মি. 'X' মাসিক ৫০,০০০ টাকা মজুরিতে একটি কোম্পানিতে চাকরি শুরু করেন। কোম্পানি থেকে তাকে আর কোনো সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয় না। অপরদিকে তারই ঘনিষ্ঠ বন্ধু 'Y' মাসিক ৩৫,০০০ টাকা মজুরিতে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি শুরু করেন। বেতনের বাইরে তিনি বাড়ি ভাড়া বাবদ ১০,০০০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা বাবদ ৫,০০০ টাকা, যাতায়াত খরচ বাবদ ৩,০০০ টাকা এবং মোবাইল খরচ বাবদ ১,০০০ টাকার অতিরিক্ত সুবিধা পান। উক্ত সময়ে দেশে দামস্তর ছিল ১০০ টাকা।

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ

শ্রমিকের কাজ করার ক্ষমতা তথা উৎপাদন ক্ষমতাকে শ্রমের দক্ষতা বলে।

উত্তরঃ

শ্রমের মজুরি বাড়লে একজন শ্রমিক বেশি শ্রম দেয়। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মজুরি বৃদ্ধির সাথে শ্রমের যোগান বাড়বে। একপর্যায়ে মজুরি যখন অধিক হবে তখন শ্রমিক আরাম-আয়েশে মনোনিবেশ করবে। তখন শ্রমিক শ্রমঘণ্টা কমিয়ে বিশ্রামের সময় বাড়ালে শ্রমের যোগান হ্রাস পায়। তাই দেখা যায়, প্রথম অবস্থায় শ্রমের মজুরি ও যোগানের মধ্যে সমমুখী সম্পর্ক বিরাজ করলেও একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ মজুরির পর, মজুরি ও শ্রমের যোগানের মধ্যে বিপরীত সম্পর্ক বিরাজ করে। এ পর্যায়ে শ্রমের যোগান রেখা পেছনের দিকে বেঁকে যায় অর্থাৎ পশ্চাৎগামী হয়।

উত্তরঃ

উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে মি. 'Y'-এর প্রকৃত মজুরি নিচে নির্ণয় করা হলো:
একজন শ্রমিকের শ্রমের বিনিময়ে প্রাপ্ত আর্থিক মজুরির ক্রয়ক্ষমতা ও কর্মস্থল হতে প্রাপ্ত অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার সমষ্টিকে প্রকৃত মজুরি বলে। অর্থাৎ প্রকৃত মজুরি W=W+QAP+C যেখানে, W = আর্থিক মজুরি, OA = অর্থের মাধ্যমে প্রাপ্ত অন্যান্য সুবিধাসমূহ, P = দামস্তর এবং C = অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা, যা অর্থের মাধ্যমে পরিমাপযোগ্য নয়।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, মি. 'Y'-এর মাসিক বেতন ৩৫,০০০ টাকা। মাসিক বেতন ছাড়াও তিনি বাড়ি ভাড়া বাবদ ১০,০০০ টাকা, চিকিৎসা

ভাতা বাবদ ৫,০০০ টাকা, যাতায়াত খরচ বাবদ ৩,০০০ এবং মোবাইল খরচ বাবদ ১,০০০ টাকা পান। এখন দামস্তর ১০০ টাকা হলে মি. 'Y'-এর প্রকৃত মজুরি,

W =35.000+10.000+5.000+3.000+1.000100

=    =  

নির্ণেয় প্রকৃত মজুরি ৫৪০ টাকা।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত মি. 'X' ও. মি. 'Y' যথাক্রমে আর্থিক ও প্রকৃত মজুরি পেয়ে থাকেন। এর মধ্যে অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে প্রকৃত মজুরি অধিক তাৎপর্যপূর্ণ বলে আমি মনে করি।
সাধারণত শ্রমিকের জীবনযাত্রার মান ও অর্থনৈতিক কল্যাণ আর্থিক মজুরির চেয়ে প্রকৃত মজুরির ওপর বেশি নির্ভর করে। কারণ আর্থিক মজুরি দ্বারা শ্রমিকের প্রকৃত অর্থনৈতিক অবস্থা জানা যায় না। এছাড়া আর্থিক মজুরি অধিক হওয়া সত্ত্বেও যদি দামস্তর বেশি থাকে তাহলে শ্রমিকের জীবনযাপনে অসুবিধা দেখা দিতে পারে।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, মি. 'X'-এর মাসিক বেতন ৫০,০০০ টাকা এবং তিনি কর্মস্থল হতে অন্য কোনো সুযোগ-সুবিধা পান না। কিন্তু তার বন্ধু মি. 'Y'-এর মাসিক বেতন ৩৫,০০০ টাকা হলেও তিনি কর্মস্থল হতে অন্যান্য সুবিধা ভোগ করেন। উক্ত সময়ে, দামস্তর ১০০০ টাকা হলে মি. 'X'-এর প্রকৃত মজুরি =50000 = ৫০০টাকা। যা মি. 'Y'-এর প্রকৃত মজুরি ৫৪০ টাকা হতে কম। স্পষ্টতই আর্থিক মজুরি দ্বারা শ্রমিকের প্রকৃত অর্থনৈতিক অবস্থা জানা যায় না।
আবার, কোনো কাজের প্রতি আকর্ষণ তার আর্থিক মজুরির ওপর নির্ভর করে না বরং তার প্রকৃত মজুরির ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া, শ্রমিকদের মজুরিনীতি প্রণয়ন বা নির্ধারণে আর্থিক মজুরিকে তুলনামূলক কম গুরুত্ব দেওয়া হয়। সুতরাং উপরের বিশ্লেষণ থেকে জানা যায় যে, অর্থনৈতিক অবস্থা বিশ্লেষণে আর্থিক মজুরির চেয়ে প্রকৃত মজুরি অধিক তাৎপর্যপূর্ণ

202

Related Question

View All
উত্তরঃ

উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত মানুষের সব ধরনের শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রমকে অর্থনীতিতে শ্রম বলে।

310
উত্তরঃ

শ্রমের গতিশীলতা বলতে শ্রমিকের এক স্থান থেকে অন্যস্থানে, এক পেশা থেকে অন্য পেশা গ্রহণ, কিংবা একই পেশায় এক স্তর থেকে অন্য স্তরে উন্নীত হওয়াকে বোঝায়।
একজন শ্রমিক তার নিজস্ব প্রয়োজন এবং স্বার্থে এক পেশা থেকে অন্য পেশা গ্রহণ, এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমন, একই কাজে এক শিল্প থেকে অন্য শিল্পে গমন করতে পারে। এ ধরনের পরিবর্তনই হলো শ্রমের গতিশীলতা। যেমন- একজন শ্রমিক গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি থেকে ঔষধের ফ্যাক্টরিতে কাজ নিতে পারে, আবার চট্টগ্রামের শ্রমিক ঢাকায় গিয়ে কাজ করতে পারে।

441
উত্তরঃ

উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে আফসার দম্পত্তির শ্রমের যোগান রেখা নিচে অঙ্কন করা হলো-

প্রদত্ত সূচিতে লক্ষ করা যায়, আফসার এবং তার স্ত্রী প্রতি ঘণ্টায় ২৫ টাকা মজুরিতে ১৬ ঘণ্টা শ্রম প্রদান করে। যা চিত্রের ও বিন্দু দ্বারা দেখানো

হয়েছে। একইভাবে মজুরি ৪০ টাকা, ৬০ টাকা, ৭৫ টাকা এবং ১০০ টাকা হলে তারা যথাক্রমে ২০ ঘণ্টা, ২৪ ঘণ্টা, ২০ ঘণ্টা এবং ১৮ ঘণ্টা শ্রম প্রদান করে। যা চিত্রে যথাক্রমে b, c, d এবং বিন্দু দ্বারা নির্দেশিত। এখন প্রাপ্ত a. b, c, d ও বিন্দুগুলো যোগ করে SLSL শ্রমের যোগান রেখা পাওয়া যায় যা সাধারণ যোগান রেখার মতো না হয়ে পশ্চাৎমুখী হয়েছে।

326
উত্তরঃ

মজুরি বেড়ে যাওয়ায় যদি শ্রমিক মনে করে তার জীবনে পূর্বের চেয়ে স্বাচ্ছন্দ্য বেড়েছে, তবে সে অধিক বিশ্রামের প্রতি মনোযোগী হয়। এ

কারণেই শ্রমের যোগান রেখার সাথে অন্যান্য পণ্যের যোগান রেখার ভিন্নতা লক্ষ করা যায়।
সাধারণত, মজুরির সাথে শ্রমের যোগানের সম্পর্ক সমমুখী। তাই শ্রমের যোগান রেখা অন্যান্য পণ্যের যোগান রেখার মতো ঊর্ধ্বগামী। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট মজুরিতে যদি শ্রমিকরা সন্তুষ্ট থাকে কিংবা মনে করে পূর্বের চেয়ে তাদের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পেয়েছে, তাহলে ঐ নির্দিষ্ট মজুরির পর আরও মজুরি বাড়লে শ্রমের যোগান বৃদ্ধি না পেয়ে বরং হ্রাস পায়। যার ফলশ্রুতিতে পশ্চাৎগামী যোগান রেখার সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, আফসার এবং তার স্ত্রী 'আজাদ ফেব্রিক্স' নামক একটি পোশাক কারখানায় কাজ করে। কাজের প্রথম দিকে মজুরি বাড়ানো। হলে কাজের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। যেমন- মজুরি ২৫ টাকা থেকে ৪০ টাকা হলে শ্রমঘণ্টা ১৬ থেকে বেড়ে ২০ হয়। আর ৬০ টাকা মজুরিতে শ্রমের যোগান ২৪ ঘণ্টা হয়। এরপর মজুরি আরও বাড়লে শ্রমের যোগান হ্রাস পেতে থাকে। ফলে শ্রমের যোগান রেখা পশ্চাৎদিকে বেঁকে যায়।
শ্রম হলো একটি জীবন্ত উপাদান। অর্থাৎ শ্রম ও শ্রমিক একই সূত্রে গাঁথা। স্বাভাবিকভাবেই মানুষের আয় বাড়লে সে বিশ্রাম ও বিনোদনের প্রতি মনোযোগী হয়। এর ফলে মজুরি বাড়ানো হলেই অন্যান্য পণ্যের মতো যোগান বাড়তে থাকে না। বরং তা একটি নির্দিষ্ট মজুরির পর কমতে থাকে। সুতরাং বলা যায়, মজুরির হার বাড়ানোর পর শ্রমিকরা অধিক মজুরিতে সন্তুষ্ট থাকায় শ্রমের যোগান রেখা পশ্চাৎগামী হয়।

277
উত্তরঃ

উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত মানুষের সব ধরনের শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রমকে অর্থনীতিতে শ্রম বলে।

314
উত্তরঃ

শ্রমের ব্যক্তিগত যোগান রেখা পশ্চাৎমুখী হয় কারণ মজুরি ও শ্রমের যোগানের মধ্যে বিপরীত সম্পর্ক বিরাজ করে।

শ্রমের মজুরি বাড়লে একজন শ্রমিক বেশি শ্রম দেয়। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মজুরি বৃদ্ধির সাথে শ্রমের যোগান বাড়বে। একপর্যায়ে মজুরি যখন অধিক হবে তখন শ্রমিক আরাম-আয়েশে মনোনিবেশ করবে। তখন শ্রমিক শ্রমঘণ্টা কমিয়ে বিশ্রামের সময় বাড়ালে শ্রমের যোগান হ্রাস পায়। তাই দেখা যায়, প্রথম অবস্থায় শ্রমের মজুরি ও যোগানের মধ্যে সমমুখী সম্পর্ক বিরাজ করলেও একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ মজুরি বৃদ্ধির পর, মজুরি ও শ্রমের যোগানের মধ্যে বিপরীত সম্পর্ক বিরাজ করে। এ কারণে শ্রমের ব্যক্তিগত যোগান রেখা পশ্চাৎমুখী হয়।

482
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews