মোবাইল ফোনের মাধ্যমে গ্রাহক যে ব্যাংকিং সুবিধা পায় তাকেই মোবাইল ব্যাংকিং বলে।
ই-ব্যাংকিং ব্যবস্থায় উন্নত ইলেকট্রনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অতি দ্রুত ও নির্ভুলভাবে কাজ পরিচালনা করা যায় বলে এটি ব্যাংক ব্যবসায় গুরুত্বপূর্ণ।
ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা প্রচলনের আগে ব্যাংকগুলোতে কায়িক শ্রম ও কাগজনির্ভর ব্যাংকিং ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল। যেখানে একটি চেকের অর্থ উঠাতে ও ব্যাংকিং সেবা পেতে অনেক সময় ব্যয় হতো। এতে ভুলের সম্ভাবনাও বেশি থাকতো। ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ওয়ান স্টপ সার্ভিস, অনলাইন ব্যাংকিং, এটিএম কার্ড, মোবাইল ব্যাংকিং প্রভৃতি সুবিধার কারণে গ্রাহক সেবার মান অনেক বেড়েছে। তাই ই-ব্যাংকিং বর্তমানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্দীপকে মি. সায়েমকে প্রথমে ডেবিট কার্ড সরবরাহ করা হয়।
এ কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহকগণ তাদের ব্যাংক হিসাবের জমাকৃত অর্থ নগদ উত্তোলনসহ কেনাকাটায় অর্থ পরিশোধের সুবিধা লাভ করে। এ সুবিধা লাভের জন্য গ্রাহকের হিসাবে পর্যাপ্ত পরিমাণ অর্থ জমা থাকা বাধ্যতামূলক। এ কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহকের হিসাবে অর্থ জমা থাকা সাপেক্ষে ২৪ ঘণ্টা ব্যাংকিং লেনদেন করা যায়।
উদ্দীপকে মি. সায়েম একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। কর্মব্যস্ততার কারণে ব্যাংক থেকে সরাসরি টাকা না উঠিয়ে তিনি ব্যাংক ইস্যুকৃত প্লাস্টিক কার্ডের মাধ্যমে ATM বুথ থেকে টাকা তোলেন। পাশাপাশি কেনাকাটার ক্ষেত্রে কার্ডটি ব্যবহার করেন। তবে হিসাবে জমাকৃত টাকার অতিরিক্ত ব্যবহার করতে পারেন না। তাই পরবর্তীতে তিনি ব্যাংক থেকে অন্য আরেকটি কার্ড সংগ্রহ করেন। সাধারণত ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে ব্যাংক থেকে জমাকৃত অর্থ উত্তোলন করা হয়। এ কার্ডের বিপরীতে জমাতিরিক্ত উত্তোলন সম্ভব নয়। অর্থাৎ, মি. সায়েমের প্রথম কার্ডটি থেকে জমাতিরিক্ত উত্তোলন করা যায় না বলে উক্ত কার্ডটি ডেবিট কার্ডের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, মি. সায়েমের প্রথম ক্লার্ডটি একটি ডেবিট কার্ড।
উদ্দীপকে ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত দ্বিতীয় কার্ডটি ক্রেডিট কার্ড, যা লেনদেনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এ কার্ড একটি বহুল ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক সেবা পদ্ধতি। এ ধরনের কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহক ঋণ (ক্রেডিট) সুবিধা পায়। এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে এবং নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে কেনাকাটা করতে এই কার্ড ব্যবহৃত হয়।
উদ্দীপকে মি. সায়েম ATM বুথ থেকে টাকা তুলতে এবং কেনাকাটা করতে একটি কার্ড ব্যবহার করেন। তবে হিসাবে জমাকৃত টাকার অতিরিক্ত ব্যবহার করতে পারেন না। অর্থাৎ, মি. সায়েমের ব্যবহৃত প্রথম কার্ডটি একটি ডেবিট কার্ড। উক্ত সমস্যা সমাধানের জন্য ব্যাংক কর্মকর্তা তাকে অন্য আরেকটি প্লাস্টিক কার্ড সরবরাহ করেন। কার্ডটি দিয়ে তিনি জমা টাকার অতিরিক্ত নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা তুলতে পারছেন। এছাড়া কেনাকাটার কাজেও ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন। তবে উত্তোলনকৃত অতিরিক্ত অর্থ পরবর্তীতে সুদসহ ব্যাংককে পরিশোধ করতে হয়।
মি. সায়েমের দ্বিতীয় কার্ডটি একটি ক্রেডিট কার্ড। ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহক কোনো জামানত ছাড়াই ঋণ পেয়ে থাকে। প্রয়োজনীয় সময়ে অর্থাৎ, লেনদেনে এই ঋণ সুবিধাকে কাজে লাগানো যায়। এছাড়াও ঋণ নেওয়ার একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যাংকের টাকা ফেরত দিলে গ্রাহককে কোনো সুদ দিতে হয় না। এক্ষেত্রে লেনদেনে ক্রেডিট কার্ড সুদবিহীন ঋণ হিসেবেও গুরুত্ব বহন করে। এছাড়া বাকিতে কেনাকাটার ক্ষেত্রেও এ কার্ডটি ব্যবহারযোগ্য। তাই বলা যায়, মি. সায়েমকে ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত দ্বিতীয় কার্ডটি লেনদেনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
Related Question
View Allযে সংস্থা আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য সহজে, দ্রুত ও নিরাপদে আদান-প্রদান করে তাকে SWIFT বলে।
ই-ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অতিদ্রুত, নির্ভুলভাবে ও সহজে ব্যাংকিং সেবা পাওয়া যায় বলে ই-ব্যাংকিং জনপ্রিয়।
আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দ্রুত নির্ভুল ব্যাংকিং কাজ পরিচালনার নামই ই-ব্যাংকিং। গ্রাহক এর মাধ্যমে যেকোনো সময় দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে ব্যাংকিং সেবা পেয়ে থাকে। গ্রাহকের হিসাবের গোপনীয়তা বজায় রেখে ব্যাংক স্বল্প ব্যয়ে এ সুবিধা প্রদান করে। এর মাধ্যমে গ্রাহক ঘরে বসেই অর্থ স্থানান্তরসহ সকল আর্থিক লেনদেন সম্পূর্ণ করতে পারে। তাই ই-ব্যাংকিং এতো জনপ্রিয়।
জনাব রহমানকে ব্যাংক প্রথমে ডেবিট কার্ড সরবরাহ করে।
এটি ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং-এর অন্যতম একটি সেবা। গ্রাহকের হিসাবে ডেবিট জের থাকলেই কেবল এ কার্ড ব্যবহার করা যায়। এর মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন, অর্থ স্থানান্তর ও অন্যান্য ব্যাংকিং সুবিধা পাওয়া যায়। এ কার্ড ব্যবহারের জন্য ব্যাংকে হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক।
উদ্দীপকে জনাব রহমান একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। তিনি ব্যাংকে হিসাব খুলেন। ব্যাংক তাকে চেক বই ও চুম্বকীয় প্লাস্টিক কার্ড সরঘরাহ করে। যার মাধ্যমে তিনি ব্যাংকে না গিয়েও টাকা উত্তোলন করতে পারেন। কিন্তু তিনি জমাতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন করতে পারেন না। সাধারণত ডেবিট কার্ডের ক্ষেত্রে ব্যাংকে হিসাব খুলতে হয়। গ্রাহক তার হিসাবে জমাকৃত অর্থের অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন করতে পারেন না। জনাব রহমান তাই অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজনে অন্য একটি কার্ড সংগ্রহ করেছেন। তাই বলা যায়, জনাব রহমানকে ব্যাংক প্রথমে ডেবিট কার্ড সরবরাহ করেছিল।
উদ্দীপকের জনাব রহমানের ডেবিট কার্ড ও ক্রেডিট কার্ডের মধ্যে তার জন্য ক্রেডিট কার্ডই উত্তম বলে আমি মনে করি।
ডেবিট কার্ড ও ক্রেডিট কার্ড দুটিই বহুল ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক সেবা পদ্ধতি। ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহক সব ধরনের আর্থিক লেনদেন করতে পারে। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের জন্য ব্যাংকে হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক নয়। এ কার্ডের বিপরীতে নির্দিষ্ট পরিমাণ ঋণ সুবিধাও পাওয়া যায়।
উদ্দীপকে জনাব রহমান একজন ব্যবসায়ী। তিনি ব্যাংক হিসাবের বিপরীতে একটি প্লাস্টিক কার্ড পান। যার মাধ্যমে ব্যাংকে না গিয়েও তিনি টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। হঠাৎ ব্যবসায়িক প্রয়োজনে তার জমাতিরিক্ত টাকার প্রয়োজন হয়। তিনি ব্যাংক থেকে অন্য একটি কার্ড সংগ্রহ করেন। যার সাথে ব্যাংক হিসাবের কোনো সম্পর্ক নেই। এ কার্ড দিয়ে তিনি বিদেশে যাবতীয় খরচাদি সম্পন্ন করতে পারবেন। একজন ব্যবসায়ী হিসেবে জনাব রহমানের প্রতিনিয়ত ব্যাংকিং লেনদেন সম্পাদন করতে হয়। তার প্রথমে ব্যবহৃত ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে তার হিসাবে জমাকৃত অর্থ দ্বারাই শুধু লেনদেন করতে পারবেন। অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজনে কার্ডটি তার কাছে মূল্যহীন। অন্যদিকে, পরবর্তীতে ব্যবহৃত ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে তিনি ঋণ সুবিধা পাবেন। ব্যবসায়ের প্রয়োজনে যেকোনো সময়ই এ জমাতিরিক্ত অর্থ ব্যবহার করতে পারবেন। প্রয়োজন শেষে উক্ত অর্থ পরিশোধ করে পুনরায় ঋণ হিসেবে গ্রহণ করতে পারবেন। যা একজন ব্যবসায়ীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই বলা যায়, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের মধ্যে জনাব রহমানের জন্য ক্রেডিট কার্ড উত্তম বলে আমি মনে করি।
'One Stop Service' বলতে একজন ব্যাংক কর্মকর্তার কাছ থেকে গ্রাহকের প্রয়োজনীয় সার্ভিস লাভকে বোঝায়।
বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের মধ্যকার আন্তঃব্যাংকিং দেনা-পাওনা নিষ্পত্তির স্থান হলো নিকাশঘর।
প্রতি কার্যদিবসে একটি নির্দিষ্ট সময়ে নিকাশঘরের সদস্যদের নিয়ে বৈঠক হয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিনিধি এতে সভাপতিত্ব করেন। সদস্য ব্যাংকগুলো বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে প্রাপ্ত চেক, বিল, ড্রাফট প্রভৃতির সমন্বয়ে মোট দেনা-পাওনার বিবরণী তৈরি করে। যেসব ব্যাংকের কাছে টাকা পাওনা আছে সেই সব ব্যাংকের কাছে দাবি সংবলিত রিপোর্টটি উপস্থাপন করা হয়। ফলে খুব সহজেই একটি ব্যাংক তার দেনা-পাওনার হিসাব তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশের নিকাশঘর দু'ধরনের পদ্ধতিতে কাজ করে। একটি হলো আন্তঃশাখা নিকাশঘর পদ্ধতি, অপরটি আন্তঃব্যাংক নিকাশঘর পদ্ধতি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!