যে পারিপার্শ্বিকতার মধ্যে মানুষ জীবনধারণ করে তাকেই পরিবেশ বলে।
আমাদের চারপাশ ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু, নদনদী, পাহাড়-পর্বত ইত্যাদি বিভিন্ন উপাদান দ্বারা বেষ্টিত, একে প্রাকৃতিক পরিবেশ বলে। প্রাকৃতিক পরিবেশ ব্যবসায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যে অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ যত ভালো সে অঞ্চলে পরিবেশকে কেন্দ্র করে আধুনিক ব্যবসায় বাণিজ্যে উন্নতিসাধন করে। প্রাকৃতিক উপাদানসমূহকে কাজে লাগিয়ে মানুষ ব্যবসায় পরিচালন করে। এজন্য ব্যবসায় বাণিজ্যে প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রভাব সর্বাধিক বলা হয়।
উদ্দীপকে মি. সুমন হাবীব অর্থনৈতিক পরিবেশের নেতিবাচক প্রভাব চিন্তা করে প্রথম ভাবনা থেকে পিছিয়ে এসেছেন।
জনসম্পদ ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে কোনো দেশে যে পরিবেশের সৃষ্টি হয়, তাকে অর্থনৈতিক পরিবেশ বলে। যেদেশে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বিনিয়োগ ভালো, মূলধনের পরিমাণ আশাব্যঞ্জক, অর্থ ও ঋণ ব্যবস্থা উন্নত সেই দেশ ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে ততই অগ্রগতি লাভ করতে পারে।
উদ্দীপকে মি. সুমন হাবীব বিদেশ থেকে ফিরে ব্যবসায় করবে ভাবল। প্রথমে ভাবল কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেমের ওপর কিছু একটা করবে। কিন্তু দক্ষ জনশক্তি, বাজার, মূলধন ইত্যাদি বিষয়ে অনিশ্চয়তা ভেবে পরবর্তীতে তার ভাবনা থেকে পিছিয়ে এসেছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিবেশের কিছু উপাদান ব্যবসায় উন্নয়নের সহায়ক হলেও অনেক উপাদানই এক্ষেত্রে বড় ধরনের বাধা হয়ে আছে। তবে জনগণের মাথাপিছু আয় কম হওয়ায় সঞ্চয় ও মূলধন গঠনের হার কম। ফলে বিনিয়োগও আশাব্যঞ্জক নয় এবং অর্থ ও ঋণ ব্যবস্থা দুর্বল। অতিরিক্ত সুদের হারও ব্যবসায়ীদের জন্য সমস্যা এবং দক্ষ জনশক্তি না থাকায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা দুর্বল। ফলে মূলধনের অভাবে দেশে ব্যবসায়-বাণিজ্যে সম্প্রসারণ ঘটছে না। তাই মি. সুমন তার প্রথম ভাবনা থেকে পিছিয়ে এসেছেন।
উন্নত সামাজিক পরিবেশের কারণেই উদ্দীপকের সুমন আজ ফ্যাশন শিল্পে প্রতিষ্ঠিত- বক্তব্যটি যথার্থ।
পরিবেশ একটা দেশের মানুষের জীবনযাত্রা, ব্যবসায়-বাণিজ্যে ও সামগ্রিক কর্মকান্ডে ব্যাপক প্রভাব রাখে। পাশাপাশি ব্যবসায় পরিবেশ এমনসব দক্ষ জনশক্তি ও পারিপার্শ্বিক উপাদানসমূহের সমন্বয়ে গঠিত অবস্থা যা ব্যবসায়িক কার্যকলাপকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করে।
সমাজে বসবাসরত মানুষের সভ্যতা ও জীবনধারাকে প্রভাবিত করে এমনসব উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত পরিবেশকে সামাজিক পরিবেশ বলে। সামাজিক পরিবেশ গড়ে ওঠে সমাজে বসবাসকারী মানুষের অভ্যাস, আচার-আচরণ, পছন্দ-অপছন্দ, আবেগ-অনুভূতি, নৈতিকতা, মূল্যবোধ, বুচি-ফ্যাশন, শিক্ষা, নগরায়ণ প্রভৃতি উপাদানের সমন্বয়ে। অনুকূল সামাজিক পরিবেশ ব্যবসায়ের জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকে মি. সুমন একটা ফ্যাশন হাউস গড়ে তুলেছে। সেখানে পুরনো ঐতিহ্যের সাথে নতুন চিন্তার সমন্বয় ঘটিয়ে নিত্যনতুন ডিজাইনের পোশাক বাজারে নিয়ে আসে। তার এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সমাজে বসবাসকারী মানুষের অভ্যাস, আচার-আচরণ, পছন্দ-অপছন্দ, আবেগ-অনুভূতি, রুচি-ফ্যাশন ইত্যাদির সমন্বয়ে সমাজের মানুষকে সেবা প্রদান করা হয়ে থাকে। যা সামাজিক পরিবেশের আওতাভুক্ত। অর্থাৎ তার সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ফলে সবাই তার এ কাজের সমাদর করছে। উন্নত সামাজিক পরিবেশের কারণেই সুমন ফ্যাশন শিল্পে সাফল্য অর্জনে সক্ষম হয়েছেন। তাই মি. সুমনের পরবর্তী চিন্তায় সামাজিক পরিবেশ যে প্রভাব রেখেছে তা যথার্থ।
Related Question
View Allসঞ্চয় ও বিনিয়োগ অর্থনীতিক পরিবেশের উপাদান
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!