যা বিনিময়ের সাধারণ মাধ্যম, মূল্যের পরিমাপ ও সঞ্চয়ের বাহন হিসেবে সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত ও সকলের নিকট সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য হয়, তাকে মুদ্রা বলা হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আন্তঃব্যাংক হিসাব নিষ্পত্তি করার কাজটিকেই 'নিকাশ ঘর' বলা হয়।
ভিন্ন ভিন্ন ব্যাংকের ভিন্ন ভিন্ন শাখার মধ্যে আন্তঃব্যাংকিং লেনদেনের নিষ্পত্তি স্থলকে নিকাশঘর বা ক্লিয়ারিং হাউজ বলে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যাংকসমূহ তাদের মধ্যকার সব দেনাপাওনা নিষ্পত্তি করে থাকে। পৃথিবীর সব দেশেই এ নিকাশঘর ব্যবস্থা রয়েছে এবং প্রতিটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ দায়িত্ব পালন করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ দায়িত্ব পালন করে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে 'নিকাশঘর' বলা হয়। এর ফলে ব্যাংকিং ব্যবস্থা তথা আর্থিক লেনদেন আরও গতিশীল হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত মি. সুমন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে কর্মরত আছেন। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো:
কেন্দ্রীয় ব্যাংক হলো এমন একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যার ওপর মুদ্রা প্রচলনের একচেটিয়া অধিকার ন্যস্ত থাকে। এ প্রতিষ্ঠানটি সরকার ও অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যাংকার, বৈদেশিক মুদ্রার হার নিয়ন্ত্রক, ঋণের পরিমাণ ও ব্যবস্থায় একক নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করে। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের মুদ্রা বাজারের অভিভাবক হওয়ায় স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে উন্নত মুদ্রানীতি ঘোষণা করে এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে আর্থিক সহায়তা ও পরামর্শ দিয়ে থাকে।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, মি. সুমন এমন একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন, যা দেশের সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠান তথা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও নির্দেশনা দিয়ে থাকে। এছাড়া এ প্রতিষ্ঠানটি দেশের ঋণ ব্যবস্থাও তদারকি করে থাকে। এ সকল কার্যাবলির সাথে মি. সুমনের কর্মরত ব্যাংকের কার্যাবলি বা বৈশিষ্ট্যের মিল থাকায় বলা যায় তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে কর্মরত আছেন।
একটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের অর্থব্যবস্থার উন্নয়নে নানাভাবে ভূমিকা রাখে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের ব্যাংকার হওয়ায় সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা গ্রহণে পরামর্শ ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। এতে দেশের কৃষি ও শিল্পের সার্বিক উন্নয়ন সাধিত হয়। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি দেশের অনুন্নত ক্ষেত্রগুলোকে চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী আর্থিক নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে সরকারের উন্নয়নমূলক কাজে সহায়তা প্রদান করে।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায় মি. সুমনের কর্মরত ব্যাংক অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিক নির্দেশনা দেয়। যা দেশের ব্যাংকিং কার্যক্রম সহজ ও সম্প্রসারিত করে। এর ফলে দেশের আর্থ-সামাজিক কর্মকাণ্ডও সম্প্রসারিত হয়।
আবার একটি দেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির জন্য নতুন নতুন অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গবেষণা করে। এছাড়া দেশের মুদ্রায় বিনিময় হার স্থিতিশীল রেখে বৈদেশিক বাণিজ্য প্রসারে সহায়তা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাই বলা যায়, একটি দেশের উন্নয়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
Related Question
View Allযা বিনিময়ের সাধারণ মাধ্যম, মূল্যের পরিমাপ ও সঞ্চয়ের বাহন হিসেবে সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত ও সকলের নিকট সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য হয়, তাকে মুদ্রা বলে।
মুদ্রার মূল্য বলতে তার ক্রয় ক্ষমতাকে বোঝায়।
একটি নির্দিষ্ট সময়ে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দ্বারা যে পরিমাণ দ্রব্যসামগ্রী ও সেবা ক্রয় করা যায় তাই হলো অর্থের মূল্য। অর্থের এ ক্রয়ক্ষমতা তথা অর্থের মূল্য দুটি দিক থেকে বিবেচনা করা হয়। যথা-অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ক্রয়ক্ষমতা। অর্থের অভ্যন্তরীণ মূল্য বলতে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থের ক্রয়ক্ষমতাকে বোঝায়। অন্যদিকে, অর্থের বৈদেশিক মূল্য বলতে আন্তর্জাতিক বাজারে তার ক্রয়ক্ষমতাকে বোঝায়। এটি বৈদেশিক বিনিময় হারের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। অর্থের মূল্য ১ বা যেখানে, Vm = অর্থের মূল্য ও P = দামস্তর।
দামস্তর
জাউদ্দীপকে উল্লিখিত তথ্যের ভিত্তিতে ফিশারের অর্থের বিনিময় সমীকরণ ব্যবহার করে নিচে দেশটির দামস্তর নির্ণয় করা হলো:
ফিশারের মুদ্রার পরিমাণ তত্ত্ব অনুসারে ভারসাম্য অবস্থায় অর্থের চাহিদা ও যোগান সমান হয়। অর্থাৎ, PT = MV + M'V' হয়, যা ফিশারের বিনিময় সমীকরণ নামে পরিচিত। এক্ষেত্রে PT হলো অর্থের চাহিদা এবং MV + M'V' হলো অর্থের যোগান।
এখন,
বা,PT = MV + M' V'
P=MV + M' V'
T
বা,
বা
বা
বা
এটিই হলো দেশটির নির্ণেয় দামস্তর।
ফিশারের বিনিময় সমীকরণ,
বা,
বা,
বা,
বা,
বা, P = 23.33
... নতুন দামস্তর, overline P1= 23.33 টাকা। দামস্তরের সাথে অর্থের মূল্য (Vm) এর বিপরীত সম্পর্ক হওয়ায় দামস্তর কমলে অর্থের মূল্য বাড়ে। যেমন- উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী দামস্তর P
= 64 টাকা হতে P1 = 23.33 টাকা হলে অর্থের মূল্য থেকে বেড়ে হয়। সুতরাং বলা যায়, প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী উল্লিখিত দেশটির ক্ষেত্রে অর্থের মূল্যের ধনাত্মক পরিবর্তন হবে তথা অর্থের মূল্য বাড়বে।
যে ব্যাংক দেশের মুদ্রা ব্যবসায় ও সমগ্র ব্যাংক ব্যবসায়কে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলে
ব্যাংকিং সুবিধা ও গঠন প্রক্রিয়ার দিক থেকে অনলাইন ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং থেকে ভিন্ন।
অনলাইন ব্যাংকিং বলতে এমন একটি ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে বোঝায়, যার মাধ্যমে পূর্বে প্রচলিত ব্যাংকিং সার্ভিস দ্রুত এবং ব্র্যাঞ্চ নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা যায়। যেমন- অ্যাকাউন্ট থেকে যেকোনো ব্র্যাঞ্চের মাধ্যমে টাকা জমা দেওয়া বা উত্তোলন, ইন্টারনেটের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টের তথ্য জানা বা লেনদেন। অপরপক্ষে মোবাইল ব্যাংকিং একটি সম্পূর্ণ নতুন ব্যবস্থা যার মাধ্যমে মোবাইল নম্বরভিত্তিক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অর্থের লেনদেন করা যায়। অনলাইন ব্যাংকিং-এ ইন্টারনেট ও কম্পিউটার থাকা আবশ্যক। কিন্তু মোবাইল ব্যাংকিং-এ গ্রাহকের কাছে ইন্টারনেটের কোনো প্রয়োজন নেই। তাই বলা হয়, অনলাইন ব্যাংকিং এর গঠন প্রক্রিয়া, মোবাইল ব্যাংকিং এর গঠন প্রক্রিয়ার থেকে ভিন্ন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!