থলভাগের মতো সমুদ্রের তলদেশেও ঐরকম বৈচিত্র্যময় ভূপ্রকৃতি বিদ্যমান। স্থলভাগে যেমন বন্ধুর প্রকৃতির ভূপ্রকৃতি রয়েছে তেমনি জলভাগেও ঐরকম ভূপ্রকৃতি অবস্থিত।
Related Question
View Allমহাদেশসমূহের বাইরে সমুদ্রের উপকূল রেখা থেকে তলদেশের দিকে ক্রমনিম্ন নিমজ্জিত অংশই মহীসোপান।
সমুদ্রের গভীরে গর্তসদৃশ বিষয়টি গভীর সমুদ্রখাত নামে পরিচিত। গভীর সমুদ্রের সমভূমি অঞ্চলের l
পাশাপাশি অবস্থিত মহাদেশীয় ও সামুদ্রিক পাতের সংঘর্ষের ফলে সমুদ্রখাতের উদ্ভব হয় বিধায় প্রতিটি গভীর সমুদ্রখাত পাত সীমানায় অবস্থিত। এ পাত সীমানায় ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি অধিক হয় বলেই এসব খাত সৃষ্টি হয়েছে।
উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত জলভাগটি হলো বঙ্গোপসাগর। বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত যার ভূমিরূপ বৈচিত্র্যপূর্ণ।
বঙ্গোপসাগরের মহীঢাল এলাকায় খাড়া ঢাল বিশিষ্ট অবস্থানজনিত একটি গভীর নিমগ্ন খাত রয়েছে। এটি প্রায় ১২ কিমি. চওড়া এবং প্রায় ১২৭০ মিটার গভীর। এছাড়া প্রচন্ড ঢেউয়ের প্রভাবে পলল মহীসোপান জমা হয়ে চরাভূমি গঠন করে।
বঙ্গোপসাগরে সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড নামে একটি গভীর গিরিখাত; ৯০ ডিগ্রি পূর্ব শৈলশিরা, মায়ানমার ও চ্যাগোস পূর্ব উপকূলীয় সমুদ্রখাত ও কতিপয় নিমজ্জিত চরাভূমি। বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানের গভীরতা সর্বত্র ২০০ মিটারের কম। দক্ষিণ-পূর্বাংশের মহীসোপান খুবই চওড়া।
উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত জলভাগটি হলো বঙ্গোপসাগর। নিচে বঙ্গোপসাগরের তলদেশের অর্থনৈতিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করা হলো-
বঙ্গোপসাগরের তলদেশ নানা ধরনের সম্পদে সমৃদ্ধ। এ সাগরের তলদেশ খনিজ সম্পদ ও প্রাকৃতিক গ্যাসে সমৃদ্ধশালী। সম্প্রতি বাংলাদেশের উপকূলীয় মহীসোপান অঞ্চলে প্রাকৃতিক গ্যাস ও প্রচুর খনিজ সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে।
সাগরের অনেক স্থানে আবার মূল্যবান লোহা, সিসা, তামা ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। মৎস্য সম্পদেও এ এলাকা সমৃদ্ধশালী। এখানকার মৎস্য সম্পদের মধ্যে লাক্ষা, রূপচান্দা, চান্দা, চিংড়ি, গলদা চিংড়ি, হাঙ্গর, কোরাল, বোয়াল, ইলিশ প্রভৃতি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। নিজেদের চাহিদা মিটিয়েও প্রচুর পরিমাণে বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে।
তটদেশীয় অঞ্চলের পর হতে মহীসোপানের প্রান্ত পর্যন্ত অঞ্চলকে ঝিনুক অঞ্চল বলে।
পানি ছাড়া জীবজগতের অস্তিত্ব সম্ভব নয়, তাই জীবজগতে পানিচক্রের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীবজগতের ওপর পানিচক্র প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভূমিকা রাখে। পানিচক্রের প্রক্রিয়া সংঘটিত হয় সূর্যের তাপশক্তি দ্বারা। বাষ্পীভবন ও বর্ষণ একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। বাষ্পীভবন বেশি হলে বৃষ্টিপাত বেশি হবে। এ বৃষ্টিপাত পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ও জীজগতের ওপর প্রভাব রাখে। তাই বলা যায়, জীবজগতে পানিচক্রের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!