সুশাসন হলো একটি কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতিফলন।
সুশাসন গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত। কেননা গণতন্ত্রের পূর্বশর্তগুলো একমাত্র সুশাসনের মাধ্যমেই পূরণ করা সম্ভব হয়।
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য সুশাসনের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। সুশাসন দ্বারাই জনগণের মৌলিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতা রক্ষা করা যায়। সুশাসনের ফলেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও সুশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা পরিহার করে গণতান্ত্রিক চর্চা অর্থাৎ জাতির বৃহত্তম স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব। তাই বলা যায়, সুশাসন গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত কথাটি যথার্থ।
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' রাষ্ট্রে যথাযথ সুশাসনের অভাব রয়েছে।
উদ্দীপকে প্রবীণ সংবাদকর্মী মি. "M" একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রবন্ধ পাঠের মাধ্যমে জানতে পারেন যে 'ক' নামক রাষ্ট্রের রাজধানীতে কিছু উন্নয়ন হলেও দেশটিতে আইনের শাসনের অভাব, রাজনৈতিক স্থিতিহীনতা, স্বজনপ্রীতি, যথাযথ শিক্ষার অভাব বিদ্যমান রয়েছে। 'ক' রাষ্ট্রের সমস্যাগুলো সাধারণত সুশাসনের অভাবেই পরিলক্ষিত হয়।
সুশাসনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো আইনের শাসন। এর অনুপস্থিতি বা চর্চা না থাকলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
আইনের শাসন জনগণের অধিকার রক্ষার রক্ষাকবচ। মানবাধিকার সংরক্ষণ, সংখ্যালঘু ও রাজনৈতিক বিরোধী শিবিরের ন্যায়বিচার পাওয়াকে নিশ্চিত করা আইনের শাসনের দায়িত্ব। নিরপেক্ষ, স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং দুর্নীতিমুক্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় জরুরি। কিন্তু যে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত নয় সেখানে
আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারে না অর্থাৎ সেদেশে আইনের শাসনের অভাব পরিলক্ষিত হয়। যে দেশে সুশাসনের অভাব থাকে সে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিহীনতা বিরাজ করে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে সার্বিক বিচারে সুশাসন অনিশ্চিত। হয়ে পড়ে। সুশাসনের অভাবে প্রশাসনে স্বজনপ্রীতি দেখা দেয়। এমতাবস্থায় সরকারি সুযোগ-সুবিধা কেবল আমলা ও রাজনৈতিক নেতাদের স্বজন এবং নিকটাত্মীরাই ভোগ করে। জনপ্রশাসনের এরূপ ব্যবহার সুশাসনের অভাবকেই চিহ্নিত করে। আবার যে দেশে যথাযথ শিক্ষার অভাব কিংবা নিরক্ষরতা বিরাজমান থাকে সে দেশে সুশাসনের অনুপস্থিতি থাকে। কেননা যথাযথ আধুনিক শিক্ষার অভাবে, মানুষ গণতন্ত্র, মানবাধিকার, দায়িত্ব কর্তব্যবোধ সম্পর্কে অজ্ঞ বা অসচেতন থাকে। ফলে সেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় না। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের 'ক' নামক দেশটির আইনের শাসনের অভাব রাজনৈতিক স্থিতিহীনতা, স্বজনপ্রীতি যথাযথ শিক্ষার অভাব বিষয়গুলো দেখে সে দেশে সুশাসনের অভাব রয়েছে বলেই প্রতীয়মান হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত রাষ্ট্র দুটির শাসনব্যবস্থায় সুশাসনের পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' নামক রাষ্ট্রের রাজধানীতে কিছু উন্নয়ন হলেও সমগ্র দেশটিতে আইনের শাসনের অভাব, রাজনৈতিক স্থিতিহীনতা, । স্বজনপ্রীতি, যথাযথ শিক্ষার অভাব ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হয়। 'ক' ! নামক রাষ্ট্রটিতে স্পষ্টতই সুশাসনের বৈশিষ্ট্যের অভাব দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে, 'খ' নামক রাষ্ট্রে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি আইনের শাসন বিদ্যমান থাকায় সেখানের শাসনব্যবস্থায় সুশাসন বিরাজ করছে বলে প্রতীয়মান হয়।"
সুশাসনের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো আইনের শাসন। রাজনৈতিক স্থিতিহীনতা বা অস্থিতিশীলতা সুশাসনের জন্য বড় বাধা। রাজনৈতিক স্থিতিহীনতা দেশে অরাজক পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটায় এবং এতে আইনশৃঙ্খলার মারাত্মক অবনতি ঘটে। আবার সুশাসনের অভাবে জনপ্রশাসনে স্বজনপ্রীতি চরম আকার ধারণ করে যাতে করে সরকারি সুযোগ-সুবিধা কেবল আমলা ও রাজনৈতিক নেতাদের স্বজনরাই ভোগ করে। অশিক্ষিত মানুষ গণতন্ত্র, মানবাধিকার, দায়িত্ব-! কর্তব্যবোধ সম্পর্কে সচেতন থাকে না। উদ্দীপকে 'ক' নামক রাষ্ট্রে উল্লিখিত বিষয়গুলোর অভাব থাকায় প্রমাণ করে যে, সে দেশের শাসনব্যবস্থায় সুশাসন কায়েম নেই, সে দেশের শাসনব্যবস্থায় অরাজকতা বিরাজ করছে। অপরদিকে, উদ্দীপকে 'খ' রাষ্ট্রে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি আইনের শাসন বিদ্যমান থাকায় বোঝা যায় যে, সেখানে সুশাসন বিরাজমান।
কেননা যথাযথ পরিকল্পনার মাধ্যমে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব। আর যথাযথ পরিকল্পনা তখনই সম্ভব যখন দেশে সুশাসন বিরাজমান থাকে। সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও যথাযথ পরিকল্পনা অপরিহার্য। 'খ' নামক রাষ্ট্রটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে সে দেশের শাসনব্যবস্থায় সুশাসন বিরাজমান থাকায়। আবার 'খ' নামক রাষ্ট্রটিতে আইনের শাসনও পরিলক্ষিত হয়। আমরা জানি, আইনের শাসনের জন্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি কারণ যে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়নি সেদেশে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারে না। বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ রাজনৈতিক | হস্তক্ষেপমুক্ত হয়ে কাজ করতে পারে না, যা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় র। বড় বাধা। যেসব দেশে সুশাসন নেই সেসব দেশে আইনশৃঙ্খলা ।। রক্ষাকারী বাহিনীকে রাজনৈতিক বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সুশাসন থাকলেই আইনের শাসন কার্যকর করা সম্ভব। আবার আইনের শাসনের মাধ্যমেই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব। সুতরাং আমরা বলতে পারি উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থায় সুশাসনের অভাব রয়েছে এবং সুশাসন বিদ্যমান রয়েছে। 'খ' নামক রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থায়
Related Question
View AllকUNDP-এর পূর্ণরূপ হলো United Nations Development
Programme |
সাধারণভাবে রাজনৈতিক অঙ্গনের অস্থিতিশীল পরিবেশকে রাজনৈতিক অস্থিরতা বলা হয়। একটু ব্যাপকভাবে বলতে গেলে ভঙ্গুর গণতান্ত্রিক পরিবেশে যখন রাজনৈতিক দলসমূহের মধ্যে সুষ্ঠু রাজনীতি চর্চার অভাবহেতু পারস্পরিক অবিশ্বাস, সন্দেহ, কোন্দল এবং হানাহানি ও সহিংসতা দেখা দেয়, সেই পরিবেশকে রাজনৈতিক অস্থিরতা বলে। অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশে দেশে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়। এর ফলে গণতন্ত্র ব্যাহত হয়, নেতৃত্বের বিকাশ ঘটে না। অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ সুশাসনের অন্তরায়।
ক' দেশটির উল্লিখিত সমস্যাগুলো সামাজিক সমস্যা। কোনো দেশের আর্থসামাজিক বিপর্যয়ের ওপর নির্ভর করে এ ধরনের সামাজিক সমস্যার জন্ম হয়। এরূপ সামাজিক সমস্যা অনেক সমস্যার সৃষ্টি করে থাকে। যেমন অধিক জনসংখ্যা একটি সামাজিক সমস্যা, কিন্তু এটি অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করে, পরিবেশ বিপন্ন করে, সামাজিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে, রাজনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করে থাকে। অধিক জনসংখ্যা শিক্ষা বিস্তারে বাধার কারণ হয়। একই সাথে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়, অপরাধপ্রবণতা বাড়ে অর্থাৎ একটি সমস্যা থেকে একাধিক সমস্যার উৎপত্তি হয়। উদ্দীপকের সমস্যাগুলোর ক্ষেত্রেও একথা প্রযোজ্য। এসব মূলত সামাজিক সমস্যা হলেও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমস্যারও সৃষ্টি করে থাকে। যেকোনো দেশের জন্য এসব সমস্যা সুশাসনের অন্তরায়। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পথে এসব সমস্যা যখন বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তখন তা সুশাসনের অন্তরায় হিসেবে কাজ করে। আর সুশাসনের অন্তরায় দুঃশাসনকে টেনে আনে।
সুনাগরিকগণ একটি দেশের সর্বোত্তম সম্পদ। একটি দেশের অগ্রগতি, উন্নতি নির্ভর করে সুনাগরিকদের কাজের ওপর।
কোনোদেশের সরকারের একার পক্ষে দেশের সার্বিক উন্নয়ন এবং সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। জনগণ ও সরকার সম্মিলিতভাবে এসব সমস্যার সমাধান করতে পারে। উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' দেশটির সমস্যা সমাধানেও নাগরিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কোনো দেশের জনসংখ্যা সমস্যা সমাধান সরকার যত কার্যক্রমই গ্রহণ করুক না কেন, জনগণের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছাড়া তা সম্ভব নয়। জনসংখ্য পরিকল্পনায় প্রতিটি নাগরিককে এগিয়ে আসতে হবে।
জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সচেতনতা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য আবশ্যক। শিক্ষা বিস্তারে দেশের জনগণ সরকারকে সহযোগিতা করতে পারে। শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত প্রতিটি নাগরিককে এক্ষেত্রে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। যারা শিক্ষার আলো থেকে দূরে, তাদেরকে শিক্ষা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, শিক্ষা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত উন্নতি সম্ভব নয়। শিক্ষাই উন্নতির সোপান, কথাগুলো শিক্ষা বঞ্চিতদেরকে বোঝাতে হবে।
সন্ত্রাস ও দুর্নীতি একটি দেশের জন্য অভিশাপস্বরূপ। সন্ত্রাস ও দুর্নীতির সাথে জড়িত ব্যক্তিরা সমাজেরই অংশ। নাগরিকদের একটি অংশই এ কাজে যুক্ত থাকে। সন্ত্রাস ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সাধারণ জনগণকেই সজাগ থাকতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যাতে দুর্নীতি থেকে মুক্ত থাকে, সেজন্য নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। দুর্নীতিবাজদেরকে সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে। সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে সন্ত্রাস, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি দূর করা খুবই সহজ কাজ। এ ব্যাপারে নাগরিকদেরকে এগিয়ে আসতে হবে।
শাসন প্রক্রিয়ায় সুশৃঙ্খল, কাঠামোবদ্ধ ও আদর্শ এমন রূপকে সুশাসন বলা হয় যেখানে আইনের শাসন, নিরপেক্ষ, সংবেদনশীল, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, অংশগ্রহণমূলক এবং কার্যকর শাসন পদ্ধতি চালু থাকবে।
সুশাসনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো আইনের শাসন। আইনের
শাসন বলতে মূলত বোঝানো হয় রাষ্ট্রীয় জীবনে নিরপেক্ষভাবে আইন
প্রয়োগের মাধ্যমে মানবাধিকারের সংরক্ষণকে। সংখ্যালঘু ও
রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এর শর্ত। স্বাধীন
নিরপেক্ষ এবং দুর্নীতিমুক্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচার বিভাগ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য। এটি জনগণের অধিকার রক্ষার রক্ষাকবচ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!