মীর আলি '১৯৭১' উপন্যাসের একটি বৃদ্ধ ও অন্ধ চরিত্র। ছেলে, ছেলের বউ অনুফা ও এক নাতনি পরীবানুকে নিয়ে তাদের ছোট সংসার। বৃদ্ধ হওয়ায় বিভিন্ন সময় মীর আলিকে ছেলে বদিউজ্জামান কিংবা ছেলের বউ অনুফার সহায়তায় জীবনযাপন করতে হয়। অন্যদিকে গ্রামে মিলিটারি প্রবেশ করলে সকলে ভয়ে। ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়লেও মীর আলি তার ব্যক্তিগত চিন্তায় ব্যস্ত থাকে। সে বলতে চায় মিলিটারির আগমনে তার স্বাভাবিক জীবনযাপনকে অস্বীকার করতে পারবে না। কেননা তাদের আগমনে তার পেটের ক্ষুধা থেমে নেই। খিদের যন্ত্রণায় সে অস্থির। তাই সে অনুফাকে কয়েকবার ভাতের কথাটা বলেছে। কিন্তু অনুফার এদিকে কোনো খেয়াল নেই। গ্রামে মিলিটারি প্রবেশ করায় সে চিন্তিত, আবার তার স্বামী বদিউজ্জামানেরও কোনো খোঁজ পাচ্ছে না। এমতাবস্থায় ভাত রাঁধায় তার কোনো ইচ্ছা নেই। ফলে মীর আলি নিরুপায় হয়ে অন্য উপায়ে নিজের পেটের খিদে মেটানোর চেষ্টা করে। আর সেটি হলো মুড়ি চিবানো। এজন্যই মীর আলি এক থালা মুড়ি নিয়ে উঠানে বসেছিল।
Related Question
View All"ভাত রাঁধায় অনুফার মন না থাকা যেন মুক্তিযুদ্ধের সময় গ্রামের মা-বোনদের মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার দিকটিকেই নির্দেশ করে।"- মন্তব্যটি যথার্থ। '১৯৭১' উপন্যাসটি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে রচিত। উপন্যাসটিতে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার গ্রামীণ অঞ্চলের বাস্তবচিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। উপন্যাসের কাহিনি ও ঘটনাগুলো মহান মুক্তিযুদ্ধের নির্মম বাস্তবতাকেই স্পষ্টভাবে আমাদের সামনে তুলে ধরে। এ উপন্যাসের প্রতিটি ঘটনা যেন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অমানবিকতা ও পাশবিকতার চিত্রগুলোকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। এসব ঘটনা কোনো হৃদয়বান মানুষ স্বাভাবিকভাবে নিতে পারে না। এগুলো যেকোনো হৃদয়কে প্রবলভাবে নাড়িয়ে দেবে। যেকোনো মানুষকে করে তুলবে মর্মাহত ও শোকাহত।
'১৯৭১' উপন্যাসে পাকিস্তানি মিলিটারির পাশবিক আচরণের বিভিন্ন ঘটনা ফুটে উঠেছে। এ উপন্যাসে নীলগঞ্জ গ্রামে প্রবেশ করে তারা একটি অন্যায়ের রাজত্ব কায়েম করে। পুরো গ্রামে তারা ভয়ের বাতাস ছড়িয়ে দেয়। এর ফলে গ্রামের প্রতিটি মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। গ্রামের একজন মানুষ হিসেবে অনুফার ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম ঘটেনি। নীলগঞ্জ গ্রামে মিলিটারির নৈরাজ্য ও নির্মম নির্যাতন চালানোর খবরে সেও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। এভাবে সে হয়ে উঠেছে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মানসিকভাবে ভেঙে পড়া মা-বোনদের প্রতীক।
তার বুড়ো শ্বশুর মীর আলি বেশ কয়েকবার তাকে ভাত রেঁধে দিতে বললেও সেদিকে তার বিন্দুমাত্র খেয়াল নেই। একদিকে মিলিটারির নির্মম নির্যাতন, অন্যদিকে স্বামী বদিউজ্জামানের কোনো খোঁজ না পাওয়া অনুফাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। অনুফা যেন স্মরণ করিয়ে দেয় ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আমাদের মমতাময়ী মা-বোনের। এভাবেই তারা দেশের সন্তানদের জন্য তাদের প্রিয় মানুষগুলোর জন্য চিন্তিত হয়েছিলেন। প্রিয়জনদের জন্য এভাবেই তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। ফলে নিঃসন্দেহে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!