হিজরত' শব্দের অর্থ দেশত্যাগ, প্রস্থান এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমন করা।
হিজরত এবং দেশত্যাগের মধ্যে মৌলিক ও উদ্দেশ্যগত কিছু পার্থক্য রয়েছে।
শাব্দিকভাবে হিজরত ও দেশত্যাগ একই অর্থ ধারণ করে। অর্থাৎ এগুলোর অর্থ এক দেশ বা একস্থান থেকে অন্য স্থানে প্রস্থান করা। কিন্তু উদ্দেশ্যগত দিক দিয়ে দুটি ভিন্ন বিষয়। দেশত্যাগ যে কোনো প্রয়োজনে, বৈষয়িক বা পার্থিব উদ্দেশ্য সাধনে হতে পারে। কিন্তু 'হিজরত' শব্দটির সাথে ইসলাম প্রচার বা প্রসারের বিষয়টি জড়িত। রাসুল (স) ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে বিরোধীদের নির্যাতনের শিকার হয়ে হিজরত করতে বাধ্য হয়েছিলেন। বর্তমান সময়েও কেউ যদি অনুরূপ পরিস্থিতিতে বা উদ্দেশ্যে দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়, তবে তা হিজরত বলে পরিগণিত হবে।
উদ্দীপকের অনুরূপ রণকৌশল মহানবি (স) খন্দকের যুদ্ধে প্রয়োগ করেছিলেন।
ইসলামের সূচনালগ্নে যে কয়টি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল তাদের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ হলো 'খন্দকের যুদ্ধ'। এ যুদ্ধ ইতিহাসে বিভিন্ন নামে পরিচিত। মুহাম্মদ (স) সালমান ফারসির পরামর্শক্রমে মদিনার চারপাশে খাল বা খন্দক খনন করে যে অভিনব যুদ্ধ কৌশলের অবতারণা করেন তাই ইতিহাসে 'খন্দকের যুদ্ধ' নামে পরিচিত। উদ্দীপকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে প্রতিহত করতে কৌশল অবলম্বনের দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে। এক্ষেত্রে গ্রামে প্রবেশের রাস্তা ভেঙে দিয়ে গ্রামবাসী শত্রুপক্ষ থেকে নিরাপদ থাকতে সক্ষম হয়। খন্দকের যুদ্ধেও এ ধরনের কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে মুসলমানরা কুরাইশদের পরাজিত করেছিল।
৬২৭ সালের ৩১ মার্চ কুরাইশ, ইহুদি ও বেদুইনদের সর্বাধিনায়ক আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে মক্কার মুশরিকরা মদিনা আক্রমণ করে। তাদের প্রতিহত করতে মুহাম্মদ (স) তিন হাজার সৈন্যের এক বাহিনী মদিনার চারপাশে খননকৃত পরিখার প্রহরায় নিযুক্ত ছিলেন। পরিখা পেরিয়ে হামলা করতে ব্যর্থ হয়ে তারা মদিনাকে ২৭ দিন পর্যন্ত অবরোধ করে রাখে। কিন্তু দীর্ঘ অবরোধের ফলে শত্রু বাহিনীতে খাদ্য ও পানীয়ের অভাব দেখা দেয় ও ঝড়ো হাওয়ায় তাদের তাঁবু উড়ে যায়। অনুরূপ ঘটনা রাশেদদের গ্রামের ক্ষেত্রেও লক্ষণীয়। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে রাশেদদের গ্রামের মুক্তিযোদ্ধারা গ্রামে প্রবেশের একমাত্র রাস্তাটি কেটে দিয়েছিল, যাতে পাকিস্তানি আমি সহজে গ্রামে প্রবেশ করতে না পারে। মুক্তিযোদ্ধারা এ রণকৌশলের মাধ্যমে শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, খন্দকের যুদ্ধে রাসুল (স)-এর গৃহীত কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমেই রাশেদদের গ্রামের মুক্তিযোদ্ধারা এদেশকে শত্রুমুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।
খন্দকের যুদ্ধে মহানবি (স)-এর গৃহীত রণকৌশল অর্থাৎ মুসলমানদের পরিখা খনন করার মাধ্যমে মদিনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিল।
৬২৭ খ্রিষ্টাব্দের ৩১ মার্চ কুরাইশ, ইহুদি ও বেদুইনদের সম্মিলিত শক্তি উহুদ যুদ্ধের বিজয়ী সেনাপতি আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে মদিনাকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে অগ্রসর হয়। তাদের সৈন্যসংখ্যা ছিল ১০,০০০। এ সমন্বিত শক্তির মোকাবিলা করার জন্য হযরত মুহাম্মদ (স) মাত্র ৩,০০০ সৈন্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। যুদ্ধের কৌশল নির্ধারণের জন্য মহানবি (স) সাহাবিদের সাথে পরামর্শ করেন। বৈঠকে পারস্যের জনৈক মুসলমান সালমান ফারসির পরামর্শক্রমে মদিনা নগরীর অরক্ষিত স্থানসমূহে গভীর পরিখা খনন করে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। মহানবি (স) স্বয়ং এ কাজে অংশ নেন।
৬২৭ খ্রিষ্টাব্দের ৩১ মার্চ মক্কার যৌথবাহিনী মদিনায় হামলা চালায়। কিন্তু মদিনার অভিনব আত্মরক্ষার কৌশল দেখে তারা বিস্মিত হয়। শত চেষ্টা সত্ত্বেও পরিখা অতিক্রম করে শত্রুপক্ষ মদিনায় প্রবেশ করতে পারেনি। তাই তারা ২৭ দিন মদিনা অবরোধ করে রাখে। দীর্ঘ অবরোধের পর খাদ্যাভাব, ঝড়-বৃষ্টি, হিমেল হাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রচন্ড ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে যৌথবাহিনী অবরোধ প্রত্যাহার করে স্বদেশে ফিরে যায়। শুধু পরিখা খননের এই কৌশলের মাধ্যমে মুসলমানরা শত্রুর হাত থেকে রক্ষা পায়, যা ছিল মুসলমানদের জন্য অনেক বড় বিজয়। উদ্দীপকে রাশেদদের গ্রামের লোকেরা মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিদের আক্রমণ হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য গ্রামে প্রবেশের রাস্তাটি কেটে ফেলে। ফলে হানাদার বাহিনী ঐ গ্রামে প্রবেশ করতে পারে না। এভাবে তাদের গ্রাম রক্ষা পায়। একইভাবে খন্দকের যুদ্ধের সময় মদিনার অরক্ষিত অঞ্চলগুলোতে পরিখা খনন করে। এই পরিখা অতিক্রম করে শত্রু বাহিনী সামনে সামনে এগুতে ব্যর্থ হয়।
পরিশেষে বলা যায় যে, যুদ্ধের সময় পরিখা খননের মতো এ ধরনের কৌশল গ্রহণ যুদ্ধ জয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
Related Question
View Allমহানবি (স) ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে ইন্তেকাল করেন।
সততা ও বিশ্বস্ততার ধারক হওয়ায় মহানবি (স)-কে আল-আমিন বলা হয়।
আল আমিন' শব্দের অর্থ বিশ্বাসী। মহানবি (স) ছোটবেলা থেকেই এ গুণটির অধিকারী ছিলেন। তিনি কখনো মিথ্যা কথা বলতেন না। তাই সবাই তাঁকে প্রচণ্ড বিশ্বাস করত এবং তাঁর ওপর আস্থা রাখত। এ মহান গুণের জন্য তাঁকে সবাই 'আল-আমিন' বলে ডাকত।
মহানবি (স)-এর বিদায় হজের ভাষণে দেওয়া দাস-দাসীদের প্রতি সদয় আচরণের উপদেশটি মেনে চললে আশরাফ সাহেব অধীনদের সাথে বিরূপ আচরণ করতে পারতেন না।
১০ম হিজরির ৯ জিলহজ (৬৩২ খ্রিষ্টাব্দ) মহানবি (স) বিশ্বমানবতার জীবন পরিচালনার সার্বিক নির্দেশনাস্বরূপ মক্কার আরাফাতের ময়দানে এক ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন, যা বিদায় হজের ভাষণ নামে খ্যাত। এ ভাষণে তিনি মানবজাতির সঠিক পথে পরিচালিত হওয়ার সার্বিক উপদেশ প্রদান করেন। অধীন বা দাস-দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহারও ছিল এ ভাষণের একটি উপদেশ। কিন্তু আশরাফ সাহেব এ নির্দেশ লঙ্ঘন করেছেন।
আশরাফ সাহেব তার অধীন ড্রাইভার, পরিচারিকা, বাবুর্চির সাথে সমতাভিত্তিক আচরণ করেন না। তিনি তাদের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা করেন। তাদের চিকিৎসা, পোশাক, বাসস্থানের ব্যাপারেও তিনি উদাসীন। অথচ বিদায় হজের ভাষণে রাসুল (স) বলেছেন, 'দাস-দাসীদের সাথে সদয় ব্যবহার করো। তাদের ওপর কোনোরূপ অত্যাচার করো না। তোমরা যা খাবে, তাদেরও তাই খাওয়াবে, তোমরা যা পরবে, তাদেরও তাই পরাবে- ভুলে যেও না তারাও তোমাদের মতো মানুষ।'
রাসুল (স)-এর এ নির্দেশ মেনে চললে আশরাফ সাহেব তার অধীন কর্মচারীদের প্রতি অন্যায় আচরণ করতে পারতেন না।
উদ্দীপকে নারীর প্রতি যে অবহেলা প্রকাশ পেয়েছে তা মহানবি (স)-এর বিদায় হজের ভাষণের নারীর প্রতি সদ্ব্যবহার সংক্রান্ত নির্দেশনার পরিপন্থি
মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর বিদায় হজের ভাষণ ছিল মানবজাতির জীবন পরিচালনার সার্বিক দিকনির্দেশনা। এ ভাষণে মানবজাতির মুক্তির নির্দেশনা দিতে গিয়ে রাসুল (স) বলেন 'তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সদয় ব্যবহার করবে, তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করবে না। তাদের ওপর তোমাদের যেমন অধিকার রয়েছে তেমনি তোমাদের ওপরও তাদের অধিকার রয়েছে।' কিন্তু জনাব আশরাফ এ নির্দেশ অমান্য করেছেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আশরাফ সাহেব তার স্ত্রীর সাথে দুর্ব্যবহার করেন। পারিবারিক কোনো সিদ্ধান্তে তিনি স্ত্রীর মতামত গ্রহণ করেন না। তার এ কর্মকাণ্ড ইসলাম তথা রাসুল (স)-এর নির্দেশের সম্পূর্ণ পরিপন্থি। কারণ ইসলাম নারীর সবধরনের অধিকারের স্বীকৃতি দিয়েছে। মহান আল্লাহ স্ত্রীদের সাথে উত্তম ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছেন। রাসুল (স)ও বিদায় হজের ভাষণে স্ত্রীদের প্রতি সদয় আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন।
পরিশেষে বলা যায়, ইসলাম নারীকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করে তাদের সকল প্রকার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই প্রত্যেকের কর্তব্য হলো ইসলামের এ নির্দেশ মেনে চলে নারীর মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা করা।
হযরত মুহাম্মদ (স)-এর মাতার নাম আমিনা বেগম।
হিলফুল ফুজুল বলতে কিশোর বয়সে মহানবি (স) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি শান্তিসংঘকে বোঝায়।
মহানবি (স) ছিলেন শান্তির দূত। তাই বালক বয়সে যখন তিনি পাঁচ বছর স্থায়ী 'হারবুল ফুজ্জার' যুদ্ধের (৫৮৪-৫৮৮ খ্রি.) ভয়াবহতা দেখলেন তখন তাঁর অন্তর মানবতার জন্য কেঁদে উঠল। এ প্রেক্ষিতেই তিনি সমমনা কয়েকজন উৎসাহী যুবক ও পিতৃব্য যুবাইরকে নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন 'হিলফুল ফুজুল' নামের শান্তিসংঘটি। সংগঠনটি গোত্রীয় যুদ্ধের অবসানসহ সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করত। এটি প্রায় ৫০ বছর স্থায়ী ছিল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!