খাদ্য নিরাপত্তা বলতে সহজে খাদ্য প্রাপ্তি এবং তার ক্রয়যোগ্যতাকে বোঝায়।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধারণ ভোক্তা যে ভূমিকা পালন করতে পারে তা হলো-
▶ ভেজাল খাদ্য বর্জনের মাধ্যমে ভোক্তারা নিরাপদ খাদ্যের অধিকার নিশ্চিত করতে পারে।
▶ যারা খাদ্যে ভেজাল দিয়ে থাকে তাদের সম্পর্কে তথ্য প্রদান এবং মোবাইল কোর্ট ও ভেজাল বিরোধী অভিযানকারীদের সম্পর্কে তথ্য সরকারকে সরবরাহের মাধ্যমে খাদ্যে ভেজাল দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
▶ ভোক্তারা তাদেরকে সামাজিকভাবে সংঘবদ্ধ করে ভেজাল প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারে।
উদ্দীপকে খাদ্য নিরাপত্তায় খাদ্যের ক্রয়যোগ্যতা সম্পর্কে যে ধরনের নির্দেশনা পাওয়া যায় তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর নির্দিষ্ট দামে নির্দিষ্ট পরিমাণ দ্রব্য ক্রয়ের যোগ্যতাকেই খাদ্যের ক্রয়যোগ্যতা বলে। যদি জনসাধারণ উন্নত জীবনযাত্রায় প্রবেশ করে, তবে তাদের খাদ্যের ক্রয়যোগ্যতারও উন্নতি ঘটে। যদি ব্যক্তির আয় কম হয় তবে তার ক্রয়যোগ্যতাও কমে যায় এবং কোনো ব্যক্তির আয়ের স্তর বৃদ্ধি পেলে তার খাদ্যের ক্রয়ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। গ্রাম অবকাঠামো, কৃষি ও অকৃষি খাতে নিয়োগ জীবনমান বৃদ্ধি করে এবং খাদ্যের ক্রয়যোগ্যতাও বৃদ্ধি করে। খাদ্য ভোগের। স্তর নির্ভর করে প্রধানত খাদ্যের প্রাপ্যতা এবং এর ক্রয়ক্ষমতার উপর, খাদ্যের দুর্বল ক্রয়যোগ্যতা কম ভোগ ও কম পুষ্টির জন্য দায়ী। দরিদ্র জনগোষ্ঠী তাদের আয়ের সিংহভাগ ব্যয় করে খাদ্যদ্রব্য ক্রয়ে, কিন্তু তাদের আয় কম থাকায় তারা কম পরিমাণ খাবার খায়। ফলে তাদের জীবনে খাদ্য ও জীবনমানের অনিরাপত্তা ঘটে।
উদ্দীপকে দেখা যায় ২০০৭-০৮ অর্থবছরে মুদ্রাস্ফীতির হার ও মজুরির সূচক পরিবর্তনের হার যথাক্রমে ১৬.৭২% ও ১১.৮৫% যা পরবর্তীতে ২০১২-১৩ অর্থবছরে যথাক্রমে ৫.২২% ও ১৪.৭৩% হয়েছে। অর্থাৎ এতে বোঝা যায় যে, মুদ্রাস্ফীতি ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে। অর্থাৎ বাজারে দ্রব্যের মূল্য দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। এর ফলে জনসাধারণের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ সময়ের সাথে সাথে জনগণের উপার্জন বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্রয়ক্ষমতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অতএব বলা যায়, মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস ও মজুরি বৃদ্ধির ফলে ক্রয়যোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে ধরনের কার্যক্রমের উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া দরকার তা হলো সরকারি গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম। উদ্দীপকের আলোকে নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
▶ খাদ্য উৎপাদন লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার কৃষি উপকরণে ভর্তুকি বৃদ্ধি, কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করা এবং কৃষিঋণের আওতা বৃদ্ধি ও প্রাপ্তি সহজিকরণ করেছে।
▶ কৃষকের চাহিদা ও বাজার চাহিদাভিত্তিক কীটপতঙ্গ-রোগবালাই মুক্ত, খরা বা লবণাক্ততা সহিষ্ণু, আবহাওয়া ও পরিবেশ উপযোগী এবং স্বল্প সময়ে ফসল পাওয়া যায় এরূপ শস্যের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং সম্প্রসারণসহ সার্বিক কৃষি গবেষণাকে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে।
▶ খাদ্য নিরাপত্তার সাথে সমাজের সকল শ্রেণির জনগোষ্ঠীর জন্য সহজে খাদ্য প্রাপ্তি নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। বাজারে খাদ্যশস্যের সরবরাহ কমে গেলে ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে অতি মুনাফার লোভে অস্বাভাবিকভাবে দাম বাড়িয়ে দেয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সরকারকে বাজারে খাদ্যশস্যের সরবরাহ বৃদ্ধির কৌশল হিসেবে খোলা বাজারে চাল বিক্রি বা ও এম এস কর্মসূচি গ্রহণ করতে হয়। ফলে খাদ্যশস্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হয়।
▶ খাদ্যশস্যের উৎপাদন বৃদ্ধিসহ কৃষিখাতের সার্বিক উন্নয়নের জন্য ক্ষুদ্রসেচ সম্প্রসারণ, জলাবদ্ধতা নিরসন, উন্নতমানের ও উচ্চ ফলনশীল বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণের জন্য বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
▶ জনসাধারণের দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সরকার লাভজনক, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সচেষ্ট। এছাড়াও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য সার্বিক কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে।
▶ পরমাণু ও প্রাণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে লবণাক্ততা সহিষ্ণু, আবহাওয়া ও পরিবেশ উপযোগী এবং স্বল্প সময়ে ফসল পাওয়া যায় এরূপ শস্যের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
▶ খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের অংশ হিসেবে অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ অভিযান জোরদার এবং খাদ্য আমদানির পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে।
সবশেষে বলা যায়, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উল্লিখিত কার্যক্রমের উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া দরকার।
Related Question
View Allযা ভোক্তার নিকট ক্ষতিকর হবে না এবং যা ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহৃত হবে ভোগের জন্য তা-ই নিরাপদ খাদ্য।
কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর নির্দিষ্ট সময়ে অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যের প্রাপ্তিকেই খাদ্যের প্রাপ্যতা বলা হয়। পর্যাপ্ত উৎপাদন এবং নির্দিষ্ট স্থানে পর্যাপ্ত খাদ্যের যোগান খাদ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করে। কোনো নির্দিষ্ট স্থানে পর্যাপ্ত খাদ্যের সরবরাহ নির্ভর করে সরকারি ও বেসরকারি খাদ্যশস্য সরবরাহ ব্যবস্থাপনার উপর। কিছু কিছু জায়গায় পদ্ধতিগত দুর্বলতা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার অপর্যাপ্ততা ও প্রয়োজনীয় খাদ্যে সরকারি সহযোগিতার অভাবে খাদ্যের প্রাপ্যতা বাধাগ্রস্ত হয়।
উদ্দীপকে খাদ্যে ভেজালের কথা বলা হয়েছে। উক্ত বিষয়টি প্রতিরোধে সরকার যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
⇨ সরকার ভেজালবিরোধী আইনের মাধ্যমে সকল পর্যায়ে ভেজাল খাদ্য উৎপাদন, বিপণন ও বিক্রয়ের সাথে জড়িত ব্যক্তিবর্গকে আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে সংসদে ভেজালবিরোধী আইন পাশ করার পাশাপাশি ভেজাল খাদ্যদ্রব্যের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করেছে।
⇨ দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন ভেজাল খাদ্যদ্রব্যের উৎপাদন বন্ধের পাশাপাশি বিদেশ থেকে আমদানিকৃত ভেজালে সহায়তাকারী বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্যের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
⇨ ভেজাল প্রতিরোধে সরকার জনসচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি খাদ্যে ভেজাল মিশ্রণকারীদের তাৎক্ষণিক শাস্তি প্রদানের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করছে।
অতএব বলা যায়, সরকারের সদিচ্ছা এবং আইনের কার্যকরী প্রয়োগ দ্রুত দেশের ভেজাল প্রতিরোধ করতে পারে।
উদ্দীপকের শেষ উক্তিটি বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। নিচে আমার মতামত উপস্থাপন করা হলো-
উন্নত বিশ্ব খাদ্যে ভেজালের বিষয়ে কোনোরকম ছাড় দিতে নারাজ, যেকোনো কিছুর বিনিময়ে তারা নিরাপদ খাদ্য পেতে চায়। নিরাপদ খাদ্য পেতে তারা খরচের কথা চিন্তা করে না। ফলে তাদের খাদ্যের সরবরাহ ভালো। তাদের খাদ্য ক্রয়-বিক্রয়ও অনেক ভালো।
কিন্তু বাংলাদেশে ঠিক এর ব্যতিক্রম অবস্থা। বাংলাদেশে জনসংখ্যা অনেক বেশি হলেও এই খাদ্য সরবরাহ করার পরও মানুষ প্রচুর অপচয় করে। এই অপচয় রোধে বিক্রেতারা খাদ্যে পচনশীলতা দূর করতে ফরমালিনের মতো বিষও প্রয়োগ করে। বাংলাদেশে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের ফল, সবজি, মাছ, মাংস ইত্যাদি সব খাদ্যে পচনশীলতা দূর করতে ফরমালিন প্রয়োগ করছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতিকর। খাদ্যের এই ভেজাল দিন দিন মনে হয় আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সরকার বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও আশু প্রতিক্রিয়া তেমন দেখা যাচ্ছে না। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শেষ উক্তিটি বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য নয়।
খাদ্য নিরাপত্তা হলো নির্ভরশীল স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যের পর্যাপ্ত যোগান যা ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে বিদ্যমান থাকে।
কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী কর্তৃক শরীরের প্রয়োজনীয় উপাদান প্রাপ্তির লক্ষ্যে নির্দিষ্ট খাদ্যদ্রব্য গ্রহণকেই খাদ্যের ব্যবহার বলে।
শরীরে প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদানের ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে যে সব খাদ্য গ্রহণ করা হয়, তার আত্তীকরণের উপর নির্ভর করে খাদ্যের ব্যবহার। খাদ্যভোগের ধরন, পুষ্টিমান, স্বাস্থ্য এবং খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়গুলো সামাজিক, সাংস্কৃতিক উপাদান; যেমন- খাদ্যে প্রাপ্যতা খাদ্যের ক্রয়ক্ষমতা এবং তার ব্যবহারের উপর নির্ভর করে। দারিদ্র্য, লিঙ্গ, বয়স, কাঠামো ও সামর্থ্য, ভৌগোলিক অবস্থান, সংস্কৃতি চর্চা খাদ্যভোগের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে কাজ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!