মিসরীয়দের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ নির্মাতা বলা হয়।
মরুপথের প্রধান সহায়ক বাহন হওয়ায় উটকে মরুভূমির জাহাজ বলা হয়।
উট আরবদের সবচেয়ে প্রিয় গৃহপালিত জন্তু। আরবদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই উটের ভূমিকা অপরিসীম। আরবে নৌ চলাচলের উপযোগী কোনো নদ-নদী নেই। এ কারণে আরববাসীরা খাদ্য ও পানীয় সংগ্রহ, যোগাযোগ এবং ক্রয়-বিক্রয়ের কোনো বাহন ব্যবহার করতে পারে না। এক্ষেত্রে তাদের প্রধান বাহন হিসেবে উট কাজ করে। উট মরুভূমিতে চলাচলের জন্য সবচেয়ে উপযোগী প্রাণী। তাই উটকে মরুভূমির জাহাজ বলা হয়।
মি. সালামের দেখা প্রতিবেদনের সাথে আমার পঠিত আইয়ামে জাহেলিয়া যুগের কথা বলা হয়েছে।
'আইয়াম' শব্দটি আরবি শব্দ। যার অর্থ যুগ। আর 'জাহেলিয়া' অর্থ অজ্ঞতা। সুতরাং আইয়ামে জাহেলিয়া অর্থ অজ্ঞতার যুগ। ধারণা করা হয় যে, যুগে আরবে কোনো প্রকার কৃষ্টি, সূক্ষ ধর্মীয় অনুভূতি বা চেতনা ছিলনা সে যুগকে আইয়ামে জাহেলিয়া বলা হয়। এ যুগের সামাজিক ও নৈতিক জীবন ছিল কলুষিত ও হতাশাব্যঞ্জক। আরবগণ সূরা, নারী ও যুদ্ধে লিপ্ত থাকত। এ যুগে পাপাচার, কুসংস্কার, অন্যায়, অবিচার সমাজকে কলুষিত করেছিল। মদ্যপান, জুয়াখেলা, সুদ ও নারীসঙ্গ ছিল তাদের নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এ সমাজে নারীর কোনো সামাজিক অবস্থান ছিল না। নারীদের ভোগ্যপণ্য হিসেবে ব্যবহার করা হতো। পুরুষরা একাধিক নারীর সাথে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত থাকত। নারীরা সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত হতো। কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করলে লজ্জার কারণে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. সালাম টেলিভিশনের প্রতিবেদনে দেখতে পেল কিছু নর-নারী মদ্যপান, জুয়াখেলা, ব্যভিচার এবং কন্যা সন্তানদের জীবন্ত কবর দিচ্ছে। যা আইয়ামে জাহেলিয়াতকে নির্দেশ করে।
উদ্দীপকে বর্ণিত জাহেলিয়া যুগের সামাজিক অবস্থা বর্ণনা করা হলো-
জাহেলিয়া যুগে আরবের সামাজিক অবস্থা ছিল চরম হতাশাপূর্ণ। এ যুগে মানুষ মূর্খতা, বর্বরতা ও প্রকৃতি পূজায় মগ্ন ছিল। সমাজে কৌলিন্য প্রথা বিরাজমান ছিল। ফলে দ্বন্দ্ব-সংঘাত লেগে থাকত। এ যুগে অন্যায়-অনাচার, পাপাচার, সূরা পান, জুয়া খেলা, সুদপ্রথা মানুষের জীবনকে কলুষিত করেছিল। মানবতা ছিল ভুলণ্ঠিত, সমাজে নারীর কোনো মর্যাদা ছিল না, লজ্জার কারণে কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দিতে তারা কুণ্ঠাবোধ করতো না। নারী ছিল ভোগ্যপণ্য মাত্র। এ সমাজে দাস-দাসীদের পণ্যের মতো হাটে-বাজারে বিক্রি করা হতো। তাদের ওপর নিষ্ঠুর আচরণ করা হতো। এ সমাজে নৈতিকতার চরম অবক্ষয় ঘটেছিল। তারা অনৈতিক কাজগুলো গর্বের সাথে সম্পন্ন করতো। যুদ্ধে যাওয়ার আগে তারা বীর পুরুষদের পূজা করতো। এ সমাজে সুদের ব্যাপক প্রচলন ছিল। সময়মতো ঋণগ্রহীতা অর্থ পরিশোধ করতে না পারলে তার স্ত্রী-পুত্র-কন্যাদের জোরপূর্বক দখল করে দাসে পরিণত করা হতো। এতসব অনৈতিক গুণাবলির মাঝেও আরবদের চরিত্রে অতিথিপরায়ণতা, স্বাধীনতা, স্বদেশপ্রীতি, কাব্যচর্চা প্রভৃতি সদগুণগুলো বিদ্যমান ছিল।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. সালামের দেখা প্রতিবেদনটিতে কিছু নর-নারী মদ্যপান, জুয়াখেলা, ব্যভিচার এবং কন্যাসন্তানদের জীবন্ত কবর দিচ্ছে। তারা অর্থনৈতিক সংকট দূরীকরণে কুসিদপ্রথা, চুরি, ডাকাতি এবং পরসম্পদ আত্মসাতে লিপ্ত। তাদের মধ্যে অনাচার, মিথ্যাচার এবং সংকীর্ণতা লক্ষণীয়।
যা জাহেলিয়া যুগের সামাজিক অবস্থাকে নির্দেশ করে।
পরিশেষে বলা যায়, জাহেলিয়া যুগের সামাজিক অবস্থা ছিল পাপ-পঙ্কিলতা ও অনৈতিকতায় ভরপুর। এ সমাজে নৈতিক গুণাবলি নির্বাসিত ছিল। মানুষ অনৈতিক উপায়ে তাদের কর্মকাণ্ড হাসিলে ব্যস্ত ছিল।
Related Question
View Allমহানবি (স) ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে ইন্তেকাল করেন।
সততা ও বিশ্বস্ততার ধারক হওয়ায় মহানবি (স)-কে আল-আমিন বলা হয়।
আল আমিন' শব্দের অর্থ বিশ্বাসী। মহানবি (স) ছোটবেলা থেকেই এ গুণটির অধিকারী ছিলেন। তিনি কখনো মিথ্যা কথা বলতেন না। তাই সবাই তাঁকে প্রচণ্ড বিশ্বাস করত এবং তাঁর ওপর আস্থা রাখত। এ মহান গুণের জন্য তাঁকে সবাই 'আল-আমিন' বলে ডাকত।
মহানবি (স)-এর বিদায় হজের ভাষণে দেওয়া দাস-দাসীদের প্রতি সদয় আচরণের উপদেশটি মেনে চললে আশরাফ সাহেব অধীনদের সাথে বিরূপ আচরণ করতে পারতেন না।
১০ম হিজরির ৯ জিলহজ (৬৩২ খ্রিষ্টাব্দ) মহানবি (স) বিশ্বমানবতার জীবন পরিচালনার সার্বিক নির্দেশনাস্বরূপ মক্কার আরাফাতের ময়দানে এক ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন, যা বিদায় হজের ভাষণ নামে খ্যাত। এ ভাষণে তিনি মানবজাতির সঠিক পথে পরিচালিত হওয়ার সার্বিক উপদেশ প্রদান করেন। অধীন বা দাস-দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহারও ছিল এ ভাষণের একটি উপদেশ। কিন্তু আশরাফ সাহেব এ নির্দেশ লঙ্ঘন করেছেন।
আশরাফ সাহেব তার অধীন ড্রাইভার, পরিচারিকা, বাবুর্চির সাথে সমতাভিত্তিক আচরণ করেন না। তিনি তাদের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা করেন। তাদের চিকিৎসা, পোশাক, বাসস্থানের ব্যাপারেও তিনি উদাসীন। অথচ বিদায় হজের ভাষণে রাসুল (স) বলেছেন, 'দাস-দাসীদের সাথে সদয় ব্যবহার করো। তাদের ওপর কোনোরূপ অত্যাচার করো না। তোমরা যা খাবে, তাদেরও তাই খাওয়াবে, তোমরা যা পরবে, তাদেরও তাই পরাবে- ভুলে যেও না তারাও তোমাদের মতো মানুষ।'
রাসুল (স)-এর এ নির্দেশ মেনে চললে আশরাফ সাহেব তার অধীন কর্মচারীদের প্রতি অন্যায় আচরণ করতে পারতেন না।
উদ্দীপকে নারীর প্রতি যে অবহেলা প্রকাশ পেয়েছে তা মহানবি (স)-এর বিদায় হজের ভাষণের নারীর প্রতি সদ্ব্যবহার সংক্রান্ত নির্দেশনার পরিপন্থি
মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর বিদায় হজের ভাষণ ছিল মানবজাতির জীবন পরিচালনার সার্বিক দিকনির্দেশনা। এ ভাষণে মানবজাতির মুক্তির নির্দেশনা দিতে গিয়ে রাসুল (স) বলেন 'তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সদয় ব্যবহার করবে, তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করবে না। তাদের ওপর তোমাদের যেমন অধিকার রয়েছে তেমনি তোমাদের ওপরও তাদের অধিকার রয়েছে।' কিন্তু জনাব আশরাফ এ নির্দেশ অমান্য করেছেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আশরাফ সাহেব তার স্ত্রীর সাথে দুর্ব্যবহার করেন। পারিবারিক কোনো সিদ্ধান্তে তিনি স্ত্রীর মতামত গ্রহণ করেন না। তার এ কর্মকাণ্ড ইসলাম তথা রাসুল (স)-এর নির্দেশের সম্পূর্ণ পরিপন্থি। কারণ ইসলাম নারীর সবধরনের অধিকারের স্বীকৃতি দিয়েছে। মহান আল্লাহ স্ত্রীদের সাথে উত্তম ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছেন। রাসুল (স)ও বিদায় হজের ভাষণে স্ত্রীদের প্রতি সদয় আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন।
পরিশেষে বলা যায়, ইসলাম নারীকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করে তাদের সকল প্রকার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই প্রত্যেকের কর্তব্য হলো ইসলামের এ নির্দেশ মেনে চলে নারীর মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা করা।
হযরত মুহাম্মদ (স)-এর মাতার নাম আমিনা বেগম।
হিলফুল ফুজুল বলতে কিশোর বয়সে মহানবি (স) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি শান্তিসংঘকে বোঝায়।
মহানবি (স) ছিলেন শান্তির দূত। তাই বালক বয়সে যখন তিনি পাঁচ বছর স্থায়ী 'হারবুল ফুজ্জার' যুদ্ধের (৫৮৪-৫৮৮ খ্রি.) ভয়াবহতা দেখলেন তখন তাঁর অন্তর মানবতার জন্য কেঁদে উঠল। এ প্রেক্ষিতেই তিনি সমমনা কয়েকজন উৎসাহী যুবক ও পিতৃব্য যুবাইরকে নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন 'হিলফুল ফুজুল' নামের শান্তিসংঘটি। সংগঠনটি গোত্রীয় যুদ্ধের অবসানসহ সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করত। এটি প্রায় ৫০ বছর স্থায়ী ছিল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!