"মুকুন্দরাম চক্রবর্তী ছিলেন গ্রামীণ সমাজের রূপকার।” 'কালকেতু উপাখ্যান' অবলম্বনে উক্তিটির যথার্থতা বিচার করুন

Updated: 11 months ago
Add Explanation
1.6k

মুকুন্দরাম চক্রবর্তী মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত কবি। তিনি মূলত চন্ডীমঙ্গল রচনার জন্য পরিচিত। তার পৈতৃক নিবাস পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার দামুন্যা গ্রাম। পিতা ছিলেন হূদয় মিশ্র এবং মাতা দৈবকী।

জন্ম ও পরিবার:
মুকুন্দরামের পরিবার বর্ধমান জেলার দামুন্যায় বসবাস করত। তার পূর্বপুরুষ মাধব ওঝাকে দেবতা শিবের উপাসনার তীর্থস্থলে জমি-জমার দেখাশোনার জন্য নিযুক্ত করা হয়। মুকুন্দরাম জগন্নাথ মহামিশ্রের সন্তান ও গুণরাজ মিশ্রের সর্বকনিষ্ঠ পুত্র ছিলেন। পরিবার কৃষি নির্ভর ব্রাহ্মণ পরিবার।

জীবনপথ ও দুর্গতি:
রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির কারণে মুকুন্দরাম, তার পরিবার ও সহকর্মীরা গ্রাম ছেড়ে যেতে বাধ্য হন। অস্থায়ীভাবে বালিয়া গ্রামে বসবাসের পর দেবী চন্ডী স্বপ্নে তাকে পাঁচালি রচনা করার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে আড়রা গ্রামে যুবরাজের পৃষ্ঠপোষকতায় চন্ডীমঙ্গল রচনা করেন। তাঁর সাহিত্যের জন্য তাকে ‘কবিকঙ্কণ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

সাহিত্যকর্ম:
মুকুন্দরামের প্রধান সৃষ্টি হলো চন্ডীমঙ্গল, যা মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে একটি অনন্য সৃষ্টি। কাব্যটি তিনটি অংশে বিভক্ত:

  1. দেবী চন্ডী ও পৌরাণিক কাহিনী

  2. শিকারী কালকেতু ও তার স্ত্রী ফুল্লরার জীবন

  3. পদ্মফুলের উপবেশনরত দেবতার শ্রীলঙ্কার নিকটবর্তী সাগরে আবির্ভাব এবং বণিকদের ব্যবসা

কাব্যে সমকালীন সমাজ, দরিদ্র ও ধনী উভয় শ্রেণীর জীবন এবং যৌথ পরিবারের সমস্যাগুলো বাস্তবতার সঙ্গে ফুটে উঠেছে। মুকুন্দরামের সাহিত্য দুঃখবাদের সঙ্গে আশাবাদের মিশ্রণ ঘটিয়েছে।

অর্জন ও স্বীকৃতি:

  • চন্ডীমঙ্গল কাব্যটি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে শ্রেষ্ঠ ও অভিনব রচনা হিসেবে বিবেচিত।

  • মুকুন্দরামের চরিত্র ও রচনার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য এবং সমাজ জীবনের সমন্বিত চিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে।

গবেষণামূলক তথ্য:

  • চৌদ্দ শতকের পূর্বে বাংলার নিম্নবর্গের মানুষ হিন্দু বা মুসলিম ধর্ম অনুসারী ছিল না।

  • এই সমাজের দরিদ্র ব্রাহ্মণরা পাঁচালির প্রধান রচয়িতা ও ধর্মান্তরের মাধ্যমে সমাজে স্থান পেয়েছিলেন।

  • মুকুন্দরামের চন্ডীমঙ্গল এ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

Related Question

View All
উত্তরঃ

'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে' উক্তিটি করেছিলেন ঈশ্বরী পাটনি। ইক্তিটি পাওয়া যায় ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যে।

Anika Nawar
Anika Nawar
2 years ago
299
উত্তরঃ

ঈশ্বরী পাটুনী দেবীর কাছে বর চায় এই বলে যে , তার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।

389
উত্তরঃ

"আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে।" উক্তিটি -  ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত 'অন্নদামঙ্গল কাব্যে'র ঈশ্বরী পাটনীর

Tamanna
Tamanna
2 years ago
654
উত্তরঃ

মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী তাঁর 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের 'আখেটি খণ্ড' বা 'কালকেতু উপাখ্যান'-এ যেভাবে মানবজীবনের দুঃখ, দারিদ্র্য ও সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন, তা বাংলা সাহিত্যে বিরল। আলোচ্য উক্তিটি এই উপাখ্যানের মূল সুরকেই নির্দেশ করে। মুকুন্দরাম 'কবি কঙ্কণ' উপাধি লাভ করেছিলেন, কিন্তু তাঁর কাব্যে সুখের চেয়ে দুঃখের চিত্রই অধিক বাস্তব ও মর্মস্পর্শী হয়ে উঠেছে, বিশেষত কালকেতু চরিত্রের মধ্য দিয়ে।

কালকেতুর জীবন শুরু থেকেই দুঃখময়। দরিদ্রতার কশাঘাতে জর্জরিত হয়ে সে পশু শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করত। তার স্ত্রী ফুল্লরার বারোমাস্যা বর্ণনায় তৎকালীন সমাজের সাধারণ মানুষের দারিদ্র্য ও দৈনন্দিন জীবনের কষ্টকর চিত্র জীবন্ত হয়ে ওঠে। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা—প্রতিটি ঋতুতেই ফুল্লরার দুঃখের শেষ নেই। তাদের ক্ষুধার জ্বালা, জীর্ণ কুটির, সন্তানহীনতার বেদনা, সমাজের অবহেলা—সবই মুকুন্দরাম অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। কবি এখানে কেবল দুঃখের বর্ণনা দেননি, বরং দুঃখকে একটি গভীর সামাজিক ও মানবিক প্রেক্ষিতে স্থাপন করেছেন, যেখানে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রামের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে।

কালকেতুর জীবনে দেবীর চণ্ডীর আগমনও প্রথমে তার জন্য সুখের বার্তা নিয়ে আসেনি, বরং তা আরও গভীর সংকটের জন্ম দিয়েছে। দেবীর মায়ায় স্বর্ণগোসাপের আগমন, কালকেতুর হাতে সেটি ধরিয়ে দেওয়া এবং পরবর্তীতে ধনপতি সওদাগর কর্তৃক চুরির অভিযোগ এনে কালকেতুকে কারাগারে নিক্ষেপ করা—এই সবই কালকেতুর দুঃখকে আরও প্রকট করে তোলে। কারাগারে তার অনাহার-অনিদ্রা, অত্যাচার এবং ফুল্লরার তার মুক্তির জন্য আকুতি—এসবই মুকুন্দরামের লেখনীতে পাঠককে গভীরভাবে নাড়া দেয়। সুখের চেয়ে দুঃখের চিত্র অঙ্কনে কবির এই অসাধারণ ক্ষমতা তাঁকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক অনন্য আসনে বসিয়েছে।

কালকেতুর এই দুঃখময় জীবনের মধ্য দিয়েই দেবী চণ্ডীর মহিমা প্রকাশিত হয়। যদিও পরিশেষে কালকেতু ধনসম্পদ লাভ করে গুজরাট নগরীর পত্তন করে, কিন্তু কাব্যের মূল আকর্ষণ হয়ে থাকে তার পূর্বের চরম দারিদ্র্য ও যন্ত্রণার চিত্র। সুখের আগমন ক্ষণস্থায়ী হলেও, দুঃখের বর্ণনাই কাব্যের ব্যাপক অংশ জুড়ে রয়েছে এবং তা পাঠকের মনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। মুকুন্দরামের সহমর্মী দৃষ্টি এবং বাস্তবতার কঠিন চিত্র তুলে ধরার সাহসই তাকে দুঃখের কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই কারণেই বলা যায়, কবি কঙ্কণ সুখের কথায় বড় নহেন, দুঃখের কথায় বড়।

Satt AI
Satt AI
5 days ago
671
159
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews