১৯৬৯ সালে এ দেশে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল।
'সদা জাগ্রত বাংলার মুক্তিবাহিনী' হলো নিতুন কুন্ডুর আঁকা একটি পোস্টার।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সব শ্রেণি-পেশার মানুষ পাকিস্তানি শোষকদের বিরুদ্ধে অংশ নেয়। চিত্রশিল্পীরা তাঁদের আঁকা শিল্পের মাধ্যমে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। নিতুন কুন্ডুর আঁকা 'সদা জাগ্রত বাংলার মুক্তিবাহিনী' নামক পোস্টারটি সেগুলোর একটি। এ পোস্টারটি মুক্তিযুদ্ধের সময় সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে লাগানো - হয়েছিল। এটি দেখে সাধারণ মানুষ আশার আলো দেখতে পেত, আর পাকিস্তানি সেনারা ভয় পেত।
উদ্দীপকটি 'কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টারের ভাষা' রচনার শিল্পের মাধ্যমে অন্যায়ের প্রতিবাদ করার দিকটিকে ধারণ করে।
কোনো দেশে যখন স্বৈরাচারী সরকার জনগণের ওপর অমানবিক অত্যাচার ও নির্যাতন চালায় তখন সেই দেশের জনগণ এগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলে। সেই প্রতিরোধে শিল্পীরা তাঁদের অভিনব শিল্পের মাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবাইকে উজ্জীবত করে তোলেন।
উদ্দীপকে একটি গানের কিছু কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যে কথাগুলোতে মুক্তির জন্য মানুষের আত্মত্যাগের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, এ গানটি ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে কীভাবে ছাত্র-জনতার স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে অনুপ্রাণিত করেছে। 'কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টারের ভাষা' রচনায়ও শিল্পের মাধ্যমে অন্যায়-অত্যাচারে বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-প্রতিরোধের বিভিন্ন দিক ফুটে উঠেছে। এ রচনায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মাধ্যম হিসেবে চিত্রশিল্পীদের আঁকা কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টারের পাশাপাশি ছবি আঁকা, গান গাওয়া, পথনাটক ও নৃত্য করার মাধ্যমেও যে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা যায় সেসব গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়েছে। এ দিকটিই উদ্দীপকটি ধারণ করেছে।
"উদ্দীপকের মোহিনী চৌধুরী যেন 'কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টারের ভাষা' রচনার চিত্রশিল্পীদের প্রতিনিধি।" মন্তব্যটি যথার্থ।
কোনো দেশে যখন আন্দোলন-সংগ্রাম কিংবা গণঅভ্যুত্থান শুরু হয় তখন সবার সঙ্গে শিল্পীরাও তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ সব শিল্প দিয়ে সেসব আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। তাঁরা তাঁদের অভিনব শিল্প দিয়ে আন্দোলনকে শক্তিশালী করেন, সবাইকে অনুপ্রাণিত করেন।
উদ্দীপকের মোহিনী চৌধুরীর গানের মাধ্যমে ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-ছাত্রীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁর লেখা গানটি এ বিপ্লবে ছাত্রদের ত্যাগের মহৎ ইচ্ছাকে শতধারায় উজ্জীবিত করে তোলে। তাঁর গানের কথাগুলো স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতাকে জাগাতে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। মোহিনী চৌধুরীর মতোই 'কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টারের ভাষা' রচনায় চিত্রশিল্পীরা তাঁদের অভিনব শিল্পের মাধ্যমে বড়ো বড়ো আন্দোলন-সংগ্রামে শক্তি জুগিয়েছেন। অনুপ্রেরণামূলক কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টারের মাধ্যমে তাঁরা জনগণকে বিপ্লবের প্রেরণা দিয়েছেন।
'কার্টুন, বালচিত্র ও পোস্টারের ভাষা' রচনায় চিত্রশিল্পীরা স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে মিছিল-মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করেও অন্য একটি কাজ আলাদাভাবে করেছেন। সেটি হলো স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কাটুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টার এঁকে আন্দোলনে পত্তি জুগিয়ে সবাইকে মুক্তির প্রেরণায় উজ্জীবিত করেছেন। অন্যদিকে উদ্দীপকের মোহিনী চৌধুরীর গানের মাধ্যমেও ছাত্র-জনতা উজ্জীবিত হয়েছে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১৯৭১ সালে নিতুন কুন্ডুর আঁকা পোস্টারের বিষয় ছিল মুক্তিযুদ্ধে শত্রুদের বিরুদ্ধে বাংলার মুক্তিবাহিনীর সদা জাগ্রত থাকা।
একটি বাক্য যখন গণবিরোধী শাসকের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদকে ধারণ করে তখন তা হাজার মানুষের মুক্তির প্রেরণা হয়ে ওঠে।
শাসকশ্রেণি যখন স্বৈরাচারী হয়ে মানুষের অধিকার হরণ করে তখন মানুষ প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। জনতার সঙ্গে মিছিল-সমাবেশে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি চিত্রশিল্পীরা কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টার আঁকার মাধ্যমে মুক্তিকামী জনতাকে মুক্তির মন্ত্রে উজ্জীবিত করেন। তাঁরা তাঁদের চিত্রকর্মে যেসব বাক্য ব্যবহার করেন সেগুলোতে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটে। ফলে এগুলো মানুষকে প্রবলভাবে আকর্ষণ করে। এভাবেই একটি বাক্য হাজার মানুষ মুক্তির প্রেরণা হয়ে ওঠে।
উদ্দীপকের দেয়ালের চিত্রকর্ম এবং ‘কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টারের ভাষা’ প্রবন্ধে বর্ণিত শিল্পকর্মের মধ্যে গভীর মিল রয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই চিত্রকর্ম, কার্টুন ও ব্যঙ্গচিত্র গণআন্দোলনের প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। প্রবন্ধে ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় দেয়ালে আঁকা গ্রাফিতিগুলোর কথা বলা হয়েছে, যা স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে জনমতের প্রকাশ ঘটায়। একইভাবে উদ্দীপকে রনির মামা দেয়ালের চিত্র দেখে আন্দোলনের প্রকৃতি উপলব্ধি করতে সক্ষম হন।
দুই ক্ষেত্রেই শিল্পীদের আত্মত্যাগের প্রসঙ্গ এসেছে। প্রবন্ধে দেখা যায়, অনেকে নির্যাতিত ও নিহত হয়েছেন, যেমন মুশতাক আহমেদ। উদ্দীপকেও দেখা যায়, চিত্রকর্মের অনেক স্রষ্টা নির্যাতনের শিকার হয়ে শহিদ বা পঙ্গু হয়েছেন।
সব মিলিয়ে বলা যায়, দেয়ালের চিত্রকর্ম, কার্টুন ও ব্যঙ্গচিত্র কেবল প্রতিবাদের ভাষাই নয়, বরং এগুলো ইতিহাস সংরক্ষণের শক্তিশালী মাধ্যম, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সচেতন ও অনুপ্রাণিত করবে।
উদ্দীপকের দেয়ালের চিত্রকর্ম এবং ‘কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টারের ভাষা’ প্রবন্ধে বর্ণিত চিত্রশিল্পের মধ্যে একটি গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। উভয় ক্ষেত্রেই শিল্পকে গণআন্দোলনের ভাষা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ ধরনের শিল্পকর্ম শুধুমাত্র সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং তা জনসচেতনতা, প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধের শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে।
প্রবন্ধে উল্লেখ রয়েছে যে, ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের সময় দেশের বিভিন্ন দেয়ালে অসংখ্য গ্রাফিতি, কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টার আঁকা হয়েছিল। এসব চিত্রশিল্প স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশের একটি উপায় হয়ে উঠেছিল। শিল্পীরা তাদের রঙ, তুলি ও লেখার মাধ্যমে সমাজে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। এ চিত্রকর্মগুলো শুধুই নান্দনিকতা বা শৈল্পিক রুচির বহিঃপ্রকাশ ছিল না, বরং এগুলোর মধ্য দিয়ে জনগণের অভ্যন্তরীণ বেদনা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদের অনুভূতি ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকেও এই বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। রনির মামা বিদেশে থাকার কারণে আন্দোলনের প্রকৃত চিত্র উপলব্ধি করতে পারছিলেন না। তবে দেশে ফিরে তিনি যখন দেয়ালে আঁকা বিভিন্ন চিত্রকর্ম দেখেন, তখন তিনি উপলব্ধি করেন আন্দোলনটি কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং এটি একটি সার্বজনীন গণপ্রতিরোধের রূপ ধারণ করেছে। তিনি এসব চিত্রের মাধ্যমে আন্দোলনের তীব্রতা ও জনগণের মনের অবস্থা অনুধাবন করতে সক্ষম হন।
উদ্দীপক এবং প্রবন্ধ উভয় ক্ষেত্রেই শিল্পীদের আত্মত্যাগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। প্রবন্ধে উল্লেখ রয়েছে, অনেক শিল্পী রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, কারাবরণ করেছেন, এমনকি কেউ কেউ প্রাণও হারিয়েছেন। লেখায় মুশতাক আহমেদের মত সাহসী লেখক ও শিল্পীর উদাহরণ এসেছে, যিনি বাকস্বাধীনতার পক্ষে রুখে দাঁড়িয়ে প্রাণ দিয়েছেন। একইভাবে, উদ্দীপকে রনি তার মামাকে জানান যে, এসব চিত্রকর্মের স্রষ্টাদের অনেকে হয়রানি, নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন অথবা শহিদ হয়েছেন।
সবশেষে বলা যায়, প্রবন্ধ ও উদ্দীপক উভয়ই একটি অভিন্ন বস্তুর আলোকপাত করেছে—শিল্প এবং প্রতিবাদ একে অপরের পরিপূরক। দেয়ালের চিত্রকর্ম, কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টার কেবল মুহূর্তের আবেগ নয়; বরং এগুলো ইতিহাস সংরক্ষণের এক অমূল্য দলিল। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এসব শিল্পকর্মের মাধ্যমে একটি জাতির সংগ্রাম, সাহস ও আত্মত্যাগের ইতিহাস জানতে পারবে এবং প্রেরণা নিতে পারবে। সুতরাং, প্রবন্ধ ও উদ্দীপকের মধ্যে গভীর ভাবসম্পৃক্ততা বিদ্যমান, যা গণআন্দোলনের চিত্র ও আত্মার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
'দেশ আজ বিশ্ব বেহায়ার খপ্পরে' শিরোনামে ব্যঙ্গচিত্র এঁকেছিলেন পটুয়া কামরুল হাসান।
চিত্রশিল্পীরা কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টার আঁকার মাধ্যমে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন।
পৃথিবীর অনেক দেশে নানা সময় স্বৈরাচারী সরকার মাথাচাড়া দিয়ে উঠে জনগণকে শোষণ করে। তখন সময়ের প্রয়োজনে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। এসব আন্দোলনে সবার পাশাপাশি চিত্রশিল্পীরাও অংশগ্রহণ করেন। তাঁরা একদিকে যেমন মানুষের সঙ্গে মিছিল-মিটিং করেন, নানা কর্মসূচি পালন করেন অন্যদিকে তাঁরা আবার তাঁদের আঁকা কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টারের মাধ্যমে আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তাঁদের আঁকা ছবিগুলো আন্দোলনকে অনেক শক্তিশালী করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!




