মুজিবনগর সরকার গঠন ও এ সরকারের শপথ গ্রহণ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। দেশি-বিদেশি ১২৭ জন সাংবাদিক ও কিছু গণ্যমান্যের উপস্থিতিতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যদিয়ে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করেছিল। শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
Related Question
View AllWitness to Surrender' গ্রন্থের রচয়িতা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সিদ্দিক সালিক।
বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতাবিরোধীরা বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল।
১৯৭১ সালের অক্টোবর মাস থেকেই পাকিস্তানি সৈন্যরা মুক্তিবাহিনীর কাছে পর্যুদস্ত হতে থাকে। ২১ নভেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে 'যৌথ বাহিনী' গঠিত হলে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী একের পর এক যুদ্ধে পরাজয় বরণ করতে থাকে। চূড়ান্ত পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পেরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সমর্থনপুষ্ট স্থানীয় বাঙালিদের নিয়ে গঠিত আল-শামস ও আল-বদর বাহিনী ১৪ ডিসেম্বর প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবীদের ধরে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও যেন একটি মেধাহীন দেশ হয় তা নিশ্চিত করাই ছিল এর লক্ষ্য।
উদ্দীপকে আলোচিত প্যারিস চুক্তির সাথে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ চুক্তির মিল রয়েছে।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান স্বাধীনতালাভের পর থেকেই দেশটির শাসকরা পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্যমূলক নীতি অনুসরণ করে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকসহ সব ক্ষেত্রে এ বৈষম্যের পরিস্থিতি দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলে। পাকিস্তানের শাসকরা ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান দল আওয়ামী লীগের বিজয়কে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। শুধু তাই নয়, এ নিয়ে আলোচনার আড়ালে তারা পূর্ব পাকিস্তান অর্থাৎ বাংলাদেশে গণহত্যার প্রস্তুতি নিতে থাকে। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনারা নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বর্বর হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এমন প্রেক্ষাপটেই আওয়ামী লীগের প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে বাঙালি জাতি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার মাধ্যমে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয় এবং তা ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলে। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়াদী উদ্যান) পরাজিত পাকিস্তান বাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল নিয়াজি আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন। পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে সেদিন বাংলাদেশ বিশ্বের মানচিত্রে নতুন স্বাধীন। রাষ্ট্র হিসেবে জায়গা করে নেয়।
উদ্দীপকে আমরা স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আমেরিকা অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের ইতিহাস দেখতে পাই। ১৬০৭ খ্রিষ্টাব্দে আমেরিকায় ব্রিটিশ উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ঔপনিবেশিক সরকার বিভিন্ন বৈষম্যমূলক নীতি গ্রহণ করে। ফলে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য আমেরিকা ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটেনের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করে। অবশেষে ১৭৮৩ খ্রিষ্টাব্দে 'প্যারিস চুক্তির' মাধ্যমে আমেরিকা স্বাধীনতা লাভ করে। পূর্বোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টির প্রেক্ষাপট ও ঘটনা আমেরিকার স্বাধীনতা লাভের ইতিহাসের অনুরূপ। সুতরাং এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, উদ্দীপকের চুক্তির সাথে বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ চুক্তির মিল রয়েছে।
উদ্দীপকের যুদ্ধের সাথে আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মিল-এমিল উভয়ই লক্ষ করা যায়।
শুঙ্গীপকে দেখা যায়, আমেরিকা ব্রিটিশদের উপনিবেশ ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ পাকিস্তানের উপনিবেশ ছিল না; বরং একই দেশের পৃথক ভূখণ্ড ছিল। আমেরিকার জনগণ স্বাধীনতা লাভের জন্য ব্রিটেনের সেনাবাহিনীর সাথে দীর্ঘ আট বছর যুদ্ধ করলেও বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ৯ মাস। এছাড়া আমেরিকা ও ব্রিটেনের মধ্যে স্বাধীনতা চক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে। অর্থাৎ তৃতীয় একটি দেশের রাজধানীতে। কিন্তু পাকিস্তান সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেছিল বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতেই। অন্যদিকে আমেরিকার স্বাধীনতা লাভের সাথে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের যে মিলগুলো পাওয়া যায় তা হচ্ছে- উভয় দেশের জনগণই শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্যের প্রতিবাদে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলেছিল এবং স্বাধীনতা লাভের জন্য যুদ্ধে। ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। এছাড়া উভয় দেশের স্বাধীনতা লাভের ক্ষেত্রেই লিখিত চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল। তবে 'প্যারিস চুক্তি' ছিল সরাসরি আমেরিকার স্বাধীনতার স্বীকৃতি দান। অন্যদিকে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের চুক্তি ছিল একটি পরাজিত সেনাবাহিনীর হার স্বীকার করার দলিল।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, প্রেক্ষাপটের দিক দিয়ে আমেরিকা ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মিল থাকলেও যুদ্ধের স্থায়িত্ব ও স্বাক্ষরিত চুক্তির ধরনের দিক থেকে অমিল বিদ্যমান
মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঘুমন্ত নিরস্ত্র বাঙালির ওপর নৃশংস হত্যাকান্ড শুরু করে, যা অপারেশন সার্চলাইট নামে পরিচিত।
২৫ মার্চ রাতে প্রথম হামলার শিকার হন ফার্মগেট এলাকার মিছিলরত বাঙালি ছাত্র-জনতা। একই সঙ্গে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও পিলখানার ইপিআর হেডকোয়ার্টারে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নির্বিচারে আক্রমণ শুরু করে। এভাবে তারা পুরো পূর্ব পাকিস্তানে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায়
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!